18/02/2016
গোটা বাংলা সাহিত্যকে যখন রবীন্দ্রনাথ সম্পূর্ন নিজস্ব ধাঁচে দখল করে রেখেছিল,বাংলা কবিতার জগৎ যখন রবীন্দ্রনাথের আলোয় আলোকিত,বাংলা কবিতার সমস্ত কবি যখন রবীন্দ্রনাথের ছন্দে আন্দোলিত,তখন খুব সাধারণ বাঙালি ঘরের এক যুবক এসে তার কলমের আঘাতে ভেঙে চুরমার করে দেয় কয়েক দশক ধরে চলে আসা সেই ছন্দ কে।বাংলা সাহিত্যে আবির্ভাব ঘটে এক নতুন রীতির।সৃষ্টি হয় ছন্দহীন কবিতার।বাংলা সাহিত্যে আধুনিক গদ্য কবিতার জনক,আমাদের পাশের বাড়ির ছেলের মতই বড় হয়ে উঠেছিলেন জীবনানন্দ দাশ।পূরাতন কে সরিয়ে নতুন কে জায়গা সহজে কেউ দেয় না।জীবনানন্দও এত সহজে পেয়েছিলেন না জায়গা।বার বার হোঁচট খেয়েছেন।এরপর তার লিখা অসাধারণ সব শব্দ আর উপমাগুলোই তাকে জায়গা করে দিয়েছে বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতম কবি হিসেবে।হরিণের মত চোখ বা পটলচেরা চোখের উপমা দেওয়ার রীতি থেকে বের হয়ে এসে তিনি বললেন- পাখির বাসার মত চোখ।লাইনের পর লাইন লিখে গেলেন,কিন্তু সেখানে দুই লাইনের মাঝে পরিচিত কোন সহজ সরল ছন্দ পাওয়া গেল না।পাওয়া গেল একটু কাঠখোট্টা ধরনের সম্পূর্ন অন্য রকম ছন্দ।ধীরে ধীরে এই কাঠখোট্টা রীতিই হয়ে উঠল নতুনের কাছে জনপ্রিয়।কিন্তু বেঁচে থাকা অবস্থায় তিনি এই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেননি।প্রধানত কবি হলেও,১৯৫৪ সালে ট্রাম দূর্ঘটনায় তার অকাল মৃত্যুর আগে কবিতার পাশাপাশি নিভৃতে তিনি ১৪ টি উপন্যাস, ১০৮টি ছোট গল্প ও বেশ কিছু প্রবন্ধ রচনা করেন,যেগুলো তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।রবীন্দ্র যুগের পরে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় এই কবির ১১৮ তম জন্মদিন আজ।তার জন্মদিনে জানাই আমাদের অশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি।