01/10/2026
আপনি প্রতিদিন শতবার যে ঘরের দরজার চৌকাঠ পেরিয়ে যান, সেটি কি কখনও জাদুর জায়গা হতে পারে?
আপনি ঘরে ঢুকছেন, বের হচ্ছেন, কিন্তু চৌকাঠের দিকে হয়তো একবারও মনোযোগ দেন না। তবু জাদু নিয়ে আলোচনায় দরজা, জানালা ও চৌকাঠ কেন বারবার উল্লেখ করা হয়?
কারণ এগুলো এমন জায়গা, যেখানে মানুষের চলাচল সবচেয়ে বেশি। যদি কেউ ক্ষতিকর কিছু লুকাতে চায়, তাহলে এই জায়গাগুলোই বেছে নেবে, কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি বারবার আসা-যাওয়া করে।
চৌকাঠ ও দরজা কেন আলোচনায় আসে?
আমাদের ঘরের দরজা শুধু কাঠ বা লোহার অংশ নয়; এটি ঘরে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান পথ। পরিবারের মানুষ প্রতিদিন অনেকবার এই পথ অতিক্রম করে।
সিহরুত তাফরীক বা বিচ্ছেদ সৃষ্টির জাদু নিয়ে আলোচনায় তাই দরজা, জানালা ও চৌকাঠকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে ক্ষতিকর বস্তু রাখা, ছিটানো বা লুকানোর চেষ্টা করা হতে পারে, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি বারবার সেই স্থানের সংস্পর্শে আসে।
বিষয়টিকে সহজভাবে এভাবে বোঝানো যায়-
বারবার চলাচলের স্থান বারবার সংস্পর্শ ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কা
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে।
কোনো স্বামী বাড়িতে ঢুকে বিরক্ত হন, কোনো স্ত্রী ঘরে প্রবেশ করে অস্বস্তি বোধ করেন, কোনো পাত্র হঠাৎ বিয়ের সম্পর্ক থেকে সরে যান-এসব দেখে সরাসরি ‘জাদু করা হয়েছে’ বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
কারণ মানুষের আচরণের পেছনে পারিবারিক সমস্যা, ভুল বোঝাবুঝি, মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা অন্য বাস্তব কারণও থাকতে পারে।
তাহলে চৌকাঠকে কেন বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়?
এখানে মূলত দুটি বিষয় আলোচিত হয়।
১. বারবার সংস্পর্শের সুযোগ
যদি ক্ষতিকর বস্তু এমন জায়গায় রাখা হয় যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাহলে তার সঙ্গে বারবার সংস্পর্শ হবে। তাই প্রবেশপথকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে আলোচনা করা হয়।
২. দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
সিহরুত তাফরীকের আলোচনায় কখনো এমন উদ্দেশ্যও বলা হয়-কোনো মানুষ যেন নির্দিষ্ট বাড়ি, পরিবার বা ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে সরে যায়।
স্বামী বাড়িতে থাকতে না চায়, স্ত্রী ঘরে গেলে অস্বস্তি বোধ করেন, পাত্র বারবার এসে হঠাৎ সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে যায়-এ ধরনের বিষয়কে কেউ কেউ জাদুর প্রভাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।
কিন্তু আবারও বলছি-লক্ষণ দেখেই নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়।
কারণ রুকইয়াহর ক্ষেত্রে যেমন কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাস্তব কারণ যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু পরিবারের মানুষই তো দরজা দিয়ে যায় না
দরজা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়, অতিথি, প্রতিবেশী ও বাইরের মানুষও প্রবেশ করে।
তাই যদি কারো মনে সন্দেহ হয় যে দরজা, চৌকাঠ বা জানালায় অস্বাভাবিক বস্তু রাখা হয়েছে, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত আতঙ্কিত না হয়ে বিষয়টি শান্তভাবে যাচাই করা।
প্রমাণ ছাড়া কাউকে জাদুকর বলা যাবে না। কাউকে সন্দেহ করে সম্পর্ক নষ্ট করা যাবে না।
ইসলাম আমাদের অযথা সন্দেহ ও অপবাদ থেকে সতর্ক করেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা
চৌকাঠের নিজের কোনো অলৌকিক শক্তি নেই। দরজা, জানালা কিংবা কোনো বস্তু নিজে থেকে মানুষের ক্ষতি করতে পারে না।
ক্ষতি ও উপকার-সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছাধীন।
তাই এমন কোনো বিষয় নিয়ে ভয় পেয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করুন, নামাজ ও যিকিরে যত্নবান হোন, সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন আমল করুন, কুরআন তিলাওয়াত করুন এবং প্রয়োজন হলে শরয়ি রুকইয়াহ গ্রহণ করুন।
তাবিজ, কবচ, গণক, জাদুকর কিংবা শিরকপূর্ণ কোনো পদ্ধতির দিকে ফিরে যাবেন না।
কারণ একজন মুমিনের শক্তি কোনো চৌকাঠে নয়-
তার রবের ওপর তাওয়াক্কুলে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে শয়তান ও জ্বীনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন এবং ইবাদাতে খুশু-খুযু দান করুন।
⭕আমাদের অভিজ্ঞ রাক্বীদের তত্বাবধানে পরামর্শ ও রুকইয়াহ করতে সিরিয়াল নিন,
📞 01727854253 What's app
Ruqyah centre
বি: দ্র: আমরা অনলাইন অফলাইন এবং হুম সার্ভিসে রুকইয়াহ সেবা দিয়ে থাকি ইনশাআল্লাহ।
✍️Raqi Mufti Nasir Uddin
Senior Raqi & Consultant - Ms Ruqyah centre
সুস্থতার পথে অন্যকে সহায়তা করতে সদাকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
#সিহরে_তাফরীক #বিচ্ছেদের_জাদু #জাদু #রুকইয়াহ #শরয়ি_রুকইয়াহ #চৌকাঠ #দরজা #জানালা #সিহর #রুকইয়াহ_শরইয়াহ ুকইয়াহ_সেন্টার