01/09/2022
আথ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে ইউরিক এসিড কমাতে হবে।
আমাদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড থাকে। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেহে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়, বাকিটা আসে আমাদের খাদ্য থেকে, বিশেষ করে পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার থেকে। যদি রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়, এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারইউরিসেমিয়া। এই অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টাল আকারে দেহের বিভিন্ন অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টে জমতে থাকে।
উচ্চমাত্রার ইউরিক অ্যাসিডের কারণে গেঁটে বাত বা গিরায় গিরায় ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অকেজো হওয়া, শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা, ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া এবং যন্ত্রণার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় যেসব খাবার ইউরিক এসিড কমাতে সাহায্য করে, এমন খাবার খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় কিছু খাবার গ্রহণ নিয়ে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। খাবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিডের আধিক্য কমানো সম্ভব। পাশাপাশি বিশেষ কিছু খাবার প্রতিদিনের তালিকাতে যোগ করলে শরীর ভালো থাকবে।
নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে। মূলত ডায়াটেরি ফাইবার ব্লাডস্ট্রিমে থাকা অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড দেহ থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখুন গোটা শস্য, লাল চালের ভাত, রুটি, আলু, চিঁড়ে, মুড়ি, ভুট্টা, ওটস, ইসবগুলের ভুষি। এসকল খাবার রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি গ্রহণ করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইউরিক অ্যাসিডের লেভেল কমে যায়। সুতরাং, ইউরিক অ্যাসিড কমাতে লেবু, আমলকী, আমড়া, পেয়ারা, আপেল, কমলা খান নিয়মিত।
# #সবুজ শাকসবজি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। সবুজ শাকসবজিতে পিউরিন খুবই অল্প পরিমাণে থাকে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আলু, গাজর, শশা, করলা, অ্যাসপারগাস বা শতভরী ইত্যাদি।
# #চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিমাণ মতো মুরগির মাংস, মাছ এবং ডিম খাওয়া যাবে। ডিমে পিউরিনের পরিমাণ কম থাকে। তাই গাউটে আক্রান্ত হলেও ডিম গ্রহণ করা যেতে পারে। তৈলাক্ত নয় এমন মাছ খাবেন।
# #যেহেতু দুগ্ধজাত পণ্যে পিউরিনের পরিমাণ খুবই অল্প পরিমাণে থাকে তাই দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণ করা নিরাপদ। ভিটামিন বি-এর মাত্রা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন দুধ, দই, মাখন, পনির ইত্যাদি খান। ফ্যাট ছাড়া দুধ বা স্কিম মিল্কও খেতে পারবেন।
# #গ্রিন টি ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সহায়তা করে, তাই ইউরিক অ্যাসিড কমাতে নিয়মিত গ্রিন টি পান করতে পারেন।
# #চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করবেন। পানি দেহের যে কোনো ধরনের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সহায়তা করে। সুতরাং ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে পানি।
ড. শায়লা নাসরিন