রোমান ইসলাম

রোমান ইসলাম শিক্ষনীয় ও মজার মজার সব গল্প পেতে এখনই পেইজ Follow দিয়ে রাখুন। 👈

কিছু জানতে চাইলে মেসেজ করুন। 💌
(6)

21/08/2026

“একটি খেজুর… তারপর যা ঘটল, তা কাঁদাবে! 🥺🌴 | ইসলামিক গল্প”

19/08/2026

মৃত্যুর পর জাহান্নামের পথে! 😱 পাপীর শেষ পরিণতি দেখুন | আল্লাহর শাস্তি | Islamic Horror Story

16/08/2026

আয়নার ওপাশে তৃতীয় মানুষপর্বঃ ০৫ — শেষ পর্বঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা।শুধু ভাঙা কাঁচের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস বয়ে যাচ্ছে।রাহা...
13/08/2026

আয়নার ওপাশে তৃতীয় মানুষ

পর্বঃ ০৫ — শেষ পর্ব

ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা।

শুধু ভাঙা কাঁচের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

রাহাত সামনে তাকিয়ে আছে।

তার সামনে দাঁড়িয়ে দুজন রাহাত।

একজন আয়নার ভেতরে।

আরেকজন ঘরের মেঝেতে।

দুজনের মুখ একই।

কিন্তু আয়নার ভেতরের রাহাত কাঁদছে।

আর ঘরের রাহাত...

হাসছে।

আরিফ কয়েক পা পিছিয়ে গেল।

সে কাঁপা গলায় বলল—

— "রাহাত... তুই ওর দিকে তাকাস না।"

হাসতে থাকা রাহাত ধীরে ধীরে আরিফের দিকে তাকাল।

— "এতদিন পরেও তুই আমাকে চিনতে পারলি না, আরিফ?"

আরিফের চোখে ভয়।

— "তুই রাহাত না।"

হাসিটা আরও বড় হলো।

— "ঠিক বলেছিস।"

তারপর সে নিজের বুকের দিকে আঙুল তুলে বলল—

— "আমি রায়ান।"

রাহাত স্তব্ধ হয়ে গেল।

— "কিন্তু রায়ান তো..."

— "মরে গিয়েছিল?"

রায়ান হেসে উঠল।

— "না। সেদিন কেউ মরেনি।"

আরিফ মাথা নিচু করে ফেলল।

রাহাত তার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করল—

— "তুই সব জানতিস!"

আরিফ ধীরে ধীরে বলল—

— "হ্যাঁ।"

— "তাহলে আমাকে বলিসনি কেন?"

আরিফের চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল।

— "কারণ তোর বাবা আমাকে কথা দিয়েছিল... তোর আসল পরিচয় কখনো যেন তোকে না জানাই।"

রাহাত অবাক হয়ে গেল।

— "আমার আসল পরিচয়?"

আরিফ ভাঙা আয়নার দিকে তাকাল।

— "তুই-ই আসল রাহাত।"

রাহাতের বুকের ভেতর যেন শব্দ থেমে গেল।

আরিফ বলতে থাকল—

— "সাত বছর আগে তোর বাবা বুঝতে পেরেছিলেন, ওই আয়না সাধারণ আয়না না। ওটা মানুষের স্মৃতি আর পরিচয় আটকে রাখতে পারে।"

— "সেদিন রায়ান তোকে আয়নার সামনে নিয়ে গিয়েছিল।"

— "কারণ সে তোর জীবনটা চুরি করতে চেয়েছিল।"

রাহাত ধীরে ধীরে আয়নার ভেতরের নিজের দিকে তাকাল।

আয়নার ভেতরের ছেলেটা কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়ল।

— "না... আমি না।"

রাহাত থেমে গেল।

আয়নার ভেতরের ছেলেটা বলল—

— "রায়ান মিথ্যা বলছে।"

হঠাৎ ঘরের বাতাস ভারী হয়ে গেল।

রায়ান চিৎকার করে উঠল—

— "চুপ!"

ভাঙা কাঁচগুলো একসাথে কেঁপে উঠল।

আয়নার ভেতরের রাহাত এবার জোরে বলল—

— "তুই আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলি!"

রায়ান তার দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল—

— "কারণ তুই আমার জীবনটা নিয়ে নিয়েছিলি!"

রাহাত মাথা চেপে ধরল।

তার চোখের সামনে আবার সেই রাতের দৃশ্য ভেসে উঠল।

তিনজন শিশু।

একটা আয়না।

রায়ান মেঝেতে পড়ে আছে।

ছোট্ট রাহাত তাকে টেনে তুলছে।

আরিফ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।

তারপর তৃতীয় একজন...

ছায়ার মতো আয়নার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে।

সে ছোট্ট রাহাতের মুখ স্পর্শ করে।

আর মুহূর্তের মধ্যে রাহাতের স্মৃতি অন্ধকার হয়ে যায়।

রাহাত হঠাৎ চিৎকার করে উঠল—

— "আমি মনে করতে পারছি!"

আরিফ তাকিয়ে রইল।

রাহাত কাঁপা গলায় বলল—

— "রায়ান আমাকে প্রতিস্থাপন করেনি..."

সে রায়ানের দিকে তাকাল।

— "তুই নিজেই আমার স্মৃতি চুরি করেছিলি!"

রায়ানের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

রাহাত বুঝতে পারল—

আয়নার ভেতরে থাকা মানুষটা আসল রাহাত।

আর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা...

রায়ান।

কিন্তু রহস্যের শেষ এখানেও নয়।

রাহাতের বাবা কেন তাকে সাত বছর ধরে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন?

হঠাৎ ডায়েরির শেষ পাতাটা নিজে থেকেই খুলে গেল।

সেখানে লেখা—

"রায়ানকে আয়নার ভেতরে পাঠানো হয়নি।"

"ওকে বের করে আনা হয়েছিল।"

রাহাতের বুক কেঁপে উঠল।

তারপর নিচে লেখা—

"আয়নার ওপাশে আসলে রায়ান নয়..."

শেষ লাইনটা পড়তেই রাহাতের হাত কাঁপতে শুরু করল।

"আয়নার ওপাশে আছে সেই তৃতীয় মানুষ, যে আমাদের তিনজনকেই তৈরি করেছে।"

হঠাৎ ঘরের সব আলো নিভে গেল।

অন্ধকারের মধ্যে একটা শিশুর হাসি শোনা গেল।

একবার...

দুবার...

তারপর ঠিক রাহাতের পেছনে একটা কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল—

— "তোমরা এতদিন ভেবেছিলে তিনজন ছিলে..."

রাহাত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।

কেউ নেই।

কিন্তু ভাঙা আয়নার প্রতিটি টুকরোয় এবার একই মুখ দেখা যাচ্ছে।

একটা ছোট্ট ছেলে।

তার চোখ সম্পূর্ণ কালো।

সে হাসছে।

আর বলছে—

— "আসলে আমরা ছিলাম চারজন।"

রাহাতের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।

আরিফ চিৎকার করে বলল—

— "রাহাত! আয়না থেকে দূরে সরে যা!"

কিন্তু দেরি হয়ে গেছে।

ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলো মাটি থেকে উঠে বাতাসে ভাসতে শুরু করল।

তারপর সবগুলো কাঁচ একসাথে জুড়ে গিয়ে একটা সম্পূর্ণ আয়না তৈরি হলো।

আয়নার ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে আসল রাহাত।

রাহাত তার দিকে তাকিয়ে রইল।

আসল রাহাত হাত বাড়িয়ে বলল—

— "আমাকে বের করে দে।"

রাহাতও হাত বাড়াল।

দুজনের আঙুল ছুঁয়ে গেল।

ঠিক সেই মুহূর্তে রায়ান চিৎকার করে উঠল—

— "না!"

আয়না কেঁপে উঠল।

রাহাতের শরীর থেকে একটা কালো ছায়া বেরিয়ে এসে আয়নার দিকে ছুটে গেল।

ছায়াটা আয়নার ভেতরে ঢুকতেই আসল রাহাত হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল।

রায়ান হাঁটু গেড়ে মাটিতে পড়ে গেল।

আরিফ ছুটে এসে রাহাতকে ধরে ফেলল।

— "তুই ঠিক আছিস?"

রাহাত কোনো উত্তর দিল না।

সে শুধু আয়নার দিকে তাকিয়ে রইল।

কারণ আয়নায় এখন তার নিজের কোনো প্রতিচ্ছবি নেই।

শুধু একটা ছোট্ট ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।

কালো চোখ।

ফ্যাকাশে মুখ।

আর তার হাতে একটা পুরনো ছবি।

ছবিতে চারজন শিশু।

রাহাত।

আরিফ।

রায়ান।

আর...

চতুর্থ শিশুটার মুখে রাহাতের মুখ।

ছেলেটা ধীরে ধীরে ছবিটা ছিঁড়ে ফেলল।

তারপর আয়নার ভেতর থেকে শেষবারের মতো বলল—

— "গল্প শেষ হয়নি, রাহাত..."

এক মুহূর্ত নীরবতা।

তারপর সে হাসল।

— "শুধু আয়নাটা বদলেছে।"

হঠাৎ আয়নাটা সম্পূর্ণ কালো হয়ে গেল।

সবকিছু থেমে গেল।

রাহাত চোখ বন্ধ করল।

কয়েক সেকেন্ড পর চোখ খুলে দেখল—

ঘরে কোনো আয়না নেই।

রায়ানও নেই।

শুধু মেঝেতে পড়ে আছে সেই পুরনো ডায়েরি।

রাহাত ডায়েরিটা তুলে শেষ পাতাটা খুলল।

সেখানে নতুন করে একটা বাক্য লেখা—

"যে গল্পের শেষ তুমি পড়লে, তার লেখকও জানে না পরের আয়নাটা কোথায়।"

রাহাত ডায়েরিটা বন্ধ করল।

ক্যামেরার মতো ধীরে ধীরে দৃশ্যটা দূরে সরে যেতে লাগল।

আর ঘরের বাইরে...

একটা পুরনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরেকজন।

তার মুখ দেখা যাচ্ছে না।

শুধু আয়নায় লেখা—

"শেষ।"

সমাপ্ত।

গল্পঃ আয়নার ওপাশে তৃতীয় মানুষ
পর্বঃ ০৫ — শেষ পর্ব
লেখকঃ রোমান ইসলাম

আয়নার ওপাশে তৃতীয় মানুষপর্বঃ ০৪ভাঙা আয়নার কাঁচগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে ছিল।রাহাত কয়েক সেকেন্ড নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল।তার সামনে আর...
13/08/2026

আয়নার ওপাশে তৃতীয় মানুষ

পর্বঃ ০৪

ভাঙা আয়নার কাঁচগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে ছিল।

রাহাত কয়েক সেকেন্ড নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল।

তার সামনে আর কোনো আয়না নেই।

কিন্তু...

ভাঙা প্রতিটি কাঁচের টুকরোয় তার নিজের মুখ দেখা যাচ্ছে।

একই মুখ।

একই চোখ।

তবুও একটা অদ্ভুত ব্যাপার—

প্রতিটি প্রতিচ্ছবি আলাদা আলাদা দিকে তাকিয়ে আছে।

কেউ রাহাতের দিকে।

কেউ দরজার দিকে।

আর একটা প্রতিচ্ছবি...

সরাসরি তার পেছনে তাকিয়ে আছে।

রাহাত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।

কেউ নেই।

হঠাৎ মেঝেতে পড়ে থাকা শিশুর ছবিটা তার চোখে পড়ল।

তিনজন শিশু।

রাহাত।

আরিফ।

আর তৃতীয় ছেলেটা।

কিন্তু এবার ছবিটা অন্যরকম।

তৃতীয় ছেলেটার মুখে লাল কালি দিয়ে দাগ টানা।

তার নিচে লেখা—

"নাম: রায়ান। বয়স: ৮।"

রাহাতের বুক কেঁপে উঠল।

— "রায়ান..."

নামটা মুখে আসতেই তার মাথার ভেতর যেন বিস্ফোরণ হলো।

হঠাৎ সে একটা পুরনো স্মৃতি দেখতে পেল।

সাত বছর আগের রাত।

বৃষ্টি হচ্ছিল।

তিনজন শিশু একটা পুরনো ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে।

রায়ান কাঁদছিল।

আরিফ চিৎকার করে বলছিল—

— "রাহাত, ওকে আয়নার সামনে নিয়ে যাস না!"

কিন্তু ছোট্ট রাহাত যেন কারও কথা শুনছিল না।

সে রায়ানের হাত ধরে আয়নার সামনে নিয়ে যাচ্ছিল।

তারপর...

আয়নার ভেতর থেকে আরেকটা হাত বেরিয়ে এসে রায়ানের গলা চেপে ধরেছিল।

রাহাত হঠাৎ বর্তমান সময়ে ফিরে এলো।

সে মাটিতে পড়ে গেল।

— "না... এটা হতে পারে না..."

ঠিক তখন দরজায় তিনবার শব্দ হলো।

ঠক... ঠক... ঠক...

রাহাত জমে গেল।

দরজার ওপাশ থেকে আরিফের কণ্ঠ—

— "রাহাত! দরজা খোল! আমি এসেছি!"

রাহাত দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

কিন্তু হঠাৎ তার চোখ পড়ল মেঝের কাঁচের টুকরোয়।

সেখানে দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে।

আরিফ।

কিন্তু তার প্রতিবিম্বের মুখে কোনো চোখ নেই।

রাহাত সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে গেল।

— "তুই আরিফ না..."

দরজার ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর ধীরে ধীরে একটা হাসির শব্দ।

— "অবশেষে বুঝতে পারলি?"

রাহাতের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

দরজার নিচ দিয়ে কালো তরলের মতো কিছু একটা ঘরের ভেতরে ঢুকতে শুরু করল।

সেটা ধীরে ধীরে মেঝের ওপর ছড়িয়ে পড়ছে।

আর সেই কালো তরলের ওপর ফুটে উঠল একটা লেখা—

"রায়ান এখনো বেঁচে আছে।"

রাহাত কাঁপা গলায় বলল—

— "কোথায়?"

দরজার ওপাশ থেকে উত্তর এলো—

— "তোর ভেতরে।"

রাহাত নিজের বুকের দিকে তাকাল।

ঠিক তখন তার বুকের ভেতর থেকে একটা শিশুর কণ্ঠ শোনা গেল—

— "রাহাত..."

সে আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল।

— "কে?!"

কণ্ঠটা আবার বলল—

— "আমি রায়ান।"

রাহাত নিজের বুক চেপে ধরল।

— "তুই আমার ভেতরে কীভাবে?"

শিশুটার কণ্ঠ এবার আরও পরিষ্কার—

— "কারণ সেদিন আয়নার ওপাশে আমি যাইনি..."

এক মুহূর্ত নীরবতা।

তারপর—

— "তুই গিয়েছিলি।"

রাহাতের চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেল।

হঠাৎ তার মনে পড়ল—

সাত বছর আগে দুর্ঘটনার পর যে ছেলেটাকে সবাই রাহাত ভেবেছিল...

সে আসলে রাহাত ছিল না।

সে ছিল রায়ান।

আর আসল রাহাত...

আয়নার ওপাশে আটকে ছিল।

রাহাত পেছনে সরে যেতে যেতে দেয়ালে ধাক্কা খেল।

— "তাহলে আমি কে?"

তার বুকের ভেতর থেকে রায়ানের কণ্ঠ ভেসে এলো—

— "তুই সেই তৃতীয় মানুষ..."

হঠাৎ ঘরের সব কাঁচ একসাথে কেঁপে উঠল।

ভাঙা আয়নার সবচেয়ে বড় টুকরোটায় এবার একটা মুখ দেখা গেল।

একজন তরুণ।

চোখে ভয়।

মুখে ক্ষত।

সে রাহাতের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল—

— "আমাকে বের কর..."

রাহাত নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল।

কারণ সেই মুখটা...

হুবহু তার নিজের মুখ।

তারপর আয়নার ভেতরের ছেলেটা ফিসফিস করে বলল—

— "আমি আসল রাহাত।"

ঠিক তখন দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।

দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিল আরিফ।

কিন্তু তার হাতে কোনো ছুরি নেই।

তার চোখে পানি।

সে নিচু গলায় বলল—

— "রাহাত... আমি তোকে এতদিন মিথ্যা বলেছি।"

রাহাত তাকিয়ে রইল।

আরিফ ধীরে ধীরে বলল—

— "কারণ তুই যদি সত্যিটা জানতে পারিস..."

সে থেমে গেল।

— "তাহলে রায়ান আর তোর মধ্যে কে বেঁচে থাকবে, সেটা আর তোর হাতে থাকবে না।"

ঠিক তখন রাহাতের বুকের ভেতর থেকে রায়ানের কণ্ঠ চিৎকার করে উঠল—

"আরিফ! ওকে বলিস না!"

আরিফ কাঁপতে কাঁপতে রাহাতের দিকে তাকাল।

— "সময় শেষ হয়ে গেছে।"

হঠাৎ ঘরের সব আলো জ্বলে উঠল।

আর রাহাত দেখল—

দেয়ালের সামনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে দুজন রাহাত।

একজন আয়নার ভেতরে।

আর একজন তার সামনে।

দুজনেই একই মুখ।

কিন্তু তাদের মধ্যে একজন ধীরে ধীরে হাসছে।

আর অন্যজন কাঁদছে।

হাসতে থাকা রাহাত বলল—

— "আগামী রাতেই ঠিক হবে..."

— "কে আসল?"

তারপর ভাঙা আয়নার শেষ টুকরোতেও একটা লেখা ফুটে উঠল—

"শেষ পর্বে শুধু একজন এই ঘর থেকে বের হবে।"

চলবে...

এই গল্পটি মোট ৫টি পর্বে সম্পূর্ণ হবে।

গল্পঃ আয়নার ওপাশে তৃতীয় মানুষ
পর্বঃ ০৪
লেখকঃ রোমান ইসলাম

আয়নার ওপাশে তৃতীয় মানুষপর্বঃ ০৩রাহাত বুঝতে পারছিল না—সে সত্যিই কি আয়নার ভেতরে চলে যাচ্ছে, নাকি তার চোখই তাকে ধোঁকা দিচ্ছ...
12/08/2026

আয়নার ওপাশে তৃতীয় মানুষ

পর্বঃ ০৩

রাহাত বুঝতে পারছিল না—

সে সত্যিই কি আয়নার ভেতরে চলে যাচ্ছে, নাকি তার চোখই তাকে ধোঁকা দিচ্ছে।

এক মুহূর্ত আগে যে ঘরের মেঝেতে দাঁড়িয়ে ছিল...

এখন সেই মেঝেটাই যেন কাঁচের ওপাশে।

তার হাত-পা অবশ হয়ে আসছিল।

সে প্রাণপণে পিছনে সরে আসতে চাইল।

কিন্তু পারল না।

মনে হচ্ছিল অদৃশ্য কোনো শক্তি তার বুক ধরে টেনে নিচ্ছে।

আয়নার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অচেনা ছেলেটা ধীরে ধীরে হাসল।

— "এত বছর পর অবশেষে আমাকে জায়গাটা ফিরিয়ে দিলি।"

রাহাত কাঁপা গলায় বলল,

— "তুই কে?"

ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর নিজের মুখের দিকে ইশারা করে বলল,

— "এই মুখটা তো তোরই চেনা উচিত।"

রাহাতের মাথায় হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো।

একটার পর একটা অস্পষ্ট দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল।

একটা পুরনো বাড়ি...

তিনজন শিশু...

একটা আয়না...

আর রক্তে ভেজা মেঝে।

রাহাত চিৎকার করে চোখ বন্ধ করে ফেলল।

চোখ খুলতেই দেখল—

সে আবার নিজের ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে।

আয়নার সামনে কেউ নেই।

শুধু আয়নার কাঁচে একটা নতুন লেখা।

"স্মৃতি ফিরতে শুরু করেছে।"

রাহাত হাঁপাতে হাঁপাতে উঠে দাঁড়াল।

তারপর হঠাৎ তার চোখ পড়ল পুরনো ডায়েরিটার দিকে।

ডায়েরির শেষ পাতার নিচে আরও কয়েকটা পৃষ্ঠা ছিল, যেগুলো এতক্ষণ একসাথে লেগে ছিল।

রাহাত ধীরে ধীরে পৃষ্ঠাগুলো আলাদা করল।

সেখানে তার বাবার হাতের লেখা।

প্রথম লাইনটা পড়েই রাহাতের বুক কেঁপে উঠল—

"যদি রাহাত এই লেখা পড়ে, তাহলে আরিফের ওপর বিশ্বাস করিস না।"

রাহাত থমকে গেল।

— "কিন্তু আরিফ তো আমাকে বাঁচাতে চাইছে!"

সে পরের লাইন পড়ল।

"আরিফ জানে সত্যিটা। কিন্তু সে পুরো সত্যিটা জানে না।"

তার নিচে লেখা—

"সাত বছর আগে দুর্ঘটনা ঘটেনি।"

রাহাতের হাত কাঁপতে লাগল।

"সেদিন রাতে আমরা তিনজনকে আয়নার ঘরে পেয়েছিলাম।"

"একজন কাঁদছিল।"

"একজন চিৎকার করছিল।"

"আর একজন শুধু আয়নার দিকে তাকিয়ে হাসছিল।"

রাহাতের চোখ স্থির হয়ে গেল।

তারপর লেখা—

"আমি ভুল মানুষটাকে বাঁচিয়ে এনেছিলাম।"

হঠাৎ ঘরের বাতি নিভে গেল।

চারপাশ অন্ধকার।

রাহাত মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালাল।

ঠিক তখন তার ফোনে একটা মেসেজ এলো।

প্রেরক—

আরিফ।

মেসেজে মাত্র তিনটি শব্দ।

"আয়নার পেছনে দেখ।"

রাহাত ধীরে ধীরে আয়নার কাছে গেল।

আয়নার চারপাশে হাত দিয়ে খুঁজতে লাগল।

হঠাৎ তার আঙুল একটা ছোট ফাঁকে আটকে গেল।

সে জোরে টান দিতেই আয়নাটা সামান্য সরে গেল।

পেছনে একটা গোপন কাঠের দরজা!

রাহাত দরজাটা খুলল।

ভেতরে অন্ধকার একটা ছোট ঘর।

ঘরের দেয়ালে সারি সারি ছবি ঝুলছে।

সব ছবিতেই রাহাত।

কিন্তু প্রতিটি ছবিতে তার বয়স আলাদা।

৫ বছর...

৮ বছর...

১২ বছর...

১৭ বছর...

আর সবশেষ ছবিতে—

রাহাতের বয়স বর্তমানের মতো।

ছবিটার নিচে লেখা—

"পরীক্ষা সফল। স্মৃতি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে।"

রাহাতের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

তারপর ঘরের এক কোণে রাখা পুরনো টেপ রেকর্ডার হঠাৎ নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল।

ভেসে এলো তার বাবার কণ্ঠ—

— "রাহাত, যদি তুই এটা শুনিস, তাহলে বুঝবি আমি ব্যর্থ হয়েছি।"

কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর—

— "তুই যে মানুষটাকে নিজের বন্ধু আরিফ বলে চিনিস... সে আসল আরিফ নয়।"

রাহাতের হাত থেকে ফোনটা মাটিতে পড়ে গেল।

টেপে আবার কণ্ঠ শোনা গেল—

— "আসল আরিফ মারা যায়নি। সে এখনো আয়নার ওপাশে আছে।"

রাহাত নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনতে লাগল।

— "আর যে তৃতীয় মানুষটাকে তুই খুঁজছিস... সে-ই তোর আসল পরিচয় জানে।"

হঠাৎ টেপের শব্দ বিকৃত হয়ে গেল।

তারপর খুব নিচু একটা কণ্ঠ শোনা গেল—

— "রাহাত... পিছনে তাকাস না।"

রাহাতের শরীর জমে গেল।

কারণ তার ঘাড়ের ঠিক পেছন থেকে কেউ ফিসফিস করে বলল—

— "ওকে বিশ্বাস করিস না।"

রাহাত ধীরে ধীরে আয়নার দিকে তাকাল।

আয়নায় দেখা গেল—

তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে আরিফ।

কিন্তু বাস্তবে...

ঘরটা সম্পূর্ণ খালি।

আর আয়নার ভেতরের আরিফের হাতে ধরা ছিল একটা পুরনো ছুরি।

সে ধীরে ধীরে বলল—

— "রাহাত, এবার তুই সিদ্ধান্ত নে..."

— "কাকে বাঁচাবি?"

"আমাকে..."

"নাকি নিজেকে?"

ঠিক তখন আয়নার কাঁচে ফাটল ধরল।

একটা...

দুইটা...

তারপর অসংখ্য ফাটল।

আর সেই ফাটলের ভেতর থেকে একসাথে তিনজনের কণ্ঠ ভেসে এলো—

"আমাদের মধ্যে আসল রাহাত কে?"

রাহাত চিৎকার করে উঠল।

আর আয়নার কাঁচ সম্পূর্ণ ভেঙে গেল।

কিন্তু ভাঙা কাঁচের ওপাশে...

কেউ ছিল না।

শুধু মেঝেতে পড়ে ছিল একটা পুরনো শিশুর জুতো।

জুতোর ভেতরে রাখা একটা কাগজ।

রাহাত কাগজটা তুলে খুলল।

সেখানে লেখা—

"পরের রাতেই তুই নিজের আসল মুখ দেখতে পাবি।"

চলবে...

এই গল্পটি মোট ৫টি পর্বে সম্পূর্ণ হবে।

গল্পঃ আয়নার ওপাশে তৃতীয় মানুষ
পর্বঃ ০৩
লেখকঃ রোমান ইসলাম

🕯️ শেষ ট্রেনের শেষ যাত্রীরাত তখন ১২টা ৪৭ মিনিট।স্টেশনটা প্রায় ফাঁকা।শেষ ট্রেনটা চলে যাওয়ার কথা ছিল রাত ১২টা ৩০ মিনিটে। ক...
11/08/2026

🕯️ শেষ ট্রেনের শেষ যাত্রী

রাত তখন ১২টা ৪৭ মিনিট।

স্টেশনটা প্রায় ফাঁকা।

শেষ ট্রেনটা চলে যাওয়ার কথা ছিল রাত ১২টা ৩০ মিনিটে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, পুরোনো স্টেশন মাস্টারের ঘড়িতে তখনও একটা ট্রেনের সময় দেখাচ্ছিল—

১২টা ৫৫ মিনিট।

রাহাত প্ল্যাটফর্মে একা দাঁড়িয়ে ছিল।

হঠাৎ দূর থেকে ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল।

কিন্তু রেললাইনের ওপর কোনো আলো দেখা যাচ্ছিল না।

কিছুক্ষণ পর অন্ধকার ভেদ করে একটা পুরোনো কালো ট্রেন ধীরে ধীরে স্টেশনে ঢুকল।

ট্রেনের কোনো নম্বর নেই।

কোনো গন্তব্য লেখা নেই।

আর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার—

ট্রেনের সব জানালা কালো কাপড়ে ঢাকা।

রাহাত ভেবেছিল, হয়তো ভুল ট্রেন।

কিন্তু দরজা খুলতেই ভেতর থেকে একজন বৃদ্ধ লোক হাত বাড়িয়ে বলল,

— "উঠে পড়ুন। আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি।"

রাহাত অবাক হয়ে বলল,

— "আমার জন্য?"

বৃদ্ধ লোকটা মৃদু হাসল।

— "আপনি তো প্রতিদিনই এই ট্রেনে ওঠেন।"

রাহাতের বুকটা ধক করে উঠল।

— "আমি? আমি তো আপনাকে কখনো দেখিনি!"

বৃদ্ধ লোকটা আর কিছু বলল না।

শুধু বলল,

— "আজ শেষবারের মতো উঠুন।"

কথাটা শুনে রাহাতের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

তবুও অদ্ভুত এক টানে সে ট্রেনে উঠে পড়ল।

ভেতরে ঢুকেই সে দেখল—

সব সিট খালি।

শুধু একেবারে শেষ সিটে একজন ছোট্ট মেয়ে বসে আছে।

মেয়েটার বয়স সাত-আট বছর হবে।

সে জানালার দিকে তাকিয়ে ছিল।

রাহাত কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,

— "তুমি একা?"

মেয়েটা ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল।

তার চোখ দুটো সম্পূর্ণ কালো।

রাহাত পিছিয়ে গেল।

মেয়েটা ফিসফিস করে বলল,

— "চাচা... আপনি কি জানেন আমরা কোথায় যাচ্ছি?"

রাহাত কোনো উত্তর দিল না।

মেয়েটা আবার বলল,

— "যেখানে সবাই যায়..."

ঠিক তখনই ট্রেন চলতে শুরু করল।

রাহাত জানালার পর্দা সরাতে গেল।

বৃদ্ধ লোকটা হঠাৎ চিৎকার করে উঠল,

— "জানালা খুলবেন না!"

রাহাত থেমে গেল।

— "কেন?"

বৃদ্ধ লোকটা নিচু গলায় বলল,

— "বাইরে যারা দাঁড়িয়ে থাকে... তারা কিন্তু মানুষ নয়।"

রাহাতের বুক কেঁপে উঠল।

কৌতূহল সামলাতে না পেরে সে একটু পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকাল।

রেললাইনের পাশে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।

সবাই ট্রেনের দিকে তাকিয়ে।

কেউ নড়ছে না।

কেউ কথা বলছে না।

কিন্তু তাদের সবার মুখে—

রাহাতের মুখ।

রাহাত ভয়ে পর্দা ছেড়ে দিল।

সে দৌড়ে ট্রেনের দরজার দিকে গেল।

দরজা খুলতে গিয়ে দেখল—

দরজার ওপাশে কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই।

শুধু গভীর কালো অন্ধকার।

হঠাৎ পেছন থেকে মেয়েটার কণ্ঠ ভেসে এল,

— "চাচা..."

রাহাত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।

মেয়েটা এবার দাঁড়িয়ে আছে।

তার হাতে একটা পুরোনো ছবি।

সে ছবিটা রাহাতের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

— "এটা আপনার।"

রাহাত ছবিটা হাতে নিয়ে জমে গেল।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে—

একটা ট্রেন দুর্ঘটনা।

চারপাশে আগুন।

আর সেই ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে রাহাত নিজেই।

ছবির নিচে লেখা—

"১২ আগস্ট ২০১৬"

রাহাত কাঁপা গলায় বলল,

— "এটা... অসম্ভব।"

বৃদ্ধ লোকটা ধীরে ধীরে তার কাছে এসে দাঁড়াল।

— "অসম্ভব নয়।"

— "আপনি দশ বছর আগে এই ট্রেনে মারা গিয়েছিলেন।"

রাহাতের হাত থেকে ছবিটা পড়ে গেল।

— "তাহলে... আমি এখন কে?"

বৃদ্ধ লোকটা উত্তর দেওয়ার আগেই ট্রেনটা হঠাৎ থেমে গেল।

সব আলো নিভে গেল।

অন্ধকারের মধ্যে শত শত মানুষের ফিসফিসানি শোনা গেল—

"আর একজন এসেছে..."

"আর একজন এসেছে..."

"এবার ট্রেন পূর্ণ হবে..."

তারপর হঠাৎ আলো জ্বলে উঠল।

রাহাত চারদিকে তাকিয়ে দেখল—

সব সিটে মানুষ বসে আছে।

কিন্তু প্রত্যেকের মুখ—

রাহাতের মুখ।

শেষ সিটে বসে থাকা ছোট্ট মেয়েটা হাসল।

তারপর বলল,

— "চাচা, এতদিন পরে বাড়ি ফিরলেন..."

রাহাত আতঙ্কে পিছিয়ে যেতে লাগল।

ঠিক তখনই ট্রেনের মাইকে ঘোষণা হলো—

"পরবর্তী স্টেশন—মৃত্যুপুর।"

আর সেই মুহূর্তে রাহাত বুঝতে পারল...

ট্রেনটা কোথাও যাচ্ছে না।

ট্রেনটা তাকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছে সেই রাতের কাছে, যেদিন সে মারা গিয়েছিল।

কিন্তু এবার—

ট্রেনের যাত্রী একজন নয়।

পুরো ট্রেনটাই তার অপেক্ষায় ছিল।

🚆 শেষ।

✍️ গল্প: রোমান ইসলাম

🕯️ গল্প: রাত ৩টা ১৭ মিনিটের দরজাঢাকার এক পুরোনো পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় নতুন বাসা নিল রায়হান।বাসাটা সস্তায় পাওয়া গ...
11/08/2026

🕯️ গল্প: রাত ৩টা ১৭ মিনিটের দরজা

ঢাকার এক পুরোনো পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় নতুন বাসা নিল রায়হান।

বাসাটা সস্তায় পাওয়া গিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয়, বাড়িওয়ালা শুধু একটা কথাই বলেছিল—

“রাতে দরজায় কেউ নক করলে খুলবেন না।”

রায়হান হেসে বলেছিল,
— “চোর-ডাকাতের ভয়?”

বৃদ্ধ বাড়িওয়ালা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেছিল,

— “চোর হলে ভালো ছিল।”

সেদিন রাতেই রায়হান ঘুমাতে গেল।

ঘড়িতে তখন ৩টা ১৬ মিনিট।

হঠাৎ—

ঠক... ঠক... ঠক...

দরজায় তিনবার শব্দ হলো।

রায়হানের ঘুম ভেঙে গেল।

সে মোবাইল হাতে নিয়ে সময় দেখল।

৩:১৭।

আবার—

ঠক... ঠক... ঠক...

রায়হান বিছানা থেকে উঠল।

দরজার কাছে গিয়ে পিপহোল দিয়ে বাইরে তাকাল।

করিডোর একদম ফাঁকা।

কেউ নেই।

সে ফিরে আসতে যাবে—

ঠিক তখনই দরজার ওপাশ থেকে একটা ছোট্ট মেয়ের কণ্ঠ ভেসে এল,

— “ভাইয়া... দরজাটা খুলবেন?”

রায়হান জমে গেল।

মেয়েটা আবার বলল,

— “আমি খুব ভয় পেয়েছি।”

রায়হান দরজা খুলতে হাত বাড়িয়েও থেমে গেল।

বাড়িওয়ালার কথা মনে পড়ল।

“রাতে দরজায় কেউ নক করলে খুলবেন না।”

সে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।

কিছুক্ষণ পর বাইরে থেকে ফিসফিস শব্দ শোনা গেল—

— “আপনি কি আমাকে দেখতে পাচ্ছেন?”

রায়হান উত্তর দিল না।

তারপর—

ঠক... ঠক... ঠক...

কিন্তু এবার শব্দটা দরজা থেকে আসছে না।

শব্দটা আসছে...

তার পেছন থেকে।

রায়হান ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল।

ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সেই ছোট্ট মেয়েটা।

ভেজা চুল মুখ ঢেকে রেখেছে।

তার জামা থেকে মেঝেতে পানি পড়ছে।

রায়হান ভয়ে পিছিয়ে গেল।

— “তুমি... এখানে কীভাবে এলে?”

মেয়েটা ধীরে ধীরে মুখ তুলল।

তার চোখ দুটো সম্পূর্ণ কালো।

তারপর সে মুচকি হেসে বলল—

— “আমি তো বাইরে ছিলাম না ভাইয়া...”

রায়হানের বুক কেঁপে উঠল।

মেয়েটা আঙুল তুলে দরজার দিকে দেখাল।

— “বাইরে যে নক করছে...”

এক মুহূর্ত থেমে সে ফিসফিস করে বলল—

— “ওটা আমি না।”

ঠিক তখনই দরজার নিচ দিয়ে কালো একটা ছায়া ঘরের ভেতরে ঢুকতে শুরু করল।

রায়হান চিৎকার করতে যাবে—

তার আগেই ঘড়িতে সময় বদলে গেল।

৩:১৮।

আর দরজার ওপাশ থেকে এবার রায়হানের নিজের কণ্ঠ শোনা গেল—

— “রায়হান... দরজা খোল। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।”

মেয়েটা তার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—

— “এবার আপনার পালা।”

চলবে... 👁️

Address

Mirpur
Mirpur
1216

Telephone

+8801721274068

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when রোমান ইসলাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share