29/08/2025
এই কাহিনীটি “ফ্রাঙ্ক গুস্ট” নামের এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নির্মিত। ফ্রাঙ্কের জন্ম ২৪ মে ১৯৬৯ সালে, জার্মানির ওবারহাউসেনে হয়েছিল। জন্মের তিনদিন পরও তার বাবা হাসপাতালে তাকে দেখতে আসেননি। তখনও তিনি মদের নেশায় বুঁদ হয়ে ছিলেন। ফ্রাঙ্কের মা "ডাগমা" স্বামীর চরিত্র দেখে অসহায় আর হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। আত্মীয়স্বজনরা বলত, তুমি ভুল মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছো, তাই এখন শাস্তি পাচ্ছো। অনেক অপেক্ষার পরও যখন স্বামী নে*শা থেকে বের হতে পারলেন না, তখন ডাগমা সিদ্ধান্ত নিলেন ডিভোর্স নেওয়ার। অবশেষে তিন মাস পর তিনি স্বামীর থেকে ডিভোর্স নিয়ে নেন।
ডিভোর্সের পর ফ্রাঙ্ককে নিয়ে মা চলে যান নানা-নানির বাড়ি। সংসারের খরচ চালানো তখন খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছিল, কারণ সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন ডাগমা। ফ্রাঙ্ক ছিল দ্বিতীয় সন্তান, তার বড় ভাইও ছিল। সংসার চালাতে ডাগমা ছোটখাটো কাজ করতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ডাগমা অসুস্থ হয়ে পড়লেন, সঙ্গে ফ্রাঙ্কের নানিও অসুস্থ হলেন। বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে ডাগমাকে চাকরি ছেড়ে দিতে হলো। তখন অভাব এতটাই বেড়ে গেল যে ফ্রাঙ্ককে অনাথ আশ্রমে পাঠাতে হলো। তার বয়স তখনও এক বছর হয়নি। ভাবুন তো, কতটা অসহায় হলে মা এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে!
চার বছর বয়সে আবার ডাগমা ফ্রাঙ্ককে অনাথ আশ্রম থেকে নিয়ে আসেন। এই সময়ের মধ্যে কিছু টাকা জমিয়ে তিনি একটি ছোট্ট বাড়ি কিনে নিয়েছিলেন। সেখানে নতুন করে সংসার শুরু হয়। ফ্রাঙ্ক তখন বুঝতে শুরু করেছে— পরিবারের ভালোবাসা কাকে বলে আর একাকিত্ব কতটা কষ্টের। অবশেষে সে মায়ের বুকের স্নেহ অনুভব করতে পারল, মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে পারল।
কিন্তু এদিকে আশেপাশের বাচ্চারা অনেক কিছু শিখে নিয়েছে, এগিয়ে গেছে। ফ্রাঙ্কের জীবনে রয়ে গেল একাকিত্ব আর নিরবতা। পাঁচ বছর বয়সে তাকে স্কুলে ভর্তি করা হলো। কিন্তু সেখানেও সুখ জোটেনি। বাকি বাচ্চারা তার সাথে অমানবিক ব্যবহার করত। কখনও জোর করে তার প্যান্ট খুলে দিত। কেউ আবার তার গোপন অঙ্গে আইসক্রিম মাখিয়ে দিত, তারপর কু*কুর এনে সেটা চাটিয়ে খাওয়াত ছোট বয়সেই ফ্রাঙ্ক এসব সহ্য করতে শিখে গেল।
আট বছর বয়সে ডাগমা দ্বিতীয় বিয়ে করলেন। কিন্তু নতুন সংসার ফ্রাঙ্কের জন্য আরও অন্ধকার নিয়ে এলো। বিছানায় প্রস্রাব করলে বাবা মারধর করত। ডাগমা সবকিছু দেখেও কিছু করতে পারতেন না। তখন ফ্রাঙ্ক বুঝে গেল, এই সংসারে বাঁচতে হলে ডিসিপ্লিন মানতে হবে, নয়তো প্রতিদিন ট/র্চার সহ্য করতে হবে।
নয় বছর বয়সে ফ্রাঙ্ক নিজের নাস্তার টাকা জমিয়ে একটি শূ-করের বাচ্চা কিনে আনে। কিন্তু বাবা সেটা দেখে মা'রধর করে। রাগে ফ্রাঙ্ক বাচ্চা শূকরের উপর বড় পাথর ছুড়ে মারে। কয়েকবার মারার পর শূকরের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসে। ফ্রাঙ্ক তখন শূকরের পেটে হাত ঢুকিয়ে গরম রক্ত স্পর্শ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো—সে ভয় না পেয়ে বরং আনন্দ অনুভব করল। সেদিনের পর থেকেই তার মানসিকতায় অদ্ভুত এক পরিবর্তন আসতে শুরু করল।
গভীর রাতে ফ্রাঙ্ক নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে যেত। আশেপাশের পোষা প্রাণীগুলো সে গোপনে চু*রি করে নিয়ে আসত। তারপর গলা টিপে তাদের মে/রে ফেলত, পেট চিরে ভিতরের অঙ্গ বের করত। গরম রক্তে হাত ডুবিয়ে এক অদ্ভুত আনন্দ পেত সে। মৃত প্রাণীর নিথর শরীরের পাশে শুয়ে থাকলে তার মনে হতো অদ্ভুত শান্তি নেমে এসেছে। ভোরে আবার গর্ত খুঁড়ে প্রাণীগুলোকে পুঁ*তে রাখত, যাতে কেউ খুঁজে না পায়।
ক্রমে ফ্রাঙ্ক বড় প্রাণীর স্বাদ নেওয়ার কথা ভাবতে লাগল। তাদের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এক বৃদ্ধ লোক ঘোড়ার দেখাশোনা করত। ফ্রাঙ্ক তার কাছে গিয়ে ঘোড়ার সাথে খেলতে চাইলো। বৃদ্ধ অনুমতি দিল। এরপর থেকে ফ্রাঙ্ক রাতভর ঘোড়ার পাশে বসে থাকত, কখনও গরম র*ক্তের স্বাদও নিত। ধীরে ধীরে বৃদ্ধ লোকটি ফ্রাঙ্কের দিকে নজর দিতে শুরু করল।
একদিন বৃদ্ধ লোক ফ্রাঙ্ককে নিজের ঘরে ডেকে বলল, “রাতে কিছু সময় আমার সঙ্গে থাকতে হবে, নয়তো ঘোড়ার পাশে যেতে পারবে না।” ফ্রাঙ্ক রাজি হয়ে গেল। এরপর সেই লোক ফ্রাঙ্কের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। ফ্রাঙ্কের তখন বেশ ভালোই লাগল।
এরপরের সপ্তাহে বৃদ্ধ লোকটি আরও কয়েকজনকে নিয়ে এলো। তারা ফ্রাঙ্কের উপর চাপ সৃষ্টি করল। অবশেষে ফ্রাঙ্ক তাদের কাছ থেকে দূরে সরে গেল। কিন্তু পরিবারের কেউই তার এসব নিয়ে কোনো খোঁজ রাখেনি।
পনেরো বছর বয়সে ফ্রাঙ্ক আবার অনাথ আশ্রমে চলে যায়। কতৃপক্ষ ডাগমার সঙ্গে কথা বললে তিনি সহজেই রাজি হয়ে গেলেন। বললেন, “যদি সে সেখানে ভালো থাকে, স্বাধীন বোধ করে, তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
অনাথ আশ্রমে ফ্রাঙ্ক নিজেকে স্বাধীন মনে করত। মাঝেমধ্যে কয়েকদিনের জন্য উধাও হয়ে যেত, কিন্তু খোঁজ নেওয়ার কেউ ছিল না। একদিন কতৃপক্ষ তাকে জিজ্ঞেস করলে ফ্রাঙ্ক বলল, “যখন আমার মন খারাপ থাকে, তখন আমি কবরস্থানে গিয়ে শুয়ে থাকি। ওখানেই আমি সবচেয়ে বেশি আরাম পাই।”
ফ্রাঙ্ক যেখানে থাকত তার পাশেই ছিল একটি সরকারি হাসপাতাল। হাসপাতালের পাশে ছিল ওবারহাউসেনের কবরস্থানের মর্গঘর, যেখানে দাফনের আগে লাশ রাখা হতো। মর্গ দেখে ফ্রাঙ্কের ভেতরে প্রবল আগ্রহ তৈরি হলো। একদিন সবাই ডিউটি শেষে চলে গেলে ফ্রাঙ্ক চুপিসারে ভেতরে ঢুকে লাশ বের করে। পেটের সা*র্জারির জায়গায় হাত ঢুকিয়ে অদ্ভুত এক তৃপ্তি পেল। ঠান্ডা লাশ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না, তবুও তার মনে আরও আকাঙ্ক্ষা জন্মাল। সে ভাবতে লাগল— যদি এটা জীবিত হতো, তাহলে কেমন হতো? জীবন্ত হৃদয় যদি ছুঁতে পারত!
একদিন ফ্রাঙ্ক ম*র্গে ঢুকে এক মৃ*তদেহ বের করল। লাশটির গলা প্রায় দ্বিখণ্ডিত ছিল। সে হাত ঢুকিয়ে র*ক্তের স্বাদ নিল। তারপর লাশের মাথা আলাদা করে এনে ম*র্গের প্রধান গেইটের সামনে টাঙিয়ে রাখল। সকালে গার্ড এসে চিৎকার করে উঠল— এটা কিভাবে সম্ভব?
চলবে...???
Story_By_Frank_Gust
Part_01