05/05/2026
এই মেঠোপথে তখন ছিলো নিয়মিত যাতায়াত, তখন একটা বল-টেপ কেনার টাকা একা দিতে পারতাম না ঠিকই কিন্তু ৪ টাকার এন্ট্রি ফি ২ টাকার বল ব্যাট ফি এবং ২ টাকা বদলি ফি ৩৬ টাকায় চ্যাম্পিয়ন পুরুষ্কারের টুর্নামেন্ট পরিচালনা করেছি।
মনে আছে বন্ধুদের সেই দিনগুলি? তারপর আমরা কত বড় হয়ে গেলাম?
রুমা ম্যাম বেঞ্চ গোল করে ক্লাসে বসিয়ে রচনা মুখস্থ করিয়ে লিখিয়ে ক্লাস শেষ করতেন। মাধুরি ম্যাম তো মায়ের মতো স্নেহ করতেন।
মাধুরি ম্যাম কোথায় আছে জানা নেই; তখন ফেসবুক এত জনপ্রিয় থাকলে হয়তো যোগাযোগ থাকতো। ফোন নাম্বার থাকলেও তখন গুগল কন্টাক্টস অত জানাশোনা ছিলো না। হারিয়ে ফেলেছি কোন একটা পৃষ্ঠার ভাঁজে লিখে রাখা সেই নাম্বার।
রুমা ম্যাম তো বিষখালী নদীর পাড়ঘেঁষা সেই শহরেই আছেন। আবার একদিন যদি পারতাম ম্যামের ক্লাস করতে! এবার আর ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ক্রিকেটের টুর্নামেন্টের ম্যাচ খেলতাম না। এবার মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করতাম। এবার আর ক্লাস ফাঁকি দিয়ে মারবেল খেলার জন্য (মরহুম) আনোয়ার স্যার দৌঁড়ানি দিতে পারতো না।
আমার বড্ড ইচ্ছে হয় আবারও একটা লুঙ্গি পড়ে স্কুলের মাঠে মার্বেল নিয়ে বসি। আচ্ছা কেন পারি না?
এই বারান্দায় কত দেখছি বৃষ্টির ফোঁটা, তখন হাতে মুঠোফোন ছিলো না। দু'চোখে তাকিয়ে দেখেছি গাছের সবুজ পাতায় বৃষ্টির বড় একটা ফোঁটা পরতেই পাতা কয়বার দোল খায়। আজ দেখি ক্যামেরার লেন্সে কোন ফোঁটা সুন্দর লাগে!
চমৎকার একটা সময়কে আমরা ভবিষ্যতে আগাতে গিয়ে সঠিক ভাবে উপভোগ করি না, তারপর গভীর আক্ষেপ নিয়ে লিখি— আবার যদি ফিরতে পারতাম শৈশবে। আমি বলি— একবার যদি ফেরত পেতাম রুমা ম্যামের সেই ক্লাসরুম।
শৈশব
লিখছেন: Sayful Islam
https://www.facebook.com/sayfulonline