11/08/2026
কাকে বিশ্বাস করছেন আপনি? এসিআই, ইস্পাহানি, মিমপেক্স—যাদেরকে আপনারা অন্ধের মতো ভরসা করেন, তাদের আসল চেহারাটা একবার ল্যাবের রিপোর্টে দেখুন!
আপনার ফসলের বৃদ্ধির জন্য, ভালো উৎপাদন বা বাম্পার ফলন পাওয়ার জন্য আপনি যে পিজিআর বা হরমোন ব্যবহার করছেন, তা আসলে চরম ভেজাল ও নিম্নমানের!
সরকার সারাদেশের বাজারগুলো থেকে নিয়মিত সার, বালাইনাশক ও পিজিআর (ভিটামিন) সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করে আসছে, আর সেই ল্যাব টেস্টের অফিশিয়াল ফলাফল দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে!
আমরা মাঠপর্যায়ে যেসব নামী-দামী কোম্পানির চটকদার বিজ্ঞাপন আর চকচকে প্যাকেট দেখে চোখ বন্ধ করে হাজার হাজার টাকা ঢালছি, ল্যাবের সরকারি পরীক্ষায় তাদের আসল প্রতারণার রূপ উন্মোচিত হয়ে গেছে।
তারা আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে নকল ও মানহীন উপাদান দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে।
কোনো কোনো পণ্যের কার্যকর উপাদান তো ল্যাব টেস্টে সরাসরি "নেগেটিভ" বা শূন্য এসেছে, অর্থাৎ ভিটামিন বা হরমোনের নামে আপনারা স্রেফ বোতলজাত পানি বা অকেজো তরল কিনে জমিতে দিচ্ছেন!
তাহলে কৃষকের স্বপ্ন যারা এভাবে প্রতি নিয়ত ধ্বংস করছে, তাদের কি কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত নয়? এই প্রতারণার কারণে দেশের অর্থনীতিতে কত বড় আঘাত আসছে তা কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি?
বালাইনাশক বা পিজিআর মানহীন হলে শুধু কৃষকের কষ্টার্জিত টাকাই নষ্ট হয় না, কৃষকের পুরো মৌসুমের ফসল মাটির সাথে মিশে যায়, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
আমরা দেখতে চাই—বর্তমান সরকার এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এই সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কী দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে।
যারা বছরের পর বছর ধরে সাধারণ কৃষকদের নিঃস্ব করেছে, ফসলের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে, তাদের অবিলম্বে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কৃষকদের পক্ষ থেকে আমরা এই করপোরেট মাফিয়াদের বিচার এবং কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখতে চাই।
একটু মিলিয়ে নিন আপনার কষ্টের টাকায় কেনা প্রতারণার এই দীর্ঘ তালিকা:
এসিআই লিমিটেড-এর "বাম্পার ফলন" (ব্যাচ: 13C), ইস্পাহানি এগ্রো লিঃ-এর "ইস্পাহানি বলবান" (ব্যাচ: Bol/12/125), এবং মিমপেক্স এগ্রো কেমিক্যাল-এর "হিউমিকিং" (ব্যাচ: 55R-J1125) সরাসরি সরকারি ল্যাবে "ভেজাল" (Adulterated) প্রমাণিত হয়েছে।
পাশাপাশি মেসার্স এডভান্স কেমিক্যালস (এসিআই)-এর "বাম্পার বুস্টার" (ব্যাচ: 25 C), কেমিষ্ট ক্রপ কেয়ার-এর "কেমিষ্ট হরমোন" (ব্যাচ: ০৭২৩), এবং জেনেটিকা ইন্ডাস্ট্রিজ-এর "ভেজিমিমিক্স " (ব্যাচ: 011024) পণ্যগুলোও ল্যাবে সম্পূর্ণ "ভেজাল" হিসেবে ধরা পড়েছে।
এছাড়াও গ্রীন বাংলা এগ্রোচেট-এর "গ্রীন টনিক প্লাস" (ব্যাচ: 2504841), গ্লোবাল এগ্রোটেক-এর "পি জি আর" (ব্যাচ: ০২০২২৬), এবং এস এ এম এগ্রো কেমিক্যাল-এর "হিউমিক কেয়ার" (ব্যাচ: ২৫/০০১৫) ল্যাব পরীক্ষায় চরম "নিম্নমানের" (Substandard) বলে সরকারিভাবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই করপোরেট মাফিয়াদের মিষ্টি কথায় ভুলে আমরা আর কত লোকসান দেব? আমরা আর কোনো আশ্বাস বা কাগুজে নির্দেশ দেখতে চাই না; আমরা দেখতে চাই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
যারা বছরের পর বছর ধরে কৃষকদের নিঃস্ব করেছে, প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ কৃষকের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে এবং সোনার ফসলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করেছে—তাদের প্রত্যেককে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
#কৃষক_বাঁচাও #কর্পোরেট_প্রতারণা #ভেজাল_কীটনাশক_সতর্কতা #কৃষি_বাংলাদেশ #পিজিআর_রিপোর্ট #কৃষকের_অধিকার #জবাবদিহিতা #শাস্তি_চাই