10/06/2026
বেশ কিছুদিন আগে এক ভাই আমাকে নক দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তিনি জ্বীনে আক্রান্ত। তিনি রুকইয়াহ শারঈয়াহ চিকিৎসা গ্রহণ করেছিলেন। তারপর আবার কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করেন।
এটার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তিনি আমল করতে পারবেন না। আর কবিরাজের কাছে গেলে তো কোনো আমল দেয় না—সব কবিরাজই করে দেয়।
রুকইয়াহ শারঈয়াহর মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান চান, কিন্তু মাসনুন আমল ও নামাজ আদায় করতে রাজি নন। এটা যেন গাভী ছাড়া দুধ খাওয়ার আশা করার মতো।
দেখুন, আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কিছু সুরক্ষার ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে জ্বীন, যাদু, শয়তান এবং মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু যখন আমরা আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য হই, গান-বাজনা শুনি, হারাম কাজে লিপ্ত হই, মাসনুন আমল না করি—তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া সুরক্ষা দুর্বল হয়ে যায়। আর তখনই জ্বীন, যাদু, শয়তান এবং মানুষের অনিষ্ট আমাদের গ্রাস করতে পারে।
জ্বীন, যাদু, শয়তান এবং মানুষের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে নিচে দেওয়া মাসনুন আমলগুলো করুন—
প্রতি ফরজ সালাতের পর:
সূরা ফালাক, সূরা নাস ও সূরা ইখলাস ১ বার করে পাঠ করবেন।
আয়াতুল কুরসি ১ বার পাঠ করবেন।
ফজর ও মাগরিবের পর:
সূরা আল-ইখলাস, সূরা আল-ফালাক, সূরা আন-নাস — প্রত্যেকটি ৩ বার করে (মোট ৯ বার) পাঠ করবেন।
নিচের দু‘আ ৩ বার করে পাঠ করবেন—
১)
أَعِيذُكُم بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَّامَّةٍ
২)
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
ঘুমানোর সময়:
আয়াতুল কুরসি ১ বার পাঠ করবেন।
সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস ৩ বার করে পাঠ করবেন।
হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মুছে নেবেন।
Habibur Rahman