28/02/2026
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার WHO দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের গাইডলাইন অনুযায়ী, 'Doctor' (ডাক্তার) শব্দটির সংজ্ঞায় অবশ্যই মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের (Medical Assistants) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
২০১৩ ও ২০১৭ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাটাবেজ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১,০৭,৩০৩ জন নিবন্ধিত ডাক্তারের (Medical Practitioners) তালিকায় এমবিবিএস ও বিডিএস-এর পাশাপাশি ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরাও সরাসরি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
অর্থাৎ, দাপ্তরিকভাবে তারা একই "চিকিৎসক" ক্যাটাগরির অংশ।
∆ ক্লিনিক্যাল সক্ষমতার প্রমাণ (WHO Table 9.2)
যারা বলেন ডিএমএফ-রা চিকিৎসা দিতে পারেন না, তাদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার Table 9.2 একটি চূড়ান্ত জবাব। সেখানে স্পষ্টভাবে ডিএমএফ-দের নিচের কাজের জন্য স্বীকৃত দেওয়া হয়েছে:
• রোগ নির্ণয় (Diagnosis): তারা স্বাধীনভাবে রোগ নির্ণয় ও ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম।
• চিকিৎসা প্রদান (Treatment): একিউট ও ক্রনিক রোগের চিকিৎসা এবং নির্দিষ্ট থেরাপিউটিক প্রসিডিউর পরিচালনার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।
• ক্লিনিক্যাল লিডারশিপ: তারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ক্লিনিক্যাল সাইট লিডারশিপ প্রদানের জন্য দাপ্তরিকভাবে যোগ্য।
প্রতি বছর ১০ হাজার এমবিবিএস বের করার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশীয় চিকিৎসকদের হার্ট, কিডনি বা ক্যান্সারের মতো জটিল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলা।
একজন উচ্চশিক্ষিত ডাক্তারকে যদি গ্রামের আউটডোরে বসে প্রতিদিন ২০০ জন রোগীর সাধারণ সর্দি-জ্বর বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ লিখতে হয়, তবে তিনি বিশেষজ্ঞ হওয়ার পড়াশোনা বা গবেষণা করবেন কখন?
ডিএমএফ-রা এই প্রাইমারি কেয়ার (Primary Care) সামলে নিয়ে ডাক্তারদের জন্য বিশেষায়িত গবেষণার পথ প্রশস্ত করে দেন। তাদের সরিয়ে দেওয়া মানে ডাক্তারদের "ক্লার্কে" পরিণত করা এবং দেশকে বিশেষজ্ঞ শূন্য রাখা।
গত ৫০ বছর ধরে যে ডিএমএফ-রা চরাঞ্চল, হাওর বা গ্রামীন দুর্গম এলাকায় সেবা দিয়ে আসছেন, আজ সংখ্যাতত্ত্বের দোহাই দিয়ে তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া কেবল অকৃতজ্ঞতা নয়, বরং একটি স্বাস্থ্য-ষড়যন্ত্র।
ডিএমএফ-রা সিস্টেমের বাইরে চলে গেলে সেই শূন্যস্থান এমবিবিএস দিয়ে পূরণ হবে না; বরং সেখানে দাপট বাড়বে হাতুড়ে ডাক্তার আর কমিশনের দালালদের। যারা এলিটিজম ছড়াচ্ছেন, তারা কি পরোক্ষভাবে এই দালাল চক্রকেই সুযোগ করে দিতে চান?
🤔