14/05/2026
✅ রুকইয়াহ
রুকইয়াহ হলো কুরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত দোয়া এবং আল্লাহর নামের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করা। এটা একধরনের ইসলামি চিকিৎসা।
🔹 সহজ কথায়:
যখন কেউ অসুস্থ হয়, জিন-জাদু-বদনজরের সন্দেহ করে, বা মানসিক অস্থিরতায় ভোগে, তখন কুরআনের আয়াত পড়ে আল্লাহর কাছে শিফা চাওয়াকে রুকইয়াহ বলে।
♻️ রুকইয়াহর 3টা ভাগ আছে:
১. শারইয়্যাহ রুকইয়াহ - জায়েজ এবং সুন্নাত
কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, সহিহ হাদিসের দোয়া দিয়ে করা হয়।
🔹শর্ত:
- শুধু আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। জিন, পির, পীর ও কবরকে ডাকা যাবে না।
- যা পড়া হচ্ছে তার অর্থ বুঝতে হবে।
- আরবিতে বা অর্থ বোঝা যায় এমন ভাষায় হতে হবে।
- রুকইয়াহকারী এবং গ্রহণকারী উভয়ের বিশ্বাস থাকতে হবে শিফা একমাত্র আল্লাহর হাতেই।
✅ নবী ﷺ নিজেও রুকইয়াহ করেছেন এবং সাহাবিদের করতে বলেছেন।
২. শিরকি রুকইয়াহ - হারাম
যেখানে জিন, মৃত ব্যক্তি, তারকা, তাবিজের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়, অস্পষ্ট মন্ত্র পড়া হয়, তাবিজ-কবজ ঝোলানো হয়। এটা শিরক।
৩. আধুনিক/পরীক্ষামূলক রুকইয়াহ
কুরআন পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে সেই পানি খাওয়া, গোসল করা, তেল-মধুতে ফুঁ দিয়ে ব্যবহার করা। এগুলো জায়েজ যদি শিরকের কিছু না থাকে।
🔰কিসের জন্য রুকইয়াহ করা হয়:
১. জিন-জাদু-বদনজর:
এগুলোর সন্দেহ হলে। যেমন হঠাৎ অসুস্থ, ঘুমে ভয়, স্বপ্নে ভয়ঙ্কর কিছু দেখা, বিনা কারণে রাগ/অস্থিরতা।
২. শারীরিক রোগ:
জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা। নবী ﷺ অসুস্থ হলে সাহাবিদের রুকইয়াহ করতে বলতেন।
৩. মানসিক অস্থিরতা:
ডিপ্রেশন, দুশ্চিন্তা, ঘুম না হওয়া।
৪. হেফাজতের জন্য:
সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া গুলোও একধরনের রুকইয়াহ।
🔰গুরুত্বপূর্ণ কথা:
১. রুকইয়াহ ডাক্তার বাদ দেয় না:
এটা চিকিৎসার বিকল্প না, পরিপূরক। যেমন, পেট ব্যথা হলে ডাক্তার দেখানো, সাথে রুকইয়াহ করা।
২. নিজেও করা যায়:
নিজে কুরআন পড়ে নিজের গায়ে ফুঁ দিলে সবচেয়ে ভালো। সূরা ফাতিহা ৭বার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৩. সতর্ক থাকা:
আজকাল অনেক ভণ্ড "রাকি" আছে যারা টাকা নিয়ে তাবিজ দেয়, নারীদের সাথে নির্জনে দেখা করে। এগুলো থেকে দূরে থাকা।