09/10/2024
আমি ১৬/,১৭তম গ্রেডের গর্বিত সরকারী চাকুরিজীবী। বেকার জীবনে প্রায় ১৫ টি ভাইভা ফেইস করেছি, কোনোটাতেই সফল হইনি। দেখতে দেখতে বয়স ত্রিশ পার হলো। অপেক্ষার প্রহর চুরমার হয়ে গেল। তবে তখনও হাতে ২টি ভাইভার রেজাল্ট পেন্ডিং ছিলো। এমতাবস্থায় প্রাইভেট জবে ঢুকার সিদ্ধান্ত নেই। এক ভাইভা বোর্ড থেকে অন্য ভাইভা বোর্ডে দৌঁড়াতে থাকি, কিন্তু কিছুই হচ্ছিল না। কোথাও জব কনফার্ম হলেও বেতন ভালো না, কোথাও বেতন ভালো হলেও জব কনফার্ম হয় না। বুঝতেই পারছেন কী মারাত্মক রকম হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম! একদিন শেষ দুটি ভাইভার একটি রেজাল্ট হলো। রেজাল্টে নিজের রোল নং দেখে কেঁদে ফেলেছিলাম।
আজ আমি সরকারী চাকুরিজীবী। কিন্ত আমি কি সুখী? না, একদম না। যা বেতন পাই, তাতে আমার সংসার-ই চলে না। বাবা মাকে সাপোর্ট দেয়া সেখানে আকাশ কুসুম কল্পনা। বেকার জীবনে যেমন বাবা মাকে ফোন দিতে অসহায় লাগত, এখন তার চেয়েও বেশি অসহায় লাগে। মনে হয়, এই বুঝি বাবাকে ডাক্তার দেখাতে হবে! এই বুঝি মার ঔষধ শেষ হয়ে গেছে!
আমার সাথে যারা অনার্স থেকে চাকরি প্রস্তুতিতে সিরিয়াস ছিলো, তারা অনেকেই বিসিএসসহ সম্মানজনক চাকরি করে। তাদের কেউ কেউ অনার্স ও কেউ কেউ মাস্টার্স শেষ করার পর পরই বিভিন্ন পরীক্ষায় টিকতে থাকে এবং চাকরি পেয়ে যায়। অনার্সের প্রথম জীবনের প্রস্তুতি তাদরকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তারা অল্প বয়সে চাকরি পেয়ে পরিবারকে সাপোর্ট দিয়েছে। পরিবারকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে তারপর সংসার পেতেছে। আর আমি? ত্রিশের পর চাকরি পেয়ে আর অপেক্ষা করতে পারিনি, বছর খানেকের মাঝেই বিয়ে করতে হয়েছিলো।
এখন একপাশে আমার বাবা মা, অপরপাশে আমিই আমার ছোট্ট সংসার । আমি কার পক্ষে যাবো? কে আমাকে ক্ষমা করবে?
(বি:দ্র:আমরা যেমন Fpi ভাইদের কষ্টটা বুঝি।ঠিক তেমনি আপনারাও F.W.A বোনদের কষ্ট টা বুঝে উন্নতির সুযোগ করে দিন।আমাদের দাবিগুলো সুস্পষ্ট ভাবে তুলে ধরুন।
#আগন্তুকের ডায়েরি থেকে
#সংগৃহিত #