13/05/2026
হাম বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করেছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করলেও বড়রাও আক্রান্ত হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তাই সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরি।
হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণ:
হামের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ৭–১৪ দিনের মধ্যে দেখা দেয়।
* প্রধান লক্ষণগুলো হলো—
হঠাৎ জ্বর শুরু হওয়া
সর্দি ও নাক দিয়ে পানি পড়া
শুকনো কাশি
চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া
দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা
মুখের ভিতরে সাদা ছোট দাগ (কপলিক স্পট)
৩–৫ দিনের মধ্যে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ওঠা, যা প্রথমে মুখে শুরু হয়ে পরে সারা শরীরে ছড়ায়।
*হাম প্রতিরোধের উপায়:
হাম প্রতিরোধে সচেতনতা ও টিকাই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।
১. টিকা গ্রহণ
শিশুকে সময়মতো হাম-রুবেলা (MR) টিকা দিতে হবে।
জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির টিকা অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে।
২. আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা
হাম আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে কিছুদিন আলাদা রাখতে হবে।
বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দূরে রাখতে হবে।
৩. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা
ব্যবহৃত টিস্যু সঠিকভাবে ফেলে দেওয়া
৪. পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ
ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
ফলমূল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত পানি পান করা
*হাম হলে প্রাথমিক প্রতিকার
করণীয়
রোগীকে বিশ্রামে রাখতে হবে
পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে
জ্বর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে
চোখ পরিষ্কার রাখতে হবে
শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া উপকারী হতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শে)
*যা করা যাবে না
অযথা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না
রোগীকে ধুলাবালি বা ঠান্ডা পরিবেশে রাখা যাবে না
কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে
*নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে—
শ্বাসকষ্ট
খিঁচুনি
অতিরিক্ত দুর্বলতা
খেতে না পারা
দীর্ঘ সময় উচ্চ জ্বর থাকা
শিশু অচেতন বা অস্বাভাবিক আচরণ করলে
হাম অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ও মস্তিষ্কের জটিলতা হতে পারে। তাই টিকা গ্রহণ ও দ্রুত চিকিৎসাই নিরাপদ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়।