14/11/2024
"চৌধুরী সাহেব আপনার মেয়ে তো প্রেম করে!"
কঠিন চোখে আসলামের দিকে তাকিয়ে চৌধুরী সাহেব বললেন, "হোয়াট! "
"জি, চৌধুরী সাহেব! আমি নিজের চোখে দেখছি। কামাল মাস্টারের ছেলে রায়হানের সাথে নুসরাতের প্রেম। "
"ফকিন্নির পোলার এত বড় কলিজা! আমার মেয়ের সাথে প্রেম করে!"
চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে চৌধুরী সাহেব বললেন, "আসলাম, রবিনকে বলো গাড়ি বের করতে। আমি এক্ষুনি কামাল মাষ্টারের বাড়ি যাবো। ছোটোলোককে আজ একটা কঠিন শিক্ষা দিতে হবে।"
দলবল নিয়ে চৌধুরী সাহেব রওয়ানা হলেন কামাল মাস্টারের বাড়ির দিকে। কামাল মাস্টার মারা গেছে বছর কয়েক আগে। বাড়িতে ওনার স্ত্রী আর একমাত্র ছেলে রায়হান থাকে। ছোটো একটা টিনসেড ঘর।
বাড়ির উঠানে চৌধুরী সাহেবের গাড়ি থামল। গাড়ি থেকে নেমেই চৌধুরী সাহেব হুংকার দিলেন, "কে আছিস বাড়িতে বের হয়ে আয়।"
রায়াহানের মা আনোয়ারা বেগম ঘর থেকে বের হলেন। একটা হালকা হাসি দিয়ে বললেন, " আরে চৌধুরী সাহেব যে। গরীবের বাড়িতে কী মনে করে?"
"তোমার ছেলে কোথায়?"
"ও তো ঘরে নাই চৌধুরী সাহেব। "
"তোমার ছেলের এত বড় সাহস হয় কী করে!"
"কী হয়েছে বলেন তো চৌধুরী সাহেব? "
"কী হয়েছে তুমি জানো না! নাকি জেনেও না জানার ভান করছো! ছোটোলোকদের স্বভাব আমি ভালো করেই জানি!"
"মুখ সামলে কথা বলবেন চৌধুরী সাহেব! আমরা গরীব হতে পারি কিন্তু ছোটলোক না! কী ভেবেছেন আপনি? !"
"তোদের মত গরীব নিয়ে আমি ভাববো কোন দু:খে! এই তোরা দাঁড়িয়ে আছিস কেন? ছোটলোকেরে একটু আদর যত্ন কর।"
এ সময় রুয়েল ছুটে আসল। রুয়েল হলো চৌধুরী সাহেবের অফিসে কাজ করে। বলা যায় চৌধুরী সাহেবের ডান হাত।
রুয়েল বলল, "থামেন চৌধুরী সাহেব।"
চৌধুরী সাহেব একটু বিরক্ত হয়ে বলল, "কী হয়েছে?"
রুয়েল হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, "খবর শুনেন নাই? রায়হান তো উপদেষ্টা হয়ে গেছে!"
চৌধুরী সাহেব মুখে হাসি দিয়ে নরম স্বরে বলল," ভাবী আমি তো নুসরাতের সাথে রায়হানের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি! এই কে আছিস মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে আয়!"
©