Nutritionist Abida Sultana

  • Home
  • Nutritionist Abida Sultana

Nutritionist Abida Sultana Nutritionist | Healthy lifestyle educator

Ibn Sina Hospital Sylhet Limited

আগামীকাল পবিত্র ঈদ -উল- আযহা। খুব স্বাভবিকভাবেই গরুর মাংস খওয়ার একটা হিড়িক পড়ে।আবার কেউ কেউ মনে করেন গরুর মাংস খওয়া একদম...
27/05/2026

আগামীকাল পবিত্র ঈদ -উল- আযহা। খুব স্বাভবিকভাবেই গরুর মাংস খওয়ার একটা হিড়িক পড়ে।আবার কেউ কেউ মনে করেন গরুর মাংস খওয়া একদমই অনুচিত। কিন্তু গরুর মাংস মানেই ক্ষতিকর—এ ধারণা পুরোপুরি সঠিক না। আসল বিষয় হলো, কতটুকু, কীভাবে এবং কোন ধরনের গরুর মাংস খাওয়া হচ্ছে।

গরুর মাংসে আছে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও ভিটামিন B12, যা শরীরের রক্ত তৈরি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পেশি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে অতিরিক্ত বা ভুলভাবে খেলে এটি হৃদরোগ, কোলন ক্যান্সার ও মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বিশেষ করে “processed meat” অর্থাৎ সসেজ, নাগেট, স্মোকড বা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভযুক্ত মাংস বেশি ক্ষতিকর।

World Health Organization (WHO)-এর অধীন International Agency for Research on Cancer (IARC) processed meat-কে carcinogenic এবং অতিরিক্ত red meat-কে “probably carcinogenic” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
কারণ উচ্চ তাপে বারবার ভাজা, পোড়ানো বা গ্রিল করলে heterocyclic amines (HCA) ও polycyclic aromatic hydrocarbons (PAH) নামের কিছু ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

তাহলে গরুর মাংস কীভাবে খেলে তুলনামূলক নিরাপদ হবে?

✔️ পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন
প্রতিদিন না খেয়ে সপ্তাহে ১–২ দিন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত red meat intake দীর্ঘমেয়াদে cardiovascular disease ও colorectal cancer risk বাড়াতে পারে।

✔️ চর্বি কম অংশ বেছে নিন
অতিরিক্ত saturated fat LDL cholesterol বাড়াতে পারে। তাই visible fat ও চর্বিযুক্ত অংশ কমিয়ে lean cut বেছে নেওয়া ভালো।

✔️ অতিরিক্ত পোড়ানো বা ঝলসানো এড়িয়ে চলুন
খুব বেশি আগুনে পোড়ানো, বারবিকিউ বা repeated frying ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি বাড়ায়। মাঝারি আঁচে রান্না করা তুলনামূলক নিরাপদ।

✔️ সবজি ও ফাইবারের সঙ্গে খান
গরুর মাংসের সাথে সালাদ, শাকসবজি, ডাল বা whole grain রাখলে ফাইবার digestion ও gut health ভালো রাখতে সাহায্য করে।

✔️ Processed meat কমান
বিফ সসেজ, বিফ সালামি, smoked meat বা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভযুক্ত খাবার নিয়মিত না খাওয়াই ভালো। এগুলোতে sodium ও nitrite বেশি থাকে।

✔️ Balanced diet সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
শুধু মাংস নয়—পুরো খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ফল, সবজি, পর্যাপ্ত পানি, শারীরিক পরিশ্রম ও balanced diet ঝুঁকি অনেক কমাতে সাহায্য করে।

গরুর মাংসকে “ভালো” বা “খারাপ” এক কথায় বিচার করা ঠিক না। সমস্যা সাধারণত হয় অতিরিক্ত খাওয়া, অতিরিক্ত চর্বি, processed form এবং ভুল cooking method থেকে।

পরিমিত পরিমাণে, সঠিকভাবে রান্না করে এবং balanced diet-এর অংশ হিসেবে খেলে গরুর মাংস পুষ্টিকর খাবার হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।

আবিদা সুলতানা
পুষ্টিবিদ
ইবনে সিনা হসপিটাল সিলেট লিমিটেড

এবার কোল্ড ড্রিংকস খাবেন কি না, সিদ্ধান্ত আপনার!!
18/05/2026

এবার কোল্ড ড্রিংকস খাবেন কি না, সিদ্ধান্ত আপনার!!

কি খাচ্ছেন একটু ভাবুন!!
14/05/2026

কি খাচ্ছেন একটু ভাবুন!!

ভাইরাল হেপাটাইটিস আর ফ্যাটি লিভারকে অনেকেই আলাদা সমস্যা মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক আছে। বর্তমানে গ...
12/05/2026

ভাইরাল হেপাটাইটিস আর ফ্যাটি লিভারকে অনেকেই আলাদা সমস্যা মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক আছে।

বর্তমানে গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, হেপাটাইটিস ভাইরাস বিশেষ করে Hepatitis B এবং Hepatitis C দীর্ঘদিন শরীরে থাকলে লিভারের ফ্যাট মেটাবলিজম বদলে যায়। ফলে লিভারে চর্বি জমা বাড়তে পারে, আবার আগে থেকে ফ্যাটি লিভার থাকলেও ভাইরাল হেপাটাইটিসের ক্ষতি আরও দ্রুত বাড়তে পারে। তাই এই দুই সমস্যাকে এখন “একসাথে কাজ করা লিভার ড্যামেজ ফ্যাক্টর” হিসেবেও দেখা হয়।

ফ্যাটি লিভার কীভাবে তৈরি হয়?

স্বাভাবিক অবস্থায় লিভার শরীরের ফ্যাট ভাঙা, জমা রাখা ও শক্তি তৈরির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

কিন্তু যখন অতিরিক্ত ক্যালরি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়, তখন লিভার কোষে ট্রাইগ্লিসারাইড জমতে শুরু করে। এ অবস্থাকেই ফ্যাটি লিভার বলা হয়।

যখন এই চর্বি জমার সাথে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি যোগ হয়, তখন অবস্থা আরও জটিল হয়ে নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়েটোহেপাটাইটিস (NASH), ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস পর্যন্ত যেতে পারে।

হেপাটাইটিস ভাইরাস কীভাবে ফ্যাটি লিভারের সাথে জড়িত?

হেপাটাইটিস ভাইরাস শুধু লিভারে প্রদাহই করে না, এটি সরাসরি লিভারের ফ্যাট নিয়ন্ত্রণকারী জিন ও এনজাইমেও প্রভাব ফেলে।

১. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ানো

বিশেষ করে Hepatitis C ভাইরাস শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এতে রক্তে গ্লুকোজ ও ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড বাড়ে, যা পরে লিভারে জমা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে HCV core protein লিভারের lipid oxidation কমিয়ে দেয় এবং fat synthesis বাড়ায়।

২. অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ

ভাইরাস আক্রান্ত লিভারে Reactive Oxygen Species (ROS) বাড়ে। এতে কোষে oxidative stress তৈরি হয় এবং লিভার কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।

এই দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ লিভারে ফাইব্রোসিস ও ফ্যাট জমা—দুটোই বাড়াতে পারে।

৩. লিভারের ফ্যাট রপ্তানি কমে যাওয়া

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে Hepatitis B ও HCV ভাইরাস VLDL secretion কমিয়ে দেয়। ফলে লিভারে তৈরি হওয়া ফ্যাট বাইরে বের হতে না পেরে জমে থাকতে পারে।

৪. ফাইব্রোসিস দ্রুত বাড়ানো

যদি কারও আগে থেকেই ফ্যাটি লিভার থাকে এবং তার সাথে ভাইরাল হেপাটাইটিস যুক্ত হয়, তাহলে fibrosis progression অনেক দ্রুত হতে পারে। কারণ দুই দিক থেকেই প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি বাড়তে থাকে।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

বহু গবেষণায় দেখা গেছে Hepatitis C রোগীদের মধ্যে hepatic steatosis এর হার সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি।

বিশেষ করে HCV genotype 3 সরাসরি fat accumulation এর সাথে সম্পর্কিত বলে ধরা হয়।

Journal of Hepatology ও Hepatology journal-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ভাইরাল হেপাটাইটিসের সাথে obesity ও insulin resistance যুক্ত থাকলে সিরোসিস ও liver cancer এর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

কিছু গবেষণায় এটাও দেখা গেছে, ফ্যাটি লিভার থাকলে antiviral treatment response কিছু ক্ষেত্রে কম কার্যকর হতে পারে।

পুষ্টি পরামর্শ :

Nutrition therapy এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে inflammation, insulin resistance ও liver fat—তিনটিই নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা যায়।

যেমন:

🔸অতিরিক্ত চিনি ও fructose কমানো

🔸Trans fat ও ultra processed food সীমিত করা

🔸পর্যাপ্ত protein ও antioxidant rich খাবার খাওয়া

🔸ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

🔸নিয়মিত physical activity করা

এসব অভ্যাস লিভারের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং disease progression ধীর করতে পারে।

ফ্যাটি লিভার ও ভাইরাল হেপাটাইটিস একে অপরের ক্ষতি বাড়াতে পারে। হেপাটাইটিস ভাইরাস লিভারের ফ্যাট মেটাবলিজম নষ্ট করে fat accumulation, oxidative stress ও inflammation বাড়ায়, আবার আগে থেকে ফ্যাটি লিভার থাকলে ভাইরাসজনিত লিভার ক্ষতিও দ্রুত অগ্রসর হতে পারে।

03/05/2026

কাঁচা লিচু খেলে শরীরে কী ঘটে?

কিছুদিন পরই আসছে মধুমাস। এ মধুমাসে সকল ফলের মধ্যে লিচু অনেকের পছন্দের ফলের তালিকার শীর্ষে।পাকা লিচু যাদের শারিরীক কোনো জটিলতা নেই অনেক এনজয় করে খেতে পারেন।কিন্ত বিপত্তি ঘটে যখন অপরিপক্ক লিচু খেয়ে ফেলেন।

কাঁচা লিচুতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ টক্সিন থাকে—

Hypoglycin A এবং MCPG (Methylenecyclopropylglycine)। এগুলোই মূল সমস্যা তৈরি করে।

👉 এই টক্সিনগুলো লিভারের স্বাভাবিক গ্লুকোজ তৈরির প্রক্রিয়া (gluconeogenesis) এবং ফ্যাট ভেঙে শক্তি তৈরির প্রক্রিয়া (beta-oxidation) ব্লক করে দেয়।

স্বাভাবিকভাবে, আমাদের শরীর যখন না খেয়ে থাকে (বিশেষ করে রাতে), তখন লিভার গ্লুকোজ তৈরি করে ব্লাড সুগার ঠিক রাখে।

কিন্তু কাঁচা লিচুর টক্সিন—লিভারের gluconeogenesis বন্ধ করে দেয়,ফ্যাট থেকে এনার্জি বানানোর পথও ব্লক করে
ফলে শরীরে গ্লুকোজের ঘাটতি (Hypoglycemia) হয়।এই অবস্থাকে বলা হয় acute hypoglycemic encephalopathy

🧠 ফলাফল কী হতে পারে?

বিশেষ করে খালি পেটে বা অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে—
🔸হঠাৎ দুর্বলতা
🔸মাথা ঘোরা
🔸খিঁচুনি (seizure)
🔸অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ভারতের বিহারের মুজাফফরপুরে এই ঘটনাটি নিয়ে বড় গবেষণা হয়েছে:

Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এবং ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগ মিলে গবেষণায় দেখা যায়—
আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুই খালি পেটে কাঁচা লিচু খেয়েছিল
তাদের রক্তে গ্লুকোজ খুব কম ছিল (severe hypoglycemia)

লিচুর টক্সিন MCPG এর উপস্থিতিও পাওয়া গেছে
👉 এই ঘটনাকে স্থানীয়ভাবে “লিচু রোগ” বলা হয়, বৈজ্ঞানিকভাবে এটি hypoglycemic encephalopathy

🧒 কারা বেশি ঝুঁকিতে?

🔸অপুষ্ট শিশু
🔸যারা রাতে না খেয়ে থাকে
🔸যারা বেশি পরিমাণে কাঁচা লিচু খায়

✅ কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

কখনোই খালি পেটে লিচু খাওয়াবেন না
পাকা লিচু পরিমিত পরিমাণে খেতে দিন
শিশুদের রাতে ভালোভাবে খাওয়ানো নিশ্চিত করুন
অসুস্থতা (খিঁচুনি/অজ্ঞান) হলে দ্রুত হাসপাতালে নিন।

আরো বেশী করে খান -------
26/04/2026

আরো বেশী করে খান -------

ঘুম এর সাথে মেটাবলিজম এর সম্পর্ক --------পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম আমাদের শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপ...
26/04/2026

ঘুম এর সাথে মেটাবলিজম এর সম্পর্ক --------

পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম আমাদের শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর, যেটা আমরা অনেক সময় অবহেলা করি।

ঘুম কম হলে শরীরের হরমোনাল ব্যালান্স নষ্ট হয়ে যায়—বিশেষ করে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন Leptin ও Ghrelin এর উপর এর বড় প্রভাব পড়ে। ঘুমের ঘাটতিতে Leptin কমে যায় (যা পেট ভরা অনুভূতি দেয়) এবং Ghrelin বেড়ে যায় (যা ক্ষুধা বাড়ায়), ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, বিশেষ করে মিষ্টি ও কার্বোহাইড্রেটের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।

University of Chicago-এর গবেষণায় দেখা গেছে, কম ঘুম সরাসরি এই হরমোনগুলোর পরিবর্তনের মাধ্যমে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।
এছাড়া, ঘুমের অভাব ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমিয়ে দেয়, যার ফলে শরীর গ্লুকোজকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত গ্লুকোজ পরে ফ্যাট হিসেবে জমা হয়, যা ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

American Diabetes Association অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি স্লিপ ডিপ্রাইভেশন মেটাবলিক ডিসঅর্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
ঘুম কম হলে শরীরে Cortisol বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রাও বেড়ে যায়, যা মেটাবলিজমকে ধীর করে দেয় এবং বিশেষ করে পেটের চর্বি (visceral fat) জমাতে সাহায্য করে।

Harvard Medical School-এর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ক্রনিক স্ট্রেস অবস্থায় থাকে, যা মেটাবলিক হেলথের জন্য ক্ষতিকর। একই সাথে Basal Metabolic Rate (BMR) কমে গিয়ে শরীর কম ক্যালরি বার্ন করতে শুরু করে, ফলে ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ঘুম আমাদের সার্কাডিয়ান রিদম বা বায়োলজিক্যাল ক্লককেও নিয়ন্ত্রণ করে, যা ফ্যাট ও এনার্জি মেটাবলিজমের সাথে সরাসরি জড়িত। ঘুমের সময়সূচি অনিয়মিত হলে এই রিদম বিঘ্নিত হয় এবং শরীরে ফ্যাট অক্সিডেশন কমে যায়, ফলে ফ্যাট জমা হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে ফ্যাট স্টোর করার দিকে বেশি ঝোঁকায়। ঘুমের ঘাটতি আমাদের মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতার উপরও প্রভাব ফেলে।

এতে করে junk food এর প্রতি আকর্ষণ বাড়ে, portion control কমে যায় এবং হেলদি ফুড চয়েস করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই শুধুমাত্র ডায়েট বা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ নয়, পর্যাপ্ত ঘুমও একটি সুস্থ মেটাবলিজম বজায় রাখার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা কোয়ালিটি ঘুম নিশ্চিত করা হলে হরমোনাল ব্যালান্স ঠিক থাকে, মেটাবলিজম ভালো কাজ করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

আবিদা সুলতানা
পুষ্টিবিদ
ইবনে সিনা হসপিটাল সিলেট লিমিটেড।

বর্তমান যুগে কমবেশি সবাই ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন।অনেকে মনে করেন বেশি সময় ঘুমালেই হয়তো সেটা শরীরের জন্য ভালো।কিন্তু কোয়ালিটি...
21/04/2026

বর্তমান যুগে কমবেশি সবাই ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন।অনেকে মনে করেন বেশি সময় ঘুমালেই হয়তো সেটা শরীরের জন্য ভালো।কিন্তু কোয়ালিটি স্লিপ কি সেটা অনেকেই জানেন আবার অনেকে জানেননা।চলুন জেনে নেয়া যাক-----

কোয়ালিটি স্লিপ আসলে কি?

কোয়ালিটি স্লিপ মানে শুধু বেশি সময় ঘুমানো না—বরং এমন ঘুম, যেটা শরীর ও মস্তিষ্ককে সত্যিকারের রিকভার হতে সাহায্য করে।

সহজভাবে বললে, সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি ফ্রেশ লাগে, মন ভালো থাকে, আর সারাদিন এনার্জি থাকে—তাহলেই সেটা কোয়ালিটি স্লিপ।

ঘুমের ভিতরে কয়েকটা ধাপ (sleep cycle) থাকে—লাইট স্লিপ, ডিপ স্লিপ আর REM স্লিপ। এই পুরো চক্রটা বারবার ঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়াটাই আসল।

বিশেষ করে ডিপ স্লিপ-এ শরীরের টিস্যু রিপেয়ার হয়, আর REM স্লিপ-এ ব্রেইন মেমোরি ও ইমোশন প্রসেস করে। যদি মাঝেমধ্যে ঘুম ভেঙে যায় বা ঘুম খুব হালকা হয়, তাহলে এই সাইকেল ভেঙে যায়—ফলে ঘুম হলেও শরীর ঠিকমতো রিচার্জ হতে পারে না।

মেকানিজমটা কীভাবে কাজ করে?

আমাদের শরীরে একটা “বডি ক্লক” আছে, যাকে বলে সার্কাডিয়ান রিদম। রাত হলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোন বাড়ে, যা ঘুম আনতে সাহায্য করে।

আবার সকালে কর্টিসল বাড়ে, যা আমাদের জাগিয়ে তোলে। রাতে স্ক্রিন (মোবাইল/টিভি) থেকে আসা ব্লু লাইট এই মেলাটোনিন কমিয়ে দেয়—ফলে ঘুম দেরিতে আসে বা কোয়ালিটি খারাপ হয়।

এছাড়া ডিপ স্লিপের সময় গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মাংসপেশি রিপেয়ার, ইমিউন সাপোর্ট এবং মেটাবলিজম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

আবার ঘুম কম হলে ঘ্রেলিন (ক্ষুধা বাড়ায়) বাড়ে আর লেপটিন (পেট ভরা সিগন্যাল দেয়) কমে যায়—ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে এবং ওজনও বাড়তে পারে।

ঘুম ভালো না হলে শরীরের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমে যায়, ফলে ব্লাড সুগার কন্ট্রোল খারাপ হয়। একই সাথে ফ্যাট স্টোরেজ বাড়ে।

তাই শুধু ডায়েট প্ল্যান নয়—ওয়েট ম্যানেজমেন্ট, হরমোন ব্যালান্স, এমনকি স্কিন ও হেয়ার হেলথের জন্যও কোয়ালিটি স্লিপ খুব জরুরি।

কিভাবে বুঝবেন আপনার ঘুম কোয়ালিটি ভালো?

১.১৫–২০ মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া
২.রাতে বারবার না জাগা
৩.সকালে উঠে ফ্রেশ লাগা
৪.দিনে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব না থাকা

ডায়েট যতই পারফেক্ট হোক, যদি ঘুম ঠিক না থাকে—রেজাল্ট কখনোই অপ্টিমাল হবে না।

আবিদা সুলতানা
পুষ্টিবিদ
ইবনে সিনা হসপিটাল সিলেট লিমিটেড।

21/04/2026
ইনোসিটল কি?ইনোসিটল (Inositol) হলো এক ধরনের ভিটামিনের মতো উপাদান, যাকে অনেক সময় vitamin B8 বলা হয়। আমাদের শরীর নিজেও কিছু...
21/04/2026

ইনোসিটল কি?

ইনোসিটল (Inositol) হলো এক ধরনের ভিটামিনের মতো উপাদান, যাকে অনেক সময় vitamin B8 বলা হয়। আমাদের শরীর নিজেও কিছুটা ইনোসিটল তৈরি করতে পারে, আবার বিভিন্ন খাবার থেকেও এটি পাওয়া যায়।

এটি মূলত কোষের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ “signal carrier” হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ শরীরের বিভিন্ন হরমোনের বার্তা কোষে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এই কারণেই ইনোসিটলকে কোষের ভেতরের যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধরা হয়।

ইনোসিটল কোষের ভিতরে phosphatidylinositol signaling pathway এর মাধ্যমে কাজ করে। যখন insulin বা অন্য কোনো hormone কোষে signal দেয়, তখন ইনোসিটল থেকে তৈরি কিছু উপাদান (যেমন IP3 এবং DAG) সেই signal কোষের ভেতরে ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে কোষের ভিতরে calcium release হয় এবং বিভিন্ন metabolic process সক্রিয় হয়।

সহজভাবে বললে, ইনোসিটল না থাকলে hormone ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।

ইনোসিটলের একটি বড় কাজ হলো insulin sensitivity বাড়ানো। এটি শরীরের কোষকে insulin-এর প্রতি বেশি responsive করে তোলে, ফলে রক্তের গ্লুকোজ সহজে কোষে প্রবেশ করতে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এজন্য ইনোসিটল বিশেষ করে insulin resistance, টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং PCOS রোগীদের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচিত হয়।

হরমোনের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও ইনোসিটল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে PCOS রোগীদের ক্ষেত্রে Myo-inositol ও D-chiro-inositol ডিম্বাশয়ের কার্যক্রম উন্নত করে, নিয়মিত ovulation হতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত androgen (পুরুষ হরমোন) কমায়। এর ফলে মাসিক নিয়মিত হয়, ব্রণ কমে এবং সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বাড়ে।

এছাড়াও ইনোসিটল মস্তিষ্কের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এটি serotonin নামক neurotransmitter এর সাথে কাজ করে, যা আমাদের মুড ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই anxiety, depression বা মানসিক চাপ কমাতেও ইনোসিটল কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

চর্বি ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ইনোসিটলের ভূমিকা রয়েছে। এটি শরীরের fat metabolism ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং triglyceride ও cholesterol কমাতে সহায়তা করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ইনোসিটল প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন খাবারে পাওয়া যায়, যেমন ফলমূল (কমলা, কলা), লাল চাল বা whole grain, বাদাম, বীজ এবং ডাল জাতীয় খাবার।

তবে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনে supplement হিসেবেও এটি দেওয়া হয়, বিশেষ করে PCOS রোগীদের জন্য Myo-inositol ও D-chiro-inositol এর নির্দিষ্ট অনুপাত (৪০:১) সবচেয়ে কার্যকর বলে ধরা হয়।

সবশেষে বলা যায়, ইনোসিটল শুধুমাত্র একটি সাধারণ সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং এটি শরীরের কোষের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ signal system ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

তাই insulin resistance, হরমোনজনিত সমস্যা এবং PCOS এর মতো অবস্থায় এটি একটি বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

আবিদা সুলতানা
পুষ্টিবিদ
ইবনে সিনা হসপিটাল সিলেট লিমিটেড।

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nutritionist Abida Sultana posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your business to be the top-listed Health & Beauty Business?

Share