16/10/2025
হিজামা (Wet cupping therapy) করার সময় শরীরে যে হরমোন ও বায়োকেমিক্যাল পরিবর্তন হয়, তা নিয়ে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে। এখানে সংক্ষেপে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিচ্ছি—
# হিজামা (Cupping therapy) করার সময় শরীর আসলে হালকা আঘাত বা কাটা লাগার মতো উত্তেজনা পায়, যার ফলে শরীরের হরমোন ও কেমিক্যাল প্রতিক্রিয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ফলে হরমোন নিঃসৃত হয়—
🔹 ১. এনডোরফিন (Endorphins)
হিজামার সময় ত্বকে ছোট ক্ষত তৈরি হয়।
এতে পেইন-রিলিফ সিস্টেম সক্রিয় হয়ে শরীরে এনডোরফিন নিঃসৃত হয়।
এর ফলে ব্যথা কমে, মানসিক প্রশান্তি আসে এবং রোগী রিল্যাক্সড অনুভব করে।
একে বলা হয় শরীরের প্রাকৃতিক মর্ফিন।
🔹 ২. সেরোটোনিন (Serotonin)
হিজামা করলে স্নায়ুতন্ত্রে চাপ কমে, সেরোটোনিন নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়।
এটি মুড স্ট্যাবিলাইজার হিসেবে কাজ করে, ডিপ্রেশন ও উদ্বেগ কমায়।
🔹 ৩. ডোপামিন (Dopamine)
গবেষণায় দেখা গেছে হিজামা করলে ডোপামিনের লেভেলও বাড়ে, যা আনন্দ ও মোটিভেশন বাড়ায়।
🔹 ৪. কর্টিসল (Cortisol) কমে যায়
কর্টিসল হলো স্ট্রেস হরমোন।
হিজামার পর রোগীর কর্টিসল লেভেল কমে, ফলে টেনশন ও উদ্বেগ হ্রাস পায়।
🔹 ৫. ইমিউন মডুলেটর হরমোন
হিজামার পর শরীরে ইন্টারলিউকিন (IL-6, IL-10) এবং TNF-α এর মতো ইমিউন কেমিক্যাল পরিবর্তিত হয়।
এর ফলে প্রদাহ (inflammation) কমে এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
✅ সারাংশ
হিজামা করার সময় মূলত যে হরমোন/কেমিক্যাল পরিবর্তন হয়ঃ
1. এনডোরফিন (Endorphins) → শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হরমোন। এটা ব্যথা কমায় এবং ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে।
2. সেরোটোনিন (Serotonin) → মুড ভালো রাখে, স্ট্রেস কমায় এবং রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে।
3. ডোপামিন (Dopamine) - আনন্দ ও মোটিভেশন বাড়ায়
4. কর্টিসল ( Cortisol) - স্ট্রেস কমায়
5. ইমিউন রেগুলেটর কেমিক্যালস (প্রদাহ কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
👉 কিছু গবেষক বলছেন, সাথে কর্টিসল (Cortisol) এর মাত্রাও হ্রাস পায়, যা স্ট্রেস কমানোর পক্ষে সহায়ক।