26/05/2026
চুল পড়া এখন খুব সাধারণ সমস্যা। কিন্তু “স্বাভাবিক” চুল পড়া আর “অতিরিক্ত” চুল পড়া এক জিনিস নয়। প্রতিদিন প্রায় ৫০–১০০টা চুল পড়তে পারে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি চুল পাতলা হয়ে যেতে থাকে, সিঁথি চওড়া হয়ে যায়, মাথার ত্বক দেখা যায়, বা গোছা গোছা চুল পড়ে — তাহলে কারণ খুঁজে দেখা দরকার।
চুল পড়ার সাধারণ কারণ
বংশগত সমস্যা (Genetic hair loss)
মানসিক চাপ, ঘুম কম হওয়া
রক্তস্বল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি
থাইরয়েড সমস্যা
প্রসবের পর হরমোন পরিবর্তন
অতিরিক্ত ডায়েটিং বা প্রোটিন কম খাওয়া
খুশকি বা স্ক্যাল্প ইনফেকশন
অতিরিক্ত হেয়ার কালার, স্ট্রেটেনিং, হিট ব্যবহার
PCOS (মহিলাদের)
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চুলের যত্ন কিভাবে নেবেন
১. খাবারের দিকে নজর দিন
চুলের জন্য সবচেয়ে জরুরি:
প্রোটিন: ডিম, মাছ, ডাল, দুধ
আয়রন: পালং শাক, বিট, খেজুর
ওমেগা-৩: বাদাম, আখরোট
বায়োটিন ও জিঙ্ক: ডিম, বীজ, ডাল
জল কম খেলে চুলও শুষ্ক ও দুর্বল হয়।
২. সঠিকভাবে চুল ধোয়া
সপ্তাহে ২–৩ বার মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন
খুব গরম জল এড়িয়ে চলুন
ভেজা চুল জোরে আঁচড়াবেন না
টাইট করে চুল বাঁধা কমান
৩. হিট ও কেমিক্যাল কম ব্যবহার
বারবার স্ট্রেটনার, কার্লার, ব্লো ড্রায়ার ব্যবহার কমান
ঘন ঘন রং বা রিবন্ডিং করলে চুল ভেঙে যেতে পারে
ঘরোয়া কিছু উপায়
নারকেল তেল + কারি পাতা
কারি পাতা দিয়ে নারকেল তেল গরম করে সপ্তাহে ২ বার হালকা ম্যাসাজ করতে পারেন।
পেঁয়াজের রস
অনেকের ক্ষেত্রে উপকার হয়।
২০–৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন
জ্বালা বা অ্যালার্জি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন
অ্যালোভেরা
স্ক্যাল্প ঠান্ডা রাখতে ও খুশকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
মেথি
রাতে ভিজিয়ে পেস্ট করে ব্যবহার করলে চুল নরম রাখতে সাহায্য করে।
আয়ুর্বেদে কি বলা হয়
আয়ুর্বেদে চুল পড়াকে শরীরের “পিত্ত” ও “বাত” দোষের ভারসাম্যহীনতার সাথে যুক্ত করা হয়। অনেক আয়ুর্বেদিক ওষুধ রয়েছে যেগুলো খুব উপকারে আসে তবে আয়ুর্বেদিক ঔষধ বা তেল আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া বা লাগানো উচিত, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন তেল বা ওষুধ লাগানো বা খাওয়া একেবারেই উচিত না,
“চুল গজাবে নিশ্চিত” — এমন দাবি করা অনেক পণ্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
মহিলাদের কি করা উচিত
বিশেষ করে যদি:
সিঁথি চওড়া হয়
মাসিক অনিয়মিত হয়
ব্রণ বা ওজন বাড়ে
তাহলে PCOS বা হরমোনজনিত কারণ থাকতে পারে।
মহিলাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ:
আয়রন ও ভিটামিন D পরীক্ষা
পর্যাপ্ত প্রোটিন
প্রসবের পর চুল পড়া হলে আতঙ্কিত না হওয়া (অনেক সময় ৬–১২ মাসে কমে যায়)
পুরুষদের কি করা উচিত
পুরুষদের মধ্যে সাধারণত বংশগত টাক (Male pattern baldness) বেশি দেখা যায়।
সামনে থেকে hairline পিছিয়ে যাওয়া
মাথার মাঝখান পাতলা হওয়া
শুরুতেই চিকিৎসা নিলে অনেক সময় চুল পড়া ধীর করা যায়।
কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি
নিচের লক্ষণ থাকলে ডাক্তার দেখান:
হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া
গোল গোল টাকের দাগ
মাথায় চুলকানি, লালভাব বা ঘা
খুব কম বয়সে দ্রুত টাক পড়া
দুর্বলতা, ওজন কমা, অনিয়মিত মাসিক
৩–৬ মাস যত্ন নেওয়ার পরও উন্নতি না হলে
প্রয়োজনে ডাক্তার কিছু পরীক্ষা দিতে পারেন:
CBC
Ferritin/iron profile
Thyroid test
Vitamin D, B12
Hormone tests
Ayurved Care & Clinic
Doctor Appointment number- +918553847571