07/08/2026
🚨সবার জানা জরুরি 🚨
এই লেখাটা স্কিপ করার আগে ৩০ সেকেন্ড সময় দেন।
আপনার ঘরে যদি ৩০ থেকে ৫০ বছরের কোনো মা, বোন, বউ বা ভাবী থাকে - কাল সকালে হয়তো এই লেখাটাই তার জীবন বাঁচায় দিবে।
বিশ্বাস করেন ভাই, জরায়ু মুখের ক্যান্সার এমন এক ডাকাত, যে ১০ বছর আপনার ঘরে বসে থাকে, একটা শব্দ করে না। যেদিন শব্দ করে, সেদিন অনেক দেরি হয়ে যায়।
আজ ২ টা মানুষের গল্প বলি, একটু মন দিয়ে শুনেন।
গল্প - ১ : রহিমা আপা
গাজীপুরের রহিমা আপা। বয়স ৩৮। দুই বাচ্চার মা। সারাদিন সংসার, রান্না, বাচ্চাদের স্কুল। নিজের দিকে তাকানোর সময় কই?
গত ৬ মাস ধরে একটা সমস্যা। মাসিক শেষ হওয়ার পরও মাঝে মাঝে একটু একটু রক্ত যায়। উনি ভাবছে, "গরমে হইতেছে মনে হয়, বা বয়স হইতেছে।"
লজ্জায় কাউকে বলে না। ফার্মেসি থেকে একটা আয়রন ট্যাবলেট এনে খায়।
গল্প - ২ : স্কুলের সাথী ম্যাডাম
আমার পরিচিত এক স্কুল টিচার, সাথী ম্যাডাম। বয়স ৪৪। খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, শিক্ষিত মানুষ।
উনার সমস্যা অন্যরকম। স্বামীর সাথে থাকার পর পরই হালকা রক্ত আসে। আর সাদা স্রাব, সাথে খুব বাজে গন্ধ। উনি ভাবতেন, "ইনফেকশন হইছে বোধহয়।"
লজ্জায় ডাক্তারের কাছে যায় না। ইউটিউব দেখে ঘরোয়া ভাবে গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করে।
দুইজনই ভাবছে - এটা সাধারণ সমস্যা। ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু ভিতরে ভিতরে কী হচ্ছিলো জানেন?
দুইটা মানুষ, দুইটা বয়স, দুইটা জীবন... কিন্তু ভিলেন একজনই।
তার নাম - জরায়ু মুখের ক্যান্সার (Cervical Cancer)
অনেকেই নাম শুনে ভয় পায়। সহজ করে বুঝাই।
আমাদের মা-বোনদের বাচ্চা যেখানে থাকে, তার মুখটাকে বলে জরায়ুর মুখ বা Cervix। এই মুখটাতে একটা ভাইরাস ঘর বাঁধে। নাম HPV। এই ভাইরাসটা ছড়ায় স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা থেকে। খুবই কমন ভাইরাস।
ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এই ভাইরাস শরীরে ঢোকার ১০-১৫ বছর পর্যন্ত কোনো লক্ষণই দেখায় না। চুপচাপ ভিতরে ঘা বানাতে থাকে। সেই ঘা থেকেই একসময় ক্যান্সার হয়। এই জন্যই আমাদের দেশে বেশিরভাগ মা-বোনেরা যখন ডাক্তারের কাছে আসে, তখন স্টেজ ৩ বা ৪।
তাহলে এই ক্যান্সারটা কেন হয়? মন দিয়ে শুনেন, ৫ টা কারণ -
১. HPV ভাইরাস: এটাই মেইন ভিলেন। ৯৯% জরায়ু মুখের ক্যান্সার এই ভাইরাস থেকেই হয়।
২. অল্প বয়সে বিয়ে বা মা হওয়া: আমাদের দেশে ১৮ বছরের আগে বিয়ে এখনো হয়। তখন জরায়ুর মুখটা নরম থাকে, ভাইরাস সহজে আক্রমণ করতে পারে।
৩. বহু বছর ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া: যারা ৫ বছরের বেশি একটানা পিল খান, তাদের রিস্ক একটু বেশি থাকে।
৪. সিগারেট বা ধোঁয়া: আপনি না খেলেও, ঘরে যদি স্বামী সিগারেট খায়, তার ধোঁয়াও এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৫. ১০ বছরেও একবার চেকআপ না করা: এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল। আমরা দাঁত ব্যথা হলে ডাক্তারের কাছে দৌড়াই, কিন্তু ওই জায়গাটা নিয়ে লজ্জায় ১০ বছরেও একবার চেক করি না।
এবার আসেন, কোন লক্ষণগুলোকে আমরা ভুলেও অবহেলা করবো না?
মাসিক ছাড়াও মাঝে মাঝে রক্ত যাওয়া
স্বামীর সাথে মেলামেশার পর রক্ত আসা
অনেক দিন ধরে দুর্গন্ধযুক্ত সাদা স্রাব বা পানি যাওয়া
তলপেটে সবসময় চাপ চাপ ব্যথা বা কোমরে ব্যথা
মাসিক একদম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও হঠাৎ রক্ত যাওয়া (এটা সবচেয়ে বিপজ্জনক)
এইগুলোর একটাও যদি আপনার বা আপনার বোনের থাকে, প্লিজ লজ্জা পাইয়েন না। এটা লজ্জার না, এটা জীবনের ব্যাপার।
ভয় পাইয়েন না ভাই... সুখবর হচ্ছে...
জরায়ু মুখের ক্যান্সার একমাত্র ক্যান্সার, যাকে হওয়ার ১০ বছর আগেই আটকানো যায়। মাত্র ৩০০ টাকার একটা পরীক্ষায়।
পরীক্ষাটার নাম VIA Test। সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এটা মাত্র ১০০-৩০০ টাকায় বা ফ্রীতেও হয়। ৫ মিনিট লাগে। কোনো ব্যথা নাই। ভিনেগার বা সিরকা জাতীয় একটা জিনিস দিয়ে জরায়ুর মুখটা দেখা হয়। সাথে সাথে রেজাল্ট।
WHO বলছে, ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রত্যেক নারীর ৩-৫ বছর পর পর এই টেস্টটা করা উচিত।
তাহলে এখন কী করবেন? ৩ টা কাজ করেন, আজকেই -
১. VIA টেস্টটা করান: আপনার মা, বোন, স্ত্রীর বয়স যদি ৩০ এর বেশি হয়, আজকেই উপজেলা হাসপাতালে খোঁজ নেন। এই একটা টেস্টে ১০ বছর আগেই বোঝা যায় ভিতরে ঘা হচ্ছে কিনা। ঘা থাকলে ডাক্তাররা সাথে সাথেই সামান্য চিকিৎসায় সারিয়ে দেন, ক্যান্সার হওয়ার আগেই।
২. HPV ভ্যাকসিন: আপনার ঘরে যদি ৯ থেকে ২৬ বছরের মেয়ে থাকে, তাকে HPV ভ্যাকসিন দেন। এটা জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে ৯০% কাজ করে। এটা CDC এবং WHO দ্বারা অনুমোদিত।
৩. লজ্জা ভাঙেন, কথা বলেন: এই লেখাটা আপনার বউকে, বোনকে দেখান। আমাদের মা-বোনেরা নিজের অসুখের কথা লজ্জায় বলে না। আপনি একটু সাহস দিলে, একটু পাশে নিয়ে হাসপাতালে গেলে, একটা জীবন বেঁচে যেতে পারে।
ভাই, বিশ্বাস করেন, আমি অনেক রোগী দেখেছি যারা শেষ সময়ে এসে বলে, "ভাই, যদি ২ বছর আগে একবার টেস্টটা করতাম..."
আমরা টাকা হলে মোবাইল কিনি, শাড়ি কিনি, কিন্তু ৩০০ টাকার একটা টেস্ট করি না।
এই লেখাটা শেয়ার করলে আপনার টাকা কমবে না। কিন্তু আপনার একটা শেয়ারে যদি একটা মা বেঁচে যায়, এর চেয়ে বড় সওয়াব আর কী হতে পারে?
কমেন্টে জানান, আপনার পরিবারের কেউ কি কখনো VIA টেস্ট করিয়েছে?
শেষে একটা কথা -
বুকে হাত দিয়ে বলেন তো... শেষ কবে আপনি আপনার মা বা বউকে নিয়ে শুধু চেকআপের জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন, কোনো অসুখ ছাড়াই?
লেখা : EM health Tips