11/04/2026
কুরআন মাজীদের ৩১তম সূরা—**সূরা লুকমান**-এ হযরত লুকমান (আ.) তাঁর সন্তানকে অত্যন্ত মূল্যবান কিছু উপদেশ দিয়েছেন। এই উপদেশগুলো ঈমান, ইবাদত এবং উন্নত চরিত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। নিচে উপদেশগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
# # # ১. তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ
লুকমান (আ.) শুরুতেই তাঁর ছেলেকে শিরক থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন:
> "হে বৎস, আল্লাহর সাথে কোনো শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক একটি বড় জুলুম।" (আয়াত: ১৩)
> এটি জীবনের মূল ভিত্তি। আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করাকে তিনি সবচেয়ে বড় অন্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
>
# # # ২. বাবা-মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার
যদিও এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা, তবে এটি লুকমান (আ.)-এর উপদেশের ধারাবাহিকতায় এসেছে। সন্তানকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মা কত কষ্ট করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছেন এবং লালন-পালন করেছেন। তাই আল্লাহর কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি বাবা-মায়ের প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে হবে। তবে যদি বাবা-মা শিরক করতে বাধ্য করেন, তবে সে ক্ষেত্রে তাঁদের কথা মানা যাবে না, কিন্তু দুনিয়াতে তাঁদের সাথে সদাচরণ বজায় রাখতে হবে। (আয়াত: ১৪-১৫)
# # # ৩. আল্লাহর অসীম জ্ঞান ও জবাবদিহিতা
তিনি তাঁর ছেলেকে পরকাল এবং আল্লাহর সূক্ষ্ম বিচার সম্পর্কে সচেতন করে বলেন:
> "হে বৎস, (পাপ বা পুণ্য) যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি থাকে পাথরের ভেতরে কিংবা আসমান অথবা জমিনে, তবে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন।" (আয়াত: ১৬)
> এটি মানুষকে শিখিয়ে দেয় যে, নির্জনে বা প্রকাশ্যে যা-ই করা হোক না কেন, আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই গোপন থাকে না।
>
# # # ৪. ইবাদত ও সমাজ সংস্কার
আধ্যাত্মিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন:
* **সালাত কায়েম করা:** আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের প্রধান মাধ্যম।
* **সৎ কাজের আদেশ দেওয়া:** সমাজের ভালোর জন্য ভূমিকা রাখা।
* **অসৎ কাজে নিষেধ করা:** মন্দকে বাধা দেওয়া।
* **বিপদে ধৈর্য ধারণ করা:** এই কাজগুলো করতে গেলে যে বাধা বা কষ্ট আসবে, তাতে ধৈর্য ধরা। (আয়াত: ১৭)
# # # ৫. নম্রতা ও শিষ্টাচার
দৈনন্দিন জীবনে মানুষের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি কিছু বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন:
* **অহংকার বর্জন:** মানুষের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে কথা না বলা এবং দম্ভভরে জমিনে চলাফেরা না করা। আল্লাহ উদ্ধত ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (আয়াত: ১৮)
* **মধ্যপন্থা অবলম্বন:** হাঁটাচলার গতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা (খুব দ্রুত বা খুব ধীরে না চলা)।
* **কণ্ঠস্বর নিচু রাখা:** উচ্চস্বরে কর্কশভাবে কথা না বলা। তিনি অপ্রয়োজনীয় উচ্চস্বরকে গাধার কণ্ঠস্বরের সাথে তুলনা করেছেন, যা শ্রুতিকটু। (আয়াত: ১৯)
**সারকথা:**
হযরত লুকমান (আ.)-এর এই উপদেশগুলো একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন (ঈমান ও ইবাদত) এবং সামাজিক জীবন (আচরণ ও চরিত্র)—উভয় দিককে সুন্দর করার জন্য এক অনন্য গাইডলাইন।