Professor Dr. Harash*t Chakrabarty, Dermatologist

Professor Dr. Harash*t Chakrabarty, Dermatologist Professor and Head , Department of Dermatology, Satkhira Medical College.

14/09/2026

ট্রাইকোলজি : কিছু কথা

ট্রাইকোলজি (Trichology) হলো চুল এবং মাথার ত্বক (Scalp) সংক্রান্ত বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও চিকিৎসা বিদ্যা। সহজ কথায়, আমাদের চুলের গঠন, চুলের বিভিন্ন সমস্যা এবং মাথার ত্বকের যত্নের বৈজ্ঞানিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করাই ট্রাইকোলজির কাজ। যারা এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, তাদের বলা হয় ট্রাইকোলজিস্ট (Trichologist)।
১. ট্রাইকোলজি কী কাজ করে?
ট্রাইকোলজিস্টরা সাধারণত চুল পড়া, ত্বক সংক্রান্ত সমস্যা বা চুলের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মূল কারণ খুঁজে বের করেন এবং তার সমাধান দেন।
* চুল পড়া (Hair Loss & Balding): পুরুষ ও নারীদের অতিরিক্ত চুল পড়া বা টাক পড়ার কারণ (যেমন: বংশগত, অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া) চিহ্নিত করা।
* স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকের সমস্যা: খুশকি (Dandruff), সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াসিস বা মাথার ত্বকে চুলকানি ও ইনফেকশনের চিকিৎসা।
* চুলের টেক্সচার নষ্ট হওয়া: চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, আগা ফাটা, বা কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে চুল ড্যামেজ হওয়ার সমাধান।
* অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা (Alopecia Areata): এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে মাথার নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে গোল হয়ে চুল উঠে যায়।
২. চুল পড়ার মূল কারণসমূহ
ট্রাইকোলজির মতে চুল পড়ার পেছনে একাধিক শারীরিক ও পরিবেশগত কারণ থাকে:
* হরমোনের তারতম্য | DHT (Dihydrotestosterone) হরমোনের প্রভাব, থাইরয়েডের সমস্যা, থাইরয়েড গ্রন্থির ভারসাম্যহীনতা বা গর্ভাবস্থা। |
*পুষ্টির অভাব | রক্তে আয়রন (Ferritin), জিঙ্ক, ভিটামিন D, বি ১২ এবং প্রোটিনের ঘাটতি। |
*লাইফস্টাইল ও মানসিক চাপ | অতিরিক্ত স্ট্রেস, অনিদ্রা, ধূমপান এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের অভ্যাস। |
*ভুল যত্ন ও কেমিক্যাল | অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং, ঘন ঘন চুল কালার করা বা শক্ত করে চুল বাঁধা (Traction Alopecia)। |
৩. সাধারণ কিছু ট্রাইকোলজিক্যাল পরামর্শ
* সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচন: মাথার ত্বক তৈলাক্ত (Oily) নাকি শুষ্ক (Dry), তা বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
* সুষম খাদ্যগ্রহণ: চুলে কেরাটিন তৈরির জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন (ডিম, মাছ, ডাল) এবং সবুজ শাকসবজি খান।
* ভিজা চুলে যত্ন: ভিজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে, তাই ভিজা চুল জোরে আচড়ানো বা শক্ত করে বাঁধা থেকে বিরত থাকুন।
* স্ক্যাল্পের পরিচ্ছন্নতা: মাথার ত্বকের পোরস বা লোমকূপ যেন ময়লা ও অতিরিক্ত তেলে বন্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

সবাইকে শুভ জন্মাষ্টমী ২০২৬ এর শুভেচ্ছা।
04/09/2026

সবাইকে শুভ জন্মাষ্টমী ২০২৬ এর শুভেচ্ছা।

13/08/2026

বর্ষায় ত্বকের যত্ন :কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

বর্ষাকালে বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে ত্বকে তেল নিঃসরণ বেড়ে যায়, পোরস বন্ধ হয়ে ব্রণ হতে পারে এবং ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এই মৌসুমে ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন:
১. সঠিক নিয়মে ত্বক পরিষ্কার রাখুন
* দিনে অন্তত দুইবার মৃদু (gentle) ফোমিং বা জেল-বেসড ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করতে সাহায্য করবে।
* ত্বক অতিরিক্ত পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখার যে বাঁধা (skin barrier) রয়েছে তা নষ্ট করে ফেলতে পারে।
২. অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
* বর্ষাকালেও ত্বকে ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন। তবে ক্রিম-বেসড ময়েশ্চারাইজারের বদলে ওয়াটার-বেসড বা জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন।
* এটি ত্বকে কোনো ভারী ভাব বা চিটচিটে অনুভব না এনে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা দেবে।
৩. সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করবেন না
* মেঘলা আকাশ মানেই যে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্নি (UV rays) নেই—তা নয়। রোদের অনুপস্থিতিতেও UV রশ্নি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
* তাই বাইরে বের হওয়ার আগে বা ঘরে পর্যাপ্ত আলো থাকলেও ব্রড-স্পেকট্রাম (SPF 30 বা তার বেশি) সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
৪. ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এড়াতে
* বর্ষায় মুখ ও শরীরের ত্বকে ফাঙ্গাল ইনফেকশন (যেমন: এথলিটস ফুট, রিংওয়ার্ম বা দাদ) এবং ফলিকুলাইটিসের প্রকোপ বাড়ে।
* স্নানের পর শরীর ভালোভাবে শুকিয়ে সুতির হালকা পোশাক পরুন। ভেজা কাপড় বা জুতো বেশিক্ষণ পরে থাকা থেকে বিরত থাকুন।

৫. এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং
* সপ্তাহে ১–২ বার মৃদু কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট (যেমন: AHA বা BHA) ব্যবহার করতে পারেন। এতে মৃত কোষ এবং রোমকূপে জমে থাকা ময়লা দূর হবে।
* খুব বেশি মেকানিক্যাল বা দানাদার স্ক্রাব ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো, যা ত্বকে ছোট খাটো ক্ষত তৈরি করতে পারে।
৬. জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস
* পর্যাপ্ত জল পান করুন, যা ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
* বেশি পরিমাণ প্রসেসড বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি ত্বকে তেল নিঃসরণ ও ব্রণের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
বর্ষায় ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক যত্ন নিলে এ ধরনের সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

01/08/2026

World Alopecia Day: কিছু কথা
আজ World Alopecia Day .
অতিরিক্ত চুল পড়া শুধুমাত্র একটি সৌন্দর্যের সমস্যা নয়। অনেকের কাছে এটি আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথেও জড়িত।
এলোপেশিয়া অনেক কারনে হতে পারে।তাই সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করা ভালো।
চুল পড়া নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা নয়, সচেতনতা বাড়ুক। কারণ প্রতিটি মানুষের গল্প যেমন আলাদা, প্রতিটি স্কাল্পেরও গল্প তেমন ভিন্ন।

31/07/2026

অতিরিক্ত চুল পড়া ও পিআরপি: কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

অতিরিক্ত চুল পড়া বর্তমান সময়ে একটি খুবই সাধারণ কিন্তু উদ্বেগজনক সমস্যা। অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া, হরমোনের তারতম্য, পুষ্টির অভাব, মানসিক চাপ কিংবা থাইরয়েডের সমস্যার কারণে এই সমস্যা হতে পারে।
বর্তমানে চুল পড়া রোধ এবং নতুন চুল গজানোর জন্য PRP (Platelet-Rich Plasma) থেরাপি বেশ জনপ্রিয় ও কার্যকর একটি চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
১. পিআরপি (PRP) থেরাপি আসলে কী?
PRP হলো একটি প্রাকৃতিক ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে রোগীর নিজের শরীর থেকেই রক্ত নিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্লাজমা এবং থ্রম্বোসাইট বা প্লেটলেট (অণুচক্রিকা) আলাদা করা হয়। এই রিচ প্লাজমায় প্রচুর পরিমাণে গ্রোথ ফ্যাক্টর (Growth Factors) থাকে, যা মাথার ত্বকে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়।
এটি যেভাবে কাজ করে:
* সুপ্ত হেয়ার ফলিকলকে জাগ্রত করে: নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং নতুন চুল গজাতে উদ্দীপনা যোগায়।
* চুলের গোড়া মজবুত করে: পাতলা হয়ে যাওয়া চুলের থিকনেস বা ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।
* চুল পড়া কমায়: হেয়ার সাইকেলকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
২. পিআরপি চিকিৎসা নেওয়ার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
* কাদের জন্য উপযুক্ত: যাদের চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে বা প্রাথমিক/মধ্যম পর্যায়ে চুল পড়ছে, তাদের ক্ষেত্রে PRP সবচেয়ে ভালো কাজ করে। সম্পূর্ণভাবে মাথায় চুল উঠে গেলে বা ফলিকল নষ্ট হয়ে গেলে এটি সেখানে কাজ করে না।
* সেশন সংখ্যা: সাধারণত ৩ থেকে ৬টি সেশন লাগে। প্রতিটি সেশনের মাঝে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের ব্যবধান রাখা হয়। পরবর্তীতে ফলাফল ধরে রাখতে বছরে ১–২টি মেনটেইনেন্স সেশন লাগতে পারে।
* নিরাপত্তা: যেহেতু রোগীর নিজের রক্ত ব্যবহার করা হয়, তাই অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি একেবারেই নগণ্য।
* ধৈর্য ও প্রত্যাশা: পিআরপি কোনো "রাতের ভেতরের জাদুকরী সমাধান" নয়। দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে।
৩. অতিরিক্ত চুল পড়া রোধে কিছু জরুরি পরামর্শ
শুধুমাত্র PRP থেরাপির ওপর নির্ভর না করে চুল পড়ার মূল কারণ চিহ্নিত করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ক. লাইফস্টাইল ও পুষ্টি
* সুষম খাদ্যগ্রহণ: খাদ্যে পর্যাপ্ত প্রোটিন (ডিম, মাছ, মাংস), আয়রন, জিঙ্ক, বায়োটিন এবং ভিটামিন ডি রাখুন।
* পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব চুল পড়ার অন্যতম বড় কারণ।
* সঠিক যত্ন: অতিরিক্ত তাপ (হিট স্টাইলিং), ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং ভেজা চুল জোরে আঁচড়াবেন না।
খ. মূল কারণ চিহ্নিতকরণ
চুল অতিরিক্ত পড়লে রক্ত পরীক্ষা (যেমন: Hemoglobin, Vitamin D, Vitamin B12, Serum Ferritin, Thyroid Profile) করে ভেতরের কোনো ঘাটতি বা সমস্যা আছে কিনা তা দেখে নেওয়া উচিত।

25/07/2026

ঘুম ও ত্বক: কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা
ঘুম এবং ত্বক—এই দুটি বিষয় একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রবাদেই আছে "বিউটি স্লিপ" (Beauty Sleep), আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এটি পুরোপুরি সত্য। আমাদের ত্বকের স্বাস্থ্য, উজ্জ্বলতা ও সতেজতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত ঘুম অপরিহার্য।
ঘুমের সময় ত্বক কীভাবে প্রভাব ফেলে এবং এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ঘুমের সময় ত্বকে কী ঘটে?
* কোষ পুনর্গঠন ও মেরামত: রাতে যখন আমরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকি, তখন ত্বকে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এতে ত্বকে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান দ্রুত পৌঁছায়, যা সারাদিনের সূর্যালোক ও দূষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে পুনর্গঠন (Cell Repair) করতে সাহায্য করে।
* কোলাজেন উৎপাদন: পর্যাপ্ত ঘুম ত্বকে কোলাজেন (Collagen) তৈরিতে সাহায্য করে। কোলাজেন ত্বককে টানটান রাখে এবং বলিরেখা বা বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে।
* স্ট্রেস হরমোন হ্রাস: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল (Cortisol) বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। কর্টিসল বৃদ্ধি পেলে ত্বকে প্রদাহ তৈরি হয় এবং কোলাজেন ভেঙে যায়।
২. পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ত্বকে কী কী সমস্যা হয়?
* চোখের নিচে কালি ও ফোলা ভাব: কম ঘুমের কারণে চোখের চারপাশের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, ফলে চোখের নিচে কালো দাগ (Dark Circles) ও ফোলা ভাব তৈরি হয়।
* ব্রণের সমস্যা: কর্টিসল হরমোন বাড়লে ত্বকের তৈলগ্রন্থি অতিরিক্ত তেল বা সিবাম তৈরি করে, যা লোমকূপ বন্ধ করে ব্রণ ও ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে।
* অকাল বার্ধক্য: নিয়মিত ঘুম কম হলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity) কমে যায়, ফলে কম বয়সেই বলিরেখা (Wrinkles) ও ত্বকের ঢিলে ভাব দেখা দেয়।
* ত্বকের রুক্ষতা ও সতেজতা হ্রাস: ঘুমের ঘাটতিতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, ফলে ত্বক শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও ফিকে দেখায়।
৩. ত্বক সুন্দর রাখতে ঘুমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
> দৈনিক ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ত্বকের সুস্থতার জন্য প্রতি রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিবিড় ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন।
>
* ঘুমের আগে সঠিক স্কিনকেয়ার:
* রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মুখ ভালো করে পরিষ্কার বা ক্লিনজিং করতে হবে, যাতে সারাদিনের মেকআপ, ধুলোবালি ও তেল পরিষ্কার হয়ে যায়।
* ত্বক অনুযায়ী ভালো মানের একটি নাইট ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত, যা রাতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে।
* বালিশের কভার ও পজিশন:
* সিল্ক বা সুতি কাপড়ের নরম বালিশের কভার ব্যবহার করা ভালো। নিয়মিত বালিশের কভার ধোঁয়া উচিত, কারণ এতে জমিয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া ত্বকে লেগে ব্রণের সমস্যা বাড়াতে পারে।

* মোবাইল ও স্ক্রিনটাইম কমানো: ঘুমানোর অন্তত ৩০-৬০ মিনিট আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত। স্ক্রিনের ব্লু-লাইট ঘুম আনার হরমোন মেলোটোনিন (Melatonin) উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়।
সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন ,এটি ত্বকের জন্য যেকোনো দামী প্রসাধনীর চেয়েও বেশি কার্যকর!

20/07/2026

আমিষ ও ত্বক: কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা
আমিষ (প্রোটিন) এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন কোষ তৈরি, ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখা এবং ক্ষয়পূরণের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি।
ত্বকের সুস্থতায় আমিষের ভূমিকা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ত্বকের গঠনে প্রোটিনের ভূমিকা
* কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরি: আমাদের ত্বকের মূল কাঠামো তৈরি হয় কোলাজেন (Collagen) এবং ইলাস্টিন (Elastin) নামক প্রোটিন দিয়ে। কোলাজেন ত্বককে শক্ত ও টানটান রাখে, আর ইলাস্টিন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে।
* কোষ পুনর্গঠন: প্রোটিন ভেঙে অ্যামিনো এসিড (Amino Acids) তৈরি হয়, যা নতুন ত্বক কোষ তৈরিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামত করতে সাহায্য করে।
* ক্ষত নিরাময়: ত্বক কেটে গেলে বা ব্রণ/ইনফেকশন হলে তা দ্রুত সারিয়ে তুলতে প্রোটিন অপরিহার্য।
২. ভালো আমিষের উৎস
ত্বক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য দুই ধরনের উৎস থেকেই সঠিক পরিমাণে প্রোটিন নেওয়া উচিত:
| প্রাণিজ প্রোটিন (Animal Protein) | উদ্ভিজ্জ প্রোটিন (Plant Protein) |
|---|---|
| * ডিম (বিশেষ করে ডিমের সাদা অংশ) | * বিভিন্ন ধরনের ডাল ও সয়াবিন |
| * চর্বিহীন মাংস (মুরগির বুকের মাংস) | * বাদাম ও বীজ (কাঠবাদাম, চিয়া সিড) |
| * সামুদ্রিক ও ছোট মাছ | * মটরশুঁটি ও ছোলার ডাল |
| * টক দই ও ছানা | * মাশরুম |
৩. প্রোটিন গ্রহণের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
* সঠিক পরিমাণ: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ওজনের প্রতি কেজির জন্য অন্তত ০.৮ থেকে ১ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত।
* সামুদ্রিক মাছ ও ওমেগা-৩: সামুদ্রিক মাছে প্রচুর প্রোটিনের পাশাপাশি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ত্বকের প্রদাহ কমায়।
* অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস এড়িয়ে চলা: রেড মিট বা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত প্রোটিন বেশি খেলে তা ত্বকে ব্রণ বা অন্যান্য প্রদাহজনক সমস্যা বাড়াতে পারে।
* রান্নার পদ্ধতি: ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত তেলে প্রোটিন না ভেজে সেদ্ধ, গ্রিলড বা হালকা ঝোল করে খাওয়া ত্বকের জন্য বেশি উপকারী।

17/07/2026

শ্বেতী; কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

শ্বেতী বা ভিটিলিগো (Vitiligo) নিয়ে মনে অনেক প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকা খুব স্বাভাবিক। এটি একটি সম্পূর্ণ অসংক্রামক ত্বকের অবস্থা, যা নিয়ে সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। শ্বেতী সম্পর্কে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়
সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো শ্বেতী ছোঁয়াচে। এটি স্পর্শে, একসাথে খাবার খেলে বা মেলামেশা করলে কখনোই অন্য কারও শরীরে ছড়ায় না। এটি কোনো ইনফেকশন বা জীবাণুঘটিত রোগ নয়।
২. কেন হয়?
আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক রঙের জন্য দায়ী মেলানিন (Melanin) নামের একটি উপাদান। যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) ভুলবশত মেলানিন তৈরি করা কোষগুলোকে (Melanocytes) আক্রমণ করে ধ্বংস করে ফেলে, তখন ত্বকের সেই নির্দিষ্ট জায়গাগুলো সাদা হয়ে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Autoimmune Condition বলা হয়।
৩. চিকিৎসার আধুনিক সুযোগ
চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন শ্বেতীর অনেক কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। শতভাগ নিরাময় সব সময় সম্ভব না হলেও, দাগ ছড়ানো রোধ করতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনতে নিচের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হয়:
* টপিক্যাল ক্রিম: স্টেরয়েড বা ক্যালসিনিউরিন ইনহিবিটর জাতীয় মলম।
* ফটোথেরাপি (Light Therapy): আল্ট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি ব্যবহার করে মেলানিন উৎপাদন বাড়ানো।
* ওষুধ: রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিরিক্ত সক্রিয়তা কমানোর জন্য মুখে খাওয়ার ওষুধ।
* সার্জারি: স্কিন গ্রাফটিং (Skin Grafting) বা মেলানোসাইট ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন (বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে)।
৪. সচেতনতা ও ত্বকের যত্ন
* রোদে সুরক্ষা: সাদা হয়ে যাওয়া ত্বকে মেলানিন না থাকায় সেখানে খুব দ্রুত সানবার্ন হতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে ভালো মানের সানস্ক্রিন (SPF 30 বা তার বেশি) ব্যবহার করা জরুরি।
* আঘাত থেকে বাঁচুন: ত্বকে কেটে যাওয়া, পুড়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘষা লাগলে সেই জায়গায় নতুন করে শ্বেতী দেখা দিতে পারে (যাকে Koebner phenomenon বলা হয়)।
> একটি জরুরি পরামর্শ: শ্বেতীর লক্ষণ দেখা দিলে কোনো কবিরাজি, গাছের রস বা অলৌকিক চিকিৎসার পেছনে সময় ও অর্থ নষ্ট না করে একজন রেজিস্টার্ড চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নিন। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ

11/07/2026

নখ :কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

আমাদের শরীরের ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো নখ। নখ শুধু আমাদের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এটি আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও অনেক জরুরি তথ্য দেয়। নখ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. স্বাস্থ্যের আয়না
নখের রঙ বা গঠনের পরিবর্তন অনেক সময় শরীরের ভেতরের কোনো বড় রোগের লক্ষণ হতে পারে। যেমন:
* ফ্যাকাশে বা সাদা নখ: শরীরে রক্তস্বল্পতা (Anemia), লিভারের সমস্যা বা পুষ্টির অভাব নির্দেশ করতে পারে।
* হলুদাভ নখ: সাধারণত ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ফুসফুসের কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
* নখ সহজেই ভেঙে যাওয়া: শরীরে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বা আয়রনের অভাব থাকলে নখ ভঙ্গুর হয়ে যায়।
২. নখ বৃদ্ধির গতি
* হাতের নখ পায়ের নখের চেয়ে দ্রুত বাড়ে। হাতের নখ মাসে গড়ে প্রায় ৩.৫ মিলিমিটার বাড়ে, যেখানে পায়ের নখ বাড়ে মাত্র ১.৬ মিলিমিটার।
* গবেষণায় দেখা গেছে, গরমকালে নখ শীতকালের চেয়ে দ্রুত বাড়ে।
* সাধারণত ডানহাতি মানুষের ডান হাতের নখ এবং বামহাতি মানুষের বাম হাতের নখ বেশি দ্রুত বাড়ে (যে হাত বেশি সচল থাকে, সেখানে রক্ত সঞ্চালন বেশি হওয়ায় নখ দ্রুত বাড়ে)।
৩. নখ কী দিয়ে তৈরি?
* আমাদের চুল যে উপাদান দিয়ে তৈরি, নখও হুবহু সেই উপাদান—কেরাটিন (Keratin) নামক একটি শক্ত প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
* নখের যে অংশটি আমরা কাটি, সেটি আসলে মৃত কোষ। তাই নখ কাটলে আমরা কোনো ব্যথা পাই না।
৪. নখের গোড়ার অর্ধচন্দ্র (Lunula)
* নখের গোড়ায় যে সাদা অর্ধচন্দ্রাকৃতি অংশ দেখা যায়, তাকে বলা হয় লুনুলা (Lunula)। এটি নখের নতুন কোষ তৈরির মূল কেন্দ্র। লুনুলা ক্ষতিগ্রস্ত হলে নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বন্ধ বা বিকৃত হয়ে যেতে পারে।
> একটি জরুরি সতর্কতা: অনেকেই দাঁত দিয়ে নখ কাটেন। এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি অভ্যাস। নখের নিচে অজস্র ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু লুকিয়ে থাকে, যা দাঁত দিয়ে নখ কাটার সময় সরাসরি পেটে চলে যায় এবং ইনফেকশন ছড়ায়।
>
নখের যত্ন নিতে পুষ্টিকর খাবার (যেমন- ডিম, দুধ, সবুজ শাকসবজি) খাওয়া এবং নখ সবসময় পরিষ্কার-শুকনো রাখা উচিত।

02/07/2026

ত্বক ও গ্লুটাথিয়ন: কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

গ্লুটাথিয়ন (Glutathione) বর্তমান সময়ে ত্বক উজ্জ্বল করার উপাদান হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি মূলত তিনটি অ্যামিনো অ্যাসিড (গ্লাইসিন, সিস্টাইন এবং গ্লুটামিক অ্যাসিড) দিয়ে তৈরি একটি শক্তিশালী **অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট**। আমাদের যকৃৎ বা লিভার প্রাকৃতিকভাবেই এটি তৈরি করে।
ত্বকের সুস্থতা এবং এর রঙের পরিবর্তনে গ্লুটাথিয়ন কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. ত্বকে গ্লুটাথিয়নের কার্যপদ্ধতি
আমাদের ত্বকের রঙের জন্য দায়ী মূলত **মেলানিন (Melanin)** নামের একটি পিগমেন্ট বা রঞ্জক পদার্থ। মেলানিন আবার দুই প্রকার:
* **ইউমেলানিন (Eumelanin):** যা ত্বককে কালচে বা বাদামী রঙ দেয়।
* **ফিওমেলানিন (Pheomelanin):** যা ত্বককে কিছুটা হালকা বা হলদেটে-লালচে রঙ দেয়।
গ্লুটাথিয়ন ত্বকে মেলানিন তৈরির এনজাইম (Tyrosinase)-কে বাধা দেয়। ফলে ইউমেলানিনের উৎপাদন কমে যায় এবং ফিওমেলানিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এর কারণেই ত্বক ধীরে ধীরে কিছুটা উজ্জ্বল দেখায়।
২. অ্যান্টি-এজিং বা বয়সের ছাপ রোধ
শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হওয়ায় এটি শরীরের ক্ষতিকর 'ফ্রি র‍্যাডিক্যালস' বা মুক্ত কণার বিরুদ্ধে লড়াই করে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) এবং দূষণের কারণে ত্বকের যে ক্ষতি হয়, তা মেরামত করতে এবং কোলাজেন (Collagen) উৎপাদন সচল রাখতে গ্লুটাথিয়ন সাহায্য করে। ফলে ত্বকে সহজে বলিরেখা বা বয়সের ছাপ পড়ে না।
৩. ব্যবহারের বিভিন্ন মাধ্যম
চিকিৎসা ক্ষেত্রে এবং কসমেটিকস দুনিয়ায় গ্লুটাথিয়ন মূলত তিনটি উপায়ে ব্যবহার করা হয়:
* **টপিক্যাল (Topical):** সাবান, ক্রিম বা সিরাম হিসেবে সরাসরি ত্বকে ব্যবহার। এর কার্যকারিতা সাধারণত ধীরগতির এবং সাময়িক।
* **ওরাল সাপ্লিমেন্ট (Oral Supplements):** ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট আকারে খাওয়া। তবে পাকস্থলীতে গিয়ে এর অনেকটাই ভেঙে যায় বলে সরাসরি ত্বকে এর কার্যকারিতার হার কিছুটা কম হতে পারে (L-Glutathione রূপটি এক্ষেত্রে বেশি শোষিত হয়)।
* **ইনজেকশন/আইভি ড্রিপ (IV Drip):** সরাসরি রক্তনালীতে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া। এটি ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য দ্রুত কাজ করলেও চিকিৎসকদের মতে এর দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।
> **গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:**
> অনেক সময় গ্লুটাথিয়নকে শতভাগ নিরাপদ 'স্কিন হোয়াইটেনিং পিল' হিসেবে প্রচার করা হলেও, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে এর মাত্রাতিরিক্ত বা অননুমোদিত ব্যবহার লিভার, কিডনি কিংবা থাইরয়েডের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে আইভি (IV) ড্রিপ নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নেওয়া উচিত।
>

Address

Satkhira
9400

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Professor Dr. Harash*t Chakrabarty, Dermatologist posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share