03/06/2024
পান্তা ভাত
Fermented Rice
জেনে নিন অবিশ্বাস্য উপকারিতা
কথায় বলে মাছে ভাতে বাঙ্গালী। তারপরও পান্তা বললেই লোকেরা ফেলা ফেলা ভাব দেখায়। অথচ আবহমান কাল থেকেই আমাদের পূর্বপূরুষরা পান্তা খেয়েই সুস্থ জীবন আর দীর্ঘায়ুর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এ খাবারটি শুধু বাংলাতেই নয়, ভিয়েতনাম, উড়িষ্যা, তামিলনাড়–, চীনসহ অনেক দেশেই খুব জনপ্রিয় একটি খাবার।
কী রয়েছে পান্তা ভাতে?
পান্তা নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পরিচালনা করেন ভারতের আসাম কৃষি বিশ্ব দ্যিালয়ের কৃষি জৈব বিভাগের অধ্যাপক ড. মধুমিতা বড়–য়া। বিবিসির মতে এটিই পান্তা নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ গবেষণা। গবেষণায় উঠে এসেছে পান্তা ভাতের অবিশ্বাস্য উপকারীতার বিষয়টি। এ বিষয়ে জানার পর এখন থেকে আমি মনে করি আপনি কখনো পান্তা থেকে দূরে থাকবেন না। চলুন তাহলে দেখা যাক পান্তায় কী রয়েছেÑ
পান্তা ভাতে রয়েছে
পর্যাপ্ত মিনারাল, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও জিংক।
রয়েছে ভিটামিন
ভিটামিন বি-৬, বি-১২, ভিটামিন কে।
প্রশ্ন হচ্ছে ভাতে কী এসব নেই?
হ্যাঁ, এসব ষাধারণ ভাতেও আছে তবে পরিমাণে অনেক অনেক কম। তা কেমনÑ
প্রথমত আয়রনের কথাই যদি ধরি, তাহলে ১০০ গ্রাম সাধারণ ভাতে-৩.৫ মিলি, পান্তা ভাতে ৭৩.৯ মিলি, প্রায় ২১ গুণ বেশি আয়রন রয়েছে।
ক্যালসিয়াম- ১০০ গ্রাম সাধারণ ভাতে ২১ মিলিগ্রাম। আর ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে রয়েছে ৮৫০মিলিগ্রাম পায় ৪০ গুণ বেশি।
এছাড়া পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও ঝিংকের পরিমাণও বেড়ে যায় বহু বহু গুণে।
কী ভাবে ঘটে এই পরিবর্তন
আসলে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত ভাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় তখন এই প্রক্রিয়াকে বলে ফার্মান্টেশন বা গাজন। আর এই ফার্মান্টেশন বা গাজন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সাধারণ ভাত রূপান্তরিত হয় পান্তা ভাতে। তারপরি ঘটে মিনারাল, ভিটামিন সহ অন্যান্য নানা উপাদানের অবিশ্বাস্য পরিবর্তন।
ফাইটিক এসিড
কব্জা থেকে বেরিয়ে আসে এবং সহজেই শোষিত হয়ে রক্তে প্রবেশ করে। ভাতে রয়েছে একটি বিশেষ উপাদান ফাইটিক এসিড। ফাইটিক এসিড একটি শক্তিশালী এ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের জন্যে একটি উপকারী উপাদান। আবার ফাইটিক এসিড এন্টি নিউট্রিয়েন্ট, মানব দেহ এই ফাইটিক এসিড ভাংতে পারে না। এই ফাইটিক এসিড আয়রন, কেলসিয়াম, পটাসিয়াম, মগনেসিয়াম ও ঝিংক-কে বেঁধে রাখে এবং শোষণে বাধা দেয়। ফলে আপনি যখন ভাত খাচ্ছেন ভাতের মধ্যে যে মিনারাল রয়েছে তা ঠিক মতো শোষিত হতে পারছে না, কারণ ফাইটিক এসিড একে ধরে রাখছে। কিন্তু আপনি যখন এই ভাতকে পান্তায় রূপান্তরিত করলেন তখনি দুর্বল হয়ে পড়ে ফাইটিক এসিড। ফলে এসব মিনারেল তার কব্জা থেকে বেরিয়ে আসে এবং সহজেই শোষিত হয়ে রক্তে প্রবেশ করে।
অবাক করা ব্যাপার
পান্তা ভাতে রয়েছে
পর্যাপ্ত পরিমান উপকারী বেকক্টেরিয়া প্রোবায়োটিকস্, যা সাধারণত দৈয়ে পাওয়া যায়।
পান্তা ভাতে রয়েছে ..বিটা-সিটোস্টেরল কেম্পেস্টেরল এর মতো মেটাবোলাইটস যা দেহকে প্রদাহ থেক রক্ষা করে।
আমরা জানি আজ যে এতো হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ফেটিলিভার ডিজিজ এই রোগ গুলোর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে, ক্রনিক ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ এবং পান্তা ভাত এই প্রদাহ প্রশমিত করতে সাহায্য করে।
(আসছে শেষ অংশ)