03/06/2026
সরকার 'পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন' করেছিলো হয়তো এইসব ভেবেই।
কিন্তু এই মৃত মাকে যদি জিজ্ঞেস করা সম্ভব হতো আপনার সন্তানেরা আপনার সেবা করতো কি না খোঁজ নিতো কি না, মা হাসি দিয়া বলতো হ্যাঁ বাবা নিতো, যদি বলা হতো মা আপনি কি ভালো ছিলেন।
'হ্যাঁ বাবা ভালোই ছিলান' এটাই হচ্ছে মা
সন্তানের জন্য এতটুকু মিথ্যা কিছুই না।
'সবার সংসার আছে, সবাই ব্যস্ত তাদের নিজেদের সমস্যা নিয়ে'। 'আমাকে তো দেখেই' ইত্যাদি ইত্যাদি।
হাজারো মা বাবার আত্মনাথ চার দেওয়ালের মাঝে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যা আমরা কেউ শুনতে পাচ্ছি না, আমাদের সমাজের সুশীল, কুশীল, কাগজে কলমে আসলে তারা কু,,,,,,
যে মা বাবা নিজের সবটুকু উজার করে সন্তানকে মানুষ করলো,ছেড়া ধন মানিককে কোনো কিছুর অভাব দেয়নি, সন্তানের একটু সর্দিকাশি হলে পাগলপ্রায় বাবা মা, সন্তানের পাশে সারা রাত বসে থাকতো।
সেই সন্তানের বাবা মা কি না অবহেলায়, অবাঞ্ছনায় শরীরে পোকা ধরে যায়, শরীরে পচনে একটা সময় চিরতরে ঘুমিয়ে পরে।
নিরবে এক সাগর কষ্ট নিয়ে পরপারে পাড়ি জমায়। বুকের গহিনে লুকিয়ে থাকা, কিছু কথা বলতে না পেরে কষ্টে আত্মনাথ করতে করতে জীবন বাতি টাই শেষ পর্যন্ত নিভে যায়।
চিৎকার করে বলতে মন চায় কবে আমরা মানুষ হবো।
হাতুড়ি, শাবল নিয়ে ভেঙ্গে দাও আছে যত বিদ্যাশ্রম,
মুখোশ উন্মোচিত হোক শিক্ষিত পাপীদের,
মা
মা ডাক হোক সকল আবেগের, বাবা ডাক হোক সকল প্রেম ভালোবাসার।
একটা বড় কালচারাল পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে।
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের একটা ছোট গল্প আছে মূল চরিত্রের নামে যেখানে 'মারিয়া দোস প্রাজেরেস' কিভাবে পরিকল্পনা করছেন তার মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে। নিজের পোষা কুকুরটাকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন মৃত্যুর পরে সে যেন প্রতি রবিবার তার কবরে যেতে পারে।
তার যে পরিবারের কোন সদস্য নেই বা বন্ধু নেই তা নিয়ে তার কোন আক্ষেপের কথা বলা নেই সেই গল্পে।
বর্তমান আইন অনুযায়ী দায়িত্বে সন্তানদের অবহেলার জন্য শাস্তির পাশাপাশি আমাদের সমাজের পরিবারের কর্তা বা কর্ত্রীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং পরিকল্পনা করতে হবে যেখানে তারা সীমিত সম্পদের মালিক হলেও তাদের শেষ সময়ের দিনগুলোর ব্যয়ের জন্য কিছু অর্থ এবং মৃত্যুর পরের কার্যক্রম তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী যেন হয় তার বন্দোবস্ত করে রাখা।
পরিবারের অনেক সদস্য এতে নারাজ হতে পারেন। কিন্তু দ্রুত পরিবর্তনশীল এই সমাজে এটা এখন অবশ্যই প্রয়োজন।
যে পিতা-মাতা স্বগর্বে তাদের তরুণ বয়সে সন্তানদের বড় করেছেন। বৃদ্ধ বয়সে তারা সন্তানদের করুণার পাত্র হয়ে থাকবেন, এটা তাদের জন্য অসম্মানের।