18/08/2026
ওজন কমানোর জন্য ডায়েট করছেন, প্রথম কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে এবং ওজনও বেশ ভালোভাবে কমছে। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর, হঠাৎ করেই আপনার ভেতরে খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ক্রেভিংস শুরু হলো! আর সেই পছন্দের তালিকায় সবার আগে নাম আসে ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর সব খাবারের। চাইলেও নিজেকে আটকাতে পারেন না, কারণ এই খাবারগুলো খেলে সাময়িকভাবে ভেতরে একধরনের ভালো লাগা কাজ করে।
আসলে যখন দীর্ঘদিন ধরে খুব কড়া বা না খেয়ে থাকার মতো ডায়েট মেনে চলি তখন শরীরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা কর্টিসোল বাড়িয়ে দেয়।
কর্টিসোল হরমোন বেড়ে যাওয়ার কারণে আমাদের শরীর এক ধরনের "সারভাইভাল মোড" (Survival mode) যা 'ফাইট অর ফ্লাইট' (Fight or Flight) নামে পরিচিত। এর ফলে বারবার ক্ষুধা এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। কারণ কর্টিসোল শরীরকে সংকেত দেয় যে সামনে কোনো বিপদ বা চ্যালেঞ্জ আছে এবং তা মোকাবিলা করার জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। আর চিনি, শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) এবং চর্বিযুক্ত খাবার শরীরে খুব দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে। তাই মস্তিষ্ক অবচেতনভাবেই এই ধরনের উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের খোঁজ করে।
এছাড়া কর্টিসোল হরমোন মূলত অল্প সময়ের জন্য শরীরে কাজ করার জন্য তৈরি হয়। কিন্তু কর্টিসোল হরমোন যখন দীর্ঘসময় ধরে শরীরে একটিভ থাকে তখন এই হরমোনের প্রভাবে আমাদের মাঝে বিষণ্ণতা তৈরি হয় যার ফলে শরীরও ক্লান্ত থাকে। তখন শরীর খোঁজে ডোপামিন। কারণ ডোপামিন একমাত্র হরমোন যা মুড ভালো করার কাজ করতে পারে। আর ফাস্ট ফুড, মিষ্টি বা মুখরোচক খাবার খেলে মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' (Dopamine) নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িকভাবে আনন্দ ও প্রশান্তির অনুভূতি দেয়। মস্তিষ্ক এই ক্ষণস্থায়ী স্বস্তির জন্য বারবার এই খাবারগুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। একে 'ইমোশনাল ইটিং' (Emotional eating) বা 'স্ট্রেস ইটিং' বলা হয়।
তাছাড়া, আরও একটা ব্যাপার আছে! কর্টিসোল হরমোন মূলত অল্প সময়ের জন্য কাজ করার জন্য তৈরি। কিন্তু একটানা স্ট্রেস বা কড়া ডায়েটের কারণে এটি যখন দীর্ঘসময় ধরে শরীরে অ্যাকটিভ থাকে, তখন আমাদের ভেতর একধরনের বিষণ্ণতা আর চরম ক্লান্তি ভর করে। ঠিক তখনই আমাদের শরীর খোঁজে 'ডোপামিন'। কারণ ডোপামিন একমাত্র হরমোন যা মুহূর্তেই আমাদের মুড ভালো করে দিতে পারে!
আর ফাস্ট ফুড, মিষ্টি বা মুখরোচক খাবার খেলে মস্তিষ্কে সাথে সাথে এই ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের সাময়িকভাবে এক অদ্ভুত আনন্দ আর প্রশান্তি দেয়। ব্রেন তখন এই ক্ষণস্থায়ী শান্তির খোঁজে বারবার এসব অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একেই বলা হয় 'ইমোশনাল ইটিং' (Emotional Eating) বা 'স্ট্রেস ইটিং'!"
আবার কর্টিসোলের মাত্রা একটানা বেশি থাকলে তা ইনসুলিনের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়ে এবং আবার দ্রুত কমে যায় (Sugar crash)। সুগার লেভেল হঠাৎ কমে গেলেই শরীর দ্রুত মিষ্টি বা শর্করাজাতীয় খাবারের জন্য তীব্র সিগন্যাল পাঠায়।
অনেকের স্ট্রেসের কারণে কম ঘুম হয়। এই ঘুমের অভাবে শরীরে 'গ্রেলিন' (Ghrelin) নামক হরমোন বেড়ে যায়, যার কাজ হলো ক্ষুধা তৈরি করা। অন্যদিকে 'লেপটিন' (Leptin) নামক হরমোন কমে যায়, যার কাজ হলো আমাদের পেট ভরার অনুভূতি দেওয়া। এর ফলে পেট ভরা থাকলেও বারবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগে।
যার ফলে ওজন কমানোর বদলে আপনি এমন সব কাজ করে বসেন—যাতে উল্টো ওজন আরও বেড়ে যায়! প্রথমদিকে ডায়েট করে ওজন কিছুটা কমলেও, এই স্ট্রেস ইটিংয়ের কারণে পরবর্তীতে তা আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তাই সবার উচিত কোন প্রফেশনালের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট করা নিজে নিজে ডায়েট করতে যেয়ে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।