25/08/2026
জ্বিন মানুষের কি কি ক্ষতি করে ❓
জ্বিন কি মানুষের শরীরে রুগ সৃষ্টি করতে পারে ❓
⛔ জ্বিন মানুষের শরীরে অনেক প্রকার রোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং ক্ষতি করতে পারে।
আল্লাহ সুবহানাহু তা 'আলা বলেন -
اَلَّذِيْنَ يَأْكُلُوْنَ الرِّبٰوا لَا يَقُوْمُوْنَ اِلَّا كَمَا يَقُوْمُ الَّذِيْ يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطٰنُ مِنَ الْمَسِّ
অর্থঃ "যারা সূদ খায়, তারা সেই লোকের মত দাঁড়াবে যাকে শয়ত্বান স্পর্শ দ্বারা পাগল বানিয়ে দেয়।
(সুরা বাকারা, ২৭৫)
আল্লাহ্ সুবহানাহু তা 'লা অন্য আয়াতে বলেন -
وَا ذْكُرْ عَبْدَنَاۤ اَيُّوْبَ ۘ اِذْ نَا دٰى رَبَّهٗۤ اَنِّيْ مَسَّنِيَ الشَّيْطٰنُ بِنُصْبٍ وَّعَذَا بٍ
"স্মরণ কর আমার বান্দা আইয়ূবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল- শয়ত্বান আমাকে কষ্ট আর ‘আযাবে ফেলেছে
(সুরা সাদ -৪১)
⏺ এই দুই আয়াতে স্পষ্ট জ্বিন শয়তান যেমন মানুষ কে স্পর্শ করে পাগল বানাতে পারে তেমন কষ্ট দিতে পারে রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
জ্বিন শয়তান কিভাবে রোগ সৃষ্টি করে ❓❓
🛑 আপনার জানা উচিত "শয়তান "ছিল জ্বনদের একজন।
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلٰٓئِكَةِ اسْجُدُوا لِءَادَمَ فَسَجَدُوٓا إِلَّآ إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ......ۦ
অর্থঃ যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল....
(সুরা কাহাফ-৫০)
⛔ হাদিসে এসেছে জ্বিন শয়তান মানুষের রক্তের শিরায় চলাচল করতে পারে।
فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ الشَّيْطَانَ يَبْلُغُ مِنْ الإِنْسَانِ مَبْلَغَ الدَّمِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ শয়তান মানুষের রক্তের শিরায় চলাচল করে। আমি ভয় করলাম যে, সে তোমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে।
(মুসলিম ৩৯/৯, হাঃ ২১৭৫, আহমাদ ২৬৯২৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৮৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৯০৪)
অন্য হাদিসে এসেছে
قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنِ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدَّمِ
মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তান মানব শরীরে রক্তের মত প্রবাহিত হয়।
(সুনানে আবু দাউদ -৪৬৪৪)
⛔ জ্বিন শয়তান কয়েকটি মাধ্যমে মানুষের শরীরের রোগ সৃষ্টি করে।
(১)যাদুর মাধ্যমে
(২)নজর মাধ্যমে
(৩)হিংসার মাধ্যমে
(৪)ওয়াস ওয়াসা মাধ্যমে
যাদু, নজর, হিংসা, ওয়াসওয়াসা যেমন সমস্যা তেমনি এগুলো এক প্রকার রোগ। এবং প্রতিটি কোরআন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
🔶 যাদু
আর আল্লাহ্ তায়ালা বলেনঃ
يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ
فَيَتَعَلَّمُوْنَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُوْنَ بِهٖ بَيْنَ الْمَرْءِ وَ زَوْجِهٖ
অর্থঃ “তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দেয়।” এবং স্বামী স্ত্রীর মধ্য বিচ্ছেদ ঘটায়।
(বাকারঃ ১০২)
অনুরূপ আল্লাহ তায়ালা যাদু হতে আশ্রয় প্রার্থনার হুকুম দিয়ে বলেনঃ
وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
অর্থঃ “গ্রন্থিতে ফুৎকার কারিনীদের(যাদুকর) অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাই। (সুরা ফালাকঃ ৪)
⛔ নজর
وَاِ نْ يَّكَا دُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَيُزْلِقُوْنَكَ بِاَ بْصَا رِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُوْلُوْنَ اِنَّهٗ لَمَجْنُوْنٌ
"কাফিররা যখন কুরআন শুনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টি দিয়ে তোমাকে আছড়ে ফেলবে। আর তারা বলে, ‘‘সে তো অবশ্যই পাগল।’’"
(সুরা ক্বলাম -৫১)
⛔ জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ
العين تدخل الرجل القبر وتدخل الجمل القدر
অর্থঃ বদ নজর মানুষকে কবর পর্যন্ত পৌছে দেয় এবং উটকে পাতিলে । (সহীহ আল জামেঃ শাইখ আলবানী (রহঃ) সহীহ বলেছেনঃ ১২৪৯)
অর্থাৎ মানুষের নজর লাগায় সে মৃত্যুবরণ করে, যার ফলে তাকে কবরে দাফন করা হয়। আর উটকে যখন বদ নজর লাগে তখন তা মৃত্যু পর্যায়ে পৌছে যায় তখন সেটা যবাই করে পাতিলে পাকানো হয় ।
⛔জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ
أكثر من يموت من أمتي بعد قضاء الله وقدره بالعين
অর্থঃ আমার উম্মতের মধ্যে তাকদীরের মৃত্যুর পর সর্বাধিক মৃত্যু বদ নজর লাগার দ্বারা হবে। (মুসনাদে বাযযার)
⛔ হিংসা
وَمِنْ شَرِّ حَا سِدٍ اِذَا حَسَدَ
"এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে।"
(সুরা ফালাক -৫)
দ্রষ্টব্যঃ -সুরা নিসা -৫৩ নং আয়াত
⛔ ওয়াস ওয়াসা /সুচিবায়ু
الَّذِيْ يُوَسْوِسُ فِيْ صُدُوْرِ النَّا سِ
مِنَ الْجِنَّةِ وَا لنَّا سِ
"যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে"
"(এই কুমন্ত্রণাদাতা হচ্ছে) জিন্নের মধ্য হতে এবং মানুষের মধ্য হতে।"
(সুরা নাস -৫-৬)
⛔ জ্বিন শয়তান মানুষের শরীরে যেসব রুগ সৃষ্টি করতে পারে!
-মাথা ব্যথ
-পেটে ব্যথা
-মেরুদণ্ড ব্যথা
-কোমর ব্যথা
এক কথা সমস্ত শরীরের ব্যথা।
-কিডনি তে সমস্যা
-হার্টের সমস্যা
🔴 যাদু, নজর, হিংসা ওয়াসওয়াসার মাধ্যমে জ্বিন শয়তান মানুষের শরীরে প্রবেশের দ্বার তৈরি করে এর ধাপ শুরু হয়।এরা রক্তে চলাচলের ক্ষমতা রাখে যার ফলে মানুষের শারীরিক ভাবে ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি।
দীর্ঘ মেয়াদি এলার্জি,
ঠান্ডা,
কিডনি ডিজিজ,
বন্ধাত্ব্য,
স্তন ক্যান্সার,
টিউমার,
ব্রন,
চুল পড়া ও পাকা,
রক্ত শূন্যতা,
হরমোন জনিত সমস্যা,
থায়রোড,
মাইগ্রেন,
হাটু-কনুই ব্যথা,,,,
এছাড়া ব্যক্তিবেধে ও জ্বীনের উপস্থিতির সময়সীমা বেধে বিভিন্ন জটিল রোগ হতে পারে। কেননা এরা রক্তে চলাচল করে রক্ত দূষিত করে।
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) তার মাথা ব্যথার জন্য, পায়ে, পিঠে, পিঠের ব্যথার জন্য দুই কাঁধের মাঝখানে, ঘাড়ের দুই রগে ও হাড় মচকে গেলে। (বুখারি, হাদিস : ৫৭০০; নাসায়ি, হাদিস : ২৮৫২; আবুদাউদ, হাদিস : ৩৮৫৯)
⛔ দুইটি মাধ্যমে জ্বীন শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে চায়।
(১)সিহর -যাদু
(২)আইন- হাসাদ /নজর হিংসা
জিন ও মানুষ উভয়'ই এর আশ্রয় নেয়।
জ্বীন যাদু দ্বারা ক্ষতি সাধন করে তারচেয়েও বেশি, এক্ষেত্রে সমস্যা গুলো নিদিষ্ট থাকে না। একারণে কিছু মানুষ নিজের বোধগম্য-স্বরনশক্তি হারাতেও সক্ষম। পারিবারিক অর্থনৈতিক দিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে যাদুর মাধ্যমে। এর সমস্যা গুলো অন্যান্য সমস্যার চেয়ে পরিসরে বড় হয়।
জ্বীন-শয়তান আদম সন্তানকে চুড়ান্ত পর্যায়ে অবাধ্য হয়ে শারীরিক নির্যাতন ও নিয়ন্ত্রণ করে পাপে লিপ্ত করতে চায়,পথভ্রষ্ট করতে চায়,জীবনে কল্যাণ দূর করে অশান্তির পথে নিয়ে যায়।এক্ষেত্রে সেহের-আইন ও হাসাদের হুসুন গিট মাধ্যমে মানব শরীর আয়ত্ত করে(يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ)।শরীরে রক্ত দূষিত করে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমিয়ে আনে, দূর্বল করে রাখে।
চিকিৎসা বা মুক্তির পথ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর দেখানো পথে চললে মুক্তি সহজেই সম্ভব৷
আপনার সমস্যা জন্য অবিজ্ঞ রাকি দ্বারা রুকইয়াহ করুন
📳 আমাদের এখানে রুকইয়াহ এপয়েন্টমেন্ট নিতে
যোগাযোগ করুন 📱Call-01712902194