SAHA Jabbaria Shopping POINT

SAHA Jabbaria Shopping POINT SAVE MONEY,HAPPY SHOPPING.

ভোটার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব যেমনি সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে আমানত সোপর্দ করা; তেমনি বিজয়ী প্রার্থীর নৈতিক দায়িত্ব হলো সেই আস্...
11/02/2026

ভোটার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব যেমনি সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে আমানত সোপর্দ করা; তেমনি বিজয়ী প্রার্থীর নৈতিক দায়িত্ব হলো সেই আস্থার অমর্যাদা বা খেয়ানত না করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে আমানত রক্ষায় নিষ্ঠাবান হওয়ার তৌফিক দিন।

ইয়েমেনের 'আরাশা' গোত্রের এক ব্যক্তি কিছু উট নিয়ে বিক্রি করার জন্য মক্কায় এল।  আবু জাহেল তার কাছ থেকে উটগুলো কিনল। কিন্তু...
24/12/2025

ইয়েমেনের 'আরাশা' গোত্রের এক ব্যক্তি কিছু উট নিয়ে বিক্রি করার জন্য মক্কায় এল। আবু জাহেল তার কাছ থেকে উটগুলো কিনল। কিন্তু টাকা দেওয়ার সময় সে টালবাহানা শুরু করল এবং গরিব লোকটির টাকা আটকে রাখল।

লোকটি ছিল বিদেশি মুসাফির। সে মক্কার কুরাইশদের এক মজলিসে গিয়ে ফরিয়াদ করল: "হে কুরাইশরা! আবুল হাকাম (আবু জাহেল) আমার টাকা দিচ্ছে না। কে আছে আমাকে তার কাছ থেকে আমার হক আদায় করে দেবে?"

কুরাইশরা নবীজি (সা.)-কে দেখিয়ে ঠাট্টা করে বলল: "ওই যে লোকটা বসে আছে (মুহাম্মদ সা.), তুমি তার কাছে যাও। সে তোমাকে বিচার পাইয়ে দেবে।"
(তারা আসলে মজা করছিল, কারণ তারা জানত আবু জাহেল নবীজির চরম শত্রু। তারা ভাবল, নবীজি সা. গেলে আবু জাহেল তাকে অপমান করবে, আর তারা সেটা দেখে মজা নেবে)।

সরলমনা লোকটি নবীজির কাছে গিয়ে বলল: "হে আল্লাহর বান্দা! আবুল হাকাম আমার টাকা মেরে দিয়েছে। এরা বলল আপনি নাকি আমাকে সাহায্য করতে পারবেন। আল্লাহর ওয়াস্তে আমার টাকাটা উদ্ধার করে দিন।"
রাসূলুল্লাহ (সা.) সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "চলো আমার সাথে।"

কুরাইশরা তখন তাদের এক সঙ্গীকে পাঠাল পিছু পিছু গিয়ে তামাশা দেখার জন্য।

নবীজি (সা.) আবু জাহেলের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়লেন। আবু জাহেল জিজ্ঞেস করল: "কে?"
নবীজি (সা.) বললেন: "মুহাম্মদ। বেরিয়ে এসো।"
আবু জাহেল বের হয়ে এল। কিন্তু তার চেহারা তখন ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, যেন শরীরে প্রাণ নেই।
নবীজি (সা.) বললেন: "এই লোকটার টাকা এখনই দিয়ে দাও।"
আবু জাহেল কোনো তর্ক না করে বলল: "জি, দিচ্ছি। একটু অপেক্ষা করুন।" সে ভেতরে গিয়ে সাথে সাথে টাকা এনে লোকটিকে দিয়ে দিল।

লোকটি খুশি হয়ে চলে গেল এবং মজলিসে এসে কুরাইশদের বলল: "আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন, তিনি আমার হক আদায় করে দিয়েছেন।"

কুরাইশরা অবাক হয়ে আবু জাহেলকে জিজ্ঞেস করল: "ছিঃ! তোমার কী হলো? তুমি মুহাম্মদের কথায় এত ভয় পেলে কেন? আমরা তো তোমাকে এমন ভীতু কখনো দেখিনি!"

আবু জাহেল কাঁপতে কাঁপতে বলল:
"তোমাদের ধ্বংস হোক! তোমরা জানো না আমি কী দেখেছি। যখন মুহাম্মদ দরজায় টোকা দিল এবং আমি তার গলার স্বর শুনলাম, আমার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল। আমি বের হয়ে দেখলাম—মুহাম্মদের মাথার ওপর এক বিশাল ও ভয়ঙ্কর উট দাঁড়িয়ে আছে। এমন বড় কুঁজ, এমন ঘাড় এবং এমন ধারালো দাঁতওয়ালা উট আমি জীবনে দেখিনি! আল্লাহর কসম! আমি যদি মুহাম্মদের কথা না শুনতাম, তবে ওই উটটি আমাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলত।"

(সূত্র: সীরাতে ইবনে হিশাম, ১ম খণ্ড)

রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন। খন্দকের যুদ্ধেও তিনি তাই করলেন। সাহাবি হযরত সালমান ফারসি (রা.) পরামর্শ দ...
22/12/2025

রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন। খন্দকের যুদ্ধেও তিনি তাই করলেন। সাহাবি হযরত সালমান ফারসি (রা.) পরামর্শ দিলেন মদিনার উত্তর দিকে (যেদিকটা খোলা ছিল) একটি পরিখা বা খন্দক খনন করার। এই পরামর্শ ছিল অত্যন্ত কার্যকর এবং সময়োপযোগী, যা মদিনাকে রক্তপাত ও ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছিল।

রাসূলুল্লাহ (সা.) শুধু নির্দেশ দেননি, তিনি নিজে সাহাবিদের সাথে কোদাল চালিয়ে মাটি কেটেছেন। বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন:
"আমি খন্দকের দিন নবীজিকে (সা.) দেখেছি তিনি মাটি বহন করছেন। তার শরীর ধুলোয় এমনভাবে ঢেকে গিয়েছিল যে তার বুকের লোম দেখা যাচ্ছিল না।"

সাহাবিরা এবং নবীজি (সা.) চরম অভাব ও ক্ষুধার মধ্যে ছিলেন। আনাস (রা.) বলেন: "সাহাবিরা পিঠে মাটি বহন করছিলেন এবং কবিতা আবৃত্তি করছিলেন, 'আমরা সেই জাতি যারা মুহাম্মদের হাতে বাইয়াত নিয়েছি, যতদিন বেঁচে থাকব ইসলামের ওপর অটল থাকব।' নবীজি (সা.) উত্তরে বলছিলেন, 'হে আল্লাহ! আখেরাতের কল্যাণ ছাড়া কোনো কল্যাণ নেই, তুমি আনসার ও মুহাজিরদের বরকত দাও।'

খাবার ছিল খুবই সামান্য। জাবের (রা.) বলেন: "ক্ষুধার তীব্রতায় নবীজি (সা.) তার পেটে পাথর বেঁধে রেখেছিলেন। আমরা তিন দিন ধরে কোনো দানাপানি মুখে দিইনি।" সামান্য খাবার খেয়েই তারা দিন কাটাতেন।

প্রচণ্ড শীত, ঝড়ো বাতাস এবং ক্ষুধার মধ্যেও সাহাবিদের মনোবল ছিল পাহাড়ের মতো।
খন্দকটি ছিল লম্বায় ৫০০০ হাত (প্রায় ৩ কি.মি.), চওড়ায় ৯ হাত এবং গভীরতায় ৭-১০ হাত। প্রতি ১০ জন সাহাবির ভাগে ৪০ হাত করে খনন করার দায়িত্ব ছিল।
এত প্রতিকূল পরিবেশেও তারা মাত্র ৬ দিনে এই বিশাল খন্দক খননের কাজ শেষ করেছিলেন।

(সূত্র: আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, যাদুল মাআদ,বুখারী,আস সীরাতুন নববীয়্যাহ,আহমদ)

খন্দক যুদ্ধের ঘটনা থেকে আমরা যা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি,

১. নবীজি (সা.) সব বিষয়ে জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন। সালমান ফারসি (রা.)-এর পরামর্শে খন্দক খনন তার প্রমাণ।
২. নেতা শুধু হুকুম দেন না, তিনি কর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। নবীজি নিজে মাটি কেটেছেন এবং পাথর বহন করেছেন।
৩. প্রচণ্ড শীত, ঝড় এবং ক্ষুধার মধ্যেও সাহাবিরা মনোবল হারাননি। পেটে পাথর বেঁধেও তারা দ্বীনের কাজ চালিয়ে গেছেন।
৪. আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা (খন্দক খনন) গ্রহণ করা ইসলামের শিক্ষা।

উরওয়া বিন মাসউদ কুরাইশদের পক্ষ থেকে দূত হয়ে নবীজি (সা.)-এর দরবারে এলেন। তিনি সাহাবিদের আচরণে খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু বিষয় প...
21/12/2025

উরওয়া বিন মাসউদ কুরাইশদের পক্ষ থেকে দূত হয়ে নবীজি (সা.)-এর দরবারে এলেন। তিনি সাহাবিদের আচরণে খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু বিষয় পর্যবেক্ষণ করলেন। তিনি দেখলেন,

১. নবীজি (সা.) যখন থুথু ফেলেন, তখন সাহাবিরা তা মাটিতে পড়তে দেন না। কেউ না কেউ তা হাতে নিয়ে নিজের মুখে ও শরীরে মেখে নেন।
২. নবীজি (সা.) কোনো হুকুম দিলে সাহাবিরা তা পালন করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন।
৩. নবীজি (সা.) যখন ওজু করেন, তখন তাঁর ওজুর ব্যবহৃত পানি নেওয়ার জন্য সাহাবিরা কাড়াকাড়ি করেন, যেন যুদ্ধ লেগে যাবে।
৪. নবীজি (সা.) যখন কথা বলেন, তখন সাহাবিরা তাদের আওয়াজ নিচু করে রাখেন এবং শ্রদ্ধার কারণে কেউ নবীজির মুখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকান না।

ফিরে গিয়ে উরওয়া কুরাইশ নেতাদের বললেন,
" হে আমার সম্প্রদায়! আমি অনেক বড় বড় রাজা-বাদশাহর দরবারে গিয়েছি। আমি রোম সম্রাট (কায়সার), পারস্য সম্রাট (কিসরা) এবং আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজ্জাশির দরবারেও গিয়েছি। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি এমন কোনো বাদশাহ দেখিনি, যার সঙ্গীরা তাকে এতটা সম্মান ও ভক্তি করে, যতটা মুহাম্মদের (সা.) সঙ্গীরা তাকে সম্মান করে।"
রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম

(সূত্র: সহীহ বুখারী, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে হিব্বান)

একদিন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এল। তার চেহারা থেকে তখনো রক্ত ঝরছিল। নবীজি (সা.) তাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, "তো...
21/12/2025

একদিন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এল। তার চেহারা থেকে তখনো রক্ত ঝরছিল। নবীজি (সা.) তাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার কী হয়েছে? তোমার এই অবস্থা কেন?"

লোকটি লজ্জিত হয়ে বলল:
"ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি রাস্তা দিয়ে আসছিলাম। হঠাৎ এক নারী আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। আমি তার দিকে তাকালাম এবং (শয়তানের ধোঁকায়) তার দিকে তাকিয়েই রইলাম। আমি সামনের দিকে না তাকিয়ে তার পিছু পিছু দৃষ্টি দিচ্ছিলাম।"

"হঠাৎ আমার সামনে একটি দেয়াল এসে পড়ল। আমি খেয়াল না করায় দেয়ালের সাথে আমার মুখের সজোরে ধাক্কা লাগল এবং আমার এই অবস্থা হলো (নাক-মুখ ফেটে রক্ত বের হলো)।"

এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তিনি তার পাপের শাস্তি দুনিয়াতেই তাড়াতাড়ি দিয়ে দেন। (যাতে সে তাওবা করার সুযোগ পায় ও আখেরাতের শাস্তি থেকে বেঁচে যায়।)"

(সূত্র: আল মুজামুল কাবির, যম্মুল হাওয়া- ইবনুল জাওযী রহ.)

খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) যখন মৃত্যুশয্যায়, তখন সাহাবি আবু দারদা (রা.) তাকে দেখতে গেলেন। খালিদ রা. বললেন:"হে আবু দারদা! যদি...
19/12/2025

খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) যখন মৃত্যুশয্যায়, তখন সাহাবি আবু দারদা (রা.) তাকে দেখতে গেলেন। খালিদ রা. বললেন:
"হে আবু দারদা! যদি উমর মারা যান, তবে তোমরা এমন অনেক কিছু দেখবে যা তোমরা অপছন্দ করবে।"
আবু দারদা বললেন, "আল্লাহর কসম, আমিও তাই মনে করি।"

খালিদ রা. তখন তার মনের কথা খুলে বললেন:
"উমরের প্রতি আমার মনে কিছু অভিমান ছিল। তিনি আমার সম্পদ ভাগ করেছিলেন, এমনকি আমার জুতো জোড়া পর্যন্ত ভাগ করেছিলেন। কিন্তু এখন এই অসুস্থ অবস্থায় চিন্তা করে বুঝলাম, উমর যা করেছেন, সব আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করেছেন।"

"তিনি আমার সাথে কঠোর ছিলেন, কিন্তু বদরী সাহাবিদের সাথেও তিনি এমনই কঠোর ছিলেন। আমি আত্মীয়তার খাতিরে তার কাছে ছাড় আশা করেছিলাম, কিন্তু তিনি আল্লাহর ব্যাপারে কারো আত্মীয়তা বা নিন্দার পরোয়া করেন না।"

"তিনি আমাকে সেনাপতির পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। পরে শুনলাম, তিনি আমার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি, রাসূল (সা.)-এর মামা সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)-কেও বরখাস্ত করেছেন। তখন আমার মন থেকে সব ক্ষোভ দূর হয়ে গেল।"

খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) বললেন,
"আমি মারা গেলে আমিরুল মুমিনীন উমর (রা.)-কে জানিও যে, আমি আমার অসিয়ত, সম্পদ, আমার মেয়েদের দায়িত্ব এবং আমার প্রতিশ্রুতি পালনের ভার তার ওপরই ন্যস্ত করে গেলাম।"

এরপর তিনি উঠে বসলেন এবং বললেন:
"যে রাতে আমার ঘরে কোনো প্রিয় নববধূর আগমন ঘটে, সেই রাত আমার কাছে ততটা প্রিয় নয়, যতটা প্রিয় সেই কনকনে শীতের রাত, যখন আমি সকালে শত্রুর ওপর আক্রমণের অপেক্ষায় থাকি।"

তিনি নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে আক্ষেপ করে বললেন:
"আমি শত শত যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আমার শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তলোয়ার, তীর বা বর্শার আঘাতের চিহ্ন নেই। অথচ আজ আমি বিছানায় শুয়ে উটের মতো স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করছি! "

খালিদ (রা.)-এর মৃত্যুর খবর শুনে খলিফা উমর (রা.) শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়লেন। তিনি বারবার বলতে লাগলেন, "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।"

তিনি মাথা নিচু করে বললেন:
"ইসলামে এমন এক ফাটল ধরল যা আর কখনো জোড়া লাগবে না। আল্লাহর কসম! খালিদ ছিলেন শত্রুর বুকে আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত এক দেয়াল। বনু মাখজুমের নারীদের অধিকার আছে খালিদের জন্য কাঁদার। খালিদের মতো বীরের জন্যই তো ক্রন্দনকারীরা কাঁদে।"

খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) কেন যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হলেন না? আলেমরা বলেন:
"খালিদকে রাসূল সা. 'সাইফুল্লাহ' (আল্লাহর তলোয়ার) উপাধি দিয়েছিলেন। আর আল্লাহর তলোয়ার কখনো যুদ্ধে ভাঙতে বা হারতে পারে না। তাই তার মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে, যাতে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর তলোয়ার অপরাজেয়।"

(সূত্র: সিয়ারু আলামিন নুবালা,আল-কামিল ফিত তারিখ - ইবনে আসির)

রিযিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২০টি গুনাহ।১. সুদ (Riba):যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আল্লাহ নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেখানে কখনো বারক...
19/12/2025

রিযিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২০টি গুনাহ।

১. সুদ (Riba):
যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আল্লাহ নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেখানে কখনো বারকাহ আসতে পারে না।
📖 রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারা ২৭৯ — “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা।”

২. অকৃতজ্ঞতা:
যে রিযিককে তুমি তুচ্ছ করো, সেটাই ধীরে ধীরে তোমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
📖 রেফারেন্স: সূরা ইবরাহীম ৭ — “কৃতজ্ঞ হলে বাড়িয়ে দেব, অকৃতজ্ঞ হলে শাস্তি কঠিন।”

৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা:
রিযিকের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক সরাসরি যুক্ত। সম্পর্ক কেটে দিলে রিযিকের দরজা বন্ধ হয়।
📖 হাদিস: “যে রিযিক বাড়াতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।” — বুখারি ২৯৮৬

৪. অসততা:
ব্যবসায় মিথ্যা বললে সাময়িক লাভ হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রিযিক নষ্ট হয়।

৫. প্রতারণা:
কারও হক মেরে খেলে প্রতিটি হারাম টাকা জীবনে অভাব ডেকে আনে।
📖 হাদিস: “যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের মধ্যে নয়।” — মুসলিম ১০২

৬. সালাত অবহেলা:
আজান–সালাত গুরুত্বহীন মনে করলে রিযিকের বারকাহ কমে যায়।
📖 হাদিস: “রিযিক সালাতে আছে।” — সহিহ অর্থে বহু বর্ণনায় প্রমাণিত

৭. গীবত:
অন্যের পিঠ পেছনে খারাপ বলা তোমার নিজ জীবনের বারকাহ খেয়ে ফেলে।
📖 সূরা হুজুরাত ১২

৮. অহংকার:
রিযিক উপহার, প্রমাণ নয় যে তুমি শ্রেষ্ঠ। অহংকার আসমানের দরজা বন্ধ করে দেয়।
📖 হাদিস: “যার অন্তরে অহংকারের অণু পরিমাণ থাকে, সে জান্নাতে যাবে না।” — মুসলিম ৯১

৯. যাকাত আটকে রাখা:
যাকাত না দিলে সম্পদ অপবিত্র হয়ে যায় এবং ধ্বংস হতে থাকে।
📖 সূরা তাওবা ৩৪-৩৫

১০. কর্মচারীদের ওপর জুলুম:
যাদের তোমার ওপর কিছুটা অধিকার আছে, তাদের হক না দিলে রিযিক শুকিয়ে যায়।
📖 হাদিস: “মজদুরের মজুরি ঘাম শুকানোর আগেই পরিশোধ করো।” — ইবন মাজাহ ২৪৪৩

১১. বেচাকেনায় প্রতারণা বা জিনিসের দোষ লুকানো:
এতে সম্পদের বারকাহ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়।

১২. লোভ:
যে শুধু আরও আরও চায় কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ বলে না—সে শেষ পর্যন্ত কম পায়।
📖 হাদিস: “মানুষের মন যদি দুই পাহাড় ভরা সম্পদ পায়, তবুও সে তৃতীয়টি চাইবে।” — বুখারি ৬৪৩৯

১৩. বাবা–মাকে অবহেলা:
তোমার রিযিক তাদের দোয়া বা অভিশাপের সাথে জড়িত।
📖 হাদিস: “রিযিক ও আয়ু বাড়ে বাবা-মাকে সন্তুষ্ট রাখলে।” — মুসলিম (হাসান সনদে বহু রেওয়ায়েতে প্রমাণিত)

১৪. জুলুম করে সম্পদ অর্জন:
জুলুমের সম্পদে কোনো বারকাহ নেই, বরং ধ্বংস ডেকে আনে।

১৫. সদকা অবহেলা:
সদকা কখনো সম্পদ কমায় না, বরং বাড়ায়।
📖 হাদিস: “সদকা সম্পদ কমায় না।” — মুসলিম ২৫৮৮

১৬. হিংসা:
অন্যের রিযিক দেখে মন খারাপ করা নিজের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।

১৭. নারীদের ও বাচ্চাদের প্রতি জুলুম:
যাদের যত্নের অধিকার সবচেয়ে বেশি, তাদের প্রতি অন্যায় করলে রিযিক উঠে যায়।

১৮. মিথ্যা কসম খাওয়া:
টাকা বা ব্যবসার জন্য মিথ্যা শপথ বারকাহ পুড়িয়ে ফেলে।
📖 বুখারি ২০৮৭

১৯. অলসতা:
রিযিক চেষ্টা করা মানুষের কাছে আসে। যারা চেষ্টা করে না, ভাগ্যও দরজা খোলে না।

২০. তাকদির নিয়ে অসন্তুষ্টি:
আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ করা ভবিষ্যতের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।

📖 হাদিস: “আল্লাহ্‌র সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকলে সে হৃদয়কে পরিপূর্ণ করেন।” — তিরমিজি ২৫১০

উট শয়তান থেকে সৃষ্ট সংক্রান্ত হাদীসের ব‍্যাখ‍্যা◼ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:“যদি তোমরা কেবল ভেড়ার থাকার জায়গা আর উটের পানির ধ...
18/12/2025

উট শয়তান থেকে সৃষ্ট সংক্রান্ত হাদীসের ব‍্যাখ‍্যা
◼ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“যদি তোমরা কেবল ভেড়ার থাকার জায়গা আর উটের পানির ধারে বিশ্রামস্থল ছাড়া আর কিছু না পাও, তবে ভেড়ার থাকার জায়গায় সালাত আদায় করো। আর উটের পানির ধারে বিশ্রামস্থলে সালাত আদায় কোরো না; কারণ উট শয়তান থেকে সৃষ্টি হয়েছে।”

— (বর্ণনাকারী: আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হাদীসের হুকুম: সহীহ, আল-আলবানী, সহীহুল জামে, হাদীস নং ১৪৩৯)



◼ ব্যাখ্যা:

নবী ﷺ আমাদের সালাতের বিধান, তার সুন্নাহ, আদব এবং কোন জায়গায় সালাত সহীহ হবে আর কোন জায়গায় হবে না—এসব সবই শিখিয়েছেন।

এই হাদীসে তিনি ﷺ বলেন: “যদি না পাও”, অর্থাৎ সালাতের জন্য উপযুক্ত জায়গা না পাও, “শুধু ভেড়ার থাকার জায়গা”—যেখানে ভেড়াগুলো থাকে ও বিশ্রাম নেয়, এবং “উটের পানির ধারের জায়গা”—যেখানে উটগুলো পানির পাশে বসে বিশ্রাম নেয়।

অর্থ: কেউ যদি সালাত পড়তে চায় কিন্তু কেবল ভেড়ার বাসস্থান বা উটের বিশ্রামস্থলই পায়, তখন—

“ভেড়ার থাকার জায়গায় সালাত পড়ো।”

আবূ দাউদে বর্ণিত আল-বারা ইবন আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে এসেছে: “ওখানে সালাত পড়ো, নিশ্চয়ই তাতে বরকত আছে।”

এটি নবী ﷺ এর পক্ষ থেকে ভেড়ার থাকার স্থানে সালাত পড়ার অনুমতি, কারণ সেগুলো নিরাপদ, কারো ক্ষতি করে না, আর তাতে বরকত রয়েছে—কারণ ভেড়ার স্বভাব শান্ত, নরম, আর নড়াচড়া কম।

“কিন্তু উটের বিশ্রামস্থলে সালাত পড়ো না; কারণ ওগুলো শয়তান থেকে সৃষ্টি।”

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে:

• হয়তো উট শয়তানের মতো এক ধরনের সৃষ্টির অংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

• অথবা উটের একটি গোত্র জিনদের পশুর (নাআমুল জিন) সাথে মিশ্রিত হয়েছিল।

• কিংবা সম্ভবত মূলত আগুন থেকে সৃষ্টি হয়েছে, যেমন জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে, এরপর প্রজননের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

• আবার বলা হয়, উটকে শয়তানের সাথে সম্পর্কিত বলা হয়েছে তাদের স্বভাব ও চরিত্রের কারণে, যা শয়তানের মতো—যেমন তাদের হঠাৎ উত্তেজনা, চঞ্চলতা ও ভয়ভীতি। আরবরা প্রতিটি অবাধ্য ও বেয়াদবকে “শয়তান” বলে থাকে।

অতএব, হাদীসটি স্পষ্টভাবে উটের বিশ্রামস্থলে সালাত পড়া থেকে নিষেধ করেছে।

শাইখ আবু বকর জাকারিয়া

07/10/2025

ইয়া রাসূল আল্লাহ

02/10/2025

সূরা হাদীদের ৩ নং আয়াতের আরবি পাঠ হলো:
هُوَ ٱلْأَوَّلُ وَٱلْآخِرُ وَٱلظَّاهِرُ وَٱلْبَاطِنُ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ

বাংলা অনুবাদ:
"তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই বাহ্যিক এবং তিনিই আভ্যন্তরীণ, আর তিনি প্রতিটি বিষয়ে সর্বজ্ঞ।"

ব্যাখ্যা (তাফসীর):

১. তিনিই প্রথম (الْأَوَّلُ): আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম সত্তা, যার কোনো শুরু নেই। তাঁর অস্তিত্বের কোনো আদি নেই। তিনি সবকিছুর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিলেন।

২. তিনিই শেষ (ٱلْآخِرُ): আল্লাহর অস্তিত্বের কোনো শেষ নেই। তিনি সকল বস্তুর বিনাশের পরও টিকে থাকবেন। সকল সৃষ্টির অবসান ঘটলেও তিনি অনন্তকাল বিরাজমান থাকবেন।

৩. তিনিই বাহ্যিক (ٱلظَّاهِرُ): আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ওপর প্রকাশ্য ও স্পষ্ট, তাঁর প্রমাণ ও নিদর্শনগুলো সবকিছুতে দেখা যায়। তিনি সকল সৃষ্টিকে তার আধিপত্য ও ক্ষমতা দিয়ে পরিবেষ্টিত করে রেখেছেন।

৪. তিনিই আভ্যন্তরীণ (ٱلْبَاطِنُ): আল্লাহ সকল বস্তুর অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত। মানুষের মনের গোপন কথা এবং প্রতিটি বস্তুর অন্তর্নিহিত বিষয় তাঁর অগোচর নয়।

৫. আর তিনি প্রতিটি বিষয়ে সর্বজ্ঞ (وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ): আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি বস্তুর, প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি বিষয়ের প্রতিটি খুঁটিনাটি জানেন। তাঁর জ্ঞান অসীম ও সর্বব্যাপী।

এই আয়াতটি আল্লাহর কয়েকটি গুণাবলি প্রকাশ করে: তাঁর আদ্যোপান্ত না থাকা, তাঁর অস্তিত্বের অসীমতা এবং তাঁর অসীম ও সর্বব্যাপী জ্ঞান ও আধিপত্য।

27/09/2025
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা গরুর গাড়ি থেকে সুপার সনিক কনকর্ড জেট দেখেছি। পোস্টকার্ড, খাম, ইনল্যান্ড লেটার থেকে শুরু করে আজক...
12/07/2025

আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা গরুর গাড়ি থেকে সুপার সনিক কনকর্ড জেট দেখেছি। পোস্টকার্ড, খাম, ইনল্যান্ড লেটার থেকে শুরু করে আজকের জিমেইল, ফেসবুক, হোয়াটস্যাপ পর্যন্তও করছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা টেলিগ্রাম এসেছে শুনলেই চৌদ্দগুষ্টির মুখ শুকিয়ে যেতে দেখেছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা পাটিতে বা পিঁড়িতে বসে ভাত খেয়েছি আর পিরিচে ঢেলে চা খেয়েছি সুরুৎ সুরুৎ শব্দে।
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা
ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে কানামাছি, বাঘবন্দি, ডাঙ্গুলি, দাড়িয়াবাধ, গোল্লাছুট, মার্বেল, হামকে পুলিশকে খেলেছি, বউলার আঠা দিয়ে কাগজের ঘুড়ি বানিয়ে আকাশে উড়িয়েছি, নাড়া (খড়/বিচালি), জাম্বুরা ইত্যাদি দিয়ে ফুটবল বানিয়ে খেলেছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা হ্যারিকেন আর কুপি বাতির আলোতে পড়াশুনা করেছি, বেত থেকে শুরু করে পাখার ডাঁটির মার খেয়েছি, খাটের নিচে বা কাঁথার মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়েছি দস্যু বনহুর, কুয়াশা, মাসুদ রানা, স্বপন কুমারের সিরিজ।
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা ফ্যান, এসি, হিটার, ফ্রিজ, গ্যাস, মাইক্রোওভেনের অস্থাবর সুখ ছাড়াই ছোটবেলা কাটিয়েছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা ঈগল, ইকোনো, রেডলিফ থেকে শুরু করে বমি করা সুলেখা কালি হাতে মেখে সেই হাত মাথায় মুছে ‘বাবরের যুদ্ধবৃত্তান্ত’ লিখেছি, বড়দের পকেটে বড় নিবের উইংসাং পেন দেখেছি আর নতুন বই-খাতার হাতে পেয়ে পাতা উল্টানোর আগে গন্ধ শুঁকেছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা বিনা টিফিনে স্কুলে গেছি, স্কুলে টিচারের হাতে বেতের বারি খেয়ে, বাড়ি এসে নালিশ করাতে সেকেন্ড রাউন্ড ফ্রি-স্টাইলে উত্তম মধ্যম সহ্য করেছি — দোষ তো আমাদের, নাহলে টিচার মারবেন কেন?
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা বড়দের সন্মান করেছি এবং এখনো করে যাচ্ছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা জোৎস্না রাতে ছাদে ট্রানজিস্টরে বিবিসি, ভয়েস অফ আমেরিকার খবর, অনুরোধের আসর গানের ডালির শেষ সাক্ষী।
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা টেলিভিশনে আলিফ লায়লা, ম্যাকগাইভার, টিপু সুলতান, মিস্টার বিন, টম এন্ড জেরি, রবিনহুড, সিন্দবাদ দেখার জন্য ছাদে উঠে অ্যান্টেনা ৩৬০° ঘুরিয়ে স্যিগনাল ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের ছিল বাঁশের আগায় অ্যান্টেনা, আর ছিল টিভি স্ক্রিনে পার্মানেন্ট ঝিরঝিরে ছবি, তাতে কোনো সমস্যাই হতো না, কারণ ওটা আমাদের জীবনের অঙ্গ হিসেবেই ধরা ছিল। গন্ডগোল যা পাকাতো তা হলো নিয়ম করে লোডশেডিং।
আমরাই শেষ জেনারেশন, যারা আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে আসার জন্য অপেক্ষা করেছি। ইচ্ছে করে একসাথে বৃষ্টিতে ভিজে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেছি, ঝিনুক দিয়ে কাটার বানিয়ে আম কেটে খেয়েছি, ম্যাচের বাক্স দিয়ে টেলিফোন বানিয়ে বন্ধুদের সাথে কথা বলেছি।
আমরাই শেষ জেনারেশন,

Address

Saha Jabbaria Shopping Point
Chakaria

Telephone

+8801794222323

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SAHA Jabbaria Shopping POINT posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to SAHA Jabbaria Shopping POINT:

Share