11/06/2026
গত ১০.০৬.২৬ বুধবার, আমার আব্বুকে নিয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম। গত ৮ তারিখেই আমার আব্বুর ল্যাপারস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি হয়েছিলো। যাত্রা পথে সেই উদ্দেশ্যে কিছু প্রয়োজনীয় ঔষুধ ও মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টস নিয়ে উঠেছিলাম। হঠাৎ সিরাজগঞ্জ ছাড়ার পথে ট্রেনে এনাউন্সমেন্ট "Extra-৩ নং বগীতে একজন যাত্রী (৬৫+) অনেক অসুস্থ হয়ে গেছেন, ট্রেনে যাত্রী হিসেবে কোনো ডাক্তার থাকলে যেন এগিয়ে আসেন।"
অনাউন্সমেন্ট শুনার পর, আমার কাছে যা যা ছিলো ( বিপি মেশিন, স্টেথোস্কোপ, অক্সিমিটার সাথে কিছু ড্রাগস: Aspirin , Paracetamol, Antihypertensive, glucose sachets,chocolates) (আমার আব্বু যেসব নেন) সেগুলো নিয়ে এগিয়ে যাই। যাওয়ার পথে (চ) বগী অতিক্রম করতেই দেখা বড় ভাই Dr.Riman Islam এর সাথে (রেসিডেন্ট- এনেসথেসিওলজি)।এতে মনোবল আরো বেড়ে যায়, গত কিছু দিন আগেই RMCH SU-ll EOT তে ভাইয়ার সাথে অত্যন্ত জটিল একটি accidental case ম্যানেজমেন্ট এর সুযোগ হয়েছিল। তারপর Extra-৩ নং বগীতে পৌঁছে দেখা পাই Dr.Mahmud Iqbal Hafiz ভাইয়া এর সাথে (মেডিকেল অফিসার-নাটোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স)।
সেই সময় পেশেন্ট কন্ডিশন ও সামগ্রিক বিষয়
(Co-morbidities-Patient was Diabetic & Hypertensive ;Drug history-Tab.Gliclazide 80mg, Tab.Angilok50 , Last meal- 12hrs ago; clinical condition: severe sweating, severe thirst ; Pulse->120b/m ;Blood pressure- 140/100 ;respiratory rate-20-22b/m ) পর্যালোচনা করে আমরা হাইপোগ্লাইসেমিক কোমা এর ইনিশিয়াল ম্যানেজমেন্ট দেই। সেক্ষেত্রে হাতের কাছে থাকা ন্যূন্যতম ইকুইপমেন্টস দিয়েই পর্যাপ্ত গ্লুকোজ সল্যুশন বানিয়ে রোগীকে খাওয়ানো হয়।
দেয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই রোগী অনেকটা স্বস্তিবোধ করেন। কিছুক্ষণ পরে উঠেও বসেন।
সেই সাথে রোগীর আনুষঙ্গিক কিছু সমস্যা ( bipedal edema , peri-orbital edema, paper white lower palpebral conjunctiva) এসকল কিছুও আমাদের নজরে আসায় রোগীর লোকজনকে করনীয় এবং প্রোপার রেফারাল দেয়া হয়।
পরবর্তীতে আমার কাছে থাকা আরও কিছু প্রয়োজনীয় ঔষুধ এবং কিছু গ্লুকোজ সল্যুশন বানিয়ে রোগীর অ্যাটেনডেন্ট এর হাতে দেয়া হয়।
এবং তারা যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
আমারা ডাক্তাররা প্রতিনিয়ত এরকম ক্রিটিকাল কন্ডিশন ম্যানেজ করেই অভ্যস্ত , তবে হাসপাতালের পরিধির বাইরে এটি ছিলো আমার প্রথম ক্রিটিক্যাল কেস ম্যানেজমেন্ট।
দেশে ডাক্তারদের প্রতিনিয়ত ক্রিটিক্যাল কেস ম্যানেজ করতে যেয়ে যত হ্যারাসমেন্ট এর শিকার হতে হচ্ছে সেটি ভেবে আমি একটু ইতস্তত বোধ করছিলাম। আবার কে কখন হেডলাইন দিয়ে দিবে "সুস্থ্য রোগীকে ভুল ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলল চিকিৎসক " এসকল কিছু ভেবে নিজেও দ্বিধায় ছিলাম তবে সকলে সেসময় আমাদের উপর ভরসা রাখায় আমরা সাহস পেয়েছিলাম।
ডাক্তার রোগীর সেবক, এবং এই সেবার ব্রত নিয়েই আমাদের প্রতিষ্ঠিত হওয়া।
এই ঘটনায় হয়তো আমরা উপস্থিত ছিলাম, কিন্তু প্রতি মিনিটে , প্রতি সেকেন্ডে দেশের কোথাও না কোথাও এভাবেই হাজারো চিকিৎসক নিজের জীবনের এই মূল্যবান সময়-শ্রম দিয়ে,উপর আল্লাহর রহমতে সুস্থ করে যাচ্ছেন হাজারো রোগীকে।
আল্লাহপাকের কাছে হাজারো শুকরিয়া যে তিনি এমন একটি ঘটনায় আমাকে এতো বড় দায়িত্ব দেয়ার যোগ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা।
সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।
ডা.সুরাইয়া আহমেদ খান প্রভা
এমবিবিএস (রামেক)