21/08/2026
"ভয়ের বিজনেস মানেই সফলতা"
জাহাঙ্গীর কবির বলে আমেরিকা যুক্তরাজ্য সারা বিশ্বের ঔষধ ব্যাবসা টিকিয়ে রেখেছে, তাদের কথা শোনা যাবে না। WHO হচ্ছে ঔষধ কোম্পানীগুলোর এজেন্ট। কিন্তু নিজে যখন ডিব্বা বিক্রি করে তখন জোর গলায় বলে, এটা আমেরিকান প্রোডাক্ট, এটা লন্ডনের প্রোডাক্ট, USDA অর্গানিক সার্টিফাইড। আমি চীন্ থেকে প্যাকেজিং করাই না, আমেরিকা থেকে প্যাকেজিং করাই। এখান থেকেই বোঝা যায় ব্যাটা কতবড় প্রতারক। আমেরিকার ঔষধনীতি খারাপ, কিন্তু খাবারেরনীতি ভালো। আরে যারা মানুষকে রোগী বানিয়ে রাখতে চাইবে তারা ঔষধ দিয়েও রোগী বানিয়ে রাখতে চাইবে আবার খাবার দিয়েও রোগী বানিয়ে রাখতে চাইবে। তাই খারাপ হলে আমেরিকার ঔষধনীতি আর খাবারেরনীতি দুইটায় খারাপ।
ডাক্তাররা নাকি টেস্টের কমিশন বানিজ্য করে। একটু ব্যাপার আপনাদের জানিয়ে রাখি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো হয়ত ডাক্তারদের জন্য একটা পার্সেন্টেজ রাখে। কিন্তু প্রতিটা ডাক্তার সেই পার্সেন্টেজটা রোগীদের জন্য ডিস্কাউন্ট করে দেয়। ফলে কোন টেস্ট থেকে ডাক্তাররা কোন কমিশন পায় না। হয়ত অল্প কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে। কিন্তু জাহাংগীর কবির নিজের ল্যাবে টেস্ট করায়ে পুরো লাভ+কমিশন দুইটাই নিজের পকেটে চালান করে। এবার বুঝে নেন, কে টেস্ট বানিজ্য করে😄😄
অলিভ অয়েল নিয়ে বিজ্ঞাপনে সেইম কথা বলে। বলে USDA সার্টিফাইড তেল, আমেরিকা থেকে নিয়ে এসেছে। এবার বলে আপনি খোজ নিয়ে দেখবেন, আমেরিকা কানাডায় এই মানের তেলের দাম কত। আমেরিকা কানাডায় জাহাঙ্গীর কবিরের তেলের মানের তেলের দাম অনেক বেশি, কিন্তু জাহাঙ্গীর কবিরের কাছে অনেক কম। তাহলে জাহাঙ্গীর কবির তো ঐ সকল দেশ থেকে আমদানি করে, ভ্যাট ট্যাক্স পরিবহন ফি আছে। এতো খরচ করে বাংলাদেশে আনার পর উনার তেলের দাম আমেরিকা কানাডার চেয়ে কিভাবে কম হয়??? এখন বুঝতে পারছেন, ভন্ডামিটা কোথায়??
ঠিক যেভাবে গাজিপুরের ঘি আর সরিষার তেল অর্গানিক হয়, ঠিক একইভাবে মেইড ইন জিঞ্জিরার প্রোডাক্টও অর্গানিক হয়। জিঞ্জিরায় বিশ্বের সকল প্রোডাক্ট নিখুতভাবে প্যাকেজিং করা যায় এবং প্রয়োজনীয় সকল লেভেল লাগানো যায়।
সম্ভবত ২০১৯ সাল থেকে তার এই লোক ঠকানোর ব্যাবসা শুরু হয়েছে। ডাক্তার দেখানো ফ্রি, পুষ্টিবিদের পরামর্শ ফ্রি, তাহলে মাত্র সাত বছরে সে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক কিভাবে হলো? এটা কিভাবে সম্ভব সেটা একটু মাথা খাটালেই বুঝতে পারবেন। অনেক ডাক্তার আছেন যারা ১৫ বছর ডাক্তারি করেও একটা রি-কন্ডিশন গাড়ি কিনতে পারে না। আর জাহাঙ্গীর কবির মাত্র কয়েক বছরেই বিলাসবহুল গাড়ি চড়েন।
উনার ব্যাবসা হচ্ছে ভয় দেখানো। ভাত চিনি, রুটি চিনি, ফল চিনি, দুধ চিনি এসব ভয় দেখিয়ে উনি ব্যাবসা করেন। আচ্ছা একজন নবজাতক তো ছয়মাস পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু খায় না। তাহলে কি কি সে সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে না??? আমরা কি ভাত রুটি ফল দুধ চিনি খেয়ে বেচে নেই নাকি আমরা সবাই অসুস্থ?
আমি ভাত রুটি ফল দুধ চিনি সবকিছু খায়। খিচুড়ি বিরিয়ানী আমার পছন্দের খাবার, এগুলোও আমি নিয়মিত খাই। আমি কি অসুস্থ হয়ে গেছি? না, আলহামদুলিল্লাহ আমি যথেষ্ট সুস্থ আছি। জাহাঙ্গীর কবিরের বয়স আমার চেয়ে হয়ত কিছুটা বেশি। আমি আমার ফুল বডি চেক করাবো আর কবিরাজ মহাশয়ও নিজের ফুলবডি চেক করাবে। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, আমার সকল রিপোর্ট উনার চেয়ে ভালো আসবে ইনশাআল্লাহ।
উনি কাকা মাকা পাউডার বিক্রি করে নারী এবং পুরুষের যৌ*ন*শ*ক্তি বাড়াচ্ছেন। আপনি কি ভেবে দেখেছেন এতে আপনি নিজের কতবড় সর্বনাশ করছেন?? যেটা সৃষ্টিকর্তা আপনাকে খুব স্বাভাবিকভাবেই দিয়েছেন, সেটা বাড়ানোর জন্য কাকা মাকা পাউডার কেন খেতে হবে? এটা খাওয়ার পরে আপনি যখন খাওয়া বাদ দিবেন তখন আপনি নিজের স্বাভাবিক ক্ষমতাও হারাবেন। এটি যৌ*ন উত্তেজক হিসাবে কাজ করে। ভায়াগ্রা খাওয়া যদি স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ হয় তাহলে কাকা মাকা খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আপনি যদি আপনার যৌ*নতার অপব্যাবহার করেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই এটা দুর্বল হবে। সেক্ষেত্রে আপনাকে জাহাঙ্গীর কবিরাজ বা অন্য যেকোন কবিরাজ বা ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে।
উনি আপনাকে মাসে ১৫০০ টাকার ঔষধ বন্ধ করায়ে ১৫০০০টাকার ডিব্বা ধরায়ে দিচ্ছেন। আসলে বাঙালীর মগজ ধোলাই করতে পারলে তাদেরকে গু খাওয়ানোও সম্ভব। এজন্যই মাদুলি আর তাবিজের জমজমাট ব্যাবসা করা সম্ভব হয়।
আর এটাই উনার বিজনেস।
উনি শুধু ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ভয় দেখান। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কি কারনে হয়েছে সেটা কিন্তু বলেন না। উনি বলেন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয়েছে তাই ওজন বাড়ছে, ওজন কমছে না, সুগার কমছে না। মেয়েদের PCOS হচ্ছে বা অন্যান্য হরমোনের ইমব্যালান্স হচ্ছে। আসলে ঘটনা উল্টো, আপনার ওজন বেড়েছে বলেই আপনার ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হয়েছে। তাই সবার আগে ওজন কমাবেন। ওজন কমাতে কোন অর্গানিক পন্য খাওয়া লাগে না। বাড়ির খুব স্বাভাবিক খাবারটাই যথেষ্ট, শুধু একটু বুঝেশুনে খেতে হবে।
আমার কাছে যারা ওয়েট লসের জন্য আসেন, তাদের কে আমি ভাত রুটি ফল দুধ এগুলোই খেতে বলি। এগুলো খেয়েই তারা ওজন কমাচ্ছেন। আমার ডায়েট চার্ট মেইন্টেন করেছেন কিন্তু ওজন কমে নাই, এমন ঘটনা একটাও নাই। মেইন্টেন করলেই ওজন কমেছে, হয়ত কারো একটু বেশি কমছে আর কারো একটু ধীরে কমছে। গত সপ্তাহে নাসিরাবাদের একজন টিনএজ ছেলে ফলোআপে এসেছিলেন। উনি ৩৫ দিনে ৯ কেজি ওজন কমিয়েছেন, সবধরনের স্বাভাবিক খাবার খেয়ে। উনাকে ভিটামিন ডি ক্যাপসুল ছাড়া একটাকারও সাপ্লিমেন্ট খেতে বলিনি। আর সে তার নিজের ইম্প্রুভ দেখে নিজে থেকেই নিজের ছোট বোন আর নানুকে চেম্বারে নিয়ে এসেছে।
আমার কাছে অনেকেই আছেন, যারা ডায়েট চার্ট মেইন্টেন করে ডায়াবেটিসের ঔষধ/ইনসুলিন কমিয়েছেন বা বাদ দিয়েছেন। অনেকেই ফ্যাটিলিভার বা উচ্চ রক্তচাপ থেকে মুক্ত হয়েছেন। তাদেরকেও আমি খুব সাধারণ ডায়েট প্ল্যান ছাড়া অন্য কোন ডিব্বার পণ্য খেতে বলিনি।
করনীয় কি?? করনীয় হচ্ছে সবার আগে ঘুমের শিডিউল ঠিক করবেন। সময়মত এবং পরিমানমত খাবার খাবেন। কোন খাবারই অতিরিক্ত খাবেন না। প্রতিদিন যেকোন একবেলা অন্তত একটানা ৪৫-৬০ মিনিট হাটবেন বা ব্যায়াম করবেন। এই ব্যায়ামটাই হচ্ছে সর্বরোগের ঔষধ। সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন ২০-২৫ মিনিট করে শরীরে রোদ লাগাবেন।
এখন আপনি হয়ত বলবেন, জাহাঙ্গীর কবির তো একই কথা বলে। হ্যা বলে, তাই এগুলো নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। আমি সেইম কথাগুলোই আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই মানে প্রায় ১২ বছর আগে থেকেই বলি। আমার প্রতিটা ডায়েট চার্টে এই কথাগুলো প্রিন্ট করে লেখা থাকে।
নিজে সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন করুন। নিজের জীবনকে গিনিপিগ বানাবেন না।