06/08/2026
জ্বিনের সাথে সংসার করা এক বোনের গতকাল বিয়ে হয়ে গেল।
আলহামদুলিল্লাহ সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ।
দীর্ঘদিন ধরে খুব সমস্যায় ভুগছিল। বিভিন্ন কবিরাজ-হুজুরকে দেখিয়েও সমাধান পাচ্ছিল না। জ্বিনরা নিয়মিত তার কাছে আসতো এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো মেলামেশা করতো। প্রচণ্ড কষ্ট দিতো তাকে।
আসুন, শুরু থেকেই বলি — সময় থাকলে অবশ্যই পড়বেন, কারণ এখানে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে।
মেয়ের ছদ্মনাম আয়শা। আয়শা তখন ক্লাস এইটে পড়তো। হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরিচিত এক মহিলা কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে, আর সমস্যার শুরু সেখান থেকেই।
মহিলার কাছে চিকিৎসা করালে সাময়িক সময়ের জন্য ভালো থাকতো। ওই মহিলার এক সহকারী ছেলে নিজেকে হাফেজ সাহেব বলে পরিচয় দিতো — আসলে হাফেজ কিনা জানি না, এটা বলার কারণও নিচে ব্যাখ্যা করছি।
চিকিৎসার পর ওই ছেলের নজর পড়ে আয়শার উপর। তখন সে কবিরাজকে বলে, আমাকে মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দিন। এরপর মহিলা কবিরাজ আয়শার উপর জ্বিন লেলিয়ে দেয়। জ্বিন আয়শার উপর ভর করে বলে, ওই ছেলের সাথে বিয়ে দিলে আমরা চলে যাব, না হলে আপনাদের মেয়েকে মেরে ফেলব। এভাবে জ্বিন দিয়ে ভয় দেখিয়ে মেয়ের পরিবারকে রাজি করানো হয়।
মেয়ের পরিবার জানের ভয়ে বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। বিয়ের পর কিছু সময়ের জন্য জ্বিনরা সরে যায়।
যে ছেলে বিয়ে করেছিল, সে যেহেতু কবিরাজের সহকারী ছিল, তার আচরণও ছিল ভয়াবহ। পরিবারের ভাষ্যমতে —
১. নিয়মিত নামাজ পড়তো না।
২. সহবাসের পর ফরজ গোসল ছাড়াই নামাজ পড়তো।
৩. পিরিয়ড চলাকালীন সহবাস করতো।
৪. হারাম ও জঘন্য কাজে লিপ্ত ছিল।
৫. রোজা রেখেও সহবাসে লিপ্ত হতো।
৬. স্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক ছিল খারাপ।
এগুলো কবিরাজ-জাদুকরদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য — যত বেশি হারাম কাজ করবে, জ্বিন-শয়তান তত বেশি খুশি হয়ে তার কাজ করে দেয়।
এসব আচরণ দেখে মেয়ের পরিবার তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, অতঃপর ডিভোর্স হয়ে যায়।
এরপর আবার সমস্যা শুরু হয়। কবিরাজ জ্বিন দিয়ে মেয়েকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে, ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। যখন আর কোনো রাস্তা থাকে না, তখন পরিবার রুকইয়াহ করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
মেয়ের দুলাভাই খোঁজ পেয়ে তাকে আমার পাবনা শাখা, As Sunnah Health Care -এ নিয়ে আসেন। রুকইয়াহর সময় জ্বিনরা হাজির হয়, স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর চ্যালেঞ্জ জানায় যে তারা যাবে না — তাদের সংখ্যা নাকি কয়েক লক্ষ, এবং তারা যুদ্ধের ঘোষণা দেয়, বলে মেয়েকে নিয়েই চলে যাবে।
আলহামদুলিল্লাহ, নিয়মিত রুকইয়াহর মাধ্যমে তারা চলে যায়, রোগীর ভাষ্যমতে কয়েক লক্ষ জ্বিনও ধ্বংস হয়ে যায়।
মেয়ের উপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন ক্যাটাগরির জাদু করা হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর সাহায্যে রুকইয়াহ ও নিয়মিত আমলের মাধ্যমে সব ধ্বংস হয়েছে, আল্লাহ তাকে জ্বিন-জাদুটোনা থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
এখান থেকে শিক্ষণীয় বিষয় দুটি:
১. কবিরাজদের কাছে কখনো না যাওয়া ও তাদের সাহায্য না নেওয়া।
২. রাক্বীর থেকে রুকইয়াহ শারইয়্যাহ চিকিৎসা নেওয়া।
একজন দ্বীনি ভাই ও রাক্বী হিসেবে আমার পরামর্শ — কোনো সমস্যা হলে নিকটস্থ অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত রাক্বীর কাছে ডায়াগনোসিস করান। কারণ জ্বিন-জাদুর সমস্যা মাকড়সার জালের মতো — গোড়া থেকে উপড়ে না ফেললে কখনোই পুরোপুরি সমাধান হয় না। এজন্য কবিরাজ দ্বারা পরিপূর্ণ শেফা পাওয়া সম্ভব নয়; কয়েকদিন ভালো থাকার পরও আবার আগের মতো হয়ে যায়। আর রুকইয়াহ সমস্যা গোড়া থেকে ধ্বংস করে দেয়।
সমস্ত জাদুকর ও জাদুকারীদের উপর আল্লাহর লানত।
আল্লাহ আমাদের সকল প্রকার জাদু ও অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন।
✍️ Raqi Hm Mosharrof Hossain
সিনিয়র রুকইয়াহ কনসালট্যান্ট ও হিজামা স্পেশালিস্ট
চেয়ারম্যান, As-Sunnah Health Care
📞 অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং: 01313-882464 (WhatsApp)
#রুকইয়াহ #জ্বিন #কবিরাজ_থেকে_সাবধান #ইসলামিক_চিকিৎসা