01/06/2026
আমাদের মা-বোনদের মধ্যে অনেক সময় এমন
কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা যায় যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং বিব্রতকর। এর মধ্যে অন্যতম হলো দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ বা অনিয়মিত পিরিয়ড। অনেক সময় বছরের পর বছর চিকিৎসা করার পরও এই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না। আজ এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবো। একে রুকইয়াহর পরিভাষায় 'সিহরুল ইস্তিহাজা' বা 'সিহরুন নাযীফ' (রক্তক্ষরণের জাদু) বলা হয়।
যখন কোনো জাদুকর কোনো মা বা বোনের জরায়ুর ওপর জিনের মাধ্যমে জাদু প্রয়োগ করে, তখন সেই জিনের খাদেম মহিলার জরায়ুতে গিয়ে অবস্থান নেয়। এটি মূলত জরায়ুর একটি শিরায় আঘাত করার মাধ্যমে রক্তক্ষরণ ঘটায়। এটি সাধারণ পিরিয়ড বা হায়য নয়, বরং এটি একটি রোগ বা শয়তানি আঘাত।
এই জাদু কেন এবং কিভাবে কাজ করে?
১. শয়তানের লাথি (আঘাত): হাদীস অনুযায়ী এটি শয়তানের একটি আঘাত। জাদুকর যখন জিনকে
নিযুক্ত করে, তখন সেই জিন মহিলার জরায়ুর বিশেষ শিরায় চাপ সৃষ্টি করে বা আঘাত করে, যার ফলে অনবরত রক্তক্ষরণ হতে থাকে।
২. ইবাদতে বাধা দেওয়া: এই জাদুর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মা-বোনদের ইবাদত থেকে দূরে রাখা। রক্তক্ষরণ চলতে থাকলে নামাজ, রোজা এবং কুরআন তিলাওয়াতে বিঘ্ন ঘটে এবং মানসিকভাবে তারা ভেঙে পড়েন।
৩. দাম্পত্য বিচ্ছেদ: দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণের ফলে স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক শারীরিক সম্পর্কে বাধা তৈরি হয়। জাদুকর চায় এর মাধ্যমে সংসারে অশান্তি এবং শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ ঘটাতে।
৪. শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীর নিস্তেজ হয়ে যায়, চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে এবং রোগী চরম বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে ভোগেন।
এই জাদুর প্রধান লক্ষণসমূহ:
- মাসিক শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষরণ চলতে থাকা (ইস্তিহাজা)।
- পিরিয়ডের সময় হঠাত অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া এবং কালচে বা দুর্গন্ধযুক্ত রক্ত যাওয়া।
- তলপেটে এবং কোমরের নিচের অংশে স্থায়ী এবং তীব্র ব্যথা হওয়া।
- রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার আগে হঠাত বুক ধড়ফড় করা বা প্রচণ্ড ভয় পাওয়া।
- স্বপ্নে নিজেকে রক্তে ভেজা অবস্থায় দেখা বা কেউ আপনার পেটে আঘাত করছে এমন দেখা।
- রুকইয়াহ শুনলে জরায়ুর আশেপাশে কাঁপনি বা নড়াচড়া অনুভব করা।
=================================
এই সমস্যাটি যে জিনের আঘাত হতে পারে তার স্পষ্ট দলিল হাদীসে রয়েছে।
১. হাদীসের দলিল (রাসুলুল্লাহ সা.-এর বর্ণনা): হজরত হামনাহ বিনতে জাহাশ (রা.) যখন দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ নিয়ে রাসুল (সা.)-এর কাছে আসলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "এটি শয়তানের আঘাতসমূহের মধ্য থেকে একটি আঘাত।" (সুনানে তিরমিজি: ১২৮, আবু দাউদ: ২৮৭)। অর্থাৎ শয়তান জরায়ুর শিরায় আঘাত করে রক্ত বের করে দেয়।
২. রক্তক্ষরণ বন্ধের ও জাদু ধ্বংসের আয়াত (সূরা হূদ: ৪৪): (এটি রক্ত বন্ধের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী আয়াত)
وَقِيلَ يَا أَرْضُ ابْلَعِي مَاءَكِ وَيَا سَمَاءُ
أَقْلِعِي وَغِيضَ الْمَاءُ وَقُضِيَ الْأَمْرُ
৩. জাদু ও শয়তানি প্রভাব নষ্টে (সূরা ইউনুস: ৮১-৮২):
فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ
مُوسَىٰ مَا جِئْتُم بِهِ السِّحْرُ ۖ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ ۖ إِنَّ
اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ (৮১) وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ
بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ (৮২)
৪. আরোগ্যের আয়াত (সূরা বনী ইসরাঈল: ৮২):
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ
شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
বিশেষ রুকইয়াহ দোয়া (রক্তক্ষরণ ও জরায়ুর সুরক্ষা পেতে ৪টি দোয়া):
১)
اللَّهُمَّ أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ اسْتَقَرَّ فِي الْأَرْحَامِ وَسَبَّبَ النَّزِيفَ وَالِاسْتِحَاضَةَ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আবতিল কুল্লা সিহরিন ইস্তাকারা ফিল আরহামি ওয়া সাব্বাবান নাজীফা ওয়াল ইস্তিহাদা।
অর্থ: হে আল্লাহ! জরায়ুর ভেতর গেড়ে বসা প্রতিটি জাদু যা রক্তক্ষরণ ও ইস্তিহাজা সৃষ্টি করছে, তা আপনি বাতিল করে দিন।
২)
اللَّهُمَّ أَخْرِجْ كُلَّ جَانٍّ سَكَنَ الرَّحِمَ وَأَفْسَدَ الدِّمَاءَ وَأَهْلَكَ الصِّحَّةَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আখরিজ কুল্লা জাান্নিন সাকানা র-রাহিমা ওয়া আফসাদা দ্দিমাআ ওয়া আহলাকা স্সিহহাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! যে জিন জরায়ুতে বাস করে রক্ত দূষিত করছে এবং স্বাস্থ্য নষ্ট করছে, তাকে আপনি বের করে দিন।
৩)
اللَّهُمَّ فُكَّ كُلَّ عُقْدَةٍ سِحْرِيَّةٍ تَمْنَعُ الطُّهْرَ وَالْعِبَادَةَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ফুক্কা কুল্লা উকদাতিন সিহরিয়্যাতিন তামনাউত তুহরা ওয়াল ইবাদাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! পবিত্রতা ও ইবাদতে বাধা সৃষ্টিকারী জাদুর প্রতিটি গিঁট আপনি চূর্ণ করে দিন।
আপনার করণীয় ও ব্যবহারিক প্রতিকার:
- মেডিকেল চেকআপ: প্রথমেই অবশ্যই একজন ভালো গাইনী ডাক্তারকে দেখান। যদি কোনো ডাক্তারি কারণ বা ওষুধে কাজ না হয়, তবে দ্রুত রুকইয়াহর দিকে মনোযোগ দিন।
- রুকইয়াহ পানি ও মধু: ওপরের আয়াত ও দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। সেই পানি সারাদিন পান করুন এবং সকালে খালি পেটে পড়া মধু সেবন করুন।
- তেল মালিশ: রুকইয়াহ করা যয়তুনের তেল প্রতিদিন রাতে নাভির নিচে ও তলপেটে মালিশ করুন।
- পড়া পানি দিয়ে ইস্তিনজা: রুকইয়াহ করা পানি ব্যবহার করে শৌচকার্য সম্পাদন করা এই জাদুর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
- হিজামা: কোমরের নিচে এবং জরায়ুর পয়েন্টে হিজামা করালে জাদুর বিষক্রিয়া ও জিনের প্রভাব দ্রুত কমে যায়।
কেন আমাদের শরণাপন্ন হবেন?
মা-বোনদের এই সমস্যাগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ জরায়ুর ক্যান্সার বা স্থায়ী বন্ধ্যাত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আমরা চাঁদপুর শিফা ওয়ে রুকইয়াহ সেন্টার-এ দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে মা-বোনদের জন্য বিশেষ গোপনীয়তা রক্ষা করে রুকইয়াহ সেশন পরিচালনা করি। আল্লাহর রহমতে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে বহু বোন এই মরণব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
📍আমাদের ঠিকানা: চাঁদপুর সদর, Chandpur Diabetic Hospital এর পাশে, ফেমাস
স্পেশালাইজড হসপিটাল সংলগ্ন।
📞 অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য যোগাযোগ করুন: 🟢 হোয়াটসঅ্যাপ: 01602-760864
📞 সরাসরি
কল: +8801714513577
অন্যান্য বোনদের সচেতন করতে এবং সাদকায়ে জারিয়ার নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করুন।
#রক্তক্ষরণের_জাদু #ইস্তিহাজা #রুকইয়াহ #মা_বোনদের_সমস্যা #জিনের_আছর
#জরায়ুর_সুরক্ষা #ইসলামিক_চিকিৎসা #শিফা
#চাঁদপুর_শিফা_ওয়ে_রুকইয়াহ_সেন্টার #রাক্বি_শরিফ_মাহমুদ #রাক্বি_খালেদ_সাইফুল্লাহ