Doctor's CARE

  • Home
  • Doctor's CARE
Call Contact the business

Doctor's  CARE Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Doctor's CARE, Medical and health, 37/B/17Maniktala Main Road, .

এবার ডাক্তার দিবসে আর লেখা হয়ে উঠল না। প্রতি বছরই ভাবি, ১লা জুলাই কিছু লিখব। কিন্তু এ বছর দিনটা কেটে গেল হাসপাতাল, চেম্...
04/07/2026

এবার ডাক্তার দিবসে আর লেখা হয়ে উঠল না। প্রতি বছরই ভাবি, ১লা জুলাই কিছু লিখব। কিন্তু এ বছর দিনটা কেটে গেল হাসপাতাল, চেম্বার, রোগীর ফোন, রিপোর্ট আর দায়িত্বের ভিড়ে।

তারপর মনে হল— আমাদের জীবনে ডাক্তার দিবস কি সত্যিই একটা দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ? আমাদের কাছে তো প্রতিটা দিনই মানুষের জন্য। তাই একটু দেরি হলেও, আজ লিখছি।

আজ লিখছি চারজন বন্ধুর গল্প।

আমরা চারজন মেয়ে। চারটি আলাদা পরিবার থেকে, চার রকম স্বপ্ন নিয়ে একদিন পৌঁছেছিলাম আর. জি. কর মেডিক্যাল কলেজে। তখন আমাদের পরিচয় ছিল শুধু— এমবিবিএস-এর ছাত্রী।

কত রাত জেগে পড়া, কত ক্যান্টিনের চা, কত পরীক্ষার চাপ, কত ওয়ার্ড ডিউটি, কত প্রথম রোগী, কত প্রথম মৃত্যু দেখে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা… আবার কত প্রাণখোলা হাসি, কত আড্ডা, কত স্বপ্ন!

সেদিন কেউ জানতাম না, একদিন আমরা চারজন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ব। কিন্তু আমাদের স্বপ্নটা ছিল একটাই— মানুষের পাশে থাকব।

আমাদের সময়ে একজন মেয়ে হয়ে ডাক্তার হওয়ার পথটা খুব সহজ ছিল না। শুধু পড়াশোনা নয়, সমাজের হাজার প্রশ্ন, পরিবারের প্রত্যাশা, নিজের স্বপ্ন আর নিজের পরিচয়— সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করেই এগোতে হয়েছে। আজও সেই লড়াই শেষ হয়নি।

অনেক সময় একজন নারী চিকিৎসককে একই সঙ্গে একজন ডাক্তার, একজন মেয়ে, একজন স্ত্রী, একজন মা, একজন কন্যা— কত রকম ভূমিকা পালন করতে হয়! কিন্তু সাদা অ্যাপ্রনটা গায়ে চাপালেই সব পরিচয়ের আগে একটা পরিচয় বড় হয়ে ওঠে— আমি একজন চিকিৎসক।

ডা. শ্রাবণী চক্রবর্তী আজ একজন স্নেহময়ী শিশু বিশেষজ্ঞ। ছোট্ট রোগীদের কান্না থামিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোই যেন ওর সবচেয়ে বড় আনন্দ। বহু বছর লন্ডনে চিকিৎসা করেও ওর মধ্যে সেই মানুষকে ভালোবাসার সহজ, আন্তরিক মনটা একটুও বদলায়নি।

ডা. শ্যামশ্রী শীল মজুমদার আজ একজন দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞ। কত মানুষকে নতুন করে পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে ও। একজন মানুষের চোখে আবার আলো ফিরিয়ে দেওয়ার অনুভূতির সঙ্গে খুব কম কিছুরই তুলনা চলে।

ডা. সুনীতা সুরেখা আজ আমেরিকায় মেডিসিন নিয়ে কাজ করছে। দেশ বদলেছে, সময় বদলেছে, ভাষা বদলেছে। কিন্তু বন্ধুত্ব বদলায়নি। এখনও কথা হলেই মনে হয়, আমরা যেন সেই আর. জি. কর-এর ক্যান্টিনে বসে আগামী দিনের স্বপ্ন দেখছি।

আর আমি... ডা. পিয়ালি সেন চ্যাটার্জী।

আজও প্রতিদিন শিখছি। প্রতিদিন নতুন মানুষের গল্প শুনছি। অনেক সময় রোগী শুধু ওষুধ নিতে আসেন না— একটু সাহস, একটু ভরসা, একটু আশ্বাস খুঁজতে আসেন।

যখন কেউ বিদায় নেওয়ার সময় বলে—

"ম্যাডাম, আপনি থাকলে মনে জোর পাই…"

তখন মনে হয়, চিকিৎসক হওয়ার সব ক্লান্তি, সব পরিশ্রম যেন এক মুহূর্তেই সার্থক হয়ে যায়।

আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি ডা. বিধানচন্দ্র রায়কে। তাঁর জীবন আমাদের শিখিয়েছে— চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষের প্রতি এক নিঃস্বার্থ অঙ্গীকার।

এই লেখাটা শুধু আমার তিন বন্ধুর জন্য নয়। পৃথিবীর প্রতিটি নারী চিকিৎসকের জন্য— যাঁরা নিজেদের ক্লান্তি, নিজের কষ্ট, নিজের না-পাওয়া, নিজের চোখের জল আড়াল করে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়ে চলেছেন।

আর শ্রদ্ধা জানাই প্রতিটি চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, টেকনিশিয়ান এবং তাঁদের পরিবারের মানুষদের। কারণ একজন চিকিৎসকের পিছনেও থাকে অনেক নিঃশব্দ ত্যাগ, অনেক অপেক্ষা, অনেক ভালোবাসা।

শ্রাবণী, শ্যামশ্রী, সুনীতা...

জীবন আমাদের আলাদা আলাদা পথে নিয়ে গেছে। শ্রাবণী বহু বছর লন্ডনে চিকিৎসা করেছে, সুনীতা আজ আমেরিকায় মানুষের সেবা করে চলেছে, আর শ্যামশ্রী আর আমি কলকাতায় আমাদের রোগীদের নিয়ে ব্যস্ত।

দূরত্ব আজ আমাদের নিয়ে গেছে কলকাতা, লন্ডন আর আমেরিকায়। কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বের ঠিকানা আজও একটাই— আর. জি. কর মেডিক্যাল কলেজ।

আজও যখন কথা হয়, মনে হয় যেন আবার সেই ক্যান্টিনে বসে আছি। হাতে এক কাপ চা, সামনে পরীক্ষা, আর চোখভরা স্বপ্ন— "একদিন আমরা ভালো ডাক্তার হব, মানুষের পাশে দাঁড়াব।"

সময় আমাদের আলাদা ঠিকানা দিয়েছে, কিন্তু আলাদা করতে পারেনি আমাদের বন্ধুত্বকে।

বন্ধুত্ব বদলায়নি। স্বপ্ন বদলায়নি। শুধু সাদা অ্যাপ্রনের ভাঁজে ভাঁজে জমেছে হাজার মানুষের বিশ্বাস, আশীর্বাদ আর ভালোবাসা।

শ্রাবণী, শ্যামশ্রী, সুনীতা... তোদের নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। আমাদের বন্ধুত্বের বয়স যতই বাড়ুক, মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আর একে অপরের প্রতি ভালোবাসা যেন কোনওদিন কমে না। ঈশ্বরের কাছে একটাই প্রার্থনা— আমরা যেন সুস্থ থাকি, ভালো থাকি, আর সারাজীবন মানুষের পাশে থাকার শক্তিটুকু ধরে রাখতে পারি।

ভালো থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ। সুস্থ থাকুক প্রতিটি পরিবার।

কারণ একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কোনও পুরস্কার নয়, কোনও ডিগ্রি নয়— একজন সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের হাসি।

অনেক ভালোবাসা রইল।

— ডা. পিয়ালি সেন চ্যাটার্জী

আজকের পোস্টের ছবিটা দেখেই হয়তো অনেকের মুখে একটা পরিচিত কথা চলে এসেছে—“ও মা! আবার শুরু হলো!”বিষয়টা শুনতে যতটা সাধারণ, ব...
15/06/2026

আজকের পোস্টের ছবিটা দেখেই হয়তো অনেকের মুখে একটা পরিচিত কথা চলে এসেছে—

“ও মা! আবার শুরু হলো!”

বিষয়টা শুনতে যতটা সাধারণ, বাস্তবে কিন্তু ততটা নয়।

সত্যি কথা বলতে কী, আমাদের ক্লিনিক ও সংলগ্ন ফার্মেসিতে প্রতিদিনই এমন বহু মানুষ আসেন, যাদের প্রথম অভিযোগ—“ম্যাডাম, একটা গ্যাসের ওষুধ দিন তো!”, “বুকটা খুব জ্বালা করছে”, “টক টক ঢেকুর উঠছে”, “গলা পর্যন্ত যেন আগুন চলে আসছে”।

কেউ অফিস থেকে ফেরার পথে ঢুকলেন, কেউ রাতের খাবারের পরে, কেউ আবার দীর্ঘদিন ধরে নিজের মতো করে গ্যাসের ওষুধ খেয়ে চলেছেন। অনেকের কাছে গ্যাস-অ্যাসিডিটি এমন একটা সমস্যা, যেটাকে আর রোগ বলেই মনে হয় না। যেন একটা নিত্যসঙ্গী।

কখনও কখনও মনে হয়, আমাদের ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে গ্যাস-অম্বলও যেন নীরব সহযাত্রী হয়ে গেছে। আমরা তাকে গুরুত্ব দিই না, সে-ও চুপচাপ আমাদের সঙ্গেই চলতে থাকে। কিন্তু শরীরের প্রতিটি অস্বস্তিরই একটা ভাষা আছে, একটা বার্তা আছে। সেই বার্তাকে বারবার উপেক্ষা করাও সব সময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

এই দৃশ্যগুলো প্রায় প্রতিদিন দেখতে দেখতে আমার মনে হলো, বিষয়টা নিয়ে একটু কথা বলা দরকার।

কারণ, গ্যাস-জ্বালা-অম্বল শুধু অস্বস্তিকর নয়, অনেক সময় এটি আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও হতে পারে।

আমরা বাঙালিরা এক অদ্ভুত জাতি। একদিকে আমাদের পরিচয় ভোজনরসিক হিসেবে। মাছ, মাংস, বিরিয়ানি, কষা মাংস, ফুচকা, কাটলেট, মিষ্টি—খাবারের প্রতি আমাদের ভালোবাসা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই।

আবার অন্যদিকে “পেটরোগা বাঙালি” কথাটাও কম শোনা যায় না।

একদিকে খাওয়ার প্রতি অসীম ভালোবাসা, অন্যদিকে পেটের নানা সমস্যা—এই দুইয়ের মাঝখানেই কোথাও যেন বাসা বেঁধে আছে আমাদের বহু পরিচিত বন্ধু—গ্যাস, জ্বালা ও অম্বল।

অ্যাসিডিটি আসলে কী?

আমাদের পাকস্থলী (Stomach) প্রতিদিনই খাবার হজম করার জন্য অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড না থাকলে খাবার ঠিকমতো হজমই হতো না।

সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন পাকস্থলীর এই অ্যাসিড উপরের দিকে খাদ্যনালীতে (Esophagus) উঠে আসতে শুরু করে।

খাদ্যনালীর গঠন পাকস্থলীর মতো নয়। তাই অ্যাসিড সেখানে পৌঁছালে জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়।

তখনই আমরা অনুভব করি—

✔ বুক জ্বালা করছে

✔ গলা পর্যন্ত টক জল উঠে আসছে

✔ বারবার টক ঢেকুর উঠছে

✔ মুখে টক বা তেতো স্বাদ লাগছে

✔ গলায় কিছু আটকে আছে বলে মনে হচ্ছে

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে অনেক সময় Acid Reflux বলা হয়।

অ্যাসিডিটির লক্ষণ সব সময় শুধু পেটে সীমাবদ্ধ থাকে না

অনেকেই ভাবেন, অ্যাসিডিটি মানেই শুধু বুক জ্বালা।

আসলে এর উপসর্গ আরও অনেক রকম হতে পারে।

✔ বুকে চাপ লাগা

✔ গলা জ্বালা

✔ টক ঢেকুর

✔ পেট ফাঁপা

✔ খাওয়ার পর ভারী লাগা

✔ বমি বমি ভাব

✔ গলায় দলা আটকে থাকার অনুভূতি

✔ ক্ষুধামন্দা

✔ দীর্ঘদিন কাশি বা গলা বসে যাওয়া

এমনকি অনেক সময় অ্যাসিডিটির উপসর্গ ও হার্টের সমস্যার উপসর্গ একে অপরের সঙ্গে মিলেও যেতে পারে।

সব বুক জ্বালা কি গ্যাস?

এর উত্তর হলো—না।

এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকার প্রয়োজন।

অনেক সময় হার্টের সমস্যার কারণেও বুকে চাপ, অস্বস্তি, জ্বালাভাব বা ব্যথা হতে পারে।

বিশেষ করে যদি বুকের ব্যথার সঙ্গে—

✔ শ্বাসকষ্ট হয়

✔ ঘাম হয়

✔ মাথা ঘোরে

✔ হাত, কাঁধ বা চোয়ালে ব্যথা ছড়ায়

তাহলে শুধুমাত্র গ্যাসের ওষুধ খেয়ে বসে থাকবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কেন বারবার অ্যাসিডিটি হয়?

এর পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে।

✔ দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা

✔ অনিয়মিত খাওয়া

✔ অতিরিক্ত ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার

✔ অতিরিক্ত চা বা কফি

✔ ধূমপান

✔ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

✔ মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

✔ স্থূলতা

✔ রাতে দেরি করে ভারী খাবার খাওয়া

Helicobacter pylori – এক অদৃশ্য অপরাধী

দীর্ঘদিনের গ্যাস, অম্বল বা আলসারের পিছনে অনেক সময় Helicobacter pylori নামের একটি জীবাণু দায়ী থাকতে পারে।

এই জীবাণু পাকস্থলীর ভেতরে বাসা বাঁধে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রদাহ, আলসার এবং নানা জটিলতার কারণ হতে পারে।

তাই বছরের পর বছর গ্যাসের ওষুধ খেয়েও যদি আরাম না পান, তাহলে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

কোন খাবার কিছুটা সাহায্য করতে পারে?

সবার শরীর একরকম নয়। তবুও অনেকের ক্ষেত্রে শসা, কলা, পেয়ারা, হালকা ও সহজপাচ্য খাবার এবং পর্যাপ্ত জল অ্যাসিডিটির উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ঘুমানোর ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম আছে

অনেকেই রাতের খাবার খেয়েই শুয়ে পড়েন।

এটি অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দিতে পারে।

চেষ্টা করুন—

✔ ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করতে

✔ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে না শুতে

✔ প্রয়োজনে মাথার দিক সামান্য উঁচু করে ঘুমাতে

শেষ কথা

গ্যাস, জ্বালা ও অম্বল আমাদের কাছে এতটাই সাধারণ হয়ে গেছে যে আমরা অনেক সময় এটিকে গুরুত্বই দিই না।

কিন্তু শরীর বারবার একই সংকেত দিলে তাকে অবহেলা করাও ঠিক নয়।

একটা অ্যান্টাসিড খেয়ে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়, কিন্তু সমস্যার কারণ জানা আরও বেশি জরুরি।

তাই নিজের ডাক্তারি নিজে না করে, দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ছোট্ট একটু সচেতনতা আজ হয়তো আগামী দিনের বড় অসুখকে দূরে রাখতে পারে।

🌿 ডাঃ পিয়ালীর কলম থেকে
Doctor's Care
We Care For You & Your Family 🌿

98315-85579 & 9903526757

নমস্কার,আমি ডাঃ পিয়ালী সেন চ্যাটার্জী বলছি।আজকের লেখাটা কী নিয়ে লিখব, সেটা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম। প্রথমে ভে...
05/06/2026

নমস্কার,

আমি ডাঃ পিয়ালী সেন চ্যাটার্জী বলছি।

আজকের লেখাটা কী নিয়ে লিখব, সেটা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম Blood Pressure নিয়ে লিখব। তারপর একদিন আমার চিকিৎসক বন্ধু, ডাঃ শ্রাবণী চক্রবর্তী এর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল। তখন ডাঃ শ্রাবণী বলল, "রোগের কথা তো বলবই, কিন্তু তার আগে মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে শেখানো আরও জরুরি।"

কথাটা আমার খুব ভালো লেগেছিল।

আচ্ছা, আপনারা কি কখনও ভেবে দেখেছেন, গত 15-20 বছরে আমাদের জীবন কতটা বদলে গেছে?

আমাদের কাজের ধরন বদলেছে, খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস বদলেছে, ঘুমের সময় বদলেছে, যাতায়াতের পদ্ধতি বদলেছে, এমনকি অবসর কাটানোর ধরনও বদলেছে। এক সময় মানুষ অনেক বেশি হাঁটত, শারীরিক পরিশ্রম করত, বাড়ির রান্না করা খাবার বেশি খেত। আজকের দিনে আমরা অনেকেই দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে কাজ করি, বাইরের খাবার খাই, রাত জাগি, আর মানসিক চাপকে জীবনের স্বাভাবিক অংশ বলে মেনে নিয়েছি।

আর এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে রোগের ধরনও।

আমরা বাংলা সাহিত্য পড়তে গিয়ে জেনেছি— এক সময় কলেরা, বসন্ত, প্লেগ, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, যক্ষ্মা (TB)-এর মতো রোগে গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। একটি পরিবারে একজন আক্রান্ত হলে অনেক সময় পুরো পরিবার বিপদের মুখে পড়ত।

এই ধরনের রোগকে বলা হয় Communicable Disease বা সংক্রামক রোগ। অর্থাৎ যে রোগ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সৌভাগ্যবশত, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি, টিকাকরণ কর্মসূচি, অ্যান্টিবায়োটিক, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং মানুষের সচেতনতার ফলে এই রোগগুলোর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যদিও Dengue, TB, Influenza বা COVID-এর মতো সংক্রমণ এখনও আমাদের সতর্ক থাকতে শেখায়।

কিন্তু এরই মধ্যে নীরবে আরেকটি বড় সমস্যা আমাদের জীবনে জায়গা করে নিয়েছে।

আজ হাসপাতালের Outpatient Department-এ বা Indoor-এ যে রোগীদের আমরা সবচেয়ে বেশি দেখি, তাদের অনেকেই Diabetes, High Blood Pressure, Heart Disease, Stroke, Kidney Disease, Fatty Liver, Thyroid Disorder কিংবা Cancer-এর মতো রোগে আক্রান্ত।

এই রোগগুলো একজনের থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায় না। তাই এগুলোকে বলা হয় Non-Communicable Disease বা অসংক্রামক রোগ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আজকের দিনে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই-গুলো।

আর এই রোগগুলোর অনেকটাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, স্থূলতা, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস— এগুলো ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করে।

সমস্যা হলো, এই রোগগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুরুতে কোনো বড় উপসর্গ দেয় না।

Blood Pressure বাড়ছে, Sugar বাড়ছে, Kidney-র কার্যক্ষমতা কমছে, Cholesterol জমছে— অথচ আমরা অনেকেই কিছুই বুঝতে পারি না।

তারপর একদিন হঠাৎ Chest Pain, Stroke, Heart Attack কিংবা গুরুতর অসুস্থতার মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে।

তাই আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে আপনাদের কাছে একটি ছোট্ট অনুরোধ রাখতে চাই।

অসুস্থ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। সুস্থ থাকতেই নিজের শরীরের খোঁজ নিন।

✔️ প্রতি ৬ মাস অন্তর একটি Basic Health Check-up করুন।

✔️ অন্তত ৩ মাসে একবার হলেও আপনার পরিচিত চিকিৎসকের সঙ্গে Consult করুন, বিশেষ করে যদি আপনার বয়স ৪০-এর বেশি হয় বা পরিবারে Diabetes, Pressure, Heart Disease-এর ইতিহাস থাকে।

✔️ নিয়মিত Blood Pressure, Blood Sugar এবং ওজন পরীক্ষা করুন।

✔️ প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

✔️ পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও সমান গুরুত্ব দিন।

মনে রাখবেন—

একটি ছোট্ট সচেতনতা, একটি সময়মতো Health Check-up, অথবা একজন চিকিৎসকের সঙ্গে একটি নিয়মিত Consultation— আপনাকে ভবিষ্যতের বড় অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

অনেক সময় মাত্র কয়েকশো বা হাজার টাকার একটি পরীক্ষা ভবিষ্যতের লক্ষ লক্ষ টাকার Hospital Expense, দীর্ঘ ভোগান্তি এবং পরিবারের মানসিক কষ্ট বাঁচিয়ে দিতে পারে।

সুস্থ থাকা কেবল নিজের জন্য নয়, নিজের পরিবার, সন্তান, বাবা-মা এবং প্রিয়জনদের প্রতিও একটি দায়িত্ব।

আসুন, আমরা রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের দিকেও সমান গুরুত্ব দিই।

ভালো থাকুন, সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

🌿 Doctors Care – We Care For You & Your Family 🌿

98315-85579
9903526757

নমস্কার, আমি ডা. পিয়ালি সেন চ্যাটার্জী।প্রায় ২৫ বছরের ডাক্তারি জীবনের পথ চলায় অসংখ্য মানুষ, অসংখ্য মুখ, অসংখ্য গল্প জড়িয়...
27/05/2026

নমস্কার, আমি ডা. পিয়ালি সেন চ্যাটার্জী।

প্রায় ২৫ বছরের ডাক্তারি জীবনের পথ চলায় অসংখ্য মানুষ, অসংখ্য মুখ, অসংখ্য গল্প জড়িয়ে আছে।
হাসি আছে, কান্না আছে, আছে মধ্যরাতের ফোন… আছে ভরসা করে হাতটা শক্ত করে ধরে বলার মুহূর্ত —
“ডাক্তারবাবু, আপনি আছেন তো?”

এই দীর্ঘ সময়ের পর মনে হলো, এবার নিজের মতো করে ডাক্তারি করি…
একটু অন্যভাবে, একটু আরও কাছের মানুষ হয়ে।
শুধু প্রেসক্রিপশন লিখে নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে…
একজন পরিবারের সদস্যের মতো।

আর সেই পথ চলায় পাশে পেয়েছি আমার দুই প্রিয় বন্ধু —
ডা. শুভদীপ মল্লিক এবং ডা. শ্রাবনী চক্রবর্তীকে।

আমাদের তিনজনের মধ্যে অদ্ভুত এক মিল আছে।
প্রথমত — আমরা সবাই একই মানসিকতার মানুষ।
রোগীকে শুধু “কেস” হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে দেখি।

দ্বিতীয়ত — আমাদের সবার প্রায় ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা।
জীবনের অনেকটা সময় আমরা হাসপাতালের করিডর, ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার আর রোগীর প্রার্থনার মধ্যে কাটিয়েছি।

আর তৃতীয় মিলটা একটু আবেগের…
আমরা সবাই R.G. Kar Medical College-এর ছাত্রছাত্রী।
হ্যাঁ… সেই আর.জি. কর…
যেখানে শুধু ডাক্তারি শেখানো হয়নি, শেখানো হয়েছিল মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
শেখানো হয়েছিল —
“স্টেথোস্কোপের ওপাশেও একটা হৃদয় থাকে।”

সেই বিশ্বাস নিয়েই শুরু হলো আমাদের প্রথম Clinic & Pharmacy —
Doctor’s Care – Total Health Care
বাগমারির মাটিতে।

এলাকাটা খুব ভালো মানুষের…
কিন্তু এখানকার অনেক মানুষই Low Socio-Economic Zone-এর অন্তর্গত।
তাই শুরু থেকেই একটা কথা মাথায় ছিল —
চিকিৎসা যেন শুধু সামর্থ্যবানদের জন্য না হয়।
যতটা পারি, মানুষের পাশে থাকব।
ভরসা দেব।
সাহস দেব।
আর প্রয়োজন হলে শুধু ডাক্তার নয়, আপনজন হয়েই থাকব।

এখনও পথচলা শুরু মাত্র।
তবুও স্বপ্ন দেখছি…
খুব শীঘ্রই আমাদের দ্বিতীয় ইউনিট শুরু করার পরিকল্পনা চলছে —

78/C, Kabi Sukanta Sarani,
Kolkata – 700085

মানে ওই ফুলবাগান – নারকেলডাঙা অঞ্চলে।

ডাক্তারির পাশাপাশি এবার মাঝে মাঝে কলমও ধরব।
লিখব বিভিন্ন রোগ নিয়ে ছোট ছোট সচেতনতার কথা…
কি করা উচিত, কি করা উচিত নয়…
স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু সহজ টিপস…
যাতে চিকিৎসা শুধু চেম্বারের চার দেওয়ালে আটকে না থাকে, পৌঁছে যায় প্রতিটি পরিবারের কাছে।

কারণ আমরা বিশ্বাস করি —
একটা ভালো সম্পর্কই অনেক সময় অর্ধেক চিকিৎসা।

চলতে থাকুক Doctor’s Care…
আরও গভীর হোক আমাদের বন্ধুত্ব, আপনাদের সাথে।

We Care For You & Your Family.
কারণ আপনাদের সুস্থ হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Address

37/B/17Maniktala Main Road

700054

Telephone

+919903526757

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Doctor's CARE posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Doctor's CARE:

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed health & beauty business?

Share