16/10/2026
বুঝি না ভাই, আমাদের বাঙালিদের আসলে সমস্যাটা কোথায়! 🙂
আজ আমার একজন রোগী এসে বললেন, তাঁর বাচ্চাকে নাকি একজন ডাক্তার বলেছেন, হোমিওপ্যাথি খেলে ফ্যাট বেড়ে যায়, ওজন বেড়ে যায়! 😁 অথচ সেই রোগী আমার কাছ থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন abong valo hoyesen..
এমন আরও কত কথা যে শুনতে হয়!
কেউ বলেন, হোমিওপ্যাথি খেলে কিডনি নষ্ট হয়। কেউ বলেন, হোমিওপ্যাথি খেয়েই নাকি নতুন রোগ তৈরি হয়েছে! আরও কত কী!
কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করার আগে তার পেছনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে কি না, সেটা কি যাচাই করা উচিত নয়?
আমি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। SSC ও HSC-তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা করে, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে পাঁচ বছরের BHMS কোর্স এবং এক বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছি। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে রোগী দেখা শুরু করেছি।
এই ছয় বছরের পড়াশোনা, পরিশ্রম ও প্রশিক্ষণ কি রোগীদের ভুলভাল ওষুধ দেওয়ার জন্য করেছি?
আমার কাছে কোনো রোগী এলে আমি চেষ্টা করি তাঁর সমস্যাটি বুঝতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে। কোনো ক্ষেত্রে আমার চিকিৎসাপদ্ধতির সীমাবদ্ধতা থাকলে, অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলে কিংবা অন্য বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা দরকার হলে আমি তাঁকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে রেফার করি। কারণ, রোগীর সুস্থতাই সবার আগে।
তাহলে একজন চিকিৎসক কেন আরেকজন চিকিৎসক সম্পর্কে এমন মন্তব্য করবেন, যা শুনে রোগী বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন? পেশাগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতপার্থক্য কি পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে প্রকাশ করা যায় না?
হোমিওপ্যাথি নিয়ে সমালোচনা থাকলে করুন, প্রশ্ন তুলুন, কিন্তু ভয় দেখিয়ে রোগীকে বিভ্রান্ত করা কি আদৌ পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে?
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা—কোনো চিকিৎসাপদ্ধতিই সব রোগের সমাধান দিতে পারে না। প্রতিটি চিকিৎসাপদ্ধতিরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করতে হবে। একইভাবে, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই রোগীর জন্য কোন চিকিৎসা সবচেয়ে উপযুক্ত, তা নির্ধারণ হওয়া উচিত রোগীর অবস্থা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে।
আমার কাছে এমন অনেক রোগী আছেন, যারা অন্য চিকিৎসাপদ্ধতিতে চিকিৎসা নিয়ে আশানুরূপ ফল না পেয়ে আমাদের কাছে আসেন। আবার এমন রোগীও আছেন, যাঁদের বলা হয়েছিল IVF ছাড়া সন্তান হওয়া সম্ভব নয়; পরবর্তীতে তাঁরা আমার কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পর সন্তান লাভ করেছেন। একইভাবে, কিডনি রোগীর দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের. পর কিডনি সমস্যা দেখা দিয়াছে।। কোনো চিকিৎসাপদ্ধতিকে প্রমাণ ছাড়া দায়ী করাও ঠিক নয়।
আমার কথা খুব পরিষ্কার—আমি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, আমার পেশাকে আমি সম্মান করি। একই সঙ্গে অন্য চিকিৎসাপদ্ধতি ও চিকিৎসকদেরও সম্মান করি।
আমি চাই না কেউ অন্ধভাবে হোমিওপ্যাথি বিশ্বাস করুক। আমি চাই, মানুষ জানুক, বুঝুক, প্রশ্ন করুক এবং নিজের রোগের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা বেছে নিক।
কিন্তু একজন চিকিৎসক হয়ে অন্য চিকিৎসককে ছোট করা, রোগীর মনে অযথা ভয় তৈরি করা কিংবা প্রমাণ ছাড়া কোনো চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলা—এসব থেকে কি আমরা বেরিয়ে আসতে পারি না?
চিকিৎসা কোনো প্রতিযোগিতা নয়। রোগীর জীবন ও সুস্থতা নিয়ে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং হওয়া উচিত দায়িত্বশীলতা, সততা ও মানবিকতার প্রতিযোগিতা।
মনে রাখবেন, রোগী আগে—পেশাগত অহংকার পরে।
🤝 চিকিৎসাপদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু রোগীর প্রতি আমাদের দায়িত্ব একটাই—তাঁর সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
🏥 আল-শেফা হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক
📌 সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন। সঠিক রোগ নির্ণয় করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিন। আপনার সুস্থতাই আমাদের অঙ্গীকার।
👩⚕️ ডাঃ শামীমা সুলতানা (BHMS)
সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
🕘 সাক্ষাতের সময়:
সকাল ১০:০০টা – দুপুর ১:০০টা
বিকেল ৫:০০টা – রাত ১০:০০টা
📍 ঠিকানা:
বাসা-১, লাইন-৫, ব্লক-ডি, সেকশন-১৪,
মিরপুর, ঢাকা-১২০৬।
📞 মোবাইল:
০১৯১১-০১৯৮৪৫
📧 ই-মেইল:
[email protected]
🌱 আধুনিক ও মানসম্মত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবায় "আল-শেফা হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিক" সর্বদা আপনার পাশে।
সঠিক রোগ নির্ণয়, ব্যক্তি কেন্দ্রিক চিকিৎসা, আন্তরিক সেবা এবং রোগীর সুস্থতাই আমাদের লক্ষ্য।
#হোমিওপ্যাথি #সচেতনতা #স্বাস্থ্য_পরামর্শ