06/06/2026
আলট্রাসনোগ্রাম (Ultrasonography বা USG) হলো এমন একটি আধুনিক ও নিরাপদ পরীক্ষা, যার মাধ্যমে কোনো প্রকার তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (Radiation) ছাড়াই শব্দের কম্পনকে কাজে লাগিয়ে শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্পষ্ট ছবি তোলা হয়।
নিচে আলট্রাসনোগ্রাম কেন করা হয় এবং এর প্রধান উপকারিতাগুলো সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
আলট্রাসনোগ্রাম কেন করা হয়? (প্রধান কারণসমূহ)
চিকিৎসকেরা মূলত রোগ নির্ণয় এবং শরীরের ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য এই পরীক্ষাটি দিয়ে থাকেন:
গর্ভকালীন অবস্থা পর্যবেক্ষণে: গর্ভের সন্তান কেমন আছে, তার বৃদ্ধি ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা, কোনো জন্মগত ত্রুটি আছে কিনা এবং প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ (EDD) জানতে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
পেটের ভেতরের অঙ্গের সমস্যা নির্ণয়ে: লিভার (যকৃৎ), পিত্তথলি (Gallbladder), অগ্ন্যাশয় (Pancreas), প্লীহা (Spleen) এবং কিডনির কোনো সমস্যা বা পাথর হলে তা সনাক্ত করতে।
স্ত্রীরোগ বা জরায়ুর সমস্যা: নারীদের জরায়ু (Uterus) এবং ডিম্বাশয়ে (O***y) কোনো টিউমার, সিস্ট বা ইনফেকশন আছে কিনা তা দেখার জন্য।
হৃদপিণ্ডের অবস্থা জানতে (Echocardiogram): হার্টের ভাল্ব ও পাম্প করার ক্ষমতা পরীক্ষা করতে এক ধরনের বিশেষ আলট্রাসাউন্ড করা হয়।
অন্যান্য অঙ্গের পরীক্ষায়: থাইরয়েড গ্রন্থি, স্তন (Breast)-এর কোনো চাকা বা টিউমার, এবং পুরুষদের প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের অবস্থা বুঝতে এটি করা হয়।
আলট্রাসনোগ্রাম করার উপকারিতা
এই পরীক্ষাটি অন্যান্য অনেক পরীক্ষার (যেমন এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান) চেয়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুবিধাজনক:
১. সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন
এতে কোনো ক্ষতিকর এক্স-রে বা রেডিয়েশন ব্যবহার করা হয় না। উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করায় এটি গর্ভবতী মা এবং শিশুর জন্য শতভাগ নিরাপদ।
২. দ্রুত এবং ব্যথামুক্ত
পরীক্ষাটি করতে কোনো রকম ব্যথা লাগে না। শরীরের নির্দিষ্ট অংশের ওপর একটি জেল লাগিয়ে জাস্ট একটি ডিভাইস (Transducer) ঘুরিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষাটি সম্পন্ন করা যায়।
৩. নরম টিস্যুর স্পষ্ট ছবি
এক্স-রে তে শুধু হাড়ের ছবি ভালো আসে, কিন্তু আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে শরীরের নরম পেশি, রক্তনালী এবং ভেতরের তরল বা মাংসপিণ্ডের নিখুঁত ছবি দেখা সম্ভব।
৪. তাৎক্ষণিক ফলাফল (Real-time Imaging)
এর মাধ্যমে শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোর নড়াচড়া (যেমন: গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া বা হার্টের স্পন্দন) সরাসরি স্ক্রিনে লাইভ দেখা যায়।
৫. সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য
সিটি স্ক্যান (CT Scan) বা এমআরআই (MRI) এর তুলনায় আলট্রাসনোগ্রাম অনেক কম খরচে এবং প্রায় সব হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সহজেই করা যায়।
একটি জরুরি পরামর্শ: আলট্রাসনোগ্রাম করার আগে সাধারণত ডাক্তাররা কিছু নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। যেমন- পেটের আলট্রাসাউন্ডের জন্য ৬-৮ ঘণ্টা খালি পেটে থাকতে হতে পারে, আবার তলপেটের পরীক্ষার জন্য প্রচুর পানি খেয়ে প্রস্রাবের বেগ রাখতে হতে পারে। তাই পরীক্ষাটি করার আগে সংশ্লিষ্ট সেন্টারের নির্দেশনা জেনে নেওয়া ভালো।
মোবাইল : ০১৭১৭৪৪১৮৭৯