Dr. Sauwhardya Biswas

Dr. Sauwhardya Biswas MBBS, BCS (Health)
Medical Officer (Medicine)
Shalikha Upazilla Health Complex, Magura

� সাধারণ রোগ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
� প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা তথ্য

 : 10❌ ​“হালকা অ্যান্টিবায়োটিক” বলে কিছু নেই: হাতুড়ে ডাক্তারদের ব্যবসার আড়ালে মানব জাতির চরম বিপর্যয়!ভোররাতে শক্তিশালী...
04/07/2026

: 10

❌ ​“হালকা অ্যান্টিবায়োটিক” বলে কিছু নেই: হাতুড়ে ডাক্তারদের ব্যবসার আড়ালে মানব জাতির চরম বিপর্যয়!

ভোররাতে শক্তিশালী কাবো ভার্দে বনাম আর্জেন্টিনার রাউন্ড অব ৩২-এর শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের জন্য ঘুম ঠিকমতো হয়নি। তারপরও প্রতিদিনের মতো সময়মতোই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে উপস্থিত হলাম।

আজ শনিবার। সহকর্মী ইসরাত আপুর ইমার্জেন্সি নাইট ডিউটি থাকায় আজ তাঁর ডে অফ। তাই রোগীর চাপও ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।

এর মধ্যেই এক ভদ্রলোক এলেন। পরিপাটি পোশাক, শার্ট ইন করা, পায়ে জুতা—দেখে মনে হলো কোনো অফিসার হবেন।

আমি বললাম,
👨‍⚕️— "বসুন, কী সমস্যা বলুন?"

তিনি বললেন,
🤵— "আমার পেটব্যথা। একটা Aceclofenac দেন। পাতলা পায়খানা হচ্ছে, Metro দেন। আর গ্যাসের ওষুধ দেন।"

কথাগুলো শুনেই প্রথম ধারণাটা বদলে গেল।

আমি বললাম,
👨‍⚕️— "যদি শুধু পাতলা পায়খানা হয়, তাহলে ORS-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। সেটাই লিখে দিচ্ছি। Metronidazole লাগবে না।"

তিনি সঙ্গে সঙ্গে বললেন,
🤵— "Metro না দিলে Cipro দেন।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম,
👨‍⚕️— "কে বলেছেন যে পাতলা পায়খানায় Metronidazole বা Ciprofloxacin খেতেই হবে? আর Aceclofenac খেলে পেট ব্যথা সারে সেটা আপনাকে কে শিখিয়েছে?"

উত্তর এল,
🤵— "আমি নিজেই ডাক্তার। ২৫ বছর ধরে চিকিৎসা করি। প্রতিদিনই ডায়রিয়া, পেটব্যাথা, ঠান্ডা, জ্বরের রোগী দেখি। তাদের কে এই ওষুধ লিখি। হাসপাতাল থেকেও এসব ওষুধ নিয়ে যাই। কেউ তো কিছু বলে না!"

আমি জানতে চাইলাম,
👨‍⚕️— "আপনার কী ডিগ্রি?"

তিনি একটি পুরোনো ধরনের ABCD/LMNO জাতীয় পরিচয় দিলেন। তখনই বুঝলাম, তিনি আসলে একজন হাতুড়ে চিকিৎসক (Quack)।

আমি বললাম,
👨‍⚕️— "আপনি জানেন Metronidazole আর Ciprofloxacin দুটোই অ্যান্টিবায়োটিক? এগুলো তো ইচ্ছেমতো খাওয়ার ওষুধ নয়। "

তার উত্তর আরও অবাক করার মতো—
🤵 "অ্যান্টিবায়োটিক তিন ধরনের।
১. হালকা (Cipro, Metro, cef-3)
২. মাঝারি (Azithromycin)
৩. শক্তিশালী (নাম মনে পড়ছে না। খাতায় লেখা আছে।)
হালকা অ্যান্টিবায়োটিক ইচ্ছেমতো ব্যবহার করা যায়। কাজ না হলে পরের ধাপে যেতে হয়।"

আমি বললাম,
👨‍⚕️— "আপনার আত্মবিশ্বাস আছে, কিন্তু বিজ্ঞান আপনার কথার সঙ্গে একমত নয়। আমি আপনাকে Metronidazole বা Ciprofloxacin কোনোটাই দিতে পারব না। ORS-ই লিখে দিচ্ছি। আর গত ২৫ বছরে আপনি হয়তো অনেক রোগী দেখেছেন, কিন্তু এভাবে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে মানুষের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছেন।"

তিনি রাগ করে বললেন,
🤵— "এসব জানি না। Metro বা Cipro দেন।না হলে যেকোনো একটা এন্টিবায়োটিক দেন।"

আমি ORS লিখে প্রেসক্রিপশন হাতে দিলাম। তিনি বিরক্ত হয়ে চলে গেলেন।

⚠️ ​পেছনের আসল সত্যটা কী?
​বাস্তবে ওনার কোনো ডায়রিয়া বা পেট ব্যথা ছিলই না! ওনার আসল উদ্দেশ্য ছিল ভদ্রবেশে সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে অ্যান্টিবায়োটিক তুলে নিয়ে নিজের হাতুড়ে ফার্মেসিতে চড়া দামে বিক্রি করা। গ্রামের সাধারণ মানুষ ওনাদের 'সহজ সরল' বা 'কম পয়সার ডাক্তার' মনে করে, অথচ ওনারা ব্যবসার আড়ালে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন।

✳️ কেন এই ঘটনাটি লিখলাম?
আজও আমাদের সমাজে অনেকেই নিজেদের "ডাক্তার" পরিচয় দেন, অথচ তাঁদের চিকিৎসার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অনেক সময় সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ওষুধ নিয়ে নিজেদের চেম্বারে বিক্রিও করেন। কম ভিজিট, কম দামে ওষুধ—এসব কারণে অনেক সাধারণ মানুষ তাঁদের ওপর আস্থা রাখেন।

কিন্তু এর মূল্য দিচ্ছে পুরো সমাজ।
বেশিরভাগ সাধারণ ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনই হয় না। ORS এবং পর্যাপ্ত পানি-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক কোনো উপকার তো করেই না, বরং তৈরি করে Antibiotic Resistance।

আজ যে অ্যান্টিবায়োটিক অকারণে খাওয়া হচ্ছে, কাল সেটিই সত্যিকারের গুরুতর সংক্রমণে আর কাজ করবে না।
হয়তো এমন এক সময় আসবে, যখন সামান্য একটি কাটা-ছেঁড়া, একটি সাধারণ সংক্রমণ, কিংবা একটি ছোট অপারেশনের পরও মানুষ মারা যাবে—শুধু অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না বলে।

💊 আমাদের করণীয়

✅ নিবন্ধিত MBBS চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।

✅ ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক কিনবেন না।

✅ হাতুড়ে চিকিৎসকের চিকিৎসা থেকে দূরে থাকুন।

✅ সরকার ও প্রশাসনের উচিত ভুয়া চিকিৎসা ও অবাধ অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

অ্যান্টিবায়োটিক কোনো সাধারণ ব্যথার ওষুধ নয়। এটি মানবজাতির একটি অমূল্য সম্পদ। এর অপব্যবহার মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসার পথ বন্ধ করে দেওয়া।

​সচেতন হোন, নিজে বাঁচুন এবং আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।

_
Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura

 #পাশের_বাড়ির_স্বাস্থ্যকথন: ০৩"ডাক্তার সাহেব, আমার কিছু হয়নি... বাইকে একটু গুঁতা লেগেছিল, ব্যাস!"সেদিন পাশের বাড়ির একজ...
26/06/2026

#পাশের_বাড়ির_স্বাস্থ্যকথন: ০৩

"ডাক্তার সাহেব, আমার কিছু হয়নি... বাইকে একটু গুঁতা লেগেছিল, ব্যাস!"

সেদিন পাশের বাড়ির একজনকে তাঁর পরিবারের লোকজন প্রায় জোর করেই আমার কাছে নিয়ে এলেন।

আমি বললাম,
👨‍⚕️— "কী হয়েছে?"

তিনি পা দেখিয়ে বললেন,
🧔 — "এখানে একটু আঘাত লেগেছিল। তারপর রক্ত জমে কালো হয়ে গেছে। অনেকদিন হয়ে গেল, আর ভালো হচ্ছে না। তবে এসব আমার প্রায়ই হয়। বাইক চালাতে গিয়ে একটু লাগলেই এমন হয়।"

আমি ক্ষতটা ভালো করে দেখলাম।
তারপর জিজ্ঞেস করলাম,
👨‍⚕️— "ব্যথা হয়?"

🧔— "না, তেমন না।"

👨‍⚕️— "জ্বর হয়েছে? পুঁজ বের হয়?"

🧔— "না।"

👨‍⚕️— "আগেও এমন হয়েছে?"

🧔— "অনেকবার।"

👨‍⚕️ _ " বিড়ি/সিগারেট খান?"

🧔_ "না। কখনোই খায়নি। "

🤔 মনে মনে ভাবলাম...

এটা কি শুধু আঘাতের দাগ?
নাকি রক্তনালীর কোনো সমস্যা?
নাকি বারবার আঘাত লাগছে, কিন্তু অনুভূতি কমে গেছে?
নাকি রক্ত জমাট বাঁধার কোনো সমস্যা?
নাকি দীর্ঘদিনের কোনো সংক্রমণ?

এরপর আরেকটা প্রশ্ন করলাম...
👨‍⚕️— "ডায়াবেটিস আছে? কোনো ওষুধ খান?"

তিনি হাসতে হাসতেই বললেন,
🧔— "না না! আমার আবার ডায়াবেটিস! কোনোদিন পরীক্ষা করিনি। আমার তো কিছুই হয়নি!"

আমি বললাম,
👨‍⚕️— "ঠিক আছে। কিন্তু, আমি নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু টেস্টের সাথে একটি OGTT (Oral Glucose Tolerance Test) করতে দিলাম। "

✳️ ​রিপোর্ট আসার পর দেখা গেল রক্ত জমাট বাঁধার অন্য উপাদানগুলো ঠিকঠাকই আছে, কিন্তু যা সন্দেহ করেছিলাম— ভদ্রলোকের বেশ ভালো মাত্রায় ডায়াবেটিস (DM) ধরা পড়েছে! অথচ উনি বছরের পর বছর ধরে এটাকে স্রেফ 'বাইকের গুঁতা' বলে উড়িয়ে দিচ্ছিলেন।

✅ ডায়াবেটিস ধরা পড়ল।

এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি।
পায়ে আঘাতের পর কালো হয়ে যাওয়া বা ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া মানেই ডায়াবেটিস নয়।
এর পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন—
🔹 রক্ত চলাচলের সমস্যা
🔹 শিরা বা ধমনীর রোগ
🔹 সংক্রমণ
🔹 বারবার আঘাত লাগা
🔹 রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা
🔹 কিছু ওষুধের প্রভাব
🔹 এমনকি কিছু চর্মরোগও

কিন্তু ডায়াবেটিসও এই তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আর সেটিই অনেক সময় বছরের পর বছর ধরা পড়ে না।

🎯 ​আমরা যেভাবে ডায়াবেটিসকে 'ইগনোর' করি:

⛔ ​আমাদের সমাজের একটা বড় অংশের মানুষের ধারণা— "যতক্ষণ পরীক্ষা করছি না, ততক্ষণ আমি সুস্থ।"
⛔ ডায়াবেটিসকে বলা হয় 'সাইলেন্ট কিলার' বা নীরব ঘাতক। এটি শরীরে বাসা বেঁধেও বছরের পর বছর কোনো বড় জানান না দিয়ে চুপচাপ থাকতে পারে।
⛔ আর আমরা ভাবি, "আমার তো ওজন কমছে না, ঘন ঘন প্রস্রাব হচ্ছে না, তাহলে আমার ডায়াবেটিস আসবে কোথা থেকে?"

💠 ​বাস্তবতা হলো, ডায়াবেটিস সবসময় পাঠ্যবইয়ের মতো চেনা লক্ষণ নিয়ে আসে না। এটি শরীরভেদে ভিন্ন ভিন্ন এবং অদ্ভুত উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে।

⚠️ ​ডায়াবেটিসের কিছু লুকিয়ে থাকা লক্ষণ:

💊 ​ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া: সামান্য একটু কেটে গেলে বা ছিলে গেলে যদি দেখেন সেটা সপ্তাহের পর সপ্তাহ শুকোচ্ছে না, তবে অবহেলা করবেন না।
💊 ​ত্বকে কালচে ছোপ বা রক্ত জমা: শরীরের কোথাও সামান্য আঘাতেই চামড়ার নিচে রক্ত জমে কালো হয়ে যাওয়া বা ঘা হওয়া।
💊 ​অতিরিক্ত ক্লান্তি: পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও সারাক্ষণ শরীর ম্যাজম্যাজ করা বা শক্তির অভাব বোধ করা।
💊 ​ঘন ঘন ইনফেকশন: ত্বকে, প্রস্রাবে বা মাড়িতে বারবার ইনফেকশন হওয়া।
💊 ​চোখে ঝাপসা দেখা: চশমার পাওয়ার হুট করে পরিবর্তন হওয়া বা মাঝেমধ্যে দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে যাওয়া।

🔰 ​সচেতন হোন, পরীক্ষা করুন
​"আমার ওসব রোগ নেই"— এই অন্ধবিশ্বাস নিয়ে বসে থাকার দিন শেষ। বয়স ৩০ পার হলে, কিংবা পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে, বছরে অন্তত একবার রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করা উচিত।

​মনে রাখবেন, অবহেলার কারণে ভেতরে ভেতরে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস আপনার কিডনি, চোখ, হার্ট এবং স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি করে দিতে পারে। রোগ লুকিয়ে রাখলে রোগ কমে না, বরং তা জটিল আকার ধারণ করে।
​আজই আপনার এবং আপনার পরিবারের মানুষগুলোর খোঁজ নিন। সামান্য রক্ত পরীক্ষা হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে একটি বড় বিপদ থেকে।

​সচেতনতাই সুস্থতার প্রথম ধাপ। পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন করুন!

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
UHC, Shalikha, Magura


💊 আগামী ২৮শে জুন দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন! আপনার শিশুকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতে এই দিনটির গুরুত্ব অপর...
25/06/2026

💊 আগামী ২৮শে জুন দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন!

আপনার শিশুকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। অনেকেই জানতে চান— শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ালে কী উপকার হয়, আর না খাওয়ালেই বা কী ক্ষতি হতে পারে?

​আসুন জেনে নেওয়া যাক এর প্রয়োজনীয়তা:

​🔴 ভিটামিন 'এ' খাওয়ালে কী হবে? (সুফলসমূহ)

✅ ​রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এটি শিশুর শরীরে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ দেয়াল গড়ে তোলে। ফলে শিশু সহজে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া বা হামের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয় না।

✅ ​চোখের সুরক্ষায়: ভিটামিন 'এ' শিশুর দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ ও ভালো রাখে। এটি শিশুকে অন্ধত্ব এবং রাতকানা রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখে।

✅ ​মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস: চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ালে শিশুদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ২৪% পর্যন্ত কমে যায়।

✅ ​স্বাভাবিক বৃদ্ধি: শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক ও সুস্থভাবে হতে সাহায্য করে।

​❌ ভিটামিন 'এ' না খাওয়ালে কী ক্ষতি হতে পারে? (ঝুঁকিসমূহ)

⛔ ​রাতকানা রোগ ও অন্ধত্ব: ভিটামিন 'এ'-র অভাব হলে শিশুরা প্রথম দিকে মৃদু আলো বা রাতে চোখে কম দেখে (রাতকানা রোগ)। দীর্ঘ মেয়াদে এই অভাব দূর না হলে শিশু চিরদিনের জন্য অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

⛔ ​দুর্বল ইমিউনিটি: শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একদম কমে যায়। ফলে সামান্য ঠাণ্ডা, কাশি, ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়াও শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

⛔ ​পুষ্টিহীনতা ও বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া: শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে যায়, রুচি কমে যায় এবং শিশু তীব্র পুষ্টিহীনতায় ভুগতে পারে।

​🎯 লক্ষ্যমাত্রা এবং বয়সসীমা
​ক্যাম্পেইনে সাধারণত দুই ধরনের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়:

💊 ​৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের জন্য: ১টি নীল রঙের ক্যাপসুল।

💊 ​১২ থেকে ৫৯ মাস (৫ বছর) বয়সী শিশুদের জন্য: ১টি লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাপসুল।

​💡 অভিভাবকদের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ:

✅ ​শিশুকে অবশ্যই ভরা পেটে কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন। খালি পেটে ক্যাপসুল খাওয়ানো উচিত নয়।

✅ ​শিশু খুব বেশি অসুস্থ বা তীব্র জ্বরে আক্রান্ত থাকলে ক্যাপসুল খাওয়ানোর আগে কেন্দ্রের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

✅ ​জোর করে বা শিশু কাঁদতে থাকা অবস্থায় ক্যাপসুল খাওয়াবেন না, এতে শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়ম মেনেই এটি খাইয়ে দেবেন।

🔰 ​একটি ডোজ, আপনার শিশুর সারাজীবনের সুস্থতা!

🎯 আগামী ২৮শে জুন আপনার নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুকে নিয়ে আসুন এবং সুরক্ষিত রাখুন।

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura

 : BCS Journey ★2​🚀 How to Crack Special BCS (Health): The Ultimate Survival & Success Guide 🩺​স্পেশাল বিসিএস (হেলথ) নিয়...
20/06/2026

: BCS Journey
★2
​🚀 How to Crack Special BCS (Health): The Ultimate Survival & Success Guide 🩺

​স্পেশাল বিসিএস (হেলথ) নিয়ে অনেকেই চিন্তায় আছেন যে কোথা থেকে শুরু করবেন বা কীভাবে প্রিপারেশনটা গোছাবেন। এরকম অনেক মেসেজ প্রতিদিন আমার কাছে আসে। কারো টা রিপ্লাই দিতে পেরেছি, কারো টা পারিনি। তাই Zero থেকে শুরু করে কীভাবে নিজেকে ক্যাডার পদের জন্য যোগ্য করে তুলবেন, তার একটা Practical গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:

​1. Reverse Engineering: Start with Previous Questions 🔙

​প্রিপারেশনের শুরুতেই অন্ধের মতো বই মুখে গুঁজে না বসে, Start with Reverse Engineering!
​যেকোনো একটা ভালো Digest কিনে আগের বছরের সব প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ (with explanation) সলভ করে ফেলুন।
​এতে আপনার ব্রেইনে একটা ক্লিয়ার ম্যাপ তৈরি হবে—ঠিক কোন এরিয়া থেকে প্রশ্ন বেশি আসে এবং প্রশ্নের প্যাটার্ন কেমন হয়।

2. The Exam Game: Coaching vs. Self-Study 📝

​"কোচিং না করলে কি বিসিএস হবে না?"—The answer is a big NO. কোচিং করা ম্যান্ডেটরি নয়, কিন্তু নিয়মিত এক্সাম দেওয়াটা অত্যাবশ্যক।
​সেলফ-স্টাডির পাশাপাশি নিজের প্রগ্রেস ট্র্যাক করার জন্য একটা ভালো এক্সাম ব্যাচে এনরোল করতে পারেন।

​Personal Recommendation: অ্যাপ-বেসড এক্সাম প্ল্যাটফর্ম Live MCQ বেশ ইফেক্টিভ (কোনো পেইড প্রমোশন না, জাস্ট জেনুইন রিভিউ 😄)। ওদের স্পেশাল বিসিএস-এর রুটিনটা ফলো করতে পারেন।

3. Smart Study > Long Classes 🧠

​ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লেকচার ক্লাস দেখে সময় নষ্ট করার দিন শেষ। Self-study is the best study. কিছু না বুঝলে Youtube আছে, ChatGPT আছে, Gemini আছে।

​যে টপিকের ওপর এক্সাম থাকবে, সেটা আগে নিজে ভালোমতো রিডিং ও রিভিশন দিন, তারপর এক্সাম দিন।

​Golden Rule: এক্সামের রেজাল্ট দেওয়ার পরপরই ভুল হওয়া প্রশ্নগুলোর সলিউশন ব্যাখ্যাসহ পড়ে ফেলতে হবে। কোনো পড়া জমিয়ে রাখা (backlog) যাবে না।

4. Revision: The Final Main Player 🏆🔄
​মনে রাখবেন, বিসিএস এ আপনি কতটুকু নতুন পড়লেন, তার চেয়ে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট হলো পরীক্ষার হলে কতটুকু মনে রাখতে পারলেন। আর এখানেই Revision হলো আপনার আসল ট্রাম্প কার্ড।
​সপ্তাহে অন্তত ১ বা ২ দিন শুধু রিভিশনের জন্য ডেডিকেটেড রাখুন। নতুন কিছু না পড়ে আগের পড়াগুলো ঝালাই করুন।
​পরীক্ষার ঠিক আগে রিভিশন না দিলে জানা জিনিসও কনফিউশনে ভুল হয়ে যাবে। So, Read less, revise more!

5. Stay Updated: Current Affairs & News 🌍
​বিসিএস-এর জন্য দুনিয়াদারির খবর রাখা মাস্ট। ডেইলি অন্তত একবার হলেও নিচের সোর্সগুলোতে চোখ বুলাবেন:

​News Bulletins: ইউটিউবে Jamuna TV অথবা Somoy TV-র ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল বুলেটিনগুলো দেখতে পারেন।

​Newspapers: প্রতিদিন সকালে চায়ের কাপের সাথে Prothom Alo এবং The Daily Star এর হেডলাইন ও এডিটোরিয়াল পেজে চোখ বোলানোর অভ্যাস করুন।

​📚 Essential Resource List
​আপনার টেবিল বুকশেলফ যেন লাইব্রেরি না হয়ে যায়! সোর্স যত লিমিটেড রাখবেন, রিভিশন তত ভালো হবে:

​General Part: Preceptors Digest (বা যেকোনো ভালো মানের ডাইজেস্ট)।

​Medical Part: Live MCQ -এর লেকচার পিডিএফ/বই অথবা Synapse/Hearts—যেকোনো একটি সোর্স বেছে নিয়ে সেটা ১০০% শেষ করুন।

​Current Affairs: Daily News Bulletins + Newspapers.

★ The Ultimate Key: Discipline & Health 🎯

​"Motivation gets you started, but discipline keeps you going."

​আজ ভালো লাগছে না, কাল পড়ব—এই প্রোক্রাস্টিনেশন (Procrastination) মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।

✅ পড়া + এক্সাম + সলিউশন উইথ এক্সপ্লেনেশন + টাইমলি রিভিশন—এই সাইকেলটা ব্রেক করা যাবে না।

​তবে হ্যাঁ, দিনশেষে আপনি একজন ডাক্তার, তাই নিজের শরীরের যত্ন সবার আগে। পর্যাপ্ত ঘুম আর মেন্টাল পিস বজায় রেখে পড়াশোনা করুন।

​Consistency ও Revision-ই হলো আসল চাবিকাঠি। অল দ্য বেস্ট, ফিউচার হেলথ ক্যাডারস!

(Any Queries, মেসেজ করুন " Dr. Sauwhardya Biswas" পেইজে )

_
ডা. সৌহার্দ্য বিশ্বাস
এমবিবিএস (হমেক- ১ম ব্যাচ)
সহকারী সার্জন/মেডিকেল অফিসার(মেডিসিন)
শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মাগুরা
বিসিএস (স্বাস্থ্য)
*৪৮ তম বিসিএস (স্পেশাল)
*৪৬ তম বিসিএস ( জেনারেল)
*৪৭ তম বিসিএস (চূড়ান্ত ফলপ্রত্যাশী)

 : BCS_Journey  ★ 1( Specially for my juniors of Medical Colleges and who wants to join Bangladesh Civil Service)অনেকেই ...
18/06/2026

: BCS_Journey
★ 1
( Specially for my juniors of Medical Colleges and who wants to join Bangladesh Civil Service)

অনেকেই জানতে চেয়েছো কিভাবে ক্যারিয়ার প্লান করা উচিত। সে ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত কিছু মতামত শেয়ার করছি।

( Prerequisites: কোনো পরিস্থিতিতেই মা-বাবা ও শিক্ষকদের অসম্মান করা যাবে না। অন্যের ভালো না করতে পারো, কারো ক্ষতি করবা না। মানবিকবোধ সম্পন্ন মানুষ হতে হবে।)

১. দেশে না থাকতে চাইলে AMC/PLAB/MRCP বা আরো যেসব পথ আছে সেগুলোর জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দাও এখন থেকেই।

২. আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সামাজিক অবস্থান, অর্থনৈতিক একটা স্থিতিশীল অবস্থা পেতে হলে বিসিএস দিতে হবে( দেশে থাকতে হলে)। তারপর পোস্ট গ্রাজুয়েশন। একসাথে দুইটা চালাতে পারলে আরো ভালো। কিন্তু, যেহেতু, বিসিএস এ বয়সের সীমাবদ্ধতা আছে, তাই বিসিএস প্রায়োরিটি পাবে যদি ইন্টার্ন শেষ করেই তোমাকে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়।

আগে নিজে নিজে চিন্তা করবা কোনটা তোমার জন্য ঠিক হবে। বিসিএস/পোস্টগ্রাজুয়েশন দিলেই যে হয়ে যাবে এমন নয়। কিন্তু, লেগে থাকতে হবে। আর কপাল ভালো হলে স্পেশাল বিসিএস পেলে ঝামেলা কমে যাবে। এর মানে এই না যে স্পেশাল বিসিএস সহজ। আমার মতে জেনারেলের থেকে স্পেশাল বিসিএস এ কম্পিটিশন বেশি (সবাই ডাক্তার, আর বেকার ডাক্তারের সংখ্যা দেশে অনেক)।কিন্তু, ঝামেলা কম( রিটেন দেওয়া লাগে না, তাড়াতাড়ি চাকরি হয়)।

★বিসিএস যাদের টার্গেট:

১. ডেইলি যেকোনো একটা বাংলা পত্রিকাতে চোখ বুলাবা ( সাথে ইংরেজি পেপার থেকে যেকোনো একটা প্যারা পড়ে Vocabulary শিখবা)

২. যেকোনো প্রকাশনীর একসেট বিসিএস এর বই কিনে ফেলবা। আগে প্রিভিয়াস সব বিসিএসের প্রশ্নোত্তর ব্যাখ্যাসহ পড়ে ফেলবা।

৩. তারপর বিসিএসের সিলেবাস অনুযায়ী ডেইলি একটু একটু করে পড়বা। কি পড়বা/কতটুকু পড়বা এজন্য Live MCQ app ব্যবহার করতে পারো। ওখানে নতুনদের জন্য বিসিএস প্রস্তুতির জন্য সিলেবাস ছোট ছোট করে ভাগ করে দেওয়া আছে। সেই রুটিন ফলো করতে পারো। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই অনুযায়ী পরীক্ষা দেওয়া। যতটুকু পড়বা, ওই টপিকের উপর পরীক্ষা দিবা। পড়া না হলেও, মার্ক কম আসলেও পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করা যাবে না। পরীক্ষা দিতে হবে + নিয়মিত সেটার সলুশন ব্যাখ্যাসহ পড়তে হবে। Live MCQ App এই সব সিস্টেম আছে। ( Live MCQ এর সাথে আমার কোনো লেনদেন নেই 🤠। আমি নিজে ব্যবহার করেছি তাই)

৪. টিউশন করাবা ( যাদের কোনো স্টিমুলাস ছাড়া পড়া হয়না)। স্পেশালি ক্লাস ৬-১০। তাহলে গণিত, বিজ্ঞান, ভুগোলের ৯০-১০০% প্রিপারেশন হয়ে যাবে। বাংলা সাব্জেক্ট পড়ালে সাহিত্যের ৫০% এর বেশি কাভার হবে।

৫. নিজের উপর বিশ্বাস আর স্রষ্টার উপর আস্থা রাখতে হবে।

★ নতুন মেডিকেল হিসেবে ভাইবায় কোনো সমস্যা হয় কি না সেসব নিয়ে আমার ৪৬,৪৭,৪৮ এর ভাইবার অভিজ্ঞতা অন্য কোনো একদিন শেয়ার করবো।

★ এছাড়াও কারো কোনো কিছু জানার/বোঝার থাকলে নক দিও। সময় করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

★ সামনে আবার স্পেশাল বিসিএস(স্বাস্থ্য) হবার একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কম সময়ে সেখানে কিভাবে ভালো করা যায়/যাবে সেটা নিয়েও লেখার ইচ্ছা আছে সামনে।

ডা. সৌহার্দ্য বিশ্বাস
এমবিবিএস (হমেক- ১ম ব্যাচ)
বিসিএস (স্বাস্থ্য)
সহকারী সার্জন/মেডিকেল অফিসার(মেডিসিন)
শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মাগুরা
*৪৮ তম বিসিএস (স্পেশাল)
*৪৬ তম বিসিএস ( জেনারেল)
*৪৭ তম বিসিএস (চূড়ান্ত ফলপ্রত্যাশী)

 : 12​🛑 ইউটিউব, একটি সচেতন শিশু এবং র‍্যাবিস (জলাতঙ্ক) সচেতনতার গল্প​সেদিন ইমার্জেন্সিতে ডিউটি করার সময় ৮/৯ বছরের একটা ছ...
07/06/2026

: 12

​🛑 ইউটিউব, একটি সচেতন শিশু এবং র‍্যাবিস (জলাতঙ্ক) সচেতনতার গল্প

​সেদিন ইমার্জেন্সিতে ডিউটি করার সময় ৮/৯ বছরের একটা ছেলে এলো তার বাবার সাথে। ক্লাস ফোর বা ফাইভের ছাত্র হবে। এসেই প্রথম প্রশ্ন:

👨— "স্যার, র‍্যাবিসের (জলাতঙ্ক) ভ্যাকসিন দিলে কি শরীরে কিছু হয়?"
​আমি একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 👨‍⚕️_"কেন বলো তো?"

​ছেলেটি তার হাতটা এগিয়ে দেখালো। সেখানে একটা বিড়ালের আঁচড়ের দাগ।
জিজ্ঞেস করলাম,
👨‍⚕️ _"রক্ত বের হয়েছিল?"

ছেলেটি বেশ চনমনে আর আত্মবিশ্বাসী।
বলল,
👨 _"স্যার, একটুখানি আঁচড়, তাও হালকা ব্লাড বের হয়েছিল। আমি সাথে সাথে ২০ মিনিট ধরে কাপড় কাঁচা সাবান দিয়ে ধুয়েছি ওই জায়গাটা। স্যার, তাও কি ভ্যাকসিন লাগবে?"

​আমি এবার সত্যিই বেশ অবাক হলাম! এই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এতটুকু একটা বাচ্চা এই সঠিক নিয়মটা জানলো কী করে? কৌতূহল সামলাতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম,

👨‍⚕️_ "এই যে এভাবে সাবান দিয়ে ধুতে হয়, তুমি জানলে কোথা থেকে?"

​সে হেসে বলল,
👨_ "স্যার, আমি ইউটিউবে ভিডিও দেখেছি। ওখানেই বলেছে। আমি সেভাবেই করেছি।"

​বুঝলাম, ছেলেটি যেমন প্রতিভাবান, তেমনই সচেতন। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম,

👨‍⚕️_ "তোমার ইউটিউব কি ভ্যাকসিন দেওয়া নিয়ে আর কিছু বলেনি?"
তখন সে বলল,
👨_ "হ্যাঁ স্যার, বলেছে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে যেতে আর ডাক্তারের পরামর্শ নিতে। এজন্যই তো আসছি স্যার। স্যার, টিকা দিলে তো কিছু হবে না? টিকা কি নিতেই হবে?"

​আমি জানতে চাইলাম বিড়ালটা পোষা কি না বা তার কোনো ভ্যাকসিন দেওয়া ছিল কি না। ও জানালো বিড়ালটা পাশের বাড়ির, কোনো ভ্যাকসিন দেওয়া নেই।

​💡 কেন আঁচড় বা কামড়ের পর এই সতর্কবার্তা?

​আমি তখন ওদের বুঝিয়ে বললাম যে, র‍্যাবিস (Rabies) বা জলাতঙ্ক এমন এক ভয়ানক রোগ, যার মৃত্যুহার ১০০%। অর্থাৎ, এই রোগ যদি একবার শরীরে লক্ষণ আকারে প্রকাশ পেয়ে যায়, তবে সেখান থেকে বাঁচার আর কোনো উপায় থাকে না। তাই সামান্য অবহেলাও জীবনের শেষ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

✳️ ​বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী রেবিসের ঝুঁকিকে ৩টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়:

😾 ​ক্যাটাগরি-১: পশুকে শুধু স্পর্শ করা বা খাবার খাওয়ানো (ত্বক অক্ষত থাকলে)। এতে কোনো টিকার প্রয়োজন নেই।

😾 ​ক্যাটাগরি-২: ত্বকের ওপর সামান্য আঁচড় বা কামড়, কিন্তু কোনো রক্তপাত না হওয়া। এতে অবশ্যই রেবিজ ভ্যাকসিন (Anti-Rabies Vaccine) দিতে হবে।

😾 ​ক্যাটাগরি-৩: গভীর কামড় বা আঁচড়, চামড়া ভেদ করে রক্ত বের হওয়া, অথবা ক্ষতস্থানে পশুর লালা লাগা। এই ছেলেটি এই ক্যাটাগরিতে ছিল। এতে রেবিজ ভ্যাকসিনের পাশাপাশি 'আরআইজি' (RIG - Rabies Immunoglobulin) ইনজেকশনও ক্ষতস্থানে ও শরীরে দিতে হয়।

​🩺 আমাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
​যেহেতু ছেলেটির ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হয়েছিল, তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তার শরীরের ওজন (Body Weight) অনুযায়ী যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকু RIG( Rabies Immunoglobulin) [এটা বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে] এবং রেবিজ ভ্যাকসিনের ১ম ডোজ আমরা দিয়ে দিই। পরবর্তীতে ডেইট অনুযায়ী বাকি ডোজগুলো এসে দিয়ে যাওয়ার জন্য বলি।

✅ সৌভাগ্যবশত আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ভ্যাকসিনের সাপ্লাই রয়েছে।

​📱 এই ঘটনা থেকে আমাদের শেখার কী আছে?

💠 ​১. ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার: প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে আমরা অনেকেই চিন্তিত থাকি। কিন্তু এই ছোট্ট ছেলেটি প্রমাণ করে দিল, সঠিক জিনিস দেখলে প্রযুক্তি কীভাবে জীবন বাঁচাতে পারে।

✅ ২. প্রাথমিক চিকিৎসা: কুকুর, বিড়াল, শিয়াল বা বেজির কামড় বা আঁচড় লাগলে প্রথম কাজই হলো—প্রবাহিত পানির নিচে কাপড় কাঁচা সাবান (কারণ এতে থাকা ক্ষার রেবিজ ভাইরাসকে ধ্বংস করে) দিয়ে অন্তত ১৫-২০ মিনিট ক্ষতস্থানটি ভালো করে ধুয়ে ফেলা।

❌ ৩. দেরি না করা: "সামান্য আঁচড়, কিছু হবে না"—এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কামড় বা আঁচড় যেটাই হোক, অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে চলে আসুন।

​রেবিস প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু একবার রোগ হয়ে গেলে প্রায় অনিবার্যভাবে প্রাণঘাতী।

সচেতনতাই পারে একটি মূল্যবান প্রাণ বাঁচাতে। নিজে সচেতন হোন, সন্তানদেরও সচেতন করুন।

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura

আবারো তাপপ্রবাহ চলমান। হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে সচেতন থাকুন।
03/06/2026

আবারো তাপপ্রবাহ চলমান। হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে সচেতন থাকুন।

🔥তাপপ্রবাহ: হিট স্ট্রোক থেকে সতর্ক থাকুন! ☀️

বাংলাদেশে চলমান মাঝারি তাপপ্রবাহে (Heat wave) তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই সময়ে সবচেয়ে ভয়ংকর জটিলতা হলো Heat Stroke — যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতীও হতে পারে।

🌡️ Heat Stroke কী?
Heat Stroke হলো শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যর্থতা, যেখানে শরীরের তাপমাত্রা ৪০°C বা তার বেশি হয়ে যায় এবং শরীর আর নিজে থেকে ঠান্ডা হতে পারে না।

⚠️ কিভাবে হয়?
✳️ দীর্ঘ সময় রোদে থাকা ☀️
✳️ অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র পরিবেশ
✳️ পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া 💧
✳️ ভারী কাজ বা ব্যায়াম করা
✳️ বয়স্ক, শিশু, ডায়াবেটিস/হার্টের রোগীদের ঝুঁকি বেশি

🚨 লক্ষণগুলো চিনে নিন:
✅ শরীর খুব গরম, কিন্তু ঘাম কম বা নেই
✅ মাথা ঘোরা, দুর্বলতা
✅ বিভ্রান্তি / অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
✅ বমি বমি ভাব বা বমি
✅ দ্রুত নাড়ি ও শ্বাস

🛡️ কিভাবে বাঁচবেন (Prevention):
✅ বেশি বেশি পানি ও তরল পান করুন
✅ অপ্রয়োজনে দুপুর ১২টা–৩টা রোদে বের হবেন না
✅ হালকা, ঢিলেঢালা, হালকা রঙের কাপড় পরুন
✅ বাইরে গেলে ছাতা/ক্যাপ ব্যবহার করুন ☂️
✅ গরমে ভারী কাজ বা ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন
✅ বাচ্চা ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নিন

🏥 Heat Stroke হলে কী করবেন? (First Aid & Rx):
🚑 রোগীকে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যান
🚑 কাপড় ঢিলা করে দিন
🚑 শরীরে ঠান্ডা পানি/ভেজা কাপড় দিয়ে ঠান্ডা করুন
🚑 ফ্যান/এসি ব্যবহার করুন
🚑 রোগী সচেতন থাকলে ঠান্ডা পানি বা ORS দিন
🚑 যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: Heat Stroke একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি — দেরি করলে মস্তিষ্ক, কিডনি সহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

📢 সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন করুন
এই তাপপ্রবাহে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট্ট কিছু সতর্কতাই বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।
👉 পোস্টটি শেয়ার করুন, সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।

_
Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura

 : 11🐍🐍 সাপে কামড়ালেই কি অ্যান্টি-ভেনম লাগে?​ঈদের দিন দুপুর বেলা। চারদিকে উৎসবের আমেজ হলেও হাসপাতালের ইমার্জেন্সি কিন্তু...
01/06/2026

: 11

🐍🐍 সাপে কামড়ালেই কি অ্যান্টি-ভেনম লাগে?

​ঈদের দিন দুপুর বেলা। চারদিকে উৎসবের আমেজ হলেও হাসপাতালের ইমার্জেন্সি কিন্তু উৎসব চেনে না।

একটু ফাঁকা পেয়ে ওয়ার্ড বয় রানা বাবুর সাথে সবেমাত্র লাঞ্চ করতে বসেছি, ঠিক তখনই রানা বাবুর ফোনে একটা কল এলো। ওপাশ থেকে কেউ একজন আতঙ্কিত গলায় কথা বলছে।

​ফোন রেখেই রানা বাবু কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন, "স্যার, আমার এলাকার একটা ছোট ভাইকে সাপে কামড়েছে। এখানে নিয়ে আসছে। আমাদের হাসপাতালে কি অ্যান্টি-ভেনম (AV) আছে স্যার?"

​আমি ওনাকে আশ্বস্ত করে বললাম, "রানা বাবু, রোগীকে আগে আসতে বলুন। আমাদের ইউএইচসি (UHC)-তে অ্যান্টি-ভেনম আছে। কিন্তু মনে রাখবেন, সাপে কামড়ালেই যে অ্যান্টি-ভেনম দিতে হবে, ব্যাপারটা তেমন নয়। বিষের লক্ষণ না থাকলে অ্যান্টি-ভেনম দেওয়াতে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। রোগী আসুক, আগে দেখি।"

খাওয়া শেষ হতে না হতেই মোটরসাইকেলে করে ২-৩ জন একজন কিশোরকে নিয়ে হাজির।

বয়স আনুমানিক ১৪-১৫ বছর।
ছেলেটি নিজেই বলল,
👨— "স্যার, এই আঙুলে কী যেন কামড় দিয়েছে। মনে হয় সাপ।"

আমি আঙুলটা ভালো করে দেখলাম। কোনো fang mark নেই, কোনো স্পষ্ট দাগও নেই।
জিজ্ঞেস করলাম,
👨‍⚕️— "কোথায় হয়েছিল?"
👨— "মাঠে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছু একটা কামড় দিয়েছে। কিন্তু কী ছিল, দেখতে পাইনি।"

রোগীকে ভালোভাবে পরীক্ষা করলাম।
❌ শ্বাসকষ্ট নেই।
❌ চোখের পাতা ঝুলে পড়েনি।
❌ কথা জড়িয়ে যাচ্ছে না।
❌ শরীরে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ নেই।
❌ Pulse, BP—সব স্বাভাবিক।
❌ বিষক্রিয়ার (envenomation) কোনো উল্লেখযোগ্য লক্ষণও পাওয়া গেল না।

তবুও প্রোটোকল অনুযায়ী 20 Minute Whole Blood Clotting Test (20WBCT) করার জন্য রক্ত নিয়ে টেস্ট টিউবে রেখে দিলাম।

TT এবং TIG দেওয়া হলো।

রোগীকে পর্যবেক্ষণে (Observation) ভর্তি রাখা হলো এবং পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দিলাম কোন কোন লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২০ মিনিট পর WBCT positive clot হলো।
অর্থাৎ রক্ত জমাট বাঁধছে, haemotoxic envenomation-এর প্রমাণ পাওয়া গেল না।

এ কথা শোনার পর রোগীর স্বজনেরা বললেন,
🧔‍♂️👱‍♀️— "তাহলে তো কিছু হয়নি স্যার, বাড়ি নিয়ে যাই?"
আমি বললাম,
👨‍⚕️— "এখনো না। অনেক সময় কিছু লক্ষণ পরে প্রকাশ পেতে পারে। তাই পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।"

সৌভাগ্যবশত, পরবর্তীতেও কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

🚫 একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা
অনেকেই মনে করেন—

❌"সাপে কামড় = অ্যান্টিভেনম"
আসলে বিষয়টি মোটেও এমন নয়।
অ্যান্টিভেনম একটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, কিন্তু এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়।
সঠিক কারণ ছাড়া অ্যান্টিভেনম দিলে রোগীর ক্ষতিও হতে পারে।

🐍 কখন অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়?
নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে অ্যান্টিভেনম প্রয়োজন হতে পারে—

✳️ Neurotoxic envenomation
✅চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis)
✅দ্বৈত দৃষ্টি
✅কথা জড়িয়ে যাওয়া
✅গিলতে কষ্ট হওয়া
✅শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসপ্রশ্বাসের দুর্বলতা

✳️Hemotoxic envenomation
✅20WBCT abnormal হওয়া (রক্ত না জমা)
✅মাড়ি, নাক বা ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত
✅প্রস্রাবে রক্ত
✅শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষরণ

✳️Severe local envenomation
✅দ্রুত বাড়তে থাকা ফোলা
✅তীব্র ব্যথা
✅ফোসকা বা টিস্যু নষ্ট হওয়ার লক্ষণ

✳️Systemic envenomation
✅শক
✅গুরুতর অসুস্থতা
✅কিডনি জটিলতার লক্ষণ

​⚠️ মনে রাখবেন: অ্যান্টি-ভেনম দিলেও ক্ষতি হতে পারে!

​অনেকে মনে করেন, সাপে কামড়ালেই সেফটির জন্য অ্যান্টি-ভেনম দিয়ে দেওয়া ভালো। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সঠিক ইন্ডিকেশন ছাড়া অ্যান্টি-ভেনম দিলে রোগীর শরীরে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে:

⛔ ১. অ্যানাফিল্যাক্সিস (Anaphylaxis): এটি একটি তীব্র ও প্রাণঘাতী অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন। অ্যান্টি-ভেনম দেওয়ার সাথে সাথে রোগীর শরীর চুলকে লাল হয়ে যেতে পারে, ব্লাড প্রেসার শূন্যে নেমে যেতে পারে এবং শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে রোগী মারাও যেতে পারে।

⛔ ২. পাইরোজেনিক রিঅ্যাকশন: তীব্র কাঁপুনি দিয়ে প্রচণ্ড জ্বর আসা এবং বমি হওয়া।

⛔ ৩. সিরাম সিকনেস: অ্যান্টি-ভেনম দেওয়ার কয়েকদিন পর জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা, জ্বর এবং চামড়ায় র‍্যাশ উঠতে পারে।

🚫 ​তাই বিষের লক্ষণ নিশ্চিত না হয়ে অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া মানে রোগীকে উল্টো মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া।

✳️ সাপে কামড়ালে কী করবেন?

✅ রোগীকে শান্ত রাখুন।
✅ আক্রান্ত অঙ্গ যতটা সম্ভব স্থির রাখুন।
✅ দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান।
✅ সাপের ছবি থাকলে দেখাতে পারেন, তবে সাপ ধরতে বা মারতে গিয়ে ঝুঁকি নেবেন না।
❌ ক্ষত কেটে রক্ত বের করবেন না।
❌ মুখ দিয়ে বিষ চুষে বের করার চেষ্টা করবেন না।
❌ শক্ত করে দড়ি বা টুর্নিকেট বাঁধবেন না।
❌ ওঝা, ঝাড়ফুঁক বা বিলম্বে সময় নষ্ট করবেন না।

আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে।

প্রয়োজন হলে রোগীকে অবশ্যই দেওয়া হবে।
তবে "সাপে কামড়েছে" মানেই "অ্যান্টিভেনম দিতে হবে"—এই ধারণাটি সঠিক নয়।

চিকিৎসকের মূল্যায়ন, পর্যবেক্ষণ এবং নির্দিষ্ট লক্ষণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সচেতন হোন, আতঙ্কিত নয়।

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura

  : 10🚫 ​ঈদের আনন্দ, ইমার্জেন্সি ডিউটি এবং একটি তাজা প্রাণের অকাল বিদায়❌আমার মনে তখন চরম আতঙ্ক। সাধারণত আমাদের দেশে এমন ...
30/05/2026

: 10

🚫 ​ঈদের আনন্দ, ইমার্জেন্সি ডিউটি এবং একটি তাজা প্রাণের অকাল বিদায়

❌আমার মনে তখন চরম আতঙ্ক। সাধারণত আমাদের দেশে এমন পরিস্থিতিতে রোগীর লোক এসে প্রথমেই চিৎকার করে—
"ডাক্তারের অবহেলায় রোগী মারা গেছে!"
ভাঙচুর, মারামারি, গালিগালাজ তো নিত্যদিনের চিত্র।❌

​ঈদের দিন। চারদিকে আনন্দের আমেজ। দুপুর তিনটা, ইমার্জেন্সিতে ডিউটি করছি। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে করে হন্তদন্ত হয়ে ৩ জন যুবক এসে থামল। মাঝখানের জন রোগী, বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। সাথে তার দুই বন্ধু/ভাই।

​রুমে ঢুকেই রোগী বুক চেপে ধরে বললেন—

🧔‍♂️— "স্যার, উপরের পেটে গ্যাসের প্রচণ্ড ব্যথা। গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট খাইছি, তাও কমতেছে না। দয়া করে একটা গ্যাসের ইনজেকশন দিয়ে দেন।"

​আমি ওনার দিকে তাকালাম। রুমের সিলিং ফ্যানটা পুরোদমে ঘুরছে, অথচ ওনার শরীর বেয়ে চুইয়ে চুইয়ে ঘাম পড়ছে। একজন চিকিৎসকের চোখ কখনোই এই লক্ষণ এড়াতে পারে না।

​আমি জিজ্ঞেস করলাম—
👨‍⚕️- "ব্যথাটা ঠিক কখন থেকে ভাই?"
🧔‍♂️— "স্যার, এই তো কিছুক্ষণ আগে তীব্র হইছে।"
👨‍⚕️— "বমি হইছে কি?"
🧔‍♂️— "হ্যাঁ স্যার, দুইবার বমি করছি।"

​আমি মনে মনে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেলাম, এটা মোটেও সাধারণ কোনো গ্যাসের ব্যথা নয়। দ্রুত ইসিজি (ECG) করার নির্দেশ দিলাম এবং ওনার বন্ধু/ভাইদের ডেকে আলাদা করে বললাম—
👨‍⚕️-"ওনার অবস্থা সুবিধার না। ওনাকে এখনই সিসিইউ (CCU) সাপোর্ট আছে এমন হাসপাতালে নিতে হবে। আপনারা দ্রুত গাড়ির ব্যবস্থা করেন। আমরা এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা (Loading Dose) দিয়ে দিচ্ছি, কিন্তু রোগীকে এখানে রাখা যাবে না।"

​কিন্তু বন্ধুরা রাজি হলেন না। বললেন,
🧔‍♀️-"স্যার, ওষুধ দেন, দেখি একটু কমে কি না।"

​এরই মধ্যে আমি ওনার হিস্ট্রি নিচ্ছিলাম। কোনো নিয়মিত ওষুধ খান না, উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাসও জানা নেই। কিন্তু মেপে দেখলাম বিপি (BP) বেশ চড়া।

আমি জিজ্ঞেস করলাম—
👨‍⚕️-"পরিবারে অন্য কারো কি কম বয়সে হার্টের রোগ বা হঠাৎ মারা যাওয়ার ইতিহাস আছে?"
উনি বললেন—
🧔- "আমার দাদার এমন একটা সমস্যা হয়েছিল শুনছি।"

​ততক্ষণে ইসিজি রিপোর্ট আমার হাতে চলে এসেছে। যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই— Acute MI (Myocardial Infarction), অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাক!

​আমি রোগী এবং ওনার বন্ধুদের ডেকে আবার খুব গুরুত্ব দিয়ে বোঝালাম—
👨‍⚕️- "ভাই, এটা মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক। যেকোনো মুহূর্তে রোগী খারাপ হয়ে যেতে পারে। সিসিইউ সাপোর্ট ছাড়া ওনাকে বাঁচানো কঠিন হবে। আমরা যে ওষুধ দিচ্ছি, এটা সাময়িক ব্যথা কমাবে, কিন্তু মূল চিকিৎসা এখানে সম্ভব না।"

​তবুও ওনাদের সেই এক কথা—
🧔‍♀️"স্যার, আমরা এখানেই থাকি। দেখি না কী হয়!"

​বাধ্য হয়ে আমরা রিস্ক বন্ড (Risk Bond) নিয়ে ওনাকে অ্যাডমিশন দিলাম।
শেষ চেষ্টা হিসেবে আমি ওনাকে বললাম—
👨‍⚕️- "ভাই, ডাক্তার হিসেবে না, একজন ভাই হিসেবে পরামর্শ দিচ্ছি— ওনাকে এখনই যশোরে নিয়ে যান। হঠাৎ কিছু হয়ে গেলে আমাদের কিচ্ছু করার থাকবে না।"

বন্ধুরা বললেন—
🧔‍♀️-"স্যার, ওনাকে উপরে (ওয়ার্ডে) দেন। আমরা বাড়িতে ফোন দিচ্ছি, লোক আসুক। আমরা ধরে নিয়ে যাচ্ছি।"

​আমি কঠোরভাবে নিষেধ করে দিলাম— 👨‍⚕️-"ওনাকে একদম হাঁটানো যাবে না। ট্রলিতে/কোলে করে নিয়ে যান।"

​ঠিক ৩০ মিনিট পর। ওয়ার্ড থেকে নার্সের ফোন👩‍🔬— "স্যার, এমআই-এর রোগীটা কেমন যেন করতেছে। দ্রুত আসেন!"

​আমি এক দৌড়ে উপরে গেলাম। গিয়ে দেখি ওনার অক্সিজেন লাগানো, কিন্তু বুক চিরে 'গ্যাস্পিং' (হাঁসফাঁস) হচ্ছে। স্যাচুরেশন হুহু করে নামছে। আর ঠিক এই মুহূর্তে ওনার বন্ধুরা নিচে এসে গাড়ি খুঁজছেন! এতক্ষণ ওনারা কী ভেবে সময় নষ্ট করলেন, তা কে জানে!!

​রোগীকে যখন উপর থেকে নিচে নামানো হচ্ছে, ততক্ষণে ওনার রেসপন্স শেষ। আবার ইসিজি করা হলো— মনিটরে শুধু একটা সোজা দাগ (Flat Line)...

​অকালে ঝরে গেল একটি তাজা প্রাণ। শুধুমাত্র একটু অবহেলা আর সচেতনতার অভাবে।

​আমার মনে তখন চরম আতঙ্ক। সাধারণত আমাদের দেশে এমন পরিস্থিতিতে রোগীর লোক এসে প্রথমেই চিৎকার করে—
"ডাক্তারের অবহেলায় রোগী মারা গেছে!" ভাঙচুর, মারামারি, গালিগালাজ তো নিত্যদিনের চিত্র।

​কিন্তু যখন ওনার বাড়ির লোক এসে পৌঁছাল, তখন দেখলাম এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ওনার সাথে আসা দুই বন্ধু/ভাই এবং আশেপাশের মানুষরা কাঁদছেন আর বাড়ির লোককে বলছেন—
— "ডাক্তার স্যার অনেক চেষ্টা করেছেন। এখানে যা যা করার সব করেছেন। আমাদের উনি প্রথমেই বলেছিলেন যশোরে নিয়ে যেতে, সিসিইউ ছাড়া রোগী যেকোনো সময় খারাপ হয়ে যাবে। আমরাই ওনাকে সময়মতো নিতে পারিনি। আল্লাহর ইচ্ছা ছিল এতটুকুই।"

​খুব বুক হালকা লাগলো, কিন্তু মনটা ভীষণ ভারী হয়ে রইল। আসলে আমার আর কী-ই বা করার ছিল?

​মেডিকেলের এক শিক্ষক বলেছিলেন— "হার্ট অ্যাটাকের ২৫% রোগী বাড়িতেই মারা যায়, ২৫% মারা যায় হাসপাতালে আসার পথে, ২৫% মারা যায় সিসিইউ সুবিধা থাকা হাসপাতালেও! আর বাকি ২৫% রোগী সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে বেঁচে ফেরে।"

​পরে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে বুঝলাম, এই যুবকের হয়তো সকাল থেকেই বুকে অস্বস্তি বা ব্যথা ছিল। ঈদের আমেজে বন্ধুদের সাথে বাইক নিয়ে ঘুরেছেন, গ্যাসের ব্যথা ভেবে গুরুত্ব দেননি। যখন আর সহ্য করতে পারেননি, তখন এসেছেন ইমার্জেন্সিতে। ততক্ষণে ওনার স্ট্রেপ্টোকাইনেজ (STK) ইনজেকশন দেওয়ার সময় পার হয়ে যাচ্ছে, যার জন্য সিসিইউ সেটআপ দরকার ছিল।

​আমরা চিকিৎসকরা সবসময় রোগীর ভালোটাই চাই। রোগী বা তার স্বজনরা সেটা সময়মতো বুঝুক আর না বুঝুক। চোখের সামনে একটা প্রাণ চলে যাওয়া মেনে নেওয়া আমাদের জন্যও সহজ নয়। কিন্তু এটাই আমাদের প্রতিদিনের জীবন— কেউ সুস্থ হয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফেরে, কেউবা চলে যায় না ফেরার দেশে।

​⚠️ সবার উদ্দেশ্যে আমার কিছু বিনীত অনুরোধ ও উপদেশ:

​১. সব ব্যথা গ্যাস্ট্রিকের নয়: পেটের উপরের অংশে বা বুকে যেকোনো অস্বস্তি, ভারী ভাব বা ব্যথাকে শুধু 'গ্যাস' মনে করে অবহেলা করবেন না। বিশেষ করে ব্যথার সাথে যদি শরীর চুইয়ে ঘাম হয় বা বমি বমি ভাব থাকে, তবে তা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

২. নিয়মিত চেকআপ: আপনার উচ্চ রক্তচাপ (HTN) বা ডায়াবেটিস (DM) আছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া বা বন্ধ করা থেকে বিরত থাকুন।

৩. জরুরি প্রস্তুতি রাখুন: আপনার পরিবারে যদি কারো হার্টের রোগের ইতিহাস থাকে, তবে আপনার বাড়ির সবচেয়ে কাছে কোথায় সিসিইউ (CCU) সুবিধা আছে, তা আজই জেনে রাখুন।

৪. অ্যাম্বুলেন্সের নাম্বার রাখুন: জরুরি মুহূর্তে গাড়ি খুঁজতে গিয়ে যেন গোল্ডেন আওয়ার (মূল্যবান সময়) নষ্ট না হয়, সেজন্য এখনই বিশ্বস্ত কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ির নাম্বার ফোনে সেভ করে রাখুন।

​আপনার একটু সচেতনতাই পারে আপনাকে কিংবা আপনার প্রিয়জনকে ওই ২৫%-এর মধ্যে শামিল করতে, যারা সঠিক সময়ে সিসিইউ-তে পৌঁছে জীবন ফিরে পায়।

​সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।

Dr. Sauwhardya Biswas
MBBS, BCS(Health)
Medical Officer
Shalikha UHC, Magura

Address

Arpara, Shalikha
Magura
7620

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Sauwhardya Biswas posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share