Masnoon Life

Call Directions Website Contact the business

Masnoon Life মাসনূন লাইফ: রাসূল ﷺ এর নির্দেশিত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে নিরাময়ের একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান।
(1)

আমাদের সম্পর্কে (About Us)

সুস্থতা মহান আল্লাহর এক বড় নিয়ামত। কিন্তু আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি নানাবিধ মানসিক ও আধ্যাত্মিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ছি। ‘মাসনূন লাইফ’-এর পথচলা ঠিক এখান থেকেই শুরু। আমরা কেবল একটি চিকিৎসা কেন্দ্র নই; আমরা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি সুস্থ, প্রশান্ত এবং পবিত্র জীবনযাপনের পথপ্রদর্শক।

আমাদের দর্শন
আমাদের মূল দর্শন হলো— ‘প্রফেটিক হিলিং’ বা নববী চিকিৎসা পদ্ধতির পুনর্জাগরণ। আমরা বিশ্বাস করি, প্রকৃত আরোগ্য বা শিফা একমাত্র মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। আমরা সেই আরোগ্যের সন্ধানে কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত পথ এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছি। শিরক ও বিদআতমুক্ত বিশুদ্ধ চিকিৎসা সেবাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

আমরা কি করি?
মাসনূন লাইফ-এ আমরা মানুষের আত্মিক (Spiritual) এবং শারীরিক (Physical)—উভয় প্রকার সুস্থতা নিয়ে কাজ করি। আমাদের সেবাগুলো মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে:

১. রুকইয়াহ শারইয়াহ (আধ্যাত্মিক চিকিৎসা):
বদনজর, জাদু, জিন-শয়তানের আসর কিংবা মানসিক অস্থিরতা (ওয়াসওয়াসা)—এসব প্যারানরমাল সমস্যার সমাধানে আমরা অভিজ্ঞ ও শরঈ রাকীদের মাধ্যমে রুকইয়াহ সেবা প্রদান করি। আমাদের রয়েছে ডায়াগনোসিস সেশন, লং সেশন, ফ্যামিলি প্যাকেজ এবং বিশেষায়িত গ্রুপ সেশনের ব্যবস্থা।

২. হিজামা ও আকুপাংচার (শারীরিক থেরাপি):
শরীরের ব্যথা নিরাময়, ডিটক্সিফিকেশন এবং সুন্নাহ পালনের অংশ হিসেবে আমাদের রয়েছে হাইজিন মেইনটেইন করা উন্নতমানের হিজামা (কাপিং থেরাপি) এবং আকুপাংচার সেবা।

৩. পিওর ও অর্গানিক ফুড (সাপ্লিমেন্ট):
সুস্থতার জন্য চাই ভেজালমুক্ত খাবার। তাই আমরা আপনাদের জন্য সরবরাহ করি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির মধু, অলিভ অয়েল, পিংক সল্ট, গোলাপ জল এবং মিনারেল ওয়াটারের মতো বিশুদ্ধ পণ্য।

শিক্ষাই শক্তি (মাসনূন ইন্সটিটিউট)
আমরা শুধু চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ নই। আমরা চাই প্রতিটি মানুষ নিজেকে রক্ষা করার জ্ঞান অর্জন করুক। আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘মাসনূন ইন্সটিটিউট’-এর মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষকে শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত, মাসনূন দোয়া এবং নিজের রুকইয়াহ নিজে করার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। পাশাপাশি আমরা তৈরি করছি দক্ষ ও শরঈ মানদণ্ড বজায় রাখা নতুন প্রজন্মের রাকী।

কেন আমাদের বেছে নেবেন?

১০০% শরীয়ত সম্মত: আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা কুরআন ও সুন্নাহর সীমারেখা মেনে চলি।

আন্তর্জাতিক মান: আমাদের পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা এবং সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের।

অভিজ্ঞ টিম: আমাদের রয়েছে প্রশিক্ষিত রাকী এবং থেরাপিস্টদের একটি নিবেদিত দল।

হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ: আমরা রোগের উপসর্গের চেয়ে রোগের মূল কারণ (Root Cause) নির্মূলে বিশ্বাসী।

মাসনূন লাইফ-এ আমরা আপনার গোপনীয়তা রক্ষা এবং সম্মানের সাথে সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুন্নাহর ছায়ায় সুস্থ ও সুন্দর জীবনের পথে আপনাকে স্বাগতম।

মাসনূন লাইফ
সুন্নাহর পথে, আরোগ্যের সন্ধানে।

📍 আমাদের ঠিকানা:
নূর টাওয়ার (লিফট-৭, ফ্লোর ৮-সি), হাউজ-২৯/৩১, রোড-০১, ব্লক-ডি, সেক্টর-২, আফতাবনগর, বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।
📞 হটলাইন: 09666815313

আগ্রহীগণ উক্ত ই-মেইলে আপনাদের সিভি প্রেরণ করুন: masnoonlifehr@gmail.com
17/07/2026

আগ্রহীগণ উক্ত ই-মেইলে আপনাদের সিভি প্রেরণ করুন:
[email protected]

09/07/2026

হাসাদ হলো:- অন্যের সুখ, শান্তি ও আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত দেখে হিংসা করা এবং সেই নেয়ামত তার কাছ থেকে চলে যাওয়ার কামনা করা।

আল্লাহ আমাদেরকে হাসাদ থেকে এবং হাসাদকারীর অনিষ্ট থেকে হিফাজত করুন। আমীন।
#হাসাদ #ধ্বংসের #রুকইয়াহ #ইসলামিক_চিকিৎসা

07/07/2026

যাদু ধ্বংসের রুকইয়াহ

04/07/2026

রুকইয়াতুন নূর

যাদু কোথায়, কিভাবে আছে তা দেখতে পাওয়া, জানতে পারা এবং খুঁজে পাওয়ার জন্য ❝ রুকইয়াতুন নূর ❞

21/06/2026

২১ ও ২২ জুন অ্যাকাউন্ট ও ফাইন্যান্স পদে আবেদনের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগ্রহীগন আপনাদের সিভি প্রেরণ করুন! বিস্তারিত কমেন্টে👇

13/06/2026

আমরা একজন অ্যাকাউন্টেন্ট নিয়োগ দিচ্ছি! বিস্তারিত জানতে কমেন্ট চেক👇

CAREER OPPORTUNITY: ACCOUNTS & FINANCE LEADMASNOON LIFE LIMITEDMasnoon Life Limited is a premier Prophetic Healing cente...
13/06/2026

CAREER OPPORTUNITY: ACCOUNTS & FINANCE LEAD
MASNOON LIFE LIMITED

Masnoon Life Limited is a premier Prophetic Healing center dedicated to providing holistic wellness through Rukyah and Hijama. To support our rapid growth and ensure financial excellence, we are looking for a high-caliber, experienced, and integrity-driven Accountant to lead our financial operations.

📋 ROLE OVERVIEW
The successful candidate will be responsible for maintaining the highest standards of financial integrity, ensuring regulatory compliance (VAT/TAX), and providing strategic financial insights to the Management. We are seeking a professional who combines technical mastery with a strong ethical foundation.

🛠 KEY RESPONSIBILITIES
Financial Control: Manage daily cash flows, revenue recognition, and expenditure tracking with 100% accuracy.
Reporting: Prepare monthly Profit & Loss (P&L) statements, Balance Sheets, and Cash Flow forecasts for the Board of Directors.
Compliance: Independently handle VAT and Tax filings, ensuring the company adheres to all national regulatory requirements.
Banking & Auditing: Oversee all banking transactions, bank reconciliations, and facilitate internal/external audits.
Strategic Optimization: Identify cost-saving opportunities and implement internal control systems to minimize financial leakage.
Inventory Management: Supervise stock audits of supplements and clinical supplies to ensure data-physical alignment.

🎯 CANDIDATE REQUIREMENTS
Academic: BBA/MBA in Accounting or Finance from a reputed university.
Experience: Minimum 2-3 years of proven experience in a similar role within a structured corporate environment.
Technical Skills: Advanced proficiency in MS Excel (VLOOKUP, Pivot Tables, Macros) and expertise in Tally ERP 9 or similar accounting software.
Regulatory Knowledge: Deep understanding of Bangladesh VAT and Income Tax laws.
Values: Must possess high moral standards, integrity (Amanatdar), and a commitment to Islamic values.
Soft Skills: Exceptional attention to detail, ability to work under pressure, and strong communication skills.

💰 REMUNERATION & BENEFITS
Salary: BDT 25,000 - 30,000 (Negotiable based on expertise).
Meals: Nutritious lunch and afternoon snacks provided.
Leave: 4 days of monthly leave.
Growth: Annual performance-based increments and career progression opportunities.
Culture: A professional yet spiritually enriching work environment.

📍 WORK LOCATION
Noor Tower, Block-D, Sector-02, Aftabnagar, Badda, Dhaka.

📩 HOW TO APPLY
Interested professionals are invited to send their updated Resume (CV) with a brief cover letter to:
📧 Email: [email protected]
Application Deadline: June 15, 2026 (11:59 PM).
Subject Line: Must mention "Application for Accounts & Finance Lead".

10/06/2026

যদি আপনি অসুস্থ বা বিপদগ্রস্ত হোন, অবশ্যই ভিডিওটা দেখুন

তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মাসনূন লাইফ ও মাসনূন ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছ...
28/05/2026

তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মাসনূন লাইফ ও মাসনূন ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা।

ঈদুল আজহা আমাদের শেখায় সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমা এবং মহান রবের প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের শিক্ষা। পশু কুরবানির এই বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি আমাদের ভেতরের অহংকার, কুসংস্কার এবং ভুল আকিদাকে কুরবানি দেওয়াই হলো প্রকৃত তাকওয়া।

যে সমাজ আজ জিন, জাদু এবং মানসিক অস্থিরতায় জর্জরিত, সেখানে শিরকমুক্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠা করা এবং বিশুদ্ধ ইলমের প্রচার করাও এক প্রকার বড় ত্যাগ বা কুরবানি।

যারা নিজেদের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য, উম্মাহকে ভণ্ড কবিরাজদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ইলম অর্জনের পথে নিজেদের সময় ও সম্পদের কুরবানি করছেন—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।

পাশাপাশি, যেসব ভাই-বোনেরা শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে, কিংবা জাদুর প্রভাবে এবারের ঈদের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছেন না, আল্লাহর কাছে আমাদের ফরিয়াদ—তিনি যেন আপনাদের দ্রুত পরিপূর্ণ শিফা দান করেন এবং আপনাদের সবরকে আখেরাতের নাজাতের উসিলা বানান।

আপনাদের কুরবানি কবুল হোক, জীবন ভরে উঠুক সুন্নাহর আলোয়। ঈদ মুবারক!

কুরবানির দিনে জিন-জাদু ও বদনজরের রোগীর করণীয় — একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইনঈদুল আদহা বা কুরবানির দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ত...
26/05/2026

কুরবানির দিনে জিন-জাদু ও বদনজরের রোগীর করণীয় — একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

ঈদুল আদহা বা কুরবানির দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগের মহিমা, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং অনাবিল আনন্দের এক মহান উৎসব। তবে এই পবিত্র উৎসবের আনন্দময় মুহূর্তগুলোর পাশাপাশি, জিন-জাদু বা বদনজরে আক্রান্ত একজন রোগীর জন্য এই দিনের রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও অদেখা লড়াই, যা নিয়ে আমাদের সমাজে সাধারণত আলোচনা হয় না।

কুরবানির ইতিহাসটি একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করুন। এর মূলে রয়েছে সাইয়্যিদুনা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ত্যাগের সেই ঐতিহাসিক ও ঈমানদীপ্ত ঘটনা। মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটি দিলেন— নিজের হাতে তাঁর প্রিয়তম সন্তান ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে কুরবানি দিতে বললেন। আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন প্রস্তুত হলেন, তখন শয়তান তাঁকে বারবার প্ররোচনা দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু তিনি শয়তানের কোনো ধোঁকায় পা না দিয়ে তাকে পাথর মেরে তাড়িয়ে দিলেন। হজের সময় হাজিরা মিনায় জামারাতে যে পাথর নিক্ষেপ করেন, তা মূলত শয়তানকে প্রত্যাখ্যান করার ওই ঐতিহাসিক ঘটনারই স্মৃতি।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা এই ঘটনার চিত্রায়ন করে বলেন:

فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ ۝ وَنَادَيْنَاهُ أَن يَا إِبْرَاهِيمُ ۝ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ

"যখন তারা উভয়ে আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে কাত করে শুইয়ে দিল, তখন আমি তাকে ডেকে বললাম — হে ইবরাহীম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি।" (সূরা আস-সাফফাত: ১০৩-১০৫)

রুকইয়াহ বা আধ্যাত্মিক চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে এই আয়াতটি এবং কুরবানির পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি মূলত শয়তানের বিরুদ্ধে মুমিনের তাওহিদের এক চূড়ান্ত ঘোষণা। আপনি যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি দেন, তখন আপনি কেবল একটি পশুর রক্তই প্রবাহিত করেন না; বরং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মতো আল্লাহর সামনে নিজের পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রমাণ দেন এবং শয়তানকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। আর মনে রাখবেন, আল্লাহর প্রতি এই একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণই হলো জিন ও জাদুর বিরুদ্ধে একজন মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল।

তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এই কুরবানির মৌসুম আসলেই অনেক রোগীর শারীরিক, মানসিক বা আধ্যাত্মিক সমস্যাগুলো হঠাৎ করে তীব্র আকার ধারণ করে। অনেকের ক্ষেত্রে পুরোনো রোগগুলো নতুন করে জেগে ওঠে, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, কাঁপুনি বা প্রচণ্ড অস্থিরতা শুরু হয়। এমনকি কেউ কেউ এই দিনে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেন। এর পেছনে মূলত দুটি বড় ও শক্তিশালী কারণ রয়েছে।

প্রথম কারণটি হলো রক্তের সাথে জিনের নিবিড় সম্পর্ক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে বলেছেন:

إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ

"নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের শরীরে রক্তের শিরা-উপশিরায় চলাচল করে।" (সহীহ বুখারী: ২০৩৮)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেন, শয়তান ও জিন মানুষের শরীরে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমেই তাদের প্রভাব বিস্তার করে। কুরবানির দিনে যেহেতু চারদিকে বড় পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত হয়, তাই এটি সরাসরি জিনের কার্যকলাপকে উদ্দীপ্ত ও প্রভাবিত করে। রক্তের এই আধিক্য রোগীর শরীরে থাকা জিনের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে।

তবে এর চেয়েও ভয়ংকর এবং মূল কারণটি হলো জাদুকরদের কুফরি কাজ। জাদুকর বা কবিরাজরা তাদের জাদুকে শক্তিশালী করার জন্য শয়তানের নামে পশু বা পাখি উৎসর্গ করে থাকে। ঈদের দিন আমরা যখন একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য পশু জবাই করি, তখন এই নিখাদ তাওহিদের ইবাদতের কারণে শয়তানের নামে করা জাদুগুলো মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং প্রতিক্রিয়া (React) দেখাতে শুরু করে। আল্লাহর নামে প্রবাহিত রক্তের তাওহিদী শক্তির কারণে জাদুর গিটগুলো দুর্বল হতে থাকে, আর ঠিক তখনই রোগীর শরীরে তীব্র প্রতিক্রিয়া, ব্যথা বা খিঁচুনি দেখা দেয়।

তাই এই দিনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে মোটেও ভয় পাবেন না। সমস্যা কুরবানিতে নয়, সমস্যা রোগীর শরীরে লুকিয়ে থাকা জাদুতে। সঠিক আমল, রুকইয়াহ ও সতর্কতা অবলম্বন করলে এই দিনটি আপনার জাদুর শেকড় চিরতরে উপড়ে ফেলার সেরা দিন হতে পারে।

এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য এবং জাদু নষ্ট করতে একটি অত্যন্ত পরীক্ষিত ও কার্যকরী রুকইয়াহর আমল রয়েছে। কুরবানির দিন সকাল থেকে নিচের আয়াতটি গভীর মনোযোগের সাথে, এর অর্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন করে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ধরে তিলাওয়াত করুন। যদি নিজে তিলাওয়াত করতে না পারেন বা কষ্ট হয়, তবে পরিবারের কাউকে আপনার ডান কানের কাছে উঁচু আওয়াজে পাঠ করতে বলুন:

قُلْ اِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ ۙ

উচ্চারণ: ক্বুল ইন্না সালা-তী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহ্ইয়া-ইয়া ওয়া মামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন।

অর্থ: "বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি (যাবতীয় ইবাদত), আমার জীবন ও আমার মরণ সবই জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।" (সূরা আল-আন‘আম: ১৬২)

এই আয়াতটি পড়ার সময় আপনার মনের মধ্যে দৃঢ়ভাবে এই নিয়ত রাখবেন যে, "হে আল্লাহ! শয়তানের নামে উৎসর্গ করার মাধ্যমে আমার ওপর যে জাদু করা হয়েছে বা আজ নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, এই পবিত্র আয়াতের বরকতে আপনি তা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট ও বাতিল করে দিন।" এই আয়াতটি জাদুর বিরুদ্ধে সরাসরি অ্যান্টি-ডোট (Anti-dote) বা প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

তিলাওয়াত শেষ হলে আপনার সামনে রাখা বিশুদ্ধ খাবার পানি ও অলিভ অয়েলের বোতলে বারবার ফুঁ দিয়ে রুকইয়াহর পানি ও তেল প্রস্তুত করুন। শরীরের যে সকল স্থানে আপনি ব্যথা, যন্ত্রণা, সুই ফোটার মতো অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া অনুভব করছেন, সেখানে এই রুকইয়াহ করা অলিভ অয়েল আলতোভাবে, প্রয়োজনে একটু প্রেশার দিয়ে ম্যাসাজ করুন। ইনশাআল্লাহ, এতে দ্রুত উপশম হবে। আর রুকইয়াহর পানিটা সারাদিন কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করে পান করতে থাকুন।

যদি শারীরিকভাবে সম্ভব হয় এবং আপনি ভয় না পান, তবে আপনার কুরবানির পশু জবাই করার দৃশ্যটি স্বচক্ষে দেখার চেষ্টা করুন। এটি শয়তানের নামে উৎসর্গ করা পশুর মাধ্যমে যে জাদু করা হয়, তার বিপরীতে আল্লাহর নামে কুরবানির প্রতি আপনার একনিষ্ঠতা ও তাওহীদের একটি জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করবে। জবাইয়ের সময় বেশি বেশি তাকবীর পড়ুন এবং এই মাসনুন দুআটি পাঠ করুন:

بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنِّي

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা, আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্নি।

অর্থ: "আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। হে আল্লাহ! এটি আপনার পক্ষ থেকে এবং আপনার জন্য। হে আল্লাহ! আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন।" (সহীহ মুসলিম: ১৯৬৭)

জবাই চলাকালীন সময়ে যখন পশুর রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে, তখন আপনি মনে মনে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করুন, "হে আল্লাহ! যেভাবে আপনার সন্তুষ্টির জন্য এই পশুর রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, আপনি ঠিক সেভাবেই আমার শরীর থেকে জাদুর প্রতিটি কণা, প্রতিটি গিট, বিষক্রিয়া এবং আমাকে কষ্ট দেওয়া জিন-শয়তানকে চিরতরে বের করে দিন।"

জবাই দেখা বা বরকতের নিয়তে কুরবানির মাংস খাওয়ার পর যদি আপনার পুরোনো সমস্যা হঠাৎ বেড়ে যায়, নতুন করে অস্বস্তি শুরু হয় বা মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়, তবে মোটেও ঘাবড়াবেন না। এটি মূলত জাদু নষ্ট হওয়ার পূর্বলক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সূরা আনআমের ওই ১৬২ নং আয়াতটি তিলাওয়াত করতে থাকুন, শরীরে রুকইয়াহ করা তেল ম্যাসাজ করুন এবং রুকইয়াহর পানি বেশি পরিমাণে পান করতে থাকুন। যতক্ষণ পর্যন্ত না জাদুর প্রভাবে সৃষ্ট এই প্রতিক্রিয়াগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত হচ্ছে, ততক্ষণ ধৈর্য ধরে এই আমল চালিয়ে যান। ইনশাআল্লাহ, কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্যা শান্ত হয়ে আসবে।

কুরবানির যাবতীয় কাজ শেষে আপনার তৈরি করা রুকইয়াহর পানি অথবা আরাফার দিনে যদি কোনো পড়া পানি তৈরি করে থাকেন, তা দিয়ে ভালোভাবে গোসল করে নিন। সম্ভব হলে গোসলের পানিতে ৭টি বরই পাতা বেটে বা ব্লেন্ড করে মেশাবেন। তবে বরই পাতা সংগ্রহে না থাকলে শুধু রুকইয়াহর পানি দিয়েই গোসল করবেন। গোসলের সময় দৃঢ়ভাবে নিয়ত করবেন যেন জাদুর প্রভাব এবং জিন-শয়তানের আছর এই পবিত্র পানির উসিলায় আপনার শরীর থেকে ধুয়ে মুছে একদম পরিষ্কার হয়ে যায় এবং গোসলের পানির সাথে তা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

ঈদের দিন থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ সালাতের পর তাকবীরে তাশরিক পড়া আমাদের ওপর ওয়াজিব। জিন-জাদুতে আক্রান্ত একজন রোগীর জন্য এটি কেবল একটি ওয়াজিব আমলই নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয়। তাকবীরের শব্দে জিন ও শয়তান প্রচণ্ড কষ্ট পায়, কারণ "আল্লাহু আকবার" হলো আল্লাহর বড়ত্বের এমন এক অকাট্য ঘোষণা, যা কোনো শয়তান সহ্য করতে পারে না।

পাশাপাশি কুরবানির মাংস তিন ভাগ করে গরিব ও মিসকিনদের যে অংশটি দেবেন, তা শুধু মাংস বিতরণ হিসেবে নয়, বরং নিজের সুস্থতা ও শিফার (আরোগ্য) নিয়তে সাদাকাহ হিসেবে প্রদান করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

دَاوُوا مَرْضَاكُمْ بِالصَّدَقَةِ

"তোমরা তোমাদের রোগীদের সাদাকাহ দ্বারা চিকিৎসা করো।" (তাবারানী, আলবানী হাসান বলেছেন)

আরেকটি বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি। আমাদের দেশের কিছু এলাকায় কুরবানির পশুর চামড়া ও হাড় দিয়ে জাদু করার জঘন্য শয়তানি কালচার প্রচলিত রয়েছে। তাই আপনার কুরবানির পশুর চামড়া ও হাড় যেন অপরিচিত বা সন্দেহজনক কারো হাতে না যায়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখবেন। চামড়া বিক্রি করলে পরিচিত ও বিশ্বস্ত ক্রেতার কাছে বিক্রি করবেন অথবা কোনো বিশ্বস্ত মাদরাসা বা ইসলামী প্রতিষ্ঠানে দান করবেন। আর হাড় যত্রতত্র না ফেলে যথাযথভাবে পরিষ্কার জায়গায় বা মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করবেন।

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি মনে রাখতে হবে তা হলো— ঈদের আনন্দ বা ব্যস্ততার অজুহাতে নিজের দৈনন্দিন আমল ও রুকইয়াহ কোনোভাবেই ছেড়ে দেবেন না। ভুক্তভোগী রোগীদের পতনের সবচেয়ে বড় কারণ হলো এটিই। ঈদের এই আনন্দের দিনগুলোতে মানুষ সাধারণত আমল থেকে দূরে সরে যায় এবং এক ধরনের উদাসীনতায় ভোগে। আর শয়তান ঠিক এই সুযোগটির অপেক্ষাতেই থাকে। আপনি যদি ঈদের এই সময়ে এসে অসতর্ক হন, তবে আপনি ঠিক সেই ফাঁদেই পা দেবেন যেটা শয়তান চায়।

তাই কুরবানির দিন থেকেই আপনার সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আযকার, ঘরে সূরা বাকারাহর অডিও শোনা, রুকইয়াহর পানি পান করা এবং রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী ও তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস) পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে বুলিয়ে নেওয়া— এই আমলগুলো কঠোরভাবে চালু রাখুন।

ইখলাস, একনিষ্ঠতা ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখে এই রুকইয়াহ ও আমলগুলো চালিয়ে গেলে, আশা করা যায় শক্তিশালী জাদুগুলোও আল্লাহর হুকুমে চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে বি-ইযনিল্লাহ।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের কুরবানি কবুল করুন এবং আমাদের সকলকে সকল প্রকার জিন, জাদু ও বদনজরের প্রভাব থেকে পূর্ণ সুস্থতা ও সুরক্ষা দান করুন। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামিন।

Address

Noor Tower, House. 29/31, Road-01, Block-D, Sector-2, Aftabnagar, Dhaka
Badda

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Masnoon Life posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Masnoon Life:

Shortcuts

Share