আশ শেফা মধুঘর

আশ শেফা মধুঘর ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মধু বিপননকারী প্রতিষ্ঠান।

19/07/2026

ধারাবাহিকঃ মধুর আড্ডা

পর্ব ১

স্থানঃ রাজা ভাই এর টি স্টল

[ সন্ধ্যার আড্ডা বেশ জমে উঠেছে।আজকের আড্ডায় রয়েছেন শ্রীযুক্ত প্রশ্ন প্রসেনজিৎ, প্রশ্ন করাই যার নেশা।

আছেন জনাব হাবলু হাওলাদার, সহজ-সরল মানুষ, সবকিছু নিজের মতো করে বোঝার চেষ্টা করেন।

জনাব জ্ঞানী গাফ্ফার, সব বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মতামত দেন; ভুল হলেও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি নেই। আড্ডার সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য।

উপস্থিত আছেন মধু জাফর, মধু নিয়ে গবেষণা করেন, পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তা। আছেন মধু জাফরের বড়ো ভাই মধু মনির, দুজনই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ মধু ব্যবসায়ী।

আরও আছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সন্দেহ খন্দকার, সহজে কাউকে বিশ্বাস করেন না, সবকিছুতেই প্রশ্ন খোঁজেন।

আছেন ম্যাডাম মমতা, স্থানীয় সরকারী প্রাইমারী স্কুলের অঙ্কের টিচার, সাধারণ ভোক্তার প্রতিনিধি; নতুন মা হয়েছেন, নিজের সন্তানের নিরাপত্তাকেই প্রায় সব সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি মনে করেন।

প্রফেসর প্রবাল স্যারও আছেন, সিদ্বেশ্বরী কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক; সবার কথা আগে শোনেন, পরে বলেন।

আর আছেন রাজা ভাই, এই টি-স্টলের মালিক, যার দোকানই এই আড্ডার স্থায়ী ঠিকানা। ]

প্রশ্ন প্রসেন্জিৎঃ আচ্ছা, সবাইকে একটা প্রশ্ন করি। ধরন, যখন একজন ক্রেতা এক বোতল মধু কিনে নিয়ে যান, তখন আসলে কী কিনেন? একটা বোতল... নাকি একটা বিশ্বাস?

হাবলুঃ (মাথা চুলকাতে চুলকাতে) কিহ! বিশ্বাস তো মানুষ মানুষরে করে, কিনে আবার কবে থেইকা? আবার কও তো... কিছুই বুঝলাম না!

প্রশ্ন প্রসেন্জিৎঃ আচ্ছা থাক, এইটা বাদ। সহজ একটা প্রশ্ন করি। বাংলাদেশের মধুর বাজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?

হাবলুঃ (আবার মাথা চুলকায়। আকাশের দিকে তাকায়।) উমম...

জ্ঞানী গাফ্ফারঃ আরে হাবলু, তুই থাম, আর উম উম করিস না, আমি কইতাছি। (আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে) সবচেয়ে বড় সমস্যা হইল ভেজাল! চারদিকে ভেজাল আর ভেজাল। ( চোখ টিপে ) সব দুই নম্বরি, আয়নাবাজি, বোঝো নাই ব্যপারটা?

প্রশ্ন প্রসেন্জিৎঃ হুম... কিন্তু বাজারে তো খাঁটি মধুও আছে, তাই না?

জ্ঞানী গাফ্ফারঃ আছে, সেগুলা চিনতে হইলে টেকনিক জানতে হয়। মধু ঢাইলা দেখা লাগে ঘন কেমন, খাইয়া দেখা লাগে গলায় ধ্বাক লাগে কিনা। মধু খাওনের সাথে সাথে শরীলটা হিট হইয়া যাবে, তারপর সারা শরীলে চিকন ঘাম দিবে। তারপর আরও আছে, কাগজে দিয়া আগুন ধরাইবা, হাতের উপর ঘষবা, চুন দিয়া পরীক্ষা করবা..

প্রশ্ন প্রসেন্জিৎঃ বাপরে! থামো থামো!
এত কিছু করলে তো মধু কেনার চেয়ে পরীক্ষা করতেই দিন শেষ! তাইলে বোঝা গেল, তোমার মতে খাঁটি মধু চেনা তেমন কঠিন কিছু না, সহজই?

জ্ঞানী গাফ্ফারঃ হ, একদম সোজা, এক্কেবারে পানিইইইর মতো..

মধু জাফরঃ আচ্ছা গাফ্ফার, ধরো, তোমার সামনে আমি দুইটা মধুর বোতল রাখলাম। দুইটার বোতলও এক, দুইটার রংও এক, দুইটার গায়েই লেখা খাঁটি মধু। এখন কও তুমি কোনটা নিবা?

জ্ঞানী গাফ্ফারঃ তখন আমার টেস্ট শুরু করমু..ঢালমু...ঘষমু...খামু...আগুন জ্বালাই দিমু...

মধু জাফরঃ আচ্ছা, ধরো, তোমার পরীক্ষাতে দুইটা মধুই পাশ করল। এখন?

জ্ঞানী গাফ্ফারঃ এ্যাঁ?

হাবলুঃ কী হইল? টেস্ট শেষ?

জ্ঞানী গাফ্ফারঃ (হালকা লজ্জা পেয়ে) দাড়াও, বলতেছি, আমি তখন... যেই বোতলের মালিকরে বেশি সৎ মানুষ মনে হইব, তারটাই কিনুম।

(সবাই হো হো করে হেসে ওঠল )

প্রশ্ন প্রসেন্জিৎঃ মানে, শেষ পর্যন্ত তুমি মধুর পরীক্ষা না, মানুষের পরীক্ষাই করলা?

জ্ঞানী গাফ্ফারঃ ( বিভ্রান্ত হাসি হেসে ) হ... তাইই ত করলাম দেখা যায়..

সন্দেহ খন্দকারঃ তবুও আমার সন্দেহ আছে। মানুষ হয়ত দেখতে ভাল, কিন্তু ধরেন, মধু দুইজনেরটাই নকল, তখন?

জ্ঞানী গাফ্ফারঃ তাইলে আবার আমার পরীক্ষা শুরু..

সন্দেহ খন্দকারঃ আরে রাখো! তোমার ওইসব পরীক্ষার মধ্যেও সন্দেহ আছে। ওইসব টোটকা-ফোটকার ওপর এখন আর আগের মতো মানুষ ভরসা করে না, আর আমি তো করিই না!

মধু মনিরঃ আমার ৩০ বছর ধরে মধুর ব্যবসা। একদিনে একটা জিনিস শিখছি, নতুন একজন ক্রেতা দোকানে ঢুকেই প্রথমে মধু দেখে না। সে কথা শোনার আগে, সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমাকে দেখে, ভাগ্য ভাল আমার দাড়ি আছে, সবসময় পাণ্জাবী পরি, আমার লুকিং দেখে মানুষ দেখে কিছুটা ভরসা পায়..ব্যবসা শুরু করার পর একটা জিনিস বুঝছি, অনেকেই প্রথমে বলে, ভাইা, খাঁটি তো? তারপর কি বলে জানেন? আচ্ছা, আপনার ওপর ভরসা করে নেই, আপনে যেইটা ভালো হবে, সেই মধুটাই দেন।

নতুন মা মমতাঃ আমি শুধু চাই আমার ছোট্ট বাচ্চাটা নিরাপদে থাকুক। আমি বিজ্ঞানী না, মধু দেখে বুঝবও না, তাই এমন কারও কাছ থেকে কিনতে চাই, যাকে অন্তত বিশ্বাস করা যায়..

প্রশ্ন প্রসেন্জিৎঃ হুম! এখানে শুধু মধুর লেনদেন হচ্ছে না। এখানে বিশ্বাসেরও লেনদেন হচ্ছে। এইজন্যই, প্রথমেই আমি এই প্রশ্নটাই করছিলাম, হাবলু তখন বোঝে নাই, মধু কেনার সময় আমরা কি কিনি, একটা বোতল, নাকি একটা বিশ্বাস?

মধু জাফরঃ দাদা, আপনার প্রশ্নটাই আসলেই গুরুত্বপুর্ন। আমরা মনে করি আমরা মধু কিনি। কিন্তু আসলে আমরা এমন একজন মানুষ খুঁজি, যারে বিশ্বাস করা যায়। কারণ মধুটা নিজের চোখে দেখে নিশ্চিত হওয়ার উপায় আমাদের নাই। শেষ পর্যন্ত ভরসা করতেই হয় কাউরে না কাউরে।

সন্দেহ খন্দকারঃ আমার ভাই সবাইকেই সন্দেহ হয়, বিশ্বাস করব কারে? ধরেন, মানুষটাও ভালো, কথাবার্তাও ভালো... কিন্তু মধুটা যদি তাও নকল হয়? তখন আমি কি বিশ্বাস করে ঠকতেছি না?

প্রশ্ন প্রসেন্জিৎঃ হুম... এই প্রশ্নটাই তো আসল প্রশ্ন।

মধু জাফরঃ আর এই কারণেই আমরা অনেক সময় ভাবি, আমরা মধু বিচার করতেছি। আসলে অজান্তেই আমরা বিচার করি পেছনের মানুষটাকে। কারন মধুর গুণমান চোখে দেখা যায় না। তাই শেষ পর্যন্ত মানুষটাকেই যাচাই করার চেষ্টা করি।

মধু মনিরঃ ঠিক কথাই কইছেন। অনেক ক্রেতা শেষ পর্যন্ত বলে "ভাই, আপনারে বিশ্বাস করলাম। সবচাইতে ভালো মধু যেইটা আছে, সেইটাই দেন।" ওই মুহূর্তে সে মধু না, আমাকে বিশ্বাস করে।

ম্যাডাম মমতাঃ আমিও তো তাই করি। বাচ্চার জন্য কিনি। প্রতি বোতল ল্যাবে পরীক্ষা করানোর উপায় তো আমার নাই।
শেষ পর্যন্ত কাউকে না কাউকে বিশ্বাস করতেই হয়।

হাবলুঃ (মাথা চুলকায়)
কিছুই বুঝলামনা আগা মাথা, মধু কিনতে গিয়া বিশ্বাস কিনি? এইডা আবার কেমন কথা! যদি বিশ্বাসই কিনি... তাইলে খাইটা কী? বিশ্বাস?

জ্ঞানী গাফ্ফারঃ হাবলু, এইবার মনে হয় তুইও একটু একটু বুঝতে শুরু করছস!

(সবাই হালকা হাসে)

প্রশ্ন প্রসেন্জিৎঃ আজকের আড্ডা থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার। সমস্যা শুধু ভেজাল না। সমস্যা হলো আমরা নিশ্চিত হইতে পারি না।

প্রফেসর প্রবালঃ (এক কোনে বসে সবার কথা চুপচাপ শুনছিলেন, এবার কথা বলে উঠলেন) ঠিক তাই। আর যখন কোনো ক্রেতা নিশ্চিত হতে পারে না তখন সেই পন্য অন্য সাধারণ পন্যের মতো বিকোয় না। চাল-ডাল কেনার মতো সহজে সেটা কেনা যায় না, সেটা কেনার জন্য দরকার হয় বিশ্বাসের। অর্থনীতিতে এই ধরনের পণ্যের একটা আলাদা নামও আছে।
নামটা শুনলে প্রথমে অদ্ভুত লাগবে। কিন্তু নামটার মানে বুঝতে পারলে, আজকের আড্ডার আলোচনাটা নতুন করে বুঝবেন সবাই।

ম্যাডাম মমতাঃ কি সেই নাম?

প্রশ্ন প্রসেন্জিৎঃ দাড়ান, প্রফেসর সাব, এখনই সব বইলেন না, কিছু রহস্য কালকের জন্য রেখে দেন.

এখন চলেন চা হয়ে যাক আরেক রাউন্ড, কি বলেন?

এই রাজা ভাই! সবাইরে লিকার ছাড়া, শুধু দুধ দিয়া ঘন কইরা এক কাপ কইরা চা দেও..

রাজা ভাইঃ কি? লিকার ছাড়া, শুধু দুধ দিয়া চা? একটু বসেন সবাই, আমি বাসায় গিয়া জমির দলিলটা নিয়া আসি, তারপর সেই জমি বেইচা লিকার ছাড়া শুধু দুধ দিয়া আপনেদের আমি চা খাওয়ামু..একটু বসেন..

( সবাই সমস্বরে হো হো করে হেসে উঠল। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠতে লাগল, আর আড্ডার প্রসঙ্গ ধীরে ধীরে অন্যদিকে গড়াল। মধুর আড্ডাও আজকের জন্য ফুরালো )

[ পরের আড্ডার টপিক্সঃ
অর্থনীতিতে মধুর মতো পণ্যের আলাদা নাম রাখা হলো কেন? সেই নাম টা কি? আর সেই নাম জানলে ক্রেতার বা কী লাভ? ]

#মধুরআড্ডা #মধুরবাজার #বিশ্বাসেরঅর্থনীতি #খাঁটিমধু #ভোক্তাসচেতনতা

27/04/2026

শোন, মধু খাইলে..

27/04/2026
আপডেটেট এপ্রিল' ২০২৬।আপনার মধুর অর্ডার দ্রুত প্রসেস করতে চাইলে সরাসরি ফোন দিনঃ 01919442385. (হোয়াটস এ্যাপ)).
26/04/2026

আপডেটেট এপ্রিল' ২০২৬।

আপনার মধুর অর্ডার দ্রুত প্রসেস করতে চাইলে সরাসরি ফোন দিনঃ 01919442385. (হোয়াটস এ্যাপ)).

বাংলাদেশে প্রকৃতির চাইতে মৌচাষীদের মাধ্যমেই বেশী মধু উৎপন্ন হয়, ফলে মধুর বাজারে প্রাকৃতিক চাকের মধুর চেয়ে চাষের মধু প্রচ...
22/04/2026

বাংলাদেশে প্রকৃতির চাইতে মৌচাষীদের মাধ্যমেই বেশী মধু উৎপন্ন হয়, ফলে মধুর বাজারে প্রাকৃতিক চাকের মধুর চেয়ে চাষের মধু প্রচলনটাই বেশী।

মধু এমন একটা জিনিস যা প্রকৃতি, মৌমাছি আর মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আর এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্যে একমাত্র মানুষ প্রায়শই লয়্যাল থাকে না, যার প্রভাব পড়ে মধুর ওপর।

মৌমাছির প্রধান শক্তির উৎস হলো ফুলের নেকটার। তারা ফুল থেকে নেকটার সংগ্রহ করে তাদের পেটের প্রাথমিক স্টোরেজ "হানি স্টমাকে" জমা রাখে। এরপর এনজাইমের সাহায্যে সেটিকে ভেঙে ফেলে - সুক্রোজকে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে রূপান্তর করে। চাকের কোষে তারা এই তরল জমা করে আর ডানার বাতাসে পানি কমিয়ে ঘন করে তোলে। এই পুরো প্রক্রিয়ার শেষে যে পদার্থটি তৈরি হয়, সেটাই মধু।

কিন্তু প্রকৃতি সবসময় মৌমাছিদের সমানভাবে সাহায্য করে না। বছরের কিছু সময় ফুলের সংখ্যা কমে যায়, ফলে নেকটারও যায় কমে। এই সময়কে মৌচাষের ভাষায় "দুর্ভিক্ষের সময়" বলা হয়। এই অবস্থায় বুনো মৌমাছিরা বিকল্প উৎস ব্যবহার করে। তারা পাকা ফলের রস সংগ্রহ করতে পারে, এমনকি গাছের পাতায় পোকামাকড়ের নিঃসৃত মিষ্টি তরল থেকেও খাদ্য নেয় ( এবং তারা এটা থেকেও মধু বানায় যেটা আবার হানিডিউ মধু নামে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ প্রচলিত )

বুনো মৌমাছিদের চাইতে খামারে পালিত মৌমাছিরা "দুর্ভিক্ষের সময়" সামনে রেখে একটা বাড়তি সুবিধা পায়। মৌচাষিরা তাদেরকে মৌসুমে সংগ্রহ করা মধুর সংরক্ষিত স্টক থেকে খাবার দেয়। কিন্তু সেই স্টকও একসময় শেষ হয়ে যায়। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের পর অনেক ক্ষেত্রে আর মধু থাকে না।
তখন মৌমাছিদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য মৌচাষিরা চিনি মিশ্রিত পানি খাওয়ান, এইটা কোনো গোপন কারবার বা নিষিদ্ধ কোন কাজ না, বরং এইটা একটা প্রয়োজন, মৌ কলোনীর সার্ভাইভাল এর জন্য ব্যবহৃত এইটা সারা বিশ্বব্যাপী একটা স্বীকৃত প্র্যাকটিস।

এবং সমস্যার প্রথম ধাপের শুরুটা হয় ঠিক এইখান থেকেঃ মৌমাছিরা সেই চিনি-পানি থেকেও মধুর মতো দেখতে একট পদার্থ তৈরি করে ফেলে! তারা চিনির দ্রবণ তাদের হানি স্টমাকে নিয়ে সেখানে এনজাইম দিয়ে সুক্রোজ ভেঙে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে রূপান্তর করে, পানি কমায়, এবং শেষে চাকে জমা করে।

মধুর সাথে চিনি-পানির তৈরি "মধুর মতো দেখতে" সেই পদার্থটার পার্থক্য হইল নেকটার থেকে তৈরি মধুতে থাকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উদ্ভিদভিত্তিক জৈব যৌগ। অন্যদিকে চিনি-পানি থেকে তৈরি পদার্থে এই বৈচিত্র্য থাকেই না একদম।

এবং সমস্যাটা পরিপুর্ন হয় অসৎ খামারীদের দ্বারা।

তারা তো চিনির দ্রবন খাওয়ায় মৌমাছিকে বাঁচায়ে রাখার প্রয়োজনে , কিন্তু থেকে চিনি-উৎপন্ন পদার্থ অনেক সময় চাক থেকে তারা আলাদা করে না, যা নেকটার দ্বারা উৎপন্ন মধুর পিওরিটির জন্য প্রথম ও জরুরী পদক্ষেপ। ফলে যেটা হয়, পরবর্তী ফুলের মৌসুমে নতুন মধুর সঙ্গে সেটি মিশে যায়, ( বা ইনটেনশনালী মিশে যাইতে দেওয়া হয়।)

এর বাইরে অনেক খামারী আছেন এই ব্যাপারে খুবই সচেতন থাকেন, আলহামদুলিল্লাহ। এদের জন্যই আশ শেফা নন ফিডিং, নেকটার থেকে উৎপন্ন পিওর মধুটা দিতে পারে।

এইখানে অনেকে মৌমাছির দোষ দেন, আসলে না, তারা তাদের কাজ ঠিকভাবেই করে। সে যা পায়, প্রয়োজনকে সামনে রেখে সেটাকেই নিষ্ঠার সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করে। মৌমাছি তো চাকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ (ঠান্ডা করা), ঘন খাবার পাতলা করা, নিজের দেহের তরল ঠিক রাখার জন্য পুকুর খাল, যে কোন ভেজা জায়গা, শিশির ইত্যাদি থেকেও পানি নেয়। লবণ ও পটাসিয়ামের মতো খনিজের জন্য এরা প্রয়োজনে ভেজা মাটি, কাদা, পশুর, মানুষের ঘামের দাগ, নোংরা পানি ইত্যাদির মতো অস্বাভাবিক উৎসও ব্যবহার করে। কারন ফুলের রসে এইসব খনিজ কম থাকে তাই এই আলাদা উৎস লাগে।

জেনে রাখবেন, মৌমাছি তাদের হানি স্টমাকে যে কোনো তরল উৎস প্রক্রিয়াজাত করতে পারে, কিন্তু একমাত্র পোলেন এবং হানিডিউ উৎস থেকে তৈরি পদার্থ বাদে, অন্য যে কোন উৎস থেকে প্রক্রিয়াজাত পদার্থ মধুর অন্তর্গত নয়।
অর্থাৎ, মধুর অথেনটিসিটি নির্ভর করে এর উৎস অনুযায়ী।

সুতরাং সমস্যাটা মৌমাছির না, সমস্যাটা হইল মানুষের নৈতিকতা ও আদর্শের।একজন ভোক্তার মুখে খাঁটি মধু তুলে দিতে মৌমাছিদের মতোই মৌপালক, মধু ব্যাবসায়ী বা মধুর পাইকার সবাইকেই একসাথে সৎ হতে হয়।।

দেখুন, লিংক কমেন্টে।
17/04/2026

দেখুন, লিংক কমেন্টে।

Address

Chittagong
4217

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আশ শেফা মধুঘর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to আশ শেফা মধুঘর:

Shortcuts

Share