28/09/2026
কোন কোন জায়গায় শয়তানরা বেশি অবস্থান করে❓
এমন অনেক স্থান রয়েছে, যেখানে শয়তানদের উপস্থিতি বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন—
১. উটের অবস্থানস্থল
আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«صَلُّوا فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ، وَلَا تُصَلُّوا فِي أَعْطَانِ الْإِبِلِ؛ فَإِنَّهَا خُلِقَتْ مِنَ الشَّيَاطِينِ»
“তোমরা ছাগল-ভেড়ার অবস্থানস্থলে নামাজ পড়ো, কিন্তু উটের অবস্থানস্থলে নামাজ পড়ো না; কারণ সেগুলো শয়তানদের থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।”
— আহমদ (৪/৮৫), ইবনু মাজাহ (৭৬৯), ইবনু হিব্বান (৫৬৫৭) প্রমুখ।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ মাজমুউল ফাতাওয়া (১৯/৪১)-তে উটের অবস্থানস্থল ও গোসলখানায় নামাজ নিষেধের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন:
গোসলখানা, উটের অবস্থানস্থল এবং এ ধরনের স্থান নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো—এসব স্থান শয়তানদের আবাসস্থল।”
২. প্রস্রাব-পায়খানার স্থান
জায়দ ইবনু আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রমুখ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مُحْتَضَرَةٌ، فَإِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَدْخُلَ الْخَلَاءَ فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ»
“নিশ্চয়ই এসব পায়খানার স্থান শয়তানদের উপস্থিতির স্থান। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় প্রবেশ করতে চায়, সে যেন বলে: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।’”
★ এখানে الخُبُث দ্বারা পুরুষ শয়তান এবং الخَبَائِث দ্বারা নারী শয়তান বোঝানো হয়েছে।
★ প্রস্রাব পায়খানার স্থান থেকে অনেক মানুষ জিনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করে থাকেন।
৩. উপত্যকা
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ: মাজমুউল ফাতাওয়া -তে বলেছেন:
“উপত্যকাগুলো জিনদের অবস্থানের সম্ভাব্য স্থান; কারণ উঁচু ভূমির তুলনায় তারা উপত্যকায় বেশি থাকে।”
(১৯/৩৩)
৪. ময়লার স্তূপ ও আবর্জনার স্থান
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ: মাজমুউল ফাতাওয়া -তে উল্লেখ করেছেন যে, জিনদের পবিত্রতা-বর্জিত স্থানগুলোতে—যেমন গোসলখানা, পায়খানা, ময়লার স্তূপ, আবর্জনার স্থান এবং কবরস্থানে—পাওয়া যায়।
(১৯/৪১)
৫. কবরস্থান
আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«الْأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ، إِلَّا الْمَقْبَرَةَ وَالْحَمَّامَ»
“সমগ্র পৃথিবীই নামাজের স্থান, তবে কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতিক্রম।”
— আহমদ (৩/৮৩), আবু দাউদ (৪৯২), তিরমিজি (৩১৭), ইবনু হিব্বান (১৬৯৯), হাকিম (১/২৫১) প্রমুখ।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ:- মাজমুউল ফাতাওয়া (১৯/৪১)-তে জিনদের অবস্থানস্থল সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, কবরস্থান শয়তানদের আবাসস্থলও হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে আরও আছে, কবরকে কেন্দ্র করে এমন কিছু করা হয়, যা শিরকের দিকে নিয়ে যায়।
★ যারা জাদুকর হতে চায়, শয়তানরা তাদের কে কবরস্থানে অবস্থান করতে বলে, এবং সেখানে তারা তাদের কাছে আসে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃতদের কবরের মাটি খেতে বলেও তাদের নির্দেশ দেয়।
৬. পরিত্যক্ত ধ্বংসাবশেষ ও জনবিরল প্রান্তর
সহিহ বুখারির আল-আদাবুল মুফরাদ (৫৭৯)-এ
সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে বলেছেন:
«لَا تَسْكُنِ الْكُفُورَ؛ فَإِنَّ سَاكِنَ الْكُفُورِ كَسَاكِنِ الْقُبُورِ»
“তুমি জনবিরল প্রান্তরে বসবাস করো না; কারণ জনবিরল প্রান্তরে বসবাসকারী কবরবাসীর মতো।”
লেখাটিতে الكُفُور বলতে এমন জনবিরল ও দূরবর্তী অঞ্চল বোঝানো হয়েছে, যেখানে মানুষের চলাচল খুবই কম।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ মাজমুউল ফাতাওয়া (১৯/৪০–৪১)-তে জিনদের সম্পর্কে বলেছেন:
“এ কারণেই তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থান ও জনবিরল প্রান্তরে বেশি পাওয়া যায়।”
৭. সমুদ্র
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْبَحْرِ ... ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ»
“নিশ্চয়ই ইবলিস সমুদ্রের ওপর—অন্য বর্ণনায় পানির ওপর—তার সিংহাসন স্থাপন করে। এরপর সে তার বাহিনী পাঠায়...”
— সহিহ মুসলিম (২৮১৩)।
আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও এ বিষয়ে একটি সহিহ বর্ণনা এসেছে।
৮. পাহাড়ের গর্ত ও ফাটল
আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْجُحْرِ...»
“তোমাদের কেউ যেন গর্তের মধ্যে প্রস্রাব না করে...”
কাতাদাহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, গর্তের মধ্যে প্রস্রাব করতে অপছন্দ করার কারণ কী? তিনি বলেন:
এগুলো জিনদের বাসস্থান।”
— আহমদ (৫/৮২), আবু দাউদ (২৯), নাসাঈ (৩৪), হাকিম (১/১৮৬), বাইহাকি (১/৯৯)।