07/05/2026
ব্রেস্টফিডিং এবং প্রচলিত রিউমার
বাংলাদেশের অধিকাংশ "মা" রাই একধরনের এঞ্জায়টিতে থাকে যে তাদের বাচ্চা বুকের দুধ পায় না, দুধ না পেলে বাচ্চার ক্ষতি হবে ইত্যাদি।
বাস্তব সত্য হল আমরা অনেকেই জানি না আসলে কি সমস্যার সম্মুখীন উনারা হচ্ছেন।
নিয়ম অনুযায়ী প্রেগনেন্সির ৩৪ সপ্তাহ থেকে শাল দুধ চলে আসে অনেকেরই, যা কিনা আপনি সংগ্রহ করে রাখতে পারেন ফ্রিজে এবং ডেলিভারির পর খাওয়াতে পারেন। এইটা বাংলাদেশের জন্য থিয়োরিটিকাল ছাড়া আর কিছুই না। বিদেশে এইগুলো ১০০ ভাগ নিশ্চিত করা হয়।
তারপর আসি ডেলিভারির পরবর্তী সময় নিয়ে , প্রথম ৩-৫ দিন শাল দুধ আসে, যা পরিমানে সামান্য কিন্তু বাচ্চার জন্য যথেষ্ট এখন সমস্যা হচ্ছে বাচ্চার হিসু হাগু নিয়ে, দুধ পায় না তাই হিসু করে না এই গ্রুপে আছে একদল, আবার আরেক দল আছে হিসু করলে ও বাচ্চা দুধ পায় না বলে নিজেদের মাথা খারাপ করে ফেলে।
এখন আদো বাচ্চা পাচ্ছে কিনা কিভাবে বুঝবেন, ৪৮ ঘন্টায় বাচ্চা ১ বার হিসু করলেই বুঝবেন বাচ্চা দুধ পাচ্ছে তবে তা জন্মের প্রথম ৫ দিন, তারপর প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ বার করতে হবে।
বুকের দুধ খাওয়াতে হবে প্রতি ২ ঘন্টা পর পর, অসুস্থ বাচ্চা ডায়েরিয়া হলে আরো ঘন ঘন খাওয়ানো লাগবে। যেই বাচ্চা বুকের দুধ খায় তার ডায়রিয়ার হওয়ার সুযোগ নেই। তবে আমাদের দেশে সকল দাদি নানীর কাছেই তাদের নাতি নাতনি অসুস্থই থাকে।
যাই হোক প্রতিবার খাওয়ানোর পর বাচ্চাকে কাধে নিয়ে ঢেক দেয়াতে হবে।
এখন কতক্ষন ধরে খাওয়াবে? বাচ্চা তো অনেক ক্ষন ধরেই টানতে থাকে -
একটা স্টাডি তে বলা আছে ২ স্তন মিলে ১৫ মিনিট এর বেশি দুধ খাওয়ানো উচিত না, তাদের একটা ব্যাখ্যা ছিল এমন যে ৭ মিনিট এর বেশি স্তন থেকে সম্পুর্ণ দুধ শেষ হয়ে যায় ফলে এর বেশি টানতে থাকলে সেই স্তনে দুধ ফিল আপ হতে অনেক সময় লাগেব।
এখন বাচ্চা কান্না করলেই ক্ষুদা লেগেছে গ্রুপ, বাচ্চার কান্না কাটি করা একটা স্বাভাবিক স্বভাব। ক্ষুদার জন্য কান্না করতেই পারে, কিন্তু প্যাট ব্যাথা কোলিক এর কারনে ও বাচ্চা কান্না করে থাকে। দেখা গেছে এই দেশের অধিকাংশ বাচ্চাই কোলিক হওয়ার কারনের বেশি কান্না কাটি করে থাকে। তাই কান্না কাটি করলেই যে দুধ খাওয়ানো লাগবে এই থিয়োরি থেকে বের হয়ে আসা লাগবে। কান্না থামানোর অনেক উপায় আছে সেগুলো ফলো করলেই দেখা যায় বাচ্চা কান্না থামিয়ে দেয়।
এবার আসি ফ্ল্যাট নিপল, যেসব মায়ের ফ্ল্যাট নিপল আছে সেটা তো প্রেগন্যান্সির টাইম থেকেই ম্যাসাজ করে ঠিক করা লাগে, সে ক্ষেত্রে গাইনী ডাক্তারদের ভুমিকা অনেক। তাই এই ধরনের সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানাতে হবে। আর পরবর্তীতে নিপল সিল্ড ব্যবহার করা যায়, তবে বাংলাদেশে যে গুলো পাওয়া যায় খুব একটা ভাল রেসপন্স পাওয়া যায় নি।
কি খেলে বুকের দুধের ফ্লো বাড়বে? আমাদের দেশে তো কালি জিরা লাউ খাওয়ায়ে দুধ নামানো চেস্টা চলতেই থাকে। কিন্তু আসলেই কি তা কাজ করে? করবে তো সবকিছুই কিন্তু মেইনলি মা এর খাবার ক্রেভিং টাই এখানে মেইন ভূমিকা পালন করে। মা যা খেতে চায় তাই খাওয়ালে বুকের দুধের ফ্লো বাড়বে। আর মাকে বিশ্রাম আর চিন্তা মুক্ত রাখতে হবে,এইদেশের দাদি নানিরা তো আমার নাতির ১২টা বাজায় ফেলছে বলে মায়ের হাইপ্রেশার বানায় ফেলে। এঞ্জায়টি না থাকলে প্রলেক্টিন নামক হরমোন সিক্রেশন বেশি হয় যা দুধের ফ্লো বাড়ায় দেয়। আর মা রা এই দুধ পাচ্ছে না এই টেনশনেই পরে থাকে!
যদি ঝাল খেলে বাচ্চার পেটে ব্যাথা হয় তখন কি করবো? আরে ভাই আপনি তো গরুর দুধ খান, আর গরু তো ঘাস খায়, তাহলে কি আপনে ও ঘাস খান??? অবশ্যই না। তাহলে মাথায় ঢুকিয়ে নেন মা এর খাবার এর সাথে বাচ্চার দুধ খাওয়ার সম্পর্ক নেই।
এখন সব মা কি আসলে ব্রেস্ট ফিডিং করাতে পারে ফর্মুলার কি কার দরকার হয় না? হয় অবশ্যই হয়, কিছু ফ্যাক্টর তখন দেখা লাগে ৭ দিনে বাচ্চার ওজন কত বেড়েছে, মা এর কোন কঠিন রোগ আছে কিনা, বা বাচ্চার গ্যালাক্টোসেমিয়া আছে কিনা, মা হাইপার থাইরয়েড এর ওষুধ খায় কিনা সব দেখা লাগবে তারপর দিতে হবে।
আমাদের দেশে বাচ্চারা ফর্মুলা খায় নানী দাদীদের কারনে তাদের মতে তাদের নাতীরা শুকায় শুটকি মাছ হয়ে গেছে, মা এসে বলে উনি মোটা হয়ে যাচ্ছে তাই উনি ফিডিং করাতে চায় না, পরিচিত ফার্মেসি ওয়ালা বলছে এইটা খাওয়ালে দুনিয়ার সব কষ্ট শেষ হয়ে যাবে তাই খায়াচ্ছে।
একবারে জেনুইনলি ফর্মুলা খায় ৫% এর ও কম বাচ্চারা যাদের আসলেই কোন না কোন ডাক্তার দিচ্ছে।
অনেকেই বলে সাধে কি ফর্মুলা দেই বাচ্চাকে, অনেক কষ্টে দেই বুঝলেন ডাক্তার সাব । এই যে এই কথাটাই একদম ডাহা মিসা কথা যারা এই কথা বলে তাদের কেউ প্রপার কাউন্সিলিং করে না এবং করলে ও উনারা বুঝতে চায় না।
আর যখনি আপনি এইগুলো উনাদের বুঝাতে চাবেন আপনে জাস্ট ভিলেন হয়ে যাবেন, উনারা মনে করে আপনি উনার বাচ্চার ক্ষতি চাচ্ছেন। আর গিলটি ফিলিং কার্ড তো আছেই!
যাই হোক বাচ্চার ভালোর জন্য হলেও ব্রেস্টফিডিং জরুরি, তাই কষ্ট করে হলে ও বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন, এইটার ফলাফল আজকে না পেলে ও ২ দিন পর হলে ও পাবেন!