12/05/2026
রায়ান""
গ্রামের এক কোণে তার ছোট্ট ঘর। বাবা দিনমজুর, মা অসুস্থ। অভাব ছিল, কিন্তু রায়ানের একটা জিনিস খুব বেশি ছিল—রবের উপর ভরসা।
প্রতিদিন ফজরের পর সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলত,
“হে আমার রব, সবাই যদি আমাকে ভুলেও যায়, তুমি যেন আমাকে ভুলে যেও না।”
একদিন গ্রামের মাদরাসায় শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন,
—“তোমরা বড় হয়ে কী হতে চাও?”
কেউ বলল ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার।
রায়ান চুপচাপ দাঁড়িয়ে বলল,
—“আমি এমন মানুষ হতে চাই, যাকে দেখে আমার রব খুশি হন।”
সবাই হাসল।
কিন্তু শিক্ষক কাঁদলেন।
দিন যেতে লাগল।
অভাব আরও বাড়ল। এক রাতে ঘরে খাবার ছিল না। মা ক্ষুধায় ঘুমিয়ে পড়েছেন। রায়ান বাইরে এসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“রব… আমি তো কখনো তোমার কাছে দুনিয়া চাইনি। আজ শুধু মায়ের জন্য একটু খাবার চাই।”
ঠিক তখন দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।
এক প্রতিবেশী দাঁড়িয়ে আছেন হাতে খাবারের প্যাকেট নিয়ে।
—“ভাই, আজ হঠাৎ মনে হলো তোমাদের জন্য কিছু নিয়ে আসি।”
রায়ান খাবারের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
তার চোখে পানি এসে গেল।
সে বুঝল—
রব কখনো দেরি করেন না,
তিনি শুধু সবচেয়ে সুন্দর সময়ে দেন।
বছর কয়েক পর রায়ান বড় আলেম হলো। মানুষ তার কথা শুনে বদলে যেতে লাগল। একদিন কেউ তাকে জিজ্ঞেস করল,
—“আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?”
রায়ান শান্তভাবে বলল,
—“মানুষের দরজায় বারবার কড়া নাড়তে নাড়তে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর রবের দরজায় দাঁড়ালাম। আর দেখলাম, সেই দরজা কখনো বন্ধ হয় না।”
তারপর সে আকাশের দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল—
“যে রব ক্ষুধার রাতে আমাকে ভুলেননি,
আমি সুখের দিনে তাঁকে কীভাবে ভুলে যাই?”