06/04/2026
স্বাস্থ্য সচেতনতা..
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন যায়গায় হাম এর প্রকোপ দেখা দিয়েছে তাই হাম থেকে আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে যে বিষয়গুলো জানতে হবে এবং মেনে চলতে হবে নিচে তার কিছু বিবরন দেয়া হলোঃ
১. হাম কি?
★ হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমিত রোগ,যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িক নষ্ট করে দেয়।
★ ফলে হামের জটিলতা হিসেবে পরবর্তী সময়ে প্রায়ই নিউমোনিয়া,মারাত্নক ডায়রিয়া,অপুষ্টি, মস্তিস্কের প্রদাহসহ আরো নানা রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে,এমনকি শিশুর মৃত্যুও হতে পারে।
২.হাম এর লক্ষন:
শিশুর শরীরে লালচে দানাসহ জ্বর থাকলে এটা হামের লক্ষন হতে পারে।লক্ষনসমূহঃ
★ উচ্চ মাত্রায় জ্বর(৩-৫ দিন থাকতে পারে)
★শরীরে লাল ফুসকুড়ি
(প্রথমে মুখে,পরে সারা শরীরে ছড়ায়)
★ কাশি ও নাক দিয়া পানি পড়া
★ চোখ লাল হওয়া বা পানি পড়া
★ খাবার খাওয়ায় অনীহা ও দুর্বলতা ইত্যাদি।
৩. হাম কীভাবে ছড়ায়?
★ একজন আক্রান্ত রোগীর হাঁচি,কাশির মাধ্যমে এবং তার সংস্পর্শে আসা অন্যদের মধ্যে খুব দ্রুত ছড়ায়।
@@ কারা বেশি ঝুকিতে আছে?
★ যেকোনো বয়সের মানুষের হাম হতে পারে,তবে ছোট শিশু যারা এখনো হাম-রুবেলা(MR)টিকা নেয়নি তাদের ঝুকি সবচেয়ে বেশি।
★ হাম থেকে সুরক্ষার উপায়:
হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো সময়মতো শিশুর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা।
টিকাদান এর সময়:
১.শিশুর বয়স ৯মাস পূর্ণ হলে হাম-রুবেলা (এমআর) প্রথম ডোজ
২.এবং ১৫ মাস বয়স হলে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
২ বছরের কম বয়সি যে সকল শিশু হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা এখনো গ্রহন করেনি,তাদের জন্য অতি দ্রুত এই টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
★ নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়।আপনার নিকটস্থ EPI টিকাদান কেন্দ্র থেকে শিশুর টিকা নিন।
মনে রাখবেন; সম্পুর্ন সুরক্ষা পেতে আপনার শিশুকে অবশ্যই সময়মত দুই ডোজ টিকা দিতে হবে।
৪, আক্রান্ত শিশুর যত্নঃ
★ এসময়ে আক্রান্ত শিশুর খাবার, পানীয় ও অন্যান্য স্বাভাবিক পরিচর্যা রাখতে হবে।
★ যেসকল শিশু বুকের দুধ পান করে তাদের কে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ান।
★ ভিটামিন এ সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার,,যেমন: গাজর,মিস্টি কুমড়া,মিস্টি আলু,পেঁপে,পালং শাক ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজি খাওয়ান।
পর্যাপ্ত পানি পান করান।
*** হাম সংক্রমণ রুখে দিতে আপনার দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরী। আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে অনুগ্রহ করে এই কাঙ্খিত আচরণগুলো মেনে চলুন।আপনার পরিবার ও প্রতিবেশিদের এই তথ্যগুলো জানিয়ে দিন এবং তাদেরকেও এসব আচরন মেনে চলতে উৎসাহিত করুন।
(WHO,Gavi,unicef)