26/08/2026
আচ্ছা ডেলিভারির সময় / আগে পেটের মধ্যে বাচ্চা মারা গেলে সবাই ডাক্তার ,নার্স পেটাই , হাসপাতাল ভাঙে । কিন্তু এই যে এরা এদের পেটের সন্তানকে পেটের মধ্যে মেরে ফেলে এর জন্য এদেরকে কেনো কেউ পেটাই না ? কেনো দুই ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টি ভঙ্গি দুই রকম ।
"কেউ চেয়েও পায়না
আর কেউ পেয়েও তার গুরুত্ব বোঝে না । "
- স্বামী বিবেকানন্দ
রুগী আমার ইয়াং, বয়স ২১ ,বিয়ে হয়েছে ৫ মাস । Conceive করেছে । আমার কাছে বড় আশা নিয়ে এসেছে । তবে প্রতি রুগীর মতো আমি আমার এই রুগীকেও নিরাশ করেছি ।
আমার রুগীকে আমার করা প্রথম প্রশ্ন ছিল : আমার কাছে কেনো এসেছেন ? আপনাদের এই পাপের মধ্যে আমাকে শামিল করলে নিজেদের মধ্যে গিল্টিবোধ কম কাজ করবে এই জন্য ?
দম্পতি নীরব । অনেক বোঝানোর চেষ্টা করি এইসব রুগীদেরকে আমি ,ব্যর্থ চেষ্টা । তারা মানতে নারাজ হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।
প্রথম এক্সকিউজ দেয় শরীর দুর্বল , আমি বলি কোনো প্রেগনেন্সিতেই আপনার শরীর ভালো থাকবে না । ভালো থাকলে ডাক্তারদের কাছে আসা লাগত না ।
২য় অজুহাত : বিয়ের মোটে ৫ মাস , এখনই বাচ্চা নিতে চাই না । আমি বলি , বাচ্চা আসা মানে রোমান্স শেষ হয়ে যাওয়া না , বরং বাড়ে। নয়তো সবার একটা বাচ্চা তেই সংসার ইতি ঘটতো, ২/৩/৪/৫ টা বাচ্চা হতো না ।
যাদের আগে বাচ্চা আছে ,তারা এক্সকিউজ দেয়, আগের টা ছোট , এত বাচ্চা পালার সামর্থ্য নাই , স্বামী খরচ পাতি দেয় না । ব্লা ব্লা ব্লা ।
আচ্ছা এই সব এক্সকিউজ , সমস্যা সব কি বাচ্চা পেটে আসার পরই শুরু হয় ? বাচ্চা গুলো কি এই সব সমস্যা নিয়ে মায়ের পেটে উদয় হয় ? নাকি এইগুলো আগে থেকেই বিদ্যমান ?
যদি আগে থেকেই থাকে ,তাহলে এই সব দম্পতি আগে থেকে কেনো সতর্ক হন না ?
কেনো তাদের বাচ্চা পেটে আসার পর সব সমস্যার কথা মনে পড়ে আর বাচ্চাটাকেই তাদের ওইসব সমস্যার গোড়া মনে হয় , তাই তারা ওর প্রতি এতটা ঘৃণা পোষণ করেন , যে প্রানটাকে দুনিয়ার আলো দেখার আগেই মেরে ফেলতে চান ।
আচ্ছা ডেলিভারির সময় / আগে পেটের মধ্যে বাচ্চা মারা গেলে সবাই ডাক্তার ,নার্স পেটাই , হাসপাতাল ভাঙে । কিন্তু এই যে এরা এদের পেটের সন্তানকে পেটের মধ্যে মেরে ফেলে এর জন্য এদেরকে কেনো কেউ পেটাই না ? কেনো দুই ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টি ভঙ্গি দুই রকম ।
যায় হোক এখন আসি আসল কথায়, অনেক বোঝানোর পরও যখন কনভিন্সড করতে পারলাম না , তখন শেষে একটা কথায় বললাম , যার আয়ু নাই সে এমনিতেই মারা যাবে , হাজার চেষ্টা করেও বাঁচানো যাবে না । ওর আয়ু না থাকলে এমনি এমনিই মারা যাবে , শুধু শুধু নষ্ট করে নিজেদের হাতে রক্তের দাগ লাগানোর কোনো দরকার নাই ।
বললাম ,মন কি পরিবর্তন হলো ? বলল ৫০/৫০ ।
বাচ্চার সুস্থ থাকার ওষুধ লিখে দিলাম , বাসায় গিয়ে নামাজ পড়ে আরেকবার ভাবুন ।
জানি না কি করবে ।
আল্লাহ জানে কি করবে তারা ।
তবে দম্পতিদের উদ্দেশ্যে একটা কথায় বলবো , বাচ্চা নিতে না চাইলে সেটা ঠেকানোর জন্য অনেক পদ্ধতি আছে সেগুলো গ্রহণ করুন । ভ্রূণ হত্যা ধর্মীয় ,রাষ্ট্রীয় উভয় আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ ।
Dr. Tonuza