29/05/2016
ভাদেশ্বর ইউনিয়ন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত তুলনামুলকভাবে অগ্রসর একটি জনপদের নাম।
শিক্ষা, সমাজ ও অর্থনৈতিক ভাবে এ জনপদ অনেকটা এগিয়ে থাকলেও স্বাস্থ্য ব্যবস্তার অবস্থা কেমন ? কেমন আছেন আমাদের আপন ভাই-বোন, মা-বাবা, আর বন্ধু বান্ধবেরা এ জনপদে? কিংবা আমরা যখন ছুটিতে আসি আমাদের এ প্রিয় গ্রামে, কেমন বোধ করি আমরা? প্রায় ৫০ হাজার লোক কেমন বোধ করেন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পর? ডাক্তার নেই, নার্স নেই, নেই কোন স্বাস্থ্য কর্মী সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে।
অবশ্য বিকেলের দিকে ( ৫-৮ টা) প্রাইভেট কিছু ডাক্তার আসেন মোকাম বাজারে চেম্বারে।
সবাই কি টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখানোর ক্ষমতা রাখেন?
অথবা যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের কী হয় সন্ধ্যা নামার পরে যখন কোন ডাক্তার নেই তাদের পাশে?
ধরুন আপনার হার্টের ব্যথা উঠেছে, আপনি কি সিলেট যাবার সুযোগ বা সময় পাবেন? হাতে আছে মাত্র ৩ থেকে ৩০ মিনিট। অথবা সিরিয়াস স্ট্রোকে আপনার মা-বাবা আক্রান্ত হলেন।অথবা প্রসব বেদনায় আপনার বোন বা ভাবী কষ্টে আছেন!
সময় কি পাবেন সিলেট শহরে যাবার? না তার আগেই মঞ্চস্থ হয়ে যেতে পারে জীবনের সবচেয়ে করুন দৃশ্য- মৃত্যু? কেমন লাগবে শোনতে যে আমার ভাই বা বোন এ পৃথিবী থেকে চলে গেছেন ডাক্তার দেখানোর আগেই? কেমন লাগবে শোনতে যে আমার মা বা বাবাকে মাত্র ৩ টাকা দামের একটি এস্পিরিন দিলে তিনি হয়ত হার্ট এটাকে মারা যেতেন না?
বিবেকের কাছে প্রশ্ন করি-এ মৃত্যু কি প্রাপ্য ছিল? আমাদের কি কিছুই করার ছিলোনা? কিছুই করার নেই? যে আলো হাওয়ায় আমরা বেড়ে উঠলাম, সে ভাদেশ্বরের মানুষের জন্য কি আমাদের কিছুই করার নেই? আসলেই কি আমরা কিছুই করতে পারিনা?
এ প্রশ্ন আমাদের নিজেদের কাছে, আপনাদের কাছে।
আপনার অনুভূতি এবং পরামর্শ আমরা দেখতে চাই এ গ্রুপে (Bhadeswar Healthcare Project -BHP)।
দয়া করে এগিয়ে আসুন পরামর্শ আর সহযোগিতার হাত নিয়ে।আমি, আপনি বা আমাদের কোন বন্ধু বা প্রিয়জন এ চিকিৎসাহীন মৃত্যুর মিছিলে যোগ দেয়ার আগেই আমাদের জেগে উঠা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন আমি বা আপনি কেউই এ পৃথিবীতে থাকবনা।কিন্তু এ মহৎ কাজ বেঁচে থাকবে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ।