19/09/2026
শিশুর জ্বর বারবার ফিরে আসছে? কারণ না জেনে শুধু ওষুধ খাওয়ানো ঠিক নয়
শিশুর জ্বর কয়েকদিন পরপর আবার ফিরে আসছে? জ্বর কমে যাওয়ার পর কিছুদিন ভালো থেকেও আবার জ্বর হচ্ছে?
অনেক অভিভাবক এমন পরিস্থিতিতে শুধু জ্বর কমানোর ওষুধ দিয়ে অপেক্ষা করেন। কিন্তু বারবার জ্বর হওয়া সবসময় সাধারণ বিষয় নয়। শিশুর বয়স, জ্বরের স্থায়িত্ব, সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপসর্গ এবং শিশুর সামগ্রিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এর কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন হতে পারে।
শিশুর বারবার জ্বর হওয়ার সম্ভাব্য কারণ
শিশুদের বারবার জ্বর হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ধরনের কারণ থাকতে পারে। যেমন:
১. ভাইরাসজনিত সংক্রমণ
সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, শরীর খারাপ, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদির সঙ্গে ভাইরাসজনিত জ্বর হতে পারে। শিশুদের মধ্যে এ ধরনের সংক্রমণ বেশ সাধারণ।
২. ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন
কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণেও জ্বর হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
৩. গলা বা টনসিলের সংক্রমণ
গলা ব্যথা, খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট, গলার ভেতর লাল হওয়া বা টনসিলে সমস্যা থাকলে জ্বর হতে পারে।
৪. কানের সংক্রমণ
বিশেষ করে ছোট শিশুদের কানের সংক্রমণ হলে তারা কান ধরতে পারে, কান্নাকাটি করতে পারে, ঘুমের সমস্যা হতে পারে এবং জ্বর আসতে পারে।
৫. ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সংক্রমণের সঙ্গেও জ্বর দেখা দিতে পারে। প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি, বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাবের গন্ধ বা অন্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৬. নিউমোনিয়া বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ
জ্বরের সঙ্গে কাশি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট, বুক ওঠানামা বেশি হওয়া বা শিশুর অস্বাভাবিক দুর্বলতা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
৭. অন্যান্য জ্বরজনিত রোগ
এলাকা, মৌসুম এবং শিশুর অন্যান্য উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে ডেঙ্গু বা অন্যান্য সংক্রমণজনিত রোগের বিষয়ও চিকিৎসক বিবেচনা করতে পারেন।
শুধু জ্বরের তাপমাত্রা নয়, শিশুর আচরণও লক্ষ্য করুন
শিশুর জ্বর হলে শুধু থার্মোমিটারে কত ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠেছে সেটি দেখলেই হবে না।
খেয়াল করুন:
• শিশু স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছে কি না
• পানি বা তরল খাবার নিতে পারছে কি না
• স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা বা নড়াচড়া করছে কি না
• প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক আছে কি না
• অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা দুর্বলতা আছে কি না
• শ্বাস নিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না
• কাশি, বমি বা ডায়রিয়া আছে কি না
• শরীরে র্যাশ বা অস্বাভাবিক দাগ দেখা যাচ্ছে কি না
• জ্বর কমার পর আবার দ্রুত ফিরে আসছে কি না
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন?
জ্বরের সঙ্গে যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পানি বা খাবার নিতে না পারা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, বারবার বমি, শরীরে অস্বাভাবিক র্যাশ বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের মতো করে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না
শিশুর জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। অনেক জ্বর ভাইরাসজনিত হতে পারে, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়।
তাই আগের প্রেসক্রিপশনের ওষুধ দেখে নিজের মতো করে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু না করে শিশুর বর্তমান উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
শিশুর বারবার জ্বর হলে শুধু জ্বর কমানোর চেষ্টা না করে জ্বর কেন হচ্ছে, সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না এবং শিশুর সামগ্রিক অবস্থা কেমন তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রয়োজনে চিকিৎসক শিশুকে পরীক্ষা করে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে সন্দেহ বা দুশ্চিন্তা থাকলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
দিরাই সিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার
জালাল সিটি সেন্টার (৩য় তলা), দিরাই, সুনামগঞ্জ
সিরিয়াল নিতে কল করুন:
01700-939318
আপনার শিশুর জ্বর কি বারবার ফিরে আসছে?
এই পোস্টটি অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে প্রয়োজনের সময় তারাও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।
#শিশুরজ্বর #শিশুরোগ #শিশুরস্বাস্থ্য #শিশুরচিকিৎসা #জ্বর #নিউমোনিয়া #শ্বাসতন্ত্রেরসংক্রমণ #শিশুরোগবিশেষজ্ঞ #দিরাই #শাল্লা #সুনামগঞ্জ