24/04/2026
রুকইয়া চিকিৎসায় রাক্বী যখন “হাইলাইট”
এই প্রবণতাটা বাস্তবেই একটি সমস্যা। বিষয়টা পরিষ্কারভাবে বুঝা দরকার, কারণ এখানে সূক্ষ্মভাবে আকীদা, নিয়ত এবং দাওয়াহ—সবকিছু জড়িত।
সমস্যাটা কোথায়?
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়—
* রাক্বীর নাম, ছবি, ভিডিও অতিরিক্তভাবে প্রচার করা হচ্ছে
* রোগীর সুস্থতাকে রাক্বীর “ক্যারিশমা” হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে
* এমনভাবে বলা হচ্ছে যেন রাক্বী ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব নয়
এতে ধীরে ধীরে মানুষ আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল না করে ব্যক্তি নির্ভর হয়ে যায়—যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ইসলামের দৃষ্টিতে ভারসাম্য রুকইয়া একটি ইবাদতধর্মী চিকিৎসা। এখানে—
✅শিফা দাতা একমাত্র আল্লাহ
✅রাক্বী শুধুই একটি মাধ্যম (আসবাব)
✅কুরআন ও সহীহ সুন্নাহই মূল চিকিৎসা
নবী ﷺ নিজেও রুকইয়া করেছেন, কিন্তু কখনো নিজেকে কেন্দ্র করে মানুষের নির্ভরতা তৈরি করেননি।
❌ রাক্বীকে হাইলাইট করার ক্ষতিকর দিক
✅শিরকের দরজা খুলে যেতে পারে (subtle shirk বা সূক্ষ্ম শিরক)
✅রোগী আল্লাহর সাথে সম্পর্ক না বাড়িয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক বাড়ায়
✅রুকইয়া একটি “ব্র্যান্ড” বা “বিজনেস শো” হয়ে যায়
✅অন্য রাক্বীদের প্রতি হিংসা, প্রতিযোগিতা তৈরি হয়
✅সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়—কাকে ফলো করবে?
কী করা উচিত?
✅রাক্বী নিজেকে সামনে না এনে কুরআন ও আমলকে সামনে আনবেন
✅রোগীকে শিখানো হবে—নিজেই কিভাবে রুকইয়া করবে
✅সফলতার গল্প বললেও আল্লাহর দিকে নিসবত করা হবে
✅সোশ্যাল মিডিয়ায় দাওয়াহ হবে—নিজের প্রচার নয়, হকের প্রচার
মূল কথা : রাক্বী যত কম হাইলাইট হবে, তত বেশি তাওহীদ হাইলাইট হবে। রুকইয়ার আসল শক্তি কোনো ব্যক্তির মধ্যে না—বরং আল্লাহর কালাম ও তাঁর রহমতের মধ্যে।
Copy from আব্দুছ ছবুর চৌধুরী