16/09/2026
শরঈ রুকইয়াহ (الرقية الشرعية) এবং কুফুরি/কবিরাজি চিকিৎসা কেন একসাথে চালানো যাবে না?
➤
ইসলামী শারীয়াহ অনুযায়ী শরঈ রুকইয়াহ (الرقية الشرعية) এবং কুফুরি/কবিরাজি চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুটি পথ। এগুলো কখনোই একসাথে চালানো সম্ভব নয় এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর পেছনে মূল কারণ তাওহীদ ও শিরকের স্পষ্ট সংঘাত
শরঈ রুকইয়াহ: এটি সম্পূর্ণরূপে তাওহীদ বা আল্লাহর একাত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে কেবল আল্লাহর কালাম (কুরআনের আয়াত), সুন্নাহসম্মত জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে সরাসরি আল্লাহর কাছেই আরোগ্য প্রার্থনা করা হয়।
অন্যদিকে কুফরি/কবিরাজী চিকিৎসায় জিন-শয়তানের সাহায্য নেওয়া হয়, তাবিজ-তুমার, কুফুরি কালাম, কিংবা জিনকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিশেষ কিছু করা হয়—যা স্পষ্ট হারাম। একদিকে রুকইয়াহ করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া, অন্যদিকে জিন হুজুর বা কবিরাজের কাছে গিয়ে জিন-শয়তানের সাহায্য নেওয়া চরম নিফাক (মুনাফেকী) এবং ঈমান বিনাশী কাজ।
রুকইয়াহ শারইয়াহ الرقية الشرعية কাজ করার জন্য পূর্ণ ঈমান, তাকওয়া এবং একমাত্র আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) থাকা আবশ্যক। যখন কোনো ব্যক্তি রুকইয়াহ পাশাপাশি কবিরাজি বা কুফুরি চিকিৎসা করায়, তখন তার অন্তরে শিরকী মাধ্যমের ওপর ভরসা তৈরি হয়। ফলে শরঈ রুকইয়াহর বারাকাত ও কার্যকারিতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
কুফুরি কবিরাজরা জিনের মাধ্যমে চিকিৎসা করে। এতে হয়তো শয়তান বা জিন সাময়িকভাবে রোগীকে কষ্ট দেওয়া বন্ধ রাখে, যাতে মানুষ মনে করে কবিরাজি চিকিৎসায় কাজ হচ্ছে। বাস্তবে শয়তান মানুষকে শিরকের মধ্যে নিমজ্জিত করে ঈমান হারা করার জন্যই এই কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু রুকইয়াহ শয়তানকে তাড়িয়ে দেয়। ফলে এই দুই বিপরীতমুখী পথ একসাথে চললে রোগীর আত্মিক ও শারীরিক উন্নতির পরিবর্তে ক্ষতির পরিমাণই আরও বেড়ে যায়।
তাবে না বোঝার কারণে কোন মুমিন যদি জিন-হুজুর বা কবিরাজের কাছে সাহায্য নেয় আর পরবর্তীতে বুঝতে পারে তাহলে তাকে দ্রুত তওবা করতে হবে।কারণ মানুষ যখন ভুল করে এবং পরে সেটা বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয় এবং তওবা করে সঠিক রাস্তায় চলে, আল্লাহ তাআলা তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেন, আল্লাহ কুরআনে বলেছেন- [৩৯:৫৩]
قُل يا عِبادِيَ الَّذينَ أَسرَفوا عَلى أَنفُسِهِم لا تَقنَطوا مِن رَحمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغفِرُ الذُّنوبَ جَميعًا إِنَّهُ هُوَ الغَفورُ الرَّحيمُ
:বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।