16/05/2026
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড এর গুরুত্ব :
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড (Folic Acid) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিটামিন। এটি ভিটামিন বি–৯ এর কৃত্রিম রূপ, যা মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিডের গুরুত্ব-
১. শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সঠিক গঠন:
গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে শিশুর মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ড তৈরি হয়। ফলিক এসিডের অভাবে “নিউরাল টিউব ডিফেক্ট” হতে পারে, যেমন—
* স্পাইনা বিফিডা
* অ্যানেনসেফালি
২. জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি কমায়:
নিয়মিত ফলিক এসিড গ্রহণ শিশুর জন্মগত কিছু ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করে, বিশেষ করে—
মস্তিষ্কের ত্রুটি
ঠোঁট কাটা বা তালু কাটা সমস্যা
হৃদযন্ত্রের কিছু জন্মগত ত্রুটি
৩. মায়ের রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক:
ফলিক এসিড নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে, ফলে গর্ভবতী মায়ের রক্তশূন্যতার ঝুঁকি কমে।
৪. শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে:
এটি শিশুর কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধি ঠিকভাবে হতে সাহায্য করে।
কখন থেকে ফলিক এসিড খাওয়া উচিত?
গর্ভধারণের কমপক্ষে ১-৩ মাস আগে থেকে
এবং গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাস পর্যন্ত নিয়মিত ফলিক এসিড খাওয়া উচিত।
প্রতিদিন কতটুকু প্রয়োজন?
সাধারণত গর্ভবতী নারীদের জন্য:
400–600 μg প্রতিদিন
তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ ভিন্ন হতে পারে।
ফলিক এসিড যেসব খাবারে পাওয়া যায়
পালং শাক ও সবুজ শাকসবজি
ডাল ও ছোলা
কমলা ও কলা
ডিম
লিভার
বাদাম
ফোর্টিফাইড সিরিয়াল
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
নিজে থেকে ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নিয়মিত চেকআপ ও সুষম খাদ্য গ্রহণ গর্ভাবস্থাকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে।
ডা: ইয়াসমিন সুলতানা
গাইনী, প্রসূতি ও বন্ধ্যাত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন
এমবিবিএস (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ)
বিসিএস( স্বাস্থ্য)
এমসিপিএস (গাইনী এন্ড অবস্)
এফসিপিএস (গাইনী এন্ড অবস্)
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
যোগাযোগ : ০১৯৯৩৫৪৫৫৫৪