30/01/2026
শেরপুরের ঐতিহ্য: জি আই পণ্য তুলশীমালা চাল
শেরপুর জেলার গৌরব এবং ঐতিহ্যের প্রতীক হলো তুলশীমালা চাল। সুগন্ধি ও স্বাদে অনন্য এই চালকে শেরপুরের 'সাদা সোনা' বলা হয়।
২০২৪ সালে এটি বাংলাদেশের একটি মর্যাদাপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।
তুলশীমালা চালের বৈশিষ্ট্য:
তুলশীমালা চাল মূলত একটি আমন জাতের ধান। এর দানাগুলো আকারে বেশ ছোট, অনেকটা তুলসীর বীজের মতো কালো আবরণে আবৃত থাকে বলেই এর নাম হয়েছে 'তুলশীমালা'। এই চালের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো:
* অপূর্ব সুবাস: রান্নার পর এর সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
* চমৎকার স্বাদ: এই চালের ভাত বেশ ঝরঝরে ও সুস্বাদু।
* পুষ্টিগুণ: সাধারণ চালের তুলনায় এতে পুষ্টিমান বেশি থাকে।
* বহুমুখী ব্যবহার: বিরিয়ানি, পোলাও, খিচুড়ি, ফিরনি, পায়েস এবং পিঠা তৈরির জন্য এটি সেরা পছন্দ।
কেন এটি অনন্য?
শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশের বিশেষ জলবায়ু এবং মাটির গুনাগুণের কারণে এখানে তুলশীমালা চালের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। এটি উৎপাদনে কৃষকরা খুব সামান্য পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন, যা এই চালকে প্রাকৃতিক স্বাদে ভরপুর রাখে। শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবরদী উপজেলায় এই চালের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়।
'আহারা' (Ahara): নিরাপদ খাদ্যের আস্থার প্রতীক
শেরপুরের এই বিখ্যাত তুলশীমালা চাল নিয়ে কাজ করছে 'আহারা' (Ahara) নামক নিরাপদ খাদ্যের ব্র্যান্ডটি। বর্তমান সময়ে ভেজালমুক্ত এবং সরাসরি কৃষকের ঘর থেকে সংগৃহীত খাদ্যের যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, আহারা সেই জায়গাতেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে। আহারার মূল লক্ষ্য হলো কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সেরা মানের তুলশীমালা ধান সংগ্রহ করে তা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এতে একদিকে যেমন পণ্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে কৃষকরাও তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পান।
জি আই স্বীকৃতির গুরুত্ব:
জি আই (GI) স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে তুলশীমালা চাল এখন কেবল স্থানীয় পণ্য নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই স্বীকৃতির ফলে:
* বাজারমূল্য বৃদ্ধি: কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।
* রপ্তানির সুযোগ: বিশ্ববাজারে শেরপুরের এই চালের চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়েছে।
* নকল রোধ: অন্য কোনো এলাকার চালকে আর 'তুলশীমালা' নামে চালিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না।
পরিশেষে বলা যায়, তুলশীমালা চাল কেবল একটি কৃষিপণ্য নয়, এটি শেরপুর জেলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর 'আহারা'র মতো ব্র্যান্ডগুলো এই ঐতিহ্যকে আধুনিক বিপণনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে।