05/10/2026
"ভালো হয়ে ফিরলেন Apollo Narendrapur হাসপাতাল থেকে "
হার্ট অ্যাটাক নিয়ে আমরা সবাই কম-বেশি চিন্তিত থাকি এবং এই বিষয়ে কিছুটা ধারণা প্রায় সবারই আছে। তবে হার্ট অ্যাটাকের সাথে যে মারাত্মক শারীরিক জটিলতাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তার নাম কার্ডিওজেনিক শক (Cardiogenic Shock)।
কার্ডিওজেনিক শক কী?
হার্ট অ্যাটাকের কারণে হৃদপিণ্ডের মাংসপেশি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়লে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে:
* রক্তচাপ (Blood Pressure) আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।
* মাল্টিপল অর্গান ফেলিয়ার (Multiple Organ Failure) বা বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হতে শুরু করে।
* প্রস্রাবের পরিমাণ দ্রুত কমে যায়।
প্রায় ১০% হার্ট অ্যাটাক রোগীর ক্ষেত্রে এই ধরনের গুরুতর কার্ডিওজেনিক শক দেখা যায়। সাম্প্রতিক কালে
নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা, ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক কার্ডিওজেনিক শকে চলে যান।
* জরুরি চিকিৎসা: পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নরেন্দ্রপুরের অ্যাপোলো হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে নিয়ে আসেন।
* পরীক্ষার ফলাফল: পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার হৃদপিণ্ডের প্রায় ৮০% মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রক্তচাপ ৬০-এর নিচে নেমে গেছে।
* ক্যাথ ল্যাব ও আর্টারি ব্লকেজ: প্রথমত ওষুধের মাধ্যমে ব্লাড প্রেসার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। এরপর তাকে ক্যাথ ল্যাবে (Cath Lab) নিয়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী বন্ধ আর্টারিটি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
* নিবিড় পরিচর্যা (ICU): ফুসফুসে যাতে জল না জমে, সে জন্য ভেন্টিলেটর এবং ব্লাড প্রেসারের ওষুধের সহায়তায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টানা চিকিৎসা চলে।
* আশা ব্যাঞ্জক ফল: ধীরে ধীরে তিনি শকের পর্যায় থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্রায় দুই সপ্তাহ পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।
সচেতনার বার্তা
* মৃত্যুর ঝুঁকি: কার্ডিওজেনিক শকে মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি—প্রতি দুইজনের মধ্যে একজন (প্রায় ৫০% থেকে ৬০%) রোগী মারা যেতে পারেন।
* সময়ের গুরুত্ব: হার্ট অ্যাটাক বলে-কয়ে আসে না। তবে লক্ষণ দেখা মাত্রই সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিকটস্থ আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
* উপযুক্ত পরিকাঠামো: যে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক ক্যাথ ল্যাব, ক্রিটিক্যাল কেয়ার এবং কার্ডিওজেনিক শক সামলানোর মতো ইমার্জেন্সি পরিষেবা রয়েছে, সেখানে দ্রুত পৌঁছাতে পারলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
ডাঃ অর্পণ চক্রবর্তী