Nutritionist Abida Sultana

Nutritionist Abida Sultana Nutritionist | Healthy lifestyle educator

Ibn Sina Hospital Sylhet Limited

প্রয়োজনের চেয়ে কম Protein খেলে শরীরে কী ঘটে?অনেকে ওজন কমানোর সময় খাবার এতটাই কমিয়ে দেন যে, শুধু ভাত-তেল-চিনি নয়—প্রোটিনে...
18/08/2026

প্রয়োজনের চেয়ে কম Protein খেলে শরীরে কী ঘটে?

অনেকে ওজন কমানোর সময় খাবার এতটাই কমিয়ে দেন যে, শুধু ভাত-তেল-চিনি নয়—প্রোটিনের পরিমাণও প্রয়োজনের নিচে নেমে যায়।আবার স্বাভাবিক খাদ্যাভাসে থাকা মানুষ ও কম protein খাওয়াকে কোন ব্যাপার মনে করেননা।আসুন জেনে নিই পরিমিত protein না খেলে কি ঘটে-----

দীর্ঘদিন প্রয়োজনের তুলনায় কম protein খেলে শরীর প্রথমে নিজের protein reserve ব্যবহার করতে শুরু করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে muscle tissue-এর ওপর। পর্যাপ্ত dietary protein না পেলে muscle protein synthesis কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে muscle mass ও strength কমতে পারে।

বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন systematic review ও meta-analysis-এ কম protein intake-এর সঙ্গে sarcopenia বা muscle loss-এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

দীর্ঘদিন protein কম থাকলে দুর্বলতা, শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং muscle strength কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো immune system।

Antibody এবং immune system-এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান protein-dependent। তাই দীর্ঘস্থায়ী protein-energy malnutrition শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা ও recovery process-কে প্রভাবিত করতে পারে।

Protein কম থাকলে শরীরের tissue repair ও recovery-ও বাধাগ্রস্ত হতে পারে, কারণ ক্ষত সারানো, নতুন tissue তৈরি এবং বিভিন্ন metabolic process-এর জন্য amino acid প্রয়োজন।

বিশেষ করে যারা weight loss diet, elderly, খুব কম খাওয়া, restrictive diet বা দীর্ঘদিন appetite কম থাকার কারণে কম protein খাচ্ছেন, তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

২০২৪ সালের একটি systematic review ও meta-analysis-এ older adults-এর মধ্যে protein supplementation muscle mass উন্নত করতে সহায়ক ছিল বলে দেখা গেছে।

তবে এখানে একটা ভুল ধারণা এড়ানো জরুরি—“যত বেশি protein, তত ভালো” নয়।

Protein-এর প্রয়োজন ব্যক্তিভেদে বয়স, body weight, physical activity, pregnancy, disease condition এবং kidney/liver function অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

📌 আপনার প্রতিদিনের protein requirement কত হওয়া উচিত, তা আপনার বয়স, ওজন, activity ও health condition অনুযায়ী নির্ধারণ করা সবচেয়ে ভালো।

লাল চাল কেন খেতে বলি?লাল চালের ভাত ওজন কমাতে চান বা ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, মেটাবলিক সিনড্রোমের মতো metabolic ...
17/08/2026

লাল চাল কেন খেতে বলি?

লাল চালের ভাত ওজন কমাতে চান বা ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, মেটাবলিক সিনড্রোমের মতো metabolic condition আছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য একটি ভালো carbohydrate option হতে পারে।

কারণ লাল চালে bran layer তুলনামূলকভাবে অক্ষত থাকে, ফলে সাদা চালের তুলনায় dietary fiber, magnesium, কিছু B-vitamin ও বিভিন্ন bioactive compound বেশি থাকে।

ফাইবার খাবারের হজম ও glucose absorption ধীর করতে সাহায্য করে, ফলে খাবারের পর রক্তে glucose দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

Whole-grain intake নিয়ে গবেষণাতেও দেখা যায়, নিয়মিত whole grain খাওয়ার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও cardiovascular disease-এর ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক রয়েছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—লাল চাল কোনো “weight-loss food” বা diabetes-এর চিকিৎসা নয়। একই পরিমাণে খেলে লাল চালের calorie সাদা চালের চেয়ে খুব বেশি কম নয়। উপকারের বড় অংশ আসে বেশি fiber ও কম refined nature থেকে।

তাই ওজন কমাতে বা metabolic disease নিয়ন্ত্রণে লাল চাল খেলে portion control, পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল/মাছ/ডিম/মাংসের মতো protein এবং সামগ্রিক calorie intake-এর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে শুধু চালের ধরন নয়, কতটা ভাত খাচ্ছেন এবং ভাতের সঙ্গে কী খাচ্ছেন—দুটিই post-meal glucose-এর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

সাদা চাল বাদ দিতেই হবে এমন নয়; তবে যারা ওজন কমাতে চান বা diabetes/insulin resistance/metabolic syndrome আছে, তাদের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে লাল চাল + প্রচুর সবজি + পর্যাপ্ত protein একটি বেশি fiber-rich ও balanced meal তৈরি করতে পারে।

অনেকেই ওজন কমানোর সময় breakfast, lunch আর dinner-এর মাঝখানে কিছুই খান না। ফলে পরের meal-এর সময় অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি হয়ে ...
11/08/2026

অনেকেই ওজন কমানোর সময় breakfast, lunch আর dinner-এর মাঝখানে কিছুই খান না। ফলে পরের meal-এর সময় অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি হয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে।

একটি ভালো snack-এর উদ্দেশ্য শুধু পেট ভরানো নয়, বরং পরবর্তী meal পর্যন্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করা এবং diet-এর nutritional quality বাড়ানো।

বিশেষ করে protein ও fibre সমৃদ্ধ খাবার তুলনামূলকভাবে বেশি satiety দিতে পারে।

একটি systematic review-তে high-protein diet-এর ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গবেষণায় fullness বা satiety বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে fibre-এর ক্ষেত্রেও কিছু ধরনের fibre appetite ও food intake কমাতে সাহায্য করতে পারে, যদিও সব ধরনের fibre-এর effect একই নয়।

তাই শুধু “low calorie” snack নয়, protein + fibre + nutrient-dense combination বেছে নেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত।

তাহলে Healthy Snack কী হতে পারে?

🥚 ১টি সেদ্ধ ডিম + শসা/টমেটো
🥣 টক দই/unsweetened yogurt + অল্প ফল
🍎 ১টি আপেল/পেয়ারা + অল্প বাদাম
🌰 এক মুঠোর ছোট portion বাদাম/চিনাবাদাম
🥗 শসা, গাজর, টমেটো + দইয়ের dip
🌽 সেদ্ধ ভুট্টা—portion অনুযায়ী
🥛 চিনি ছাড়া দুধ/দই
🍌 ছোট একটি কলা + অল্প বাদাম
🫘 সেদ্ধ ছোলা—অল্প portion, সঙ্গে শসা/টমেটো

কোন Snack এড়িয়ে চলবেন?

বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, মিষ্টি, chocolate, sugary drinks বা অতিরিক্ত processed snacks দেখতে ছোট হলেও calorie অনেক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে “healthy snack” নাম থাকলেই যে সেটি low-calorie বা weight-loss friendly হবে—এমন নয়।

বিভিন্ন গবেষণায় discretionary snack বেশি খাওয়ার সঙ্গে energy intake বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে এবং longitudinal adult studies-এ weight/BMI বৃদ্ধির সঙ্গেও সম্পর্ক দেখা গেছে।

অবশ্যই মনে রাখবেন :

👉 আপনার যদি meal-এর মাঝখানে ক্ষুধা না লাগে, শুধু “diet-এর নিয়ম” হিসেবে snack খাওয়া জরুরি নয়।

👉 আবার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে অতিরিক্ত ক্ষুধা তৈরি হলে পরিকল্পিত healthy snack উপকারী হতে পারে।

আবিদা সুলতানা
পুষ্টিবিদ
ইবনে সিনা হসপিটাল সিলেট লিমিটেড।

আমি প্রায়ই এমন অনেক পেশেন্ট পাই যারা ওজন কমাতে চান শুধুমাত্র ফিজিকাল এপিয়ারেন্স পরিবর্তনের জন্য—পোশাক ভালো ফিট করবে, পেট...
10/08/2026

আমি প্রায়ই এমন অনেক পেশেন্ট পাই যারা ওজন কমাতে চান শুধুমাত্র ফিজিকাল এপিয়ারেন্স পরিবর্তনের জন্য—পোশাক ভালো ফিট করবে, পেটের মেদ কমবে, শরীর দেখতে স্লিম লাগবে। এটা অবশ্যই একটি valid motivation।

কিন্তু একজন প্রফেশনাল হিসেবে আমি চেষ্টা করি হেলদি বডি ওয়েট যেন মেইনটেইন করা যায়। শুধু “কত কেজি কমলো” নয়, বরং “ওজন কমানোর ফলে শরীর কতটা healthier হলো”—সেটা দেখি।

অভারওয়েইট বা অবিসিটি শুধু এপিয়ারেন্স -এর বিষয় নয়। অতিরিক্ত বডি ফ্যাট বিশেষ করে abdominal/visceral fat শরীরে insulin resistance, chronic inflammation এবং metabolic dysfunction-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

এর ফলে type 2 diabetes, hypertension, cardiovascular disease এবং অন্যান্য obesity-related complications-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে।

WHO-ও obesity-কে একটি chronic disease হিসেবে বিবেচনা করে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—health benefit পাওয়ার জন্য সবার ১৫–২০ কেজি ওজন কমানো প্রয়োজন হয় না।

গবেষণা ও clinical guideline অনুযায়ী, overweight বা obesity থাকা ব্যক্তির starting body weight-এর মাত্র ৫–১০% কমলেও blood glucose, blood pressure, triglycerides এবং অন্যান্য cardiometabolic risk factor-এ clinically meaningful improvement হতে পারে।

ধরুন কারও ওজন ৮০ কেজি। তার জন্য প্রথম লক্ষ্য ১০–১৫ কেজি কমিয়ে “খুব slim” হওয়া না-ও হতে পারে।

৪–৮ কেজি ওজন কমানোও health-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে, যদি সেটা healthy diet, physical activity, পর্যাপ্ত protein, ঘুম এবং sustainable lifestyle-এর মাধ্যমে হয়।

তাই “perfect body” আর “healthy body” এক জিনিস নয়। BMI একটি useful screening tool হলেও এটি শরীরের fat distribution বা muscle mass পুরোপুরি বলে না।

তাই ওজনের পাশাপাশি waist circumference, blood pressure, blood glucose, lipid profile, physical fitness এবং lifestyle-ও মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

আর একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ—শুধু কম ওজনের জন্য অতিরিক্ত calorie restriction করা বা খুব দ্রুত weight loss করা healthy নয়।

বিশেষ করে দীর্ঘদিনের dieting-এ muscle/lean mass ও nutritional status-এর দিকেও নজর দিতে হয়। Weight loss-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ওজন ও lifestyle তৈরি করা, যেটা দীর্ঘমেয়াদে maintain করা সম্ভব।

একটি বড় গবেষণায় ১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের data বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উচ্চ BMI-এর সঙ্গে overall mortality risk-এর সম্পর্ক রয়েছে—বিশেষ করে obesity range-এ risk উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।

তাই আমার কাছে successful weight loss মানে শুধু আয়নায় slimmer version দেখা নয়।

05/08/2026

অনেকেই মনে করেন কোলেস্টেরলই শুধু হৃদরোগের জন্য দায়ী। কিন্তু Triglycerides (TG)-ও আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তের চর্বি, যার মাত্রা বেড়ে গেলে নীরবে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আমরা যে খাবার থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করি, শরীর সেগুলোকে Triglycerides হিসেবে জমা রাখে। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে এই জমা চর্বিই শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অর্থাৎ Triglycerides শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, তবে এর মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকলেই।

যখন দীর্ঘদিন Triglycerides-এর মাত্রা বেশি থাকে, তখন তা শুধু রক্তে চর্বি বাড়ায় না; বরং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিনড্রোম এবং ফ্যাটি লিভার হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া উচ্চ Triglycerides রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে এবং HDL (ভালো কোলেস্টেরল) কমিয়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

Triglycerides-এর মাত্রা যদি ৫০০ mg/dL বা তার বেশি হয়, তাহলে তা শুধু হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য নয়, Acute Pancreatitis (অগ্ন্যাশয়ের তীব্র প্রদাহ)-এর মতো জরুরি ও প্রাণঘাতী অবস্থার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।

স্বাভাবিক Triglycerides (খালি পেটে):

স্বাভাবিক:

জিমে যাচ্ছেন, ডায়েট করছেন, তবুও ওজন কমছে না—এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে পর্যাপ্ত বা ভালো মানের ঘুম না হওয়া।ঘুম ...
04/08/2026

জিমে যাচ্ছেন, ডায়েট করছেন, তবুও ওজন কমছে না—এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে পর্যাপ্ত বা ভালো মানের ঘুম না হওয়া।

ঘুম কম হলে শরীরে একাধিক হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে।

ঘ্রেলিন (Ghrelin) নামে ক্ষুধা বাড়ানো হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, আর লেপ্টিন (Leptin) নামে পেট ভরা অনুভূতি দেওয়া হরমোন কমে যায়। ফলে অজান্তেই বেশি খাওয়া বা বারবার উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।

এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কর্টিসল (Cortisol) বা স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন কর্টিসল বেশি থাকলে ক্ষুধা বাড়া, পেটের চারপাশে চর্বি জমা এবং ওজন কমার গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ঘুমের অভাব ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমিয়ে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরেকটি বিষয় হলো, ঘুম কম হলে ব্যায়ামের পারফরম্যান্সও কমে যায়। ফলে ক্যালোরি খরচ কম হতে পারে, ক্লান্তির কারণে দৈনন্দিন নড়াচড়াও (NEAT) কমে যায় এবং ওজন কমানোর অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।

পরামর্শ:

✅প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুমের লক্ষ্য রাখুন।

✅প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময়ে উঠুন।

✅ঘুমানোর ১–২ ঘণ্টা আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমান।

✅বিকেল বা সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন।

মনে রাখবেন, ওজন কমানোর জন্য ডায়েট + ব্যায়াম + পর্যাপ্ত ঘুম + মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—সবগুলোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুম ওজন কমানোর প্রচেষ্টাকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করে এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে

আবিদা সুলতানা
পুষ্টিবিদ
ইবনে সিনা হসপিটাল সিলেট লিমিটেড

হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) কম মানেই শরীরে আয়রনের অভাব সাধারনত আমরা এরকমই ভেবে বসি।হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার (Red B...
03/08/2026

হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) কম মানেই শরীরে আয়রনের অভাব সাধারনত আমরা এরকমই ভেবে বসি।

হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার (Red Blood Cell) ভেতরে থাকা একটি প্রোটিন, যার প্রধান কাজ ফুসফুস থেকে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া।

তাই হিমোগ্লোবিন কমে গেলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে দুর্বলতা, সহজে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার সবচেয়ে পরিচিত কারণ হলো আয়রনের ঘাটতি (Iron Deficiency)।
আয়রন ছাড়া শরীর পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত আয়রনসমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত মাসিক, গর্ভাবস্থা, প্রসবের পর রক্তক্ষয় অথবা পাকস্থলী ও অন্ত্র থেকে দীর্ঘদিন অল্প অল্প রক্তক্ষরণ হলে শরীরে আয়রনের মজুদ ফুরিয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে রক্তস্বল্পতা তৈরি হয়।

তবে শুধু আয়রনের অভাব নয়, ভিটামিন বি₁₂ ও ফলেটের ঘাটতিও হিমোগ্লোবিন কমিয়ে দিতে পারে। এই দুই পুষ্টি উপাদান নতুন ও সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর অভাবে অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকা ঠিকমতো তৈরি হতে পারে না, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।

একইভাবে দীর্ঘদিনের কিডনি রোগ থাকলে কিডনি থেকে এরিথ্রোপয়েটিন (Erythropoietin) হরমোন কম তৈরি হয়, যা অস্থিমজ্জাকে নতুন রক্তকণিকা তৈরির সংকেত দেয়। ফলে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে।

অনেক দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন দীর্ঘদিনের সংক্রমণ, অটোইমিউন রোগ, ক্যান্সার বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের ক্ষেত্রেও Anemia of Chronic Disease হতে পারে। এসব অবস্থায় শরীরে প্রদাহজনিত রাসায়নিক পদার্থ হেপসিডিন (Hepcidin) বেড়ে যায়। হেপসিডিন অন্ত্র থেকে আয়রন শোষণ কমিয়ে দেয় এবং শরীরে জমা থাকা আয়রনও ব্যবহার করতে বাধা দেয়। ফলে শরীরে আয়রন থাকলেও তা দিয়ে কার্যকরভাবে হিমোগ্লোবিন তৈরি করা যায় না।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়া, সিকেল সেল ডিজিজ বা অন্যান্য বংশগত রক্তরোগের কারণেও হিমোগ্লোবিন কম থাকতে পারে।

এছাড়া কিছু ওষুধ, দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণ, অন্ত্রে পুষ্টি শোষণের সমস্যা (যেমন সিলিয়াক ডিজিজ), পরজীবী সংক্রমণ বা অপুষ্টিও রক্তস্বল্পতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

তাই রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার (কলিজা, মাছ, মাংস, ডাল, ছোলা, শাকসবজি), ভিটামিন C-সমৃদ্ধ ফল (লেবু, কমলা, আমলকি) একসাথে খেলে আয়রন শোষণ বাড়ে।

একই সঙ্গে খাবারের সঙ্গে চা বা কফি খাওয়া এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো আয়রন শোষণ কমিয়ে দিতে পারে।

শুধু ডায়েট করলেই হবে? নাকি ব্যায়ামও জরুরি?অনেকেই ওজন কমানোর যাত্রা শুরু করেন খুব কম খাওয়ার মাধ্যমে। তাদেরকে কম ক্যালো...
02/08/2026

শুধু ডায়েট করলেই হবে? নাকি ব্যায়ামও জরুরি?

অনেকেই ওজন কমানোর যাত্রা শুরু করেন খুব কম খাওয়ার মাধ্যমে। তাদেরকে কম ক্যালোরী ডায়েট প্রোভইড করলে মেনে নিতে রাজি হলেও এক্সারসাইজ করতে রাজি হতে চাননা। আবার কেউ কেউ ভাবেন, "আমি তো প্রতিদিন এক ঘণ্টা ব্যায়াম করি, তাই যা খুশি খেতে পারি।" কিন্তু আমাদের শরীর এভাবে কাজ করে না।

সুস্থ থাকতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পেতে ডায়েট ও ব্যায়াম—দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডায়েট আমাদের শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি দেয়, আর ব্যায়াম সেই শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সাহায্য করে।

যখন আমরা সুষম খাদ্য গ্রহণ করি, তখন শরীর পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, জটিল শর্করা, ভিটামিন ও মিনারেল পায়। এগুলো শুধু ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণই করে না, বরং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের ক্যালোরি খরচ বাড়ায়, পেশি শক্তিশালী করে এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করে। ফলে রক্তের গ্লুকোজ সহজে পেশিতে প্রবেশ করে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমতে শুরু করে।

শুধু ডায়েট করলে অনেক সময় ওজনের সঙ্গে পেশিও কমে যায়। এতে শরীরের বিশ্রামকালীন ক্যালোরি খরচ (Resting Metabolic Rate) কমে যেতে পারে, ফলে কিছুদিন পর ওজন কমার গতি থেমে যায় বা আবার বাড়তে শুরু করে।

কিন্তু একই সঙ্গে যদি পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ এবং নিয়মিত রেজিস্ট্যান্স ও অ্যারোবিক ব্যায়াম করা হয়, তাহলে পেশি অনেকটাই সংরক্ষিত থাকে, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি বেশি কমে এবং মেটাবলিজম তুলনামূলক ভালো থাকে। এ কারণেই একই ওজনের দুইজন মানুষের শরীরের গঠন ও স্বাস্থ্য একরকম হয় না।

ডায়েট ও ব্যায়াম একসঙ্গে করার আরেকটি বড় উপকার হলো হৃদ্‌রোগ, টাইপ–২ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি কমানো। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ট্রাইগ্লিসারাইড ও LDL কোলেস্টেরল কমাতে এবং HDL কোলেস্টেরল বাড়াতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্য শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (Chronic inflammation) কমাতে সাহায্য করে, যা বর্তমানে অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।

গবেষণায় বারবার দেখা গেছে, যারা শুধু ডায়েট করেন তাদের তুলনায় যারা সুষম খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা বেশি স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে পারেন, কমানো ওজন দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারেন এবং তাদের সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।

তাই লক্ষ্য যদি শুধু ওজনের সংখ্যা কমানো না হয়ে সত্যিকার অর্থে সুস্থ থাকা হয়, তাহলে ডায়েট এবং ব্যায়াম—দুটোকে একসঙ্গে জীবনযাপনের অংশ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আবিদা সুলতানা
পুষ্টিবিদ
ইবনে সিনা হসপিটাল সিলেট লিমিটেড

Gut Health কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?আমাদের অন্ত্র (gut) শুধু খাবার হজমই করে না—এটি পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়...
30/07/2026

Gut Health কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমাদের অন্ত্র (gut) শুধু খাবার হজমই করে না—এটি পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অন্ত্রে থাকা ট্রিলিয়ন সংখ্যক উপকারী জীবাণু (gut microbiota) আমাদের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

১. পুষ্টি শোষণ ভালো হয় সুস্থ অন্ত্র কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেল ঠিকভাবে শোষণে সাহায্য করে।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় শরীরের প্রায় ৭০% ইমিউন কোষ অন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। সুস্থ gut ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

৩. মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে gut–brain axis নামে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে। অন্ত্রের জীবাণু serotonin-এর মতো কিছু রাসায়নিক উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা মেজাজ ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

৪. প্রদাহ (Inflammation) কমাতে সাহায্য করে উপকারী ব্যাকটেরিয়া ফাইবার থেকে short-chain fatty acids (SCFAs) তৈরি করে, যা অন্ত্রের কোষকে পুষ্টি দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

৫. ওজন ও বিপাকক্রিয়া (Metabolism) প্রভাবিত করে গবেষণায় দেখা গেছে, gut microbiota-এর ভারসাম্য নষ্ট হলে স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

Gut Health ভালো রাখতে কী করবেন?

✅প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবার (শাকসবজি, ফল, ডাল, ওটস, সম্পূর্ণ শস্য) খান।

✅ফারমেন্টেড খাবার (যেমন টক দই) খাদ্যতালিকায় রাখুন।

✅প্রয়োজনে প্রিবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার (রসুন, পেঁয়াজ, কলা) খান।

✅অতিরিক্ত প্রসেসড ফুড, চিনি ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান।

✅পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

✅নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

দেহ ঘড়ি বা সারকাডিয়ান রিদম?? শরীরের বায়োলজিকাল ক্লক (Circadian Rhythm) ঠিক থাকলে ঘুম, হরমোন, হজম, মেটাবলিজম এবং মানসিক ক...
28/07/2026

দেহ ঘড়ি বা সারকাডিয়ান রিদম??

শরীরের বায়োলজিকাল ক্লক (Circadian Rhythm) ঠিক থাকলে ঘুম, হরমোন, হজম, মেটাবলিজম এবং মানসিক কর্মক্ষমতা ভালো থাকে।

সারকাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) হলো আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক ২৪ ঘণ্টার জৈবিক ঘড়ি, যা আলো-অন্ধকারের সঙ্গে মিল রেখে শরীরের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

সহজভাবে বলতে গেলে, সারকাডিয়ান রিদম হলো শরীরের এমন একটি "অভ্যন্তরীণ ঘড়ি" যা শরীরকে জানায় কখন জেগে থাকতে হবে, কখন খেতে হবে, কখন বিশ্রাম নিতে হবে এবং কখন ঘুমাতে হবে।

যখন এই ছন্দ বিঘ্নিত হয়, তখন দেখা দিতে পারে:

ঘুমের সমস্যা,সারাদিন ক্লান্তি,মনোযোগ কমে যাওয়া,ওজন বৃদ্ধি,ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা।

সারকাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে নিচের অভ্যাসগুলো অনুসরণ করুন:

১) প্রতিদিন সম্ভব হলে একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন—ছুটির দিনেও।

২) ঘুম থেকে ওঠার ৩০–৬০ মিনিটের মধ্যে ১০–২০ মিনিট প্রাকৃতিক সকালের রোদে থাকুন।

৩)সকালের নাস্তা এড়িয়ে যাবেন না এবং প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে খাবার খান।

৪) রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ২–৩ ঘণ্টা আগে শেষ করুন।

৫) বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কমিয়ে দিন।

৬) ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি ও ল্যাপটপের উজ্জ্বল স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন।

৭) সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম করুন, তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।

৮) শোবার ঘর অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক রাখুন।

৯)ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো ঘুমের মান নষ্ট করে।

১০) মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা হালকা বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন।

এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো নিয়মিত পালন করলে শরীরের জৈবিক ঘড়ি সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে, যা ভালো ঘুম, উন্নত মেটাবলিজম, হরমোনের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আবিদা সুলতানা
পুষ্টিবিদ
ইবনে সিনা হসপিটাল সিলেট লিমিটেড।

Address

Sylhet

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nutritionist Abida Sultana posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category