15/02/2026
ভোটের কালি সহজে উঠছে না—এটা স্বাভাবিক। আসলে এই কালি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে কয়েকদিন আঙুলে দৃশ্যমান থাকে এবং জাল ভোট প্রতিরোধে কার্যকর হয়। সাবান, লেবু, টুথপেস্ট বা অন্য কিছু ব্যবহার করলে দাগ কিছুটা হালকা হতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি উঠবে না। সময়ের সঙ্গে ত্বকের উপরিভাগের স্তর ঝরে গেলে এটি নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়।
ভোটের কালি কীভাবে তৈরি হয়
ভোটের কালি (অমোচনীয় কালি) বিশেষ রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়, যাতে এটি সহজে মুছে না যায়।
মূল উপাদানগুলো:
1. সিলভার নাইট্রেট (Silver nitrate)
– প্রধান কার্যকর উপাদান।
– ত্বকের উপরিভাগের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে গাঢ় দাগ তৈরি করে।
– আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে এসে দাগ আরও কালচে হয়।
2. অ্যালকোহল (যেমন আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল)
– দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে।
3. রঙ বা ডাই
– তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান করার জন্য হালকা বেগুনি বা নীল রঙ যোগ করা হয়।
ইতিহাস
ভোটের অমোচনীয় কালি প্রথম ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হয় ভারতে।
১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচনে এটি প্রথম প্রয়োগ করা হয়, যাতে একজন ভোটার একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন।
এই কালি উৎপাদন করে Mysore Paints and Varnish Limited—ভারত সরকারের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। তারা পরে বিশ্বের বহু দেশে এই কালি রপ্তানি করে।
পরবর্তীতে এই পদ্ধতি ব্যবহার শুরু করে বাংলাদেশসহ নেপাল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ।
কেন সহজে ওঠে না?
সিলভার নাইট্রেট ত্বকের মৃত কোষের সঙ্গে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে। তাই সাবান বা পানি দিয়ে সহজে উঠে না। সাধারণত ৫–৭ দিন পর্যন্ত দাগ থাকে—যতদিন না ত্বকের উপরিভাগের স্তর স্বাভাবিকভাবে ঝরে যায়।
বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন ব্যবহৃত কালি মান নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে এটি নিরাপদ ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর না হয়।
👉 তাই দাগ তুলতে বাড়তি কিছু করার দরকার নেই—কয়েক দিনের মধ্যেই নিজে থেকেই মিলিয়ে যাবে।