09/10/2026
সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী 'তাজমিন' কাপা-কাপা কন্ঠে বলছিলো- "বাবা; আমি আটকে আছি, আমাকে বাঁচাও, আমাকে নিয়ে যাও!"
কিন্তু বাবা সেই মেসেজ যখন দেখলেন, ততক্ষণে সব শেষ। 😭
নি* *হত 'তাজমিনের' বয়স মাত্র (1৫ বছর।) সে কুমিল্লা 'ফরিদা বিদায়াতন' স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
গত ৪ অক্টোবর তাজমিন বাসা থেকে বের হয় এই বলে যে, সে বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যাচ্ছে। কিন্তু পুলিশের লোকেশন ট্র্যাকিং বলছে, সে ওইদিন আসলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়েছিলো। এরপর ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় সে কুমিল্লায় ফিরে আসে।
কুমিল্লায় ফেরার পর সে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে বাসে করে সরাসরি কক্সবাজার চলে যায়। এরপর ৭ অক্টোবর দুপুরে সে আবার কুমিল্লার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠে। রাত ১০:৩০টার দিকে কুমিল্লার বিশ্বরোডের 'হোটেল নুরজাহান'-এর সামনে তার লোকেশন পাওয়া যায়। রাত ২:০০টার দিকে বাস থেকে নামার পর শেষবারের মতো বাবার সাথে ফোনে তার কথাও হয়।
বাস থেকে নামার পর তাজমিন রহস্যজনকভাবে তার পরিবারের সবার নম্বর ব্লক করে দেয়। কিন্তু রাত ২:৫৮ মিনিটে সে তার বাবার ফোনে লাইভ লোকেশনসহ একটা ভয়েস মেসেজ পাঠায়, যেখানে বলা ছিলো-
"বাবা; আমি আটকে আছি, আমাকে বাঁচাও, আমাকে নিয়ে যাও।"
মাঝরাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় মেসেজটি তখন দেখতে পারেননি। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ওই লাইভ লোকেশন ধরে বাবা যখন লালমাই এলাকায় পৌঁছান, তার আগেই পুলিশ লা***উদ্ধার করে ফেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার একটা ধানক্ষেতে উপুড় হয়ে থাকা অবস্থায় তাজমিনের লা**পান স্থানীয়রা। তার মু/ খটা মাটির সাথে চে** ধরা ছিল এবং গ**য় গা*ছা ও র* পেঁ**নো ছিলো।
লা*-এর ঠিক পাশেই একটা পরিত্যক্ত সিএনজি, একটা ভ্যানিটি ব্যাগ আর কিছু জামাকাপড় পাওয়া যায়। জামাকাপড় দেখেই বাবা তার মেয়ের লা** শনাক্ত করেন। লালমাই থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মেয়েটিকে শ্বা***রোধ করে খু***করা হয়েছে।
পুলিশ অলরেডি তদন্তে নেমেছে এবং ওই সিএনজি চালককে ধরার জন্য অভিযান চালাচ্ছে।
একটা জিনিস বুজলাম না.....মেয়েটি বাসা থেকে বের হলো বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে, অথচ সে চলে গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং পরে কক্সবাজার। ৭ম শ্রেণীর একটা ১৫ বছরের মেয়ে একা একা এত দূর ট্রাভেল করছে, এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন তাজমিন জানুয়ারি মাসের পর আর স্কুলেই যায়নি! অথচ ঘটনাটি ঘটেছে অক্টোবরে। দীর্ঘ ৮-৯ মাস একটা মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে না, অথচ পরিবার সেটা জানতো না বা খেয়াল করেনি,এটা কীভাবে সম্ভব?
এখানে পারিবারিক নজরদারির একটা মস্ত বড় ঘাটতি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
এরপর বাস থেকে নামার পর মেয়েটি পরিবারের সবার নম্বর ব্লক করে দিল, আবার ঠিক তার পরেই বাবাকে লাইভ লোকেশন পাঠালো এর মানে হলো, সে কোনো বিপদে পড়েছিল এবং বুঝতে পেরেছিল যে সে ফেঁসে গেছে। হয়তো কেউ তাকে জোর করে সিএনজিতে তুলেছিল বা জিম্মি করেছিল, যে কারণে সে সরাসরি কল করতে না পেরে লুকিয়ে টেক্সট পাঠিয়েছে।🙂
যাইহোক, সন্তানরা কার সাথে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, ইন্টারনেটে বা বাস্তবে কার সাথে যোগাযোগ রাখছে এসব বিষয়ে বাবা-মাকে আরও অনেক বেশি ফ্রেন্ডলি কিন্তু সতর্ক হতে হবে।
তাজমিনের এই পরিণতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
আমরা আশা করি পুলিশ দ্রুততম সময়ে ঘটনার পেছনে থাকা মূল অপ**রা**ধীদের খুঁজে বের করে ডাইরেক্ট ক্র* **স ফা* *(য়ার দেবে। জাস্ট আশা করি আরকি। যদিও জানি সরকার এমনটা কখনোই করবে না। করলেই যে অপ**রা**ধ বন্ধ হয়ে যাবে। 😅
এই হচ্ছে বাংলাদেশ এবং পরিবারে অভিভাবক।
কপি