18/07/2026
রোগী একজন এমন ডাক্তার খুঁজছিলেন, যিনি সময় নিয়ে তাঁর কথা শুনবেন।
প্রায় ৬ মাস আগে এক বড় ভাই ফোন করে বললেন, "একজন রোগী আসবেন, একটু সময় নিয়ে দেখবি"
যেদিন রোগী এলেন, সেদিন চেম্বার ফাঁকাই ছিল। কথা বলে জানলাম, তিনি একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
প্রায় দেড় বছর আগে তাঁর একটি দাঁতে রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট করা হয়েছিল। কিন্তু দাঁতের উচ্চতা কম থাকায় মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ক্যাপ খুলে যায়। এরপর ধীরে ধীরে দাঁতে ব্যথা শুরু হয়, পরে দাঁতের গোড়াও ফুলে যায়। হতাশ হয়ে তিনি এমন একজন চিকিৎসক খুঁজছিলেন, যিনি শুধু চিকিৎসাই করবেন না, তাঁর সমস্যার কথাও মন দিয়ে শুনবেন।
যেহেতু এটি একটি Re-RCT কেস ছিল, তাই শুরুতেই তাঁকে বলেছিলাম, "আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আপনার দাঁতটি বাঁচানোর জন্য।"
এরপর ধৈর্য, সময় এবং কয়েকটি ভিজিটের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্পন্ন করা হলো। দাঁতের উচ্চতা কম থাকায় মেটাল পোস্ট ও কোর বিল্ড-আপ করে আজ সফলভাবে নতুন ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে রোগী যে কথাটি বললেন, সেটিই একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—
"স্যার, আমি আমার মনের মতো একজন ডাক্তারের কাছেই এসেছিলাম। ভবিষ্যতে কেউ যদি দাঁতের চিকিৎসার জন্য আমার কাছে পরামর্শ চায়, সবার আগে আপনার নামই বলব।"
আমি বললাম, "ভালো থাকবেন। মাঝে মাঝে খোঁজ নিতে আসবেন।"
আসলে দাঁতের চিকিৎসা শুধু একটি দাঁত ঠিক করার বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রেই একজন রোগীকে ৪–৫ বার, কখনো তারও বেশি বার আসতে হয়। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে চিকিৎসক ও রোগীর মাঝে গড়ে ওঠে এক ধরনের বিশ্বাস, আন্তরিকতা আর আত্মিক সম্পর্ক।
বিশ্বাসই চিকিৎসার প্রথম ধাপ, আর রোগীর হাসিই একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় সাফল্য।