25/09/2026
আজ পূর্ণিমা। আজকের রাতটা একটু সচেতন থাকেন।
প্রতি বছরই একটা জিনিস বারবার চোখে পড়ে।
পূর্ণিমার আশেপাশে কিছু রোগীর ফোন বেড়ে যায়। কেউ বলে বুক ধড়ফড় করছে, কেউ বলে ঘুমের মধ্যে চাপ অনুভব হচ্ছে, কেউ বলে দুঃস্বপ্ন বেড়েছে, আবার কেউ বলে— “হুজুর, আজকে রুকইয়াহ করলে শরীরে রিঅ্যাকশন অন্য সময়ের চেয়ে বেশি হচ্ছে।”
আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলি।
কুরআন বা সহীহ হাদিসে “পূর্ণিমায় জাদু নবায়ন হয়” — এমন স্পষ্ট বক্তব্য নেই। কিন্তু বহু বছরের রুকইয়াহর ময়দানে অনেক রাকীর একটা তাজরিবা (অভিজ্ঞতা) আছে— এই সময় কিছু জাদুগ্রস্ত রোগীর উপসর্গ বেড়ে যায়, আর যাদুকরদের সাথে সংশ্লিষ্ট জ্বীনদের কার্যক্রমও বেশি অনুভূত হয়।
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা বুঝতে হবে।
আল্লাহ তাআলা সূরা আল-বাকারা ১০২ নম্বর আয়াতে জাদুর বাস্তবতা অস্বীকার করেননি। বরং জানিয়ে দিয়েছেন— জাদু দিয়ে মানুষ ক্ষতির চেষ্টা করতে পারে, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মাঝেও বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহর ইযন (বিধান ও তাকদীর) ছাড়া তারা কারও কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
এই “ইযন” কথাটা অনেকেই ভুল বোঝেন।
এর মানে এই না যে আল্লাহ জাদুকে ভালোবাসেন বা জাদুকরকে সাহায্য করেন। বরং বান্দার উপর আল্লাহর হেফাজতই আসল বিষয়। বান্দা যখন মাসনূন আমল ধরে রাখে, গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে, সকাল-সন্ধ্যার যিকির করে, আয়াতুল কুরসী পড়ে, সূরা ইখলাস-ফালাক-নাস পড়ে— তখন সে আল্লাহর সুরক্ষার বলয়ের ভেতরে থাকে। আর সেই হেফাজতের ভিতরে শয়তান বা জাদুকর নিজের ইচ্ছায় কিছুই করতে পারে না।
মজার বিষয় হলো, আধুনিক বিজ্ঞানও দেখায় যে পূর্ণিমার সময় চাঁদের মহাকর্ষ পৃথিবীর জোয়ার-ভাটায় প্রভাব ফেলে। রাতের আলোও বেড়ে যায়, আর কিছু গবেষণায় দেখা গেছে— কিছু মানুষের ঘুমের ধরণ, অস্থিরতা বা সার্কাডিয়ান রিদমে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে; যদিও এ বিষয়ে সব গবেষণা একমত নয়।
মানে বিজ্ঞান যা বলছে, সেটা জাদুর প্রমাণ না। কিন্তু এটাও মনে করিয়ে দেয়— মানুষের শরীর ও পরিবেশের মধ্যে সূক্ষ্ম প্রভাবের বিষয়গুলো একেবারে উড়িয়ে দেওয়ারও সুযোগ নেই।
তাই যদি আপনি রুকইয়াহ রোগী হন, কিংবা আগে থেকেই জাদু, হিংসা বা জিনের সমস্যায় ভুগে থাকেন— আজকের রাতটা অবহেলা করবেন না।
আজকের করণীয়—
* সকাল-সন্ধ্যার যিকির মিস করবেন না।
* আয়াতুল কুরসী পড়ুন।
* সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে পড়ে নিজের উপর ফুঁ দিন।
* ঘুমানোর আগে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ুন।
* বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন।
* গুনাহ থেকে যতটা পারেন দূরে থাকুন।
মনে রাখবেন—
শয়তান পরিকল্পনা করে, জাদুকর চেষ্টা করে; কিন্তু আল্লাহর হেফাজত থাকলে তাদের পরিকল্পনা ভেঙে যায়।
— জুহাইর মোহাম্মদ