Dr. Sauwhardya Biswas

Dr. Sauwhardya Biswas MBBS, BCS (Health)
Medical Officer (Medicine)
Shalikha Upazilla Health Complex, Magura

� সাধারণ রোগ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
� প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা তথ্য

🚫 একটি শিশুর নিরাপত্তা—একটি পরিবারের দায়িত্ব, আমাদের সবার সচেতনতাগতকাল অয়ন মেডিকেল সেন্টারের ম্যানেজার গৌতম দাদার মাত্র ...
27/08/2026

🚫 একটি শিশুর নিরাপত্তা—একটি পরিবারের দায়িত্ব, আমাদের সবার সচেতনতা

গতকাল অয়ন মেডিকেল সেন্টারের ম্যানেজার গৌতম দাদার মাত্র ৩ বছরের ছোট্ট মেয়েটি দুই তলার ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর মাথায় আঘাত পায়। মাগুরা থেকে ফরিদপুর নেওয়া হয়েছিল—কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমি স্তম্ভিত হয়ে আছি। একজন বাবা-মায়ের জন্য এমন শোক কতটা অসহনীয়, তা হয়তো কল্পনাও করা যায় না। ছোট্ট একটি প্রাণ, একটি মুহূর্তের দুর্ঘটনা—আর একটি পরিবার সারাজীবনের জন্য শূন্য হয়ে গেল।

এই ঘটনা কাউকে ভয় দেখানোর জন্য নয়। বরং আমাদের সবাইকে একবার থেমে ভাবানোর জন্য।

👶 শিশুরা বিপদ বোঝে না

একটি ছোট শিশু জানে না— কোথায় পড়ে গেলে আঘাত লাগবে, কোথায় বিদ্যুৎ আছে, কতটা উঁচু থেকে পড়লে মৃত্যু হতে পারে, পানির গভীরতা কতটা, অথবা কোন জিনিসটি স্পর্শ করা বিপজ্জনক।

ওরা স্বভাবতই কৌতূহলী, চঞ্চল এবং অনুসন্ধিৎসু। যে জিনিসটি আমাদের কাছে বিপজ্জনক, সেটিই হয়তো তাদের কাছে নতুন একটি খেলার জিনিস।
তাই শুধু শিশুকে বলা—“ওখানে যেও না”—সবসময় যথেষ্ট নয়।
আমাদের ঘরকেই এমনভাবে নিরাপদ করতে হবে, যাতে শিশুর ভুলের সুযোগ থাকলেও তার পরিণতি যেন ভয়াবহ না হয়।

🏠 বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় বিশেষ সতর্কতা
ছোট শিশু আছে এমন বাড়িতে—
🔹 ছাদের চারপাশে যথেষ্ট উঁচু ও শক্ত রেলিং/প্যারাপেট থাকা উচিত।
🔹 রেলিং এমন হওয়া উচিত নয়, যার মাঝখান দিয়ে শিশু সহজে বের হতে পারে।
🔹 রেলিংয়ের পাশে চেয়ার, টেবিল, টুল, টব, বাক্স বা অন্য কোনো বস্তু রাখা উচিত নয়—যার ওপর উঠে শিশু সহজে কিনারায় পৌঁছে যেতে পারে।
🔹 ছাদে যাওয়ার দরজায় শিশু-নিরাপদ লক/গেট রাখা যেতে পারে।
🔹 ছাদে পানির ট্যাংক, নির্মাণসামগ্রী বা অন্য কোনো উঁচু বস্তু থাকলে সেগুলোর আশপাশেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
🔹 বারান্দার গ্রিল/রেলিংয়ের নকশা এমন হওয়া উচিত যাতে শিশু মাথা বা শরীর ঢুকিয়ে আটকে যেতে বা বাইরে পড়ে যেতে না পারে।
🔹 জানালার ক্ষেত্রেও শিশুদের নাগালের বাইরে সেফটি গ্রিল/চাইল্ড-সেফটি ব্যবস্থা রাখা জরুরি।

⚠️ শুধু ছাদ নয়—বাড়ির আরও কিছু বড় ঝুঁকি
শিশুর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—
• সিঁড়ি থেকে পড়ে
• জানালা বা বারান্দা থেকে পড়ে
• পানির ট্যাংক, বালতি, পুকুর বা খোলা পানিতে ডুবে
• বৈদ্যুতিক সকেট/তার থেকে
• গরম পানি বা আগুনে পুড়ে
• ওষুধ, কীটনাশক বা রাসায়নিক খেয়ে
• ছোট খেলনা/বস্তু গিলে শ্বাসনালীতে আটকে
• রান্নাঘরের ছুরি, কাঁচ বা ধারালো জিনিসে
• রাস্তায় বা গাড়ির নিচে/সামনে গিয়ে
• ঘরের ভারী আসবাবপত্র উল্টে গিয়ে।

❤️ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
শিশুকে সবসময় নজরে রাখা সম্ভব নয়।
মা-বাবা হয়তো কয়েক মিনিটের জন্য অন্য কাজে ব্যস্ত থাকবেন। দাদা-দাদি, ভাই-বোন বা অন্য কেউ হয়তো শিশুর পাশে থাকবেন। তাই শিশুর নিরাপত্তা শুধু “কে তাকে দেখছে”—তার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—
“আমাদের বাড়িটা কি শিশুর জন্য নিরাপদ?”
আজই নিজের বাড়ির ছাদ, বারান্দা, জানালা, সিঁড়ি, পানির ব্যবস্থা, রান্নাঘর, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ওষুধ/রাসায়নিক রাখার জায়গাগুলো একবার শিশুর চোখ দিয়ে দেখুন।
যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো ঝুঁকি দেখছেন না, সেখানে হয়তো একটি ৩ বছরের শিশু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পৌঁছে যেতে পারে।

গৌতম দাদার পরিবারের এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনো কথায় পূরণ হওয়ার নয়। ছোট্ট শিশুটির জন্য গভীর শোক ও তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা।

আসুন, এই মর্মান্তিক ঘটনাটিকে শুধু একটি দুঃখজনক খবর হিসেবে না দেখে—নিজের সন্তানের নিরাপত্তার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে নিই।

❓আজ আপনার বাড়িতে একটি ছোট্ট শিশু নিরাপদ তো?

সচেতনতা হয়তো একটি দুর্ঘটনা ঠেকাতে পারে। আর একটি দুর্ঘটনা ঠেকানো মানে—একটি জীবন বাঁচানো।

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura


 : 16“স্যার, ওর হাত-পা কেমন যেন কুঁকড়ে যাচ্ছে!” — Emergency-তে এক সন্ধ্যার ঘটনাসন্ধ্যা তখন প্রায় ৭টা।Emergency-তে ১১ বছর...
23/08/2026

: 16

“স্যার, ওর হাত-পা কেমন যেন কুঁকড়ে যাচ্ছে!” — Emergency-তে এক সন্ধ্যার ঘটনা

সন্ধ্যা তখন প্রায় ৭টা।
Emergency-তে ১১ বছরের একটা বাচ্চাকে নিয়ে ছুটে এলেন তার মা।
বাচ্চাটা খুব দ্রুত, জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে—একেবারে hyperventilating।

প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, “হয়তো খুব ভয় পেয়েছে” কিংবা “anxiety attack”।
কিন্তু বাচ্চার মায়ের কাছ থেকে ইতিহাস নিতে গিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলাম—
দুপুর থেকে অনেকবার বমি হয়েছে।
আর বিকেলের পর থেকেই শুরু হয়েছে অস্বাভাবিকভাবে লম্বা লম্বা শ্বাস নেওয়া। এর সঙ্গে শরীর কুঁকড়ে আসছে।

Examination করতে গিয়ে আরও একটি বিষয় চোখে পড়ল—
হাতের আঙুলগুলো কুঁকড়ে যাচ্ছে।
তখন মাথায় একটা diagnosis জোরালোভাবে আসতে শুরু করল—

⁉️ Tetany.

কিন্তু শুধু অনুমান করেই তো বসে থাকা যায় না।
তাই আরেকটা bedside sign দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম।
BP cuff হাতে লাগিয়ে inflate করে অপেক্ষা করলাম...
কিছুক্ষণ পর হাতটা ঠিক ছবির মতো কুঁকড়ে গেল। (সংযুক্ত ছবি- ১)

✅ Trousseau sign positive.

এবার clinical picture অনেকটাই পরিষ্কার।

কিন্তু এমন হলো কেন?
এখানেই ঘটনাটার interesting অংশ।
বারবার বমির ফলে শরীর থেকে fluid ও electrolyte loss হতে পারে। তার সঙ্গে যদি কোনো কারণে বাচ্চা খুব দ্রুত hyperventilate করতে থাকে, তাহলে রক্তে CO₂ কমে respiratory alkalosis তৈরি হতে পারে। আর এই alkalosis-এর সময় Negatively charged Protein এর প্রতি রক্তের ionized Ca++ এর আকর্ষণ বেড়ে যায় এবং বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাই শরীরে Total Calcium ঠিক থাকলেও, Ionized Calcium কমে যেতে পারে—ফলে neuromuscular irritability বেড়ে গিয়ে দেখা দিতে পারে:

➡️ হাত-পায়ের muscle spasm
➡️ tingling/paresthesia
➡️ carpopedal spasm
➡️ Trousseau sign positive
➡️ এমনকি severe হলে seizure বা cardiac rhythm disturbance-ও হতে পারে।

​অভিভাবকদের বুঝিয়ে বললাম সমস্যাটা কোথায়। এর আসল চিকিৎসা হলো serum electrolytes দেখে সেটা correction করা, ABG করে Akalosis কনফার্ম হওয়া, serum Ca++ লেভেল পরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে শিরায় ক্যালসিয়াম ইনজেকশন (IV Calcium Gluconate) দেওয়া। তবে এই ইনজেকশন দেওয়ার সময় হার্ট রেট এবং কার্ডিয়াক মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি, কারণ দ্রুত ইনজেকশন দিলে রক্তচাপ বা হার্টবিট হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে।

​বাচ্চাটি বুকে ব্যথার কথাও বলছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা যশোর নিয়ে যেতে চাইলেন। কিন্তু সমস্যা হলো, হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স তখন অন্য রোগী নিয়ে বাইরে, আসতে কিছুটা দেরি হবে।

এই বিপদের মুহূর্তে হাত গুটিয়ে বসে থাকার উপায় ছিল না। অভিভাবকদের ধীরস্থিরভাবে বুঝিয়ে 'পেপার ব্যাগ থেরাপি'র (Paper Bag Breathing) কথা বললাম। একটি কাগজের ঠোঙা বা ব্যাগের ভেতর বাচ্চাকে শ্বাস ছাড়তে ও নিতে বলা হলো। এতে করে তার শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড আবার শ্বাসের মাধ্যমে ভেতরে ফিরে যায়, যা রক্তের পিএইচ (pH) বা অ্যাসিড-ক্ষার সমতা ফেরাতে দ্রুত সাহায্য করে। সাথে সাথে দেওয়া হলো প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সাপোর্ট। বমিতে শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া লবনের ঘাটতি পূরনের জন্য দেওয়া হলো হাতের কাছে থাকা Normal Saline.

​রোগীকে অবজারভেশনে রেখে ভর্তি দেওয়া হলো। ঠিক এক ঘণ্টা পর বাচ্চার অভিভাবক এসে হাসিমুখে বললেন, "স্যার, বাচ্চা তো এখন অনেক ভালো আছে, হাত-পায়ের টানও ছেড়ে দিয়েছে!"

​যেখানে একটুর জন্য বড় কোনো বিপদ হতে পারতো, সেখানে কেবল সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের জোরে বাচ্চাটি সুস্থ বোধ করতে শুরু করল। এটাই ইমার্জেন্সি ডিউটির সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।

অনুভূতি টা সুন্দর নাও হতে পারতো। বাচ্চা টা কোনো ভাবে সুস্থ না হয়ে একটু খারাপ হলেই আর রক্ষা ছিলো না। যে ডাক্তার ভুল চিকিৎসা দিছে। কিন্তু, এই ক্ষেত্রে তা হয়নি, রোগীর বাড়ির লোক যথেষ্ট শিক্ষিত ছিলো বলে মনে হয়েছে, আর তাদের কে পুরোটা বুঝিয়ে বলাতে বুঝতেও পেরেছিলো।

​ছোট্ট বার্তা:
শরীর অতিরিক্ত অবশ হয়ে যাওয়া বা হাত-পা কুঁকড়ে যাওয়ার পেছনে অনেক সময় জটিল কোনো কারণ না থেকেও কোনো ইলেকট্রোলাইট বা ক্যালসিয়ামের তারতম্য থাকতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আর কোনো চিকিৎসক ই চান না তার রোগী খারাপ হোক। সর্বদা রোগীর ভালোর জন্যই চেষ্টা করে।

_
Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura

যিনি/যারা আমার চিকিৎসা /পরামর্শ নিতে ইচ্ছুক, তারা নির্দ্বিধায় আসতে পারেন।♦️প্রতি শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে ২ টাচেম্বার: অ...
22/08/2026

যিনি/যারা আমার চিকিৎসা /পরামর্শ নিতে ইচ্ছুক, তারা নির্দ্বিধায় আসতে পারেন।

♦️প্রতি শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে ২ টা

চেম্বার: অয়ন মেডিকেল সেন্টার, আড়পাড়া

 : 15জরুরি বিভাগের  ‘অজরুরি’ গল্প🏥 হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ—নামেই যার পরিচয়।এখানে আসার কথা তাঁদের, যাঁদের অপেক্ষা কর...
18/08/2026

: 15
জরুরি বিভাগের ‘অজরুরি’ গল্প

🏥 হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ—নামেই যার পরিচয়।
এখানে আসার কথা তাঁদের, যাঁদের অপেক্ষা করার সময় নেই।
যাঁদের অসুস্থতা একটু দেরি সহ্য করে না।
কিন্তু বাস্তবের ইমার্জেন্সিতে দাঁড়িয়ে মাঝে মাঝে মনে হয়—জরুরি রোগীর চেয়ে সুযোগসন্ধানী রোগীর সংখ্যাই বুঝি বেশি!

কারণটা খুব সহজ।
আউটডোরে টিকিট কাটতে হবে।
তারপর লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে।
ডাক্তার দেখাতে অপেক্ষা করতে হবে।
এসব ঝামেলা এড়াতে অনেকেই ভাবেন—
“ইমার্জেন্সিতে যাই, দেখি কী হয়!”

সেদিন এমনই এক চাচা এলেন। বয়স আশির কাছাকাছি।
এসেই বললেন,
🎅— “স্যার, আপনি কি নতুন আইছেন? আগে তো দেখি নাই!”

👨‍⚕️— “তাহলে চাচা, গত ছয় মাস আপনি খুব ভালো ছিলেন। হাসপাতালে আসার দরকার হয়নি। তাই আমাকেও দেখেননি!”

চাচা একটু থেমে বললেন,
🎅— “না না, কালকেও আইছি। এই যে, ডা. প্রান্ত স্যারের কাছ থেইকা ওষুধ নিয়া গেছি।”

👨‍⚕️— “আচ্ছা, ভালো কথা। এখন কী সমস্যা?”

🎅— “প্রেশারটা একটু মাপেন।”

প্রেশার মাপা হলো।

তারপর চাচা শুরু করলেন—
🎅— “কমরে ব্যথা, পিঠে ব্যথা। এই জন্য এই ওষুধ দিছে। ওষুধ ঠিক আছে তো? নাকি এর সাথে আর কিছু লাগবে?”

আমি ওষুধগুলো দেখে বললাম,
👨‍⚕️— “না চাচা, এগুলো খেলেই হবে। আর কিছু লাগবে না।”

চাচা তাতেও থামলেন না।
তারপর শুরু হলো হাসপাতালের বাইরের পৃথিবীর নানা গল্প।
কোনোটা প্রয়োজনীয়, কোনোটা অপ্রয়োজনীয়, কোনোটা এমন—যার সঙ্গে রোগের সম্পর্ক খুঁজতে গেলে মেডিকেল সায়েন্সকেও নতুন করে ভাবতে হবে! কোনো ভাবেই চাচাকে থামানো যাচ্ছে না। মুখে পান চাবাচ্ছেন আর অনর্গল কথা বলে যাচ্ছেন।

অবশেষে বিদায়ের সময় আমি বললাম,
👨‍⚕️— “চাচা, ওষুধের পাশাপাশি কিছু নিয়মকানুনও মানতে হবে। এটা করবেন, ওটা করবেন না…। পান খাওয়া যাবে না। ”

চাচা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলেন।

তারপর একেবারে নির্লিপ্তভাবে বললেন—

🎅- “রোগী তো আমি না স্যার। আমার বউ। আমি তো পুরো সুস্থ! আমি পান খেলে তো অসুবিধা নেই!!?”

আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম।

মনে মনে ভাবলাম—
তাহলে এতক্ষণ কোমরের ব্যথা, পিঠের ব্যথা, ওষুধ ঠিক আছে কি না—সবই চাচির জন্য ছিল?

চাচার নিজের না হলেও, তাঁর দায়িত্ববোধ কিন্তু যথেষ্ট শক্তিশালী!

আর তখনই বুঝলাম—ইমার্জেন্সিতে মানুষ শুধু অসুস্থতা নিয়েই আসে না।
কেউ আসে সত্যিকারের জরুরি প্রয়োজনে।
কেউ আসে একটু সুবিধা নিতে।
কেউ আসে রিপোর্ট দেখাতে।
কেউ আসে প্রেসার মাপতে।
কেউ আসে আগের ওষুধ ঠিক আছে কি না জানতে।

আর কেউ কেউ আসে—
“একটু হাঁটতে বের হইছিলাম, ভাবলাম হাসপাতালে ঘুরে আসি!” 😄

ইমার্জেন্সি তাই শুধু রোগের জায়গা নয়—
এটা মানুষের অদ্ভুত অদ্ভুত গল্পেরও এক জীবন্ত জাদুঘর।

আর সেই জাদুঘরে প্রতিদিনই নতুন নতুন চরিত্রের আগমন ঘটে। 😄

আর এনাদের জন্য আসলেই যাদের জরুরি সেবা দরকার তারা ঝামেলায় পড়ে।

তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ইমার্জেন্সিতে এসে অন্যদের অসুবিধার কারণ হবেন না। যেই সমস্যা আউটডোরে দেখানোর সেটা নিয়ে সেখানেই যান।

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura

 :14🩺 “স্যার, আগের সমস্যাটা ভালো হয়ে গেছে… কিন্তু একটা কথা আপনাকে আগের দিন বলতে পারিনি।”৩০ বছর বয়সী একজন নারী রোগী এসেছি...
15/08/2026

:14
🩺 “স্যার, আগের সমস্যাটা ভালো হয়ে গেছে… কিন্তু একটা কথা আপনাকে আগের দিন বলতে পারিনি।”

৩০ বছর বয়সী একজন নারী রোগী এসেছিলেন আউটডোরে। আগের একটি সমস্যার জন্য দেওয়া চিকিৎসায় বেশ ভালো হয়ে গেছেন। তাই ফলোআপে এসে বেশ হাসিমুখেই বললেন—

👱‍♀️— স্যার, আপনার দেওয়া ওষুধে আমার আগের সমস্যাটা একদম ভালো হয়ে গেছে।

👨‍⚕️— ভালো আছেন জেনে ভালো লাগছে। আর কোনো সমস্যা আছে?

কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটু ইতস্তত করে বললেন—
👱‍♀️— আসলে স্যার, আগের দিন লজ্জায় একটা কথা বলতে পারিনি। এই সমস্যাটা নিয়ে আমি অনেক বছর ধরে ভুগছি। অনেকের পরামর্শ নিয়েছি, অনেক ওষুধ খেয়েছি। টেস্টও করিয়েছি অনেক.. CT scan ও করা হয়েছে… কিন্তু রিপোর্ট সবসময়ই নরমাল। সবাই বলে, “এমনিই ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু ঠিক হয়নি।

👨‍⚕️— আচ্ছা, আগে সমস্যাটা বিস্তারিত বলুন। তারপর দেখা যাক কী করা যায়।

👱‍♀️— স্যার, আমার মাসিকের সময় প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয়। এমন ব্যথা যে ওই ৪–৫ দিন সহ্য করাই কঠিন হয়ে যায়।

এবার একটু বিস্তারিত জানতে চাইলাম।

— মাথাব্যথা ঠিক কখন শুরু হয়? মাসিক শুরু হওয়ার আগে, নাকি শুরু হওয়ার পর?
— কতক্ষণ থাকে?
— অন্য সময়ও কি এমন মাথাব্যথা হয়?
— ব্যথাটা কি মাথার এক পাশে বেশি হয়?
— আলো বা শব্দে কি ব্যথা বেড়ে যায়?
— বমি বমি ভাব বা বমি হয়?
— দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে অসুবিধা হয়?
— আগে চোখে ঝাপসা দেখা, আলো ঝলকানি, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো কিছু হয়?
— পরিবারের কারও এমন মাথাব্যথার ইতিহাস আছে?
এর পাশাপাশি মাসিকের সময়কাল, নিয়মিত কি না, ব্যথার সঙ্গে সম্পর্ক এবং অন্য কোনো উপসর্গ সম্পর্কেও জানতে চাইলাম।

👱‍♀️- স্যার, আমার এই মাথা ব্যাথা নিয়ে এত প্রশ্ন আগে কেউ জানতেই চায়নি!!

সবকিছু মিলিয়ে রোগীর ইতিহাসটা একটা নির্দিষ্ট দিকেই ইঙ্গিত করছিল।

Provisional diagnosis: Catamenial migraine.

অর্থাৎ, মাসিকের সঙ্গে সম্পর্কিত migraine।
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দিলাম। আর বললাম—
👨‍⚕️_ “পরের মাসে মাসিকের সময় কী হয়, সেটা লক্ষ্য করবেন। তারপর আমাকে feedback দেবেন।”

এক মাস পর তিনি আবার এলেন।
হাসিমুখে বললেন—
👱‍♀️- “স্যার, এই মাসে ওইরকম মাথাব্যথা হয়নি বললেই চলে! আমি অনেক ভালো আছি।”

⁉️ তাহলে মাসিকের সময় migraine কেন বাড়ে?
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমোনের ওঠানামা। মাসিকের আগে estrogen-এর মাত্রা দ্রুত কমে যায়। এই hormonal fluctuation মস্তিষ্কের migraine pathway-কে বেশি sensitive করে তুলতে পারে। ফলে যাদের migraine-এর প্রবণতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে মাসিকের আগে বা আশেপাশে তীব্র headache trigger হতে পারে।
এ কারণেই কিছু নারীর migraine শুধুমাত্র মাসিকের সময়ই হয় বা ওই সময়টাতেই অনেক বেশি তীব্র হয়—যাকে বলা হয় menstrual বা catamenial migraine।

এ ধরনের migraine সাধারণ migraine-এর তুলনায় অনেক সময়—
🔹 বেশি তীব্র হয়
🔹 দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়
🔹 দৈনন্দিন কাজকর্মে বেশি বাধা দেয়
🔹 বারবার ফিরে আসতে পারে

❌ তবে প্রতিটি মাসিকের সময়ের মাথাব্যথাই migraine নয়।

তাই শুধু “period-এর সময় মাথাব্যথা হয়” শুনেই diagnosis করে ফেলা উচিত নয়। বিস্তারিত history নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে অন্য কারণগুলো বাদ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

অনেক রোগী এমন কিছু সমস্যার কথা লজ্জা, সংকোচ বা “এটা তো স্বাভাবিক” মনে করে চিকিৎসককে বলেন না।

ফলে বছরের পর বছর সমস্যাটা থেকে যায়।
আবার অনেক সময় রোগী অনেক পরীক্ষা করিয়েও যখন সব রিপোর্ট স্বাভাবিক পান, তখন মনে করেন—
“আমার তো কিছুই হয়নি!”

কিন্তু সব রোগের diagnosis blood test বা scan দিয়ে হয় না।
অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর গল্পটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ test।

তাই কোনো সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে, দীর্ঘদিন থাকে বা জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে—লজ্জা না করে চিকিৎসককে বিস্তারিত বলুন।

কারণ, সঠিক diagnosis-এর প্রথম ধাপ অনেক সময় কোনো test নয়—একটি ভালো history।

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura



ছয় মাসের পথচলা—আর কিছু মানুষের ভালোবাসা ❤️উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে Assistant Surgeon/Medical Officer হিসেবে কাজ করার ...
11/08/2026

ছয় মাসের পথচলা—আর কিছু মানুষের ভালোবাসা ❤️

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে Assistant Surgeon/Medical Officer হিসেবে কাজ করার ৬ মাস পার হয়ে গেল।

এই সময়ে Outdoor, Indoor, Emergency—যেখানেই দায়িত্ব পেয়েছি, নিজের সাধ্য অনুযায়ী আন্তরিকভাবে রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। নিজের উপজেলায় কাজ করার অনুভূতিটা সত্যিই একটু অন্যরকম। এর সঙ্গে মিশে থাকে এক ধরনের ভালো লাগা, আবার দায়িত্ববোধটাও যেন একটু বেশি।

কতটুকু কী করতে পেরেছি, সেটা হয়তো আমি নিজে বিচার করার মানুষ নই। তবে কিছু ছোট ছোট ঘটনা মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দেয়—চিকিৎসক হিসেবে আমাদের কাজটা আসলে কতটা অর্থবহ হতে পারে।

রোগীরা যখন এসে আমাকে খোঁজেন, পরামর্শ নিয়ে উপকার পাওয়ার পর নিজের আত্মীয়-স্বজনকেও নিয়ে আসেন—তখন সত্যিই ভেতর থেকে একটা আত্মতৃপ্তি কাজ করে।

কিছুদিন NCD Corner-এ বসতে হয়—যেখানে মূলত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের রোগীদের দেখি। সেদিন সাধারণত অন্য রোগী দেখার সুযোগ হয় না।

কিন্তু বাইরে থেকে মাঝে মাঝে কথাগুলো কানে আসে—

"আজ ওই ডাক্তারটাকে পাচ্ছি না?"
"সুন্দর করে হাসি দিয়ে কথা বলা ওই স্যারের কাছেই তো আমরা দেখাই!"

এই কথাগুলো কোনো পুরস্কারের চেয়ে কম নয়। ❤️

কয়েকদিন আগের একটি ঘটনা বিশেষভাবে মনে থাকবে।

একটি পরিবারের চার প্রজন্মের সদস্য এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে আমি আগেও দেখেছিলাম। আমাকে দেখেই একজন বললেন—

"স্যার, আপনাকে কত খুঁজেছি! আপনাকে দেখিয়ে আমার মা ভালো হয়ে গেছেন, আমার wife-ও আগের চেয়ে অনেক ভালো। আজ আমার মেয়েকে আর নাতি ছেলেকে নিয়ে এসেছি—ওদেরও আপনাকেই দেখাব।"

মেয়েটির বয়স ১৯-২০ বছর হবে, আর নাতি ছেলেটা মাত্র এক বছরের একটু বেশি।

একজন চিকিৎসকের কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে?

এমন অসংখ্য ছোট ছোট ঘটনা আছে—যেগুলো প্রতিদিন নতুন করে ভালোভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।

এবার একটু সুখবরের কথা বলি। 😊

আমার বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতদের কাছ থেকে অনেকদিন ধরেই একটি প্রশ্ন শুনে আসছি—

"চেম্বার করবে কবে?"

অনেকেই সময়ের অভাবে বা দূরত্বের কারণে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে পারেন না। বিশেষ করে আমাদের এলাকার অনেকের জন্য শালিখায় যাওয়া একটু অসুবিধারও।

তাই আপনাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এখন থেকে প্রতি শুক্রবার সকালে আড়পাড়া-তে চেম্বার শুরু করছি।

📍 অয়ন মেডিকেল সেন্টার, আড়পাড়া
🗓️ প্রতি শুক্রবার
🌅 সকাল ১০:০০ টা থেকে

যারা আমার পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা নিতে চান, তারা স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারেন।

আমি চেষ্টা করব—শুধু রোগ দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, রোগীকে সময় দিয়ে তার সমস্যাটা বুঝতে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দিতে এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করতে।

চিকিৎসক হিসেবে আমাদের হাতে সবসময় রোগ সারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। কিন্তু আন্তরিকতা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা এবং একজন রোগীর পাশে থাকার চেষ্টা—এগুলো আমাদের হাতে থাকে।

আপনাদের আস্থা ও ভালোবাসাই সামনে আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়ার অনুপ্রেরণা। ❤

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS (Health)
Assistant Surgeon
Upazila Health Complex, Shalikha, Magura



 :13“ডাক্তার, আমার মনে হয় গ্যাসের সমস্যা হয়েছে…”রুমে ঢুকেই ৪৫ বছর বয়সী মহিলা কথাটা বললেন।আমি জিজ্ঞেস করলাম,👨‍⚕️— “কী সমস...
09/08/2026

:13

“ডাক্তার, আমার মনে হয় গ্যাসের সমস্যা হয়েছে…”

রুমে ঢুকেই ৪৫ বছর বয়সী মহিলা কথাটা বললেন।

আমি জিজ্ঞেস করলাম,
👨‍⚕️— “কী সমস্যা হচ্ছে?”

তিনি বললেন,
👱‍♀️— “কয়েক মাস ধরে পেটটা সবসময় ভরা ভরা লাগে। একটু খেলেই মনে হয় অনেক খেয়ে ফেলেছি। বুকেও জ্বালা করে। শরীরটাও কেমন দুর্বল লাগে।”

কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললেন,
👱‍♀️— “আর ইদানীং হাত-পা ঝিনঝিন করে, মাঝে মাঝে অবশও লাগে। চোখেও ঝাপসা দেখি।”

আমি জিজ্ঞেস করলাম,
👨‍⚕️— “আপনার ডায়াবেটিস আছে?”

👱‍♀️— “জি ডাক্তার। ১৩ বছর হলো।”

👨‍⚕️— “ওষুধ নিয়মিত খান?”

একটু ইতস্তত করে বললেন,
👱‍♀️— “আসলে… সবসময় না। Sugar বেশি থাকলে কয়েকদিন খাই, পরে ভালো মনে হলে আর খাওয়া হয় না।”

তারপর রক্তের glucose পরীক্ষা করা হলো।
RBS: 20 mmol/L

আমি তখন তাকে বললাম,
👨‍⚕️— “আপনার সমস্যাটা শুধু ‘গ্যাস’ বলে ধরে নিলে ভুল হতে পারে।”

তিনি অবাক হয়ে বললেন,
👱‍♀️— “ডায়াবেটিসের জন্যও কি পেট ভরা ভরা লাগতে পারে?”

আমি বললাম,
👨‍⚕️— “হ্যাঁ, পারে। দীর্ঘদিন রক্তে sugar বেশি থাকলে শুধু চোখ বা কিডনি নয়, শরীরের বিভিন্ন স্নায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

“হাত-পায়ে যে ঝিনঝিনি বা অবশভাব হচ্ছে, সেটা হতে পারে diabetic peripheral neuropathy-এর কারণে।”

“আর পাকস্থলীর খাবার সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার যে স্বাভাবিক movement, সেটাও স্নায়ুর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। দীর্ঘদিনের uncontrolled diabetes সেই autonomic nerves-কে ক্ষতিগ্রস্ত করলে পাকস্থলীর movement ধীর হয়ে যেতে পারে। তখন হতে পারে diabetic gastroparesis।”

তিনি এবার একটু চিন্তিত হয়ে বললেন,
👱‍♀️— “তাহলে আমার বুক জ্বালাটাও কি ডায়াবেটিসের জন্য?”

আমি বললাম,
👨‍⚕️— “হতে পারে, তবে শুধু ডায়াবেটিসের জন্যই হচ্ছে—এটা ধরে নেওয়া যাবে না। Heartburn-এর অন্য কারণও থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোও দেখতে হবে।”

তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন,
👱‍♀️— “আর চোখে ঝাপসা দেখছি?”
আমি বললাম,
👨‍⚕️— “রক্তে sugar অনেক বেশি থাকলেও সাময়িকভাবে blurred vision হতে পারে। আবার দীর্ঘদিনের uncontrolled diabetes চোখের retina-তেও ক্ষতি করতে পারে—যাকে আমরা diabetic retinopathy বলি। তাই চোখ পরীক্ষা করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।”

কথা বলতে বলতে তিনি চুপ হয়ে গেলেন।
তারপর বললেন,
👱‍♀️— “আমি তো ভাবতাম, ডায়াবেটিস মানে শুধু sugar বেশি থাকা…”

আমি বললাম,
👨‍⚕️— “ডায়াবেটিস শুধু একটা blood test-এর সংখ্যা নয়। দীর্ঘদিন uncontrolled থাকলে এটি ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”

পেট ভরা ভরা লাগা, ঝিনঝিনি, অবশভাব, দুর্বলতা, ঝাপসা দেখা—শরীর কখনো কখনো এভাবেই আমাদের সতর্ক করে।

তাই—
“Sugar বেশি, কিন্তু কোনো সমস্যা হচ্ছে না”—এই ধারণাটা বিপজ্জনক।

নিয়মিত ওষুধ, খাবার নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক পরিশ্রম এবং নিয়মিত follow-up—এসবই diabetes management-এর অংশ।

আর যদি দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসের সঙ্গে থাকে—
🔸 হাত-পায়ে ঝিনঝিনি/অবশভাব
🔸 অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া
🔸 bloating বা nausea
🔸 অস্বাভাবিক দুর্বলতা
🔸 ঝাপসা দেখা
🔸 বারবার প্রস্রাবের সমস্যা বা অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ

তাহলে শুধু “গ্যাস” বা “দুর্বলতা” বলে এড়িয়ে যাবেন না।
কারণ কখনো কখনো শরীরের ছোট ছোট অভিযোগই বড় একটি সমস্যার প্রথম সংকেত।

(রোগী মুখের রুচি বাড়ানোর জন্য, আর পেট ভরা লাগা কমানোর জন্য ঝাল চকলেট খেয়ে জিহবা সবুজ করে এসেছে, সাথে ডিহাইড্রেশনও আছে)

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura


🕒 সঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া: মেটাবলিক ডিজিজ প্রতিরোধের চাবিকাঠি🌅 দিনের আলোতে খাওয়া, রাতে বিশ্রাম—এটাই শরীরের স্বাভাবিক নিয়...
04/08/2026

🕒 সঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া: মেটাবলিক ডিজিজ প্রতিরোধের চাবিকাঠি

🌅 দিনের আলোতে খাওয়া, রাতে বিশ্রাম—এটাই শরীরের স্বাভাবিক নিয়ম।

আপনি হয়তো ভাবেন, "কী খাচ্ছি সেটাই তো গুরুত্বপূর্ণ!"
হ্যাঁ, কিন্তু গবেষণা বলছে—কখন খাচ্ছেন, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের শরীর একটি Biological Clock (Circadian Rhythm) অনুসরণ করে। সূর্যের আলো-অন্ধকারের সাথে মিল রেখে এই জৈবিক ঘড়ি প্রতিদিন আমাদের হরমোন, ক্ষুধা, ইনসুলিনের কার্যকারিতা, এমনকি বিপাকক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণ করে।

🧠 সকালে কী হয়?

✔️ ইনসুলিন Sensitivity সবচেয়ে ভালো থাকে।
✔️ খাবারের গ্লুকোজ সহজে কোষে প্রবেশ করে শক্তি উৎপন্ন করে।
✔️ রক্তে শর্করা তুলনামূলক কম বাড়ে।

🍛 দুপুরে

✔️ শরীর এখনো খাবার দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারে।
✔️ তাই দিনের প্রধান খাবার এ সময় রাখা যুক্তিযুক্ত।

🌙 রাতে কী হয়?

❌ ইনসুলিন Sensitivity কমতে শুরু করে।
❌ একই খাবার খেলেও রক্তে শর্করা বেশি বাড়তে পারে।
❌ শরীর তখন হজমের চেয়ে বিশ্রাম ও কোষ মেরামতের কাজে বেশি মনোযোগ দেয়।

✳️ তাই নিয়মিত গভীর রাতে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বাড়াতে পারে

🔸 স্থূলতা
🔸 ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
🔸 টাইপ-২ ডায়াবেটিস
🔸 ফ্যাটি লিভার
🔸 হৃদরোগের ঝুঁকি

⏰ স্বাস্থ্যকর Meal Timing

🥣 ঘুম থেকে ওঠার ১–২ ঘণ্টার মধ্যে নাস্তা করুন।

🍛 দুপুরের খাবার প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে খান।

🍲 রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ২–৩ ঘণ্টা আগে শেষ করুন।

🌙 রাত ৯–১০ টার পরে ভারী খাবার খাওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

🕰️ কেন প্রতিদিন একই সময়ে খাবেন?

নিয়মিত Meal Timing শরীরের Biological Clock-এর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে—

✅ ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
✅ ক্ষুধা ও তৃপ্তির হরমোন (Ghrelin ও Leptin) ভারসাম্যে থাকে।
✅ অকারণে ক্ষুধা ও অতিরিক্ত Snacking কমে।
✅ ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
✅ ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।
✅ দীর্ঘমেয়াদে Metabolic Disease-এর ঝুঁকি কমতে পারে।

⚠️ মনে রাখবেন:

সবার জন্য এক নিয়ম নয়। নাইট শিফট, গর্ভাবস্থা, ডায়াবেটিসে ইনসুলিন বা কিছু ওষুধ ব্যবহার, কিংবা বিশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থায় Meal Timing চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

💚 স্বাস্থ্যকর জীবনের সহজ নিয়ম

✔️ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খান।
✔️ সকালের নাস্তা অকারণে বাদ দেবেন না।
✔️ দিনের বেলায় বেশি ক্যালোরি, রাতে হালকা খাবার খান।
✔️ ঘুমানোর ২–৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।
✔️ পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন—এগুলোও আপনার Biological Clock সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

মনে রাখবেন—
"শুধু কী খাচ্ছেন, তা নয়; কখন খাচ্ছেন, সেটাও আপনার ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।"

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS (Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura


  :12💊 "দুই দিনেই ভালো"—এই ফাঁদেই লুকিয়ে থাকে বড় বিপদ!সেদিন আউটডোরে ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে এলো। ছেলেটির সমস্যার কথা শু...
31/07/2026

:12

💊 "দুই দিনেই ভালো"—এই ফাঁদেই লুকিয়ে থাকে বড় বিপদ!

সেদিন আউটডোরে ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে এলো। ছেলেটির সমস্যার কথা শুনলাম, দেখলাম। তারপর যা জানলাম, তা খুবই পরিচিত একটি ঘটনা।

চামড়ায় সমস্যা হওয়ার পর প্রথমেই তারা ফার্মেসিতে গিয়েছিল। সেখানে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই একটি স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম দেওয়া হয়।

ফলাফল?

প্রথম ২ দিন দেখে মনে হলো রোগ ভালো হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরপরই সমস্যাটি আগের চেয়ে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল।

এটি নতুন কিছু নয়।

অনেক ছত্রাকজনিত (ফাঙ্গাল) ত্বকের রোগে স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম লাগালে শুরুতে লালভাব, চুলকানি কমে যায়। রোগী মনে করেন তিনি ভালো হয়ে গেছেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সংক্রমণ আরও ছড়াতে থাকে। পরে রোগটি আরও জটিল হয়ে ফিরে আসে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Tinea incognito বলা হয়।

রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দিলাম। ৭ দিন পর ফলো-আপে আসতে বলেছিলাম।
আজ সে আবার এলো।
মুখে হাসি। অনেকটাই সুস্থ। আর বারবার ধন্যবাদ জানিয়ে বলল, "এখন অনেক ভালো আছি।"

এই ঘটনাটি শেয়ার করার উদ্দেশ্য একটাই—

⚠️ ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছায় বা কারও পরামর্শে ওষুধ কিনে ব্যবহার করবেন না।
বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম (যেমন Betamethasone, Clobetasol, Mometasone বা এ ধরনের মিশ্রিত ক্রিম) চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে।

✳️ মনে রাখবেন—

♦️সব চুলকানি এক রকম নয়।
♦️সব দাগে একই ক্রিম কাজ করে না।
♦️একই ওষুধ একজনের জন্য উপকারী হলেও অন্যজনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
♦️আপনার রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেওয়াই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাজ।

সাময়িক আরাম নয়, সঠিক চিকিৎসাই হোক আপনার প্রথম পছন্দ।

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS (Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura


 : 14🚫একটি নিভে যাওয়া স্বপ্ন আর আমাদের কিছু প্রয়োজনীয় শিক্ষাবিদ্যুৎ শরীরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গুরুতর আঘাত বা মৃত্য...
24/07/2026

: 14
🚫একটি নিভে যাওয়া স্বপ্ন আর আমাদের কিছু প্রয়োজনীয় শিক্ষা

বিদ্যুৎ শরীরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর কারণ হলে তাকে Electrocution বলা হয়।

🏥 ​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (UHC) ইমার্জেন্সিতে প্রতিদিন অসংখ্য মুমূর্ষু রোগী আসেন। ৬০/৭০ বছরের বেশি বয়সী বয়স্ক মানুষ, যাদের হয়তো স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক (MI) হয়েছে, কিংবা অনেক সময় 'Brought Dead' (হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু)। প্রায় ৩/৪ জন মিলে ধরে কোলে করে নিয়ে আসেন।

​কিন্তু সেদিন পরিস্থিতিটা আলাদা ছিল। একদল মানুষ প্রায় দৌড়ে এক তরুণকে কোলে করে নিয়ে এল। বয়স ৩০-এর বেশি হবে না।
​জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করলাম—চোখের মনি স্থির সাথে পিউপিল প্রশস্ত হয়ে গেছে, শ্বাসের কোনো স্পন্দন নেই, পালস নেই, রিফ্লেক্স নেই। অর্থাৎ No clinical signs of life। নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাথে সাথেই ECG করা হলো... ডায়াগ্রামের পর্দায় শুধুই একটি স্থির, সমান্তরাল সোজা দাগ (Flat line)।

​একজন ডাক্তারের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হলো 'Breaking Bad News' বা প্রিয়জনকে হারানোর এই কঠিন খবরটি স্বজনদের জানানো। তাও যদি সে একজন তরুণ বা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়! স্বজনদের শান্ত করে ধীরে ধীরে সব বোঝালাম এবং প্রমাণের জন্য ECG Trace এর একটি কপি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। কান্নার রোলে ভারী হয়ে উঠল ইমার্জেন্সির বাতাস।

❓​কী ঘটেছিল সেদিন?

​রোগীর শ্যালকের কাছ থেকে যা শুনলাম, তা বুক কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো। ​শোবার ঘর থেকে রান্নাঘরে নেওয়া একটি GI তারে কাপড় শুকাতে দেওয়া হয়েছিল (কোনোভাবে এটা বিদ্যুতায়িত হয়)। সেই তারে স্পর্শ লেগে তাঁর দিদি (পেশেন্ট এর স্ত্রী) দেড় বছরের ছোট ভাগ্নে (পেশেন্ট এর সন্তান) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। চিৎকার শুনে সেই তরুণ ছুটে যান স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচাতে।

​তিনি অলৌকিকভাবে স্ত্রী আর বাচ্চাকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও, নিজেকে আর সরাতে পারেননি। মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাড়িতেই তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়।

​⚡ ইলেকট্রোকিউশন (Electrocution) কী?

বিদ্যুৎ শরীরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর কারণ হলে তাকে Electrocution বলা হয়।

⁉️ ইলেকট্রিক শক বা Electrocution কেন এবং কীভাবে হয়?

​আমাদের শরীরের প্রায় ৬০% পানি এবং আমাদের ত্বক ভেজা থাকলে তা বিদ্যুতের খুব ভালো পরিবাহী (Conductor) হিসেবে কাজ করে। বিদ্যুৎ সবসময় মাটির দিকে (Ground/Earth) যাওয়ার জন্য সবচেয়ে সহজ পথ খোঁজে। যখন আমরা কোনো সচল বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ করি এবং একই সাথে খালি পায়ে মাটিতে বা ভেজা মেঝেতে থাকি, তখন আমাদের শরীর একটি সার্কিট বা পথ তৈরি করে ফেলে। বিদ্যুৎ তখন শরীরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

‼️কেন অনেক সময় মানুষ বিদ্যুতের তার ছাড়তে পারে না?

বিশেষ করে AC (Alternating Current)-এর ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ পেশীগুলোকে এত জোরে সংকুচিত করে যে হাত তারকে শক্ত করে ধরে ফেলে। তখন মানুষ চাইলেও হাত ছাড়াতে পারে না।

❓​বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে মানুষ মারা যায় কেন?

​বিদ্যুৎ যখন শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন প্রধানত তিনটি কারণে দ্রুত মৃত্যু ঘটতে পারে:

​১. ** ventricular Fibrillation (হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়া):** আমাদের হৃদপিণ্ড বা হার্ট একটি নির্দিষ্ট বৈদ্যুতিক সিগন্যালে চলে। বিদ্যুতের তীব্র শক এই সিগন্যালকে অকার্যকর করে দেয়, ফলে হার্ট সঠিক স্পন্দন বন্ধ করে কেবল কাঁপতে থাকে এবং রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

২. শ্বাসযন্ত্র অচল হওয়া (Respiratory Paralysis): বুক এবং ডায়াফ্রামের মাংসপেশি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অবশ হয়ে যায়, ফলে মানুষ শ্বাস নিতে পারে না।

৩. অভ্যন্তরীণ অঙ্গ পুড়ে যাওয়া ও ব্রেন ড্যামেজ: অতিরিক্ত তাপে ভেতরের স্নায়ু, রক্তনালী ও অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
​জীবন বাঁচাতে কী করবেন এবং কী করবেন না?

​❌ যে ভুলগুলো কখনোই করবেন না:

♦️ ​খালি হাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে স্পর্শ করবেন না: আক্রান্ত ব্যক্তিকে ভেজা হাত বা খালি পায়ে ধরে টানবেন না। এতে আপনি নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হবেন।
♦️ ​ধাতব পদার্থ দিয়ে সরাবেন না: লোহা, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম বা ভেজা বাঁশ/কাঠ দিয়ে বৈদ্যুতিক তার বা মানুষকে সরানোর চেষ্টা করবেন না।

✅ ​যে জরুরি পদক্ষেপগুলো নেবেন:

​১. মেইন সুইচ (Main Switch) বন্ধ করুন: প্রথম কাজই হলো ঘরের মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া।

২. অপরিবাহী বস্তু ব্যবহার করুন: মেইন সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হলে শুকনো কাঠ, শুকনো বাঁশ, প্লাস্টিকের পাইপ বা মোটা শুকনো কাপড় দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তার থেকে আলাদা করুন। নিজেকে রক্ষা করতে শুকনো জুতো বা প্লাস্টিকের স্যান্ডেল পরে নিন।

৩. CPR শুরু করুন: তার থেকে আলাদা করার পর যদি দেখেন ব্যক্তি শ্বাস নিচ্ছেন না বা পালস নেই, তবে সাথে সাথে বুকে নির্দিষ্ট নিয়মে চাপ দিয়ে কৃত্রিম শ্বাস (CPR) চালু করুন।

৪. দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান: প্রাথমিক উদ্ধারের পর এক মুহূর্তও দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে আসুন (CCU সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতালে নিতে পারলে সবথেকে ভালো)

🎯 ​দুর্ঘটনা এড়াতে কীভাবে সচেতন হবেন?

♦️ ​কাপড় শুকানোর তার: ঘরের ভেতর বা বাইরে কাপড় মেলানোর জন্য ভুলেও লোহার তার বৈদ্যুতিক লাইনের কাছাকাছি বা উপর দিয়ে টানাবেন না। কাপড় শুকানোর জন্য রশি বা জিআই তারের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করুন তার আশেপাশে কোনো বিদ্যুতের তার নেই।

♦️ ​অস্থায়ী সংযোগ এড়িয়ে চলুন: এক ঘর থেকে অন্য ঘরে কাঁচা বা জোড়াতালি দেওয়া তার দিয়ে লাইন নেবেন না।

♦️ ​সার্কিট ব্রেকার (RCCB/ELCB): বাসাবাড়িতে ভালো মানের Circuit Breaker এবং সঠিক Earthing ব্যবহার করুন। এতে দুর্ঘটনা ঘটলে আপনাআপনি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

♦️ ​শিশুদের নাগাল থেকে দূরে রাখুন: খোলা সকেট, নিচু ইলেকট্রিক পয়েন্ট এবং কাটা তার সবসময় ঢেকে রাখুন।

​একটি ছোট অসাবধানতা নিমেষেই শেষ করে দিতে পারে একটি পুরো পরিবারকে। আসুন, আমরা নিজে সচেতন হই এবং আমাদের পরিবারকে নিরাপদ রাখি।

⚠️ শেষ কথা
অনেক সময় আমরা ভাবি—"একটু গিয়ে ধরে টেনে আনলেই তো হবে।"
কিন্তু বিদ্যুৎ কোনো দ্বিতীয় সুযোগ দেয় না।
কাউকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকজন যেন প্রাণ না হারান—এই সচেতনতাই আজ সবচেয়ে জরুরি।
আজ যে যুবকটি আর ফিরলেন না, তিনি হয়তো শুধু একজন রোগী নন; কারও স্বামী, কারও ভাই, কারও ছেলে, কারও ভরসা ছিলেন।

একটি সঠিক সিদ্ধান্ত, একটি বন্ধ সুইচ, একটি নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ—হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে আরও অনেক জীবন।
সচেতন হোন। নিরাপদ থাকুন। অন্যকেও নিরাপদ রাখুন।

​(জনস্বার্থে পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দিন)

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura


Address

Arpara, Shalikha
Magura
7620

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Sauwhardya Biswas posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share